০৬:১১ পি.এম
জুনের শুরুতে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষ তীব্র গরমে হাঁসফাঁস পরিস্থিতির সম্মুখীন হচ্ছে। ঢাকাসহ অন্তত ৪০টি জেলার উপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। অতি গরমের মধ্যে তীব্র রোদ এবং তপ্ত বাতাসের কারণে জনজীবন ভীষণভাবে ভীতি ও সংকটে ভুগছে। এ অবস্থায় হিটস্ট্রোকসহ গরমের কারণে বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকি বৃদ্ধি পাচ্ছে।
তবে আবহাওয়া অধিদফতর আসন্ন সুসংবাদ জানিয়ে বলেছে, বৃহস্পতিবার থেকে সারা দেশে বৃষ্টিপাত বৃদ্ধির ফলে গরমের তীব্রতা কমে আসতে পারে।
আজ বুধবার ভোর থেকেই রাজধানীর আকাশ ছিল স্পষ্ট মেঘহীন, রোদের তীব্রতা ছিল প্রচণ্ড। দুপুর গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গেই ব্যস্ত সড়ক কিংবা ফুটপাতে গরমের প্রভাব প্রকাশ পাচ্ছে। আবহাওয়া অফিসের তথ্য বলছে, আজ ঢাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৫.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। তবে বাতাসে জলীয় বাষ্পের আধিক্যের কারণে সেটি প্রায় ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মতো অনুভূত হচ্ছে।
আরও পড়ুন: রাজধানীতে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় তিনজনের প্রাণহানি
এই তীব্র গরমের কারণে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া অনেকেই ঘরের বাইরে বের হতে সাহস করছেন না। আর যারা বের হতে বাধ্য হচ্ছেন, তাদের প্রাথমিক ভরসা হচ্ছে ছাতা, টুপি এবং পানির বোতল। थोड़े স্বস্তির খোঁজে পথচারীদের সাধারণত রাস্তার পাশের দোকান থেকে শরবত বা পানি পান করতে দেখা যায়।
বেসরকারি চাকরিজীবী আহসান হাবিব বলেন, ‘এ ধরনের গরম সহ্য করা সম্ভব হচ্ছে না। সকালে অফিসে যাওয়ার সময়ই ঘেমে একাকার অবস্থা তৈরি হচ্ছে। আর দুপুরের পর তো রোদের তাপে মাথাব্যথা শুরু হয়। ছাতা মাথায় দিয়েও শান্তি নেই, মনে হচ্ছে বাতাসও গরম।’
রিকশাচালক রমিজ উদ্দিন জানান, ‘গরমের কারণে রাস্তায় রিকশা চালানো খারাপ হয়ে পড়েছে। চালাতে চালাতে বুক ধড়ফড় করতে থাকে। পিপাসায় গলা শুকিয়ে যায়, কিছুক্ষণ পরপর পানি খাওয়া প্রয়োজন হয়। রাস্তায় মানুষের সংখ্যা কমে গেছে, তাই খেপ পাচ্ছি না।’
আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের পাশাপাশি ‘এল নিনো’র প্রভাবও এ অঞ্চলের তাপমাত্রা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তবে আগামীকাল থেকে আকাশে মেঘের পরিমাণ বাড়ার আশা রয়েছে।
আরও পড়ুন: চট্টগ্রামে বাবা-মেয়ের মৃত্যুর পর পুলিশের গাড়িতে হামলা ও বাসে আগুন
এই বিষয়ে আবহাওয়া অধিদফতরের আবহাওয়াবিদ ড. মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক বলেন, ‘আজ দুপুর ১২টা পর্যন্ত ঢাকার তাপমাত্রা ছিল ৩৫.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এল নিনোর প্রভাবে দেশের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চাইতে কিছুটা বেশি থাকবে। তবুও আশা প্রকাশ করা হচ্ছে যে, আগামীকাল (বৃহস্পতিবার) থেকে সারা বাংলাদেশে বৃষ্টিপাতের তীব্রতা ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পেতে পারে। তখন উপকূলীয় জেলাগুলোতে তাপমাত্রা ৩৪ থেকে ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করতে পারে।’
তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, দেশ জুড়ে পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত শুরু হলে গরমের এই প্রবল অবস্থা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে এবং জনজীবনে স্বস্তি ফিরবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন