১০:৪৮ এম
ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জানাজা ও দাফনের আনুষ্ঠানিকতা আজ শুরু হয়েছে। শনিবার (৪ জুলাই) সকালে রাজধানী তেহরানের ইমাম খোমেনি গ্রান্ড মোসাল্লা কমপ্লেক্স ও এর আশপাশের এলাকায় বিশাল জনসমুদ্র তৈরি হয়েছে।
ইরানি সংবাদ সংস্থা তাসনিমের প্রতিবেদনে জানা গেছে, শেষ শ্রদ্ধা জানানোর উদ্দেশ্যে রাজধানীতে জড়ো হওয়া লাখো শোকাহত মানুষের উপস্থিতি সামাল দিতে মোসাল্লা কমপ্লেক্সের প্রবেশদ্বার খুলে দেওয়া হয়েছে।
এর আগে ভোর থেকে হাজারো মানুষ কমপ্লেক্সের বাইরে অপেক্ষা করছিলেন। দরজা খুলে দেওয়ার পর তারা ধীরে ধীরে ভিতরে প্রবেশ করতে শুরু করেন। খুব অল্প সময়ের মধ্যে বিশাল প্রার্থনা কমপ্লেক্সের প্রধান প্রাঙ্গণ শোকাহত মানুষের ভিড় দ্বারা পূর্ণ হয়ে যায়।
আরও পড়ুন: ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় ৪৭ বিলিয়ন ডলার ছাড়াল
ইরানি কর্তৃপক্ষ রাজধানীজুড়ে ব্যাপক নিরাপত্তা ও ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা মানুষের বুঝতে পারা গেছে, অনুষ্ঠানে পৌঁছাতে কয়েক কিলোমিটার পথ হেঁটে যেতে হচ্ছে। এছাড়াও মেট্রো স্টেশনগুলোতেও ভোর থেকে দীর্ঘ সারিতে অপেক্ষা করতে দেখা যায় হাজারো মানুষকে।
খামেনির প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাতে ইরানের বিভিন্ন প্রদেশ থেকে বিপুল সংখ্যক মানুষ তেহরানে সমবেত হয়েছেন। রাষ্ট্রীয় এই শেষ বিদায় অনুষ্ঠানকে ঘিরে রাজধানীজুড়ে শোকের একটি বিশেষ আবহ তৈরি হয়েছে।
৮৬ বছর বয়সি খামেনি গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ আগ্রাসনের প্রথম দিন নিহত হন। ওই হামলায় তার পরিবারের কয়েকজন সদস্যও প্রাণ হারান। ঘটনার সময় তিনি তেহরানে তার আবাসিক ভবনে অবস্থান করছিলেন।
গত মার্চে খামেনির দাফন হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে তীব্র সংঘাতের কারণে তা পিছিয়ে দেওয়া হয়। যুদ্ধবিরতির অবসরে চার মাস পর রাষ্ট্রীয়ভাবে তার জানাজা ও দাফন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। খামেনির দাফনের আনুষ্ঠানিকতা সাত দিন ধরে চলবে, যা গত শুক্রবার (৩ জুলাই) শুরু হয়েছে।
আরও পড়ুন: কসোভোতে মুসলিম দেশ হিসেবে অন্য এক দৃষ্টান্ত: ক্যাথলিক নারী নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট
খামেনির সাত দিনব্যাপী এই রাষ্ট্রীয় জানাজা ও দাফন অনুষ্ঠানে লাখো শোকাহত মানুষের পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রীয় প্রতিনিধি ও আন্তর্জাতিক সংস্থার উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তারা অংশ নিচ্ছেন।
ইরানি কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, প্রতিবেশী ও আঞ্চলিক দেশগুলোর শীর্ষ পর্যায়ের প্রতিনিধিদের মধ্যে উপস্থিত রয়েছেন ইরাকের প্রেসিডেন্ট ও পার্লামেন্টের স্পিকার, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী, সিনেট চেয়ারম্যান ও সেনাপ্রধান, আফগানিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী, আর্মেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী এবং তুরস্কের ভাইস প্রেসিডেন্ট।
আরব ও উপসাগরীয় দেশগুলোর পক্ষ থেকে সৌদি আরবের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী, কাতারের শুরা কাউন্সিলের স্পিকার, ওমানের স্টেট কাউন্সিলের চেয়ারম্যান, ইয়েমেনের ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং মিসরের সিনেট স্পিকারও শেষ বিদায় অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করছেন।
এছাড়া আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিদের মধ্যে উপস্থিত রয়েছেন রাশিয়ার নিরাপত্তা পরিষদের উপপ্রধান (বিশেষ দূত হিসেবে), চীনের ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের স্থায়ী কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান, বেলারুশের প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার, জর্জিয়ার প্রেসিডেন্ট, সার্বিয়ার তথ্য ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী, তুর্কমেনিস্তানের জাতীয় নেতা, উজবেকিস্তানের পার্লামেন্ট স্পিকার, কাজাখস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, কিরগিজস্তানের পার্লামেন্ট স্পিকার, ভারতের একটি অঙ্গরাজ্যের গভর্নরের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদল, বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের স্পিকার, মালয়েশিয়া ও মিয়ানমারের বিশেষ দূত, থাইল্যান্ডের শিয়া মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি, বুরকিনা ফাসো, কঙ্গো প্রজাতন্ত্র, নামিবিয়া এবং নিকারাগুয়ার উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও সেখানে উপস্থিত রয়েছেন।
আরও পড়ুন: কক্সবাজারে নকল ব্যান্ডরোলযুক্ত সিগারেট জব্দ, মূল্য ২৭ লাখ টাকা
আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক সংস্থাগুলোর মধ্যে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা (এসসিও), ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা (ওআইসি) এবং ডেভেলপিং-৮ (ডি-৮)-এর প্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত রয়েছেন।
এছাড়া ফিলিস্তিনি ইসলামিক জিহাদ, হিজবুল্লাহ, ইয়েমেনের বিভিন্ন গোষ্ঠী, লেবাননের রাজনৈতিক দল, ফিলিস্তিনি ধর্মীয় আলেমদের সংগঠন এবং বুলগেরিয়ার রাজনৈতিক প্রতিনিধিদলসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সশস্ত্র গোষ্ঠীর নেতারাও খামেনির প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাতে তেহরানে উপস্থিত হয়েছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন