০৯:২৯ পি.এম
ঢাকা, ২৪ আগস্ট, ২০২৬ : ডাক ও টেলিযোগাযোগ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বলেছেন, ২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি অর্জনের জন্য সরকারি ও বেসরকারি যৌথ উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
আজ রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে ‘বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার ২০২৬’ সফল করার লক্ষ্যে বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, শীর্ষ শিল্পপতি ও নীতিনির্ধারকদের নিয়ে ‘ডেভলপিং ইনোভেশন ইকোসিস্টেম টুওয়ার্ডস অ্যা ট্রিলিয়ন-ডলার ইকোনমি’ শীর্ষক সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন।
২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের শক্তিশালী, জ্ঞানভিত্তিক ও উদ্ভাবনমুখী অর্থনীতিতে রূপান্তরিত করার লক্ষ্যে আগামী ১২ থেকে ১৪ সেপ্টেম্বর রাজধানীর নভোথিয়েটারে অনুষ্ঠিত হবে ‘বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার ২০২৬’।
আরও পড়ুন: প্রথমবারের মতো শুরু হচ্ছে এক্সপ্যাট ওয়ার্ল্ড কাপ
ফকির মাহবুব আনাম বলেন, এই আয়োজন কেবল একটি মেলা কিংবা প্রদর্শনী নয় বরং এটি উদ্ভাবন ও শিল্পায়নের একটি টেকসই জাতীয় প্ল্যাটফর্ম হিসেবে গড়ে তুলতে দেশের বেসরকারি খাত, শিল্পোদ্যোক্তা ও গবেষকদের সক্রিয় অংশগ্রহণের একান্ত প্রয়োজন।
তিনি আরও জানান, বাংলাদেশের অর্থনীতি বর্তমানে একটি গুরুত্বপূর্ণ রূপান্তরকালীন পর্যায়ে রয়েছে। প্রথাগত পণ্য বা সেবার পরিমাণ বৃদ্ধির পাশাপাশি উচ্চ মূল্য সংযোজনকারী শিল্প ও উদ্ভাবনী প্রযুক্তি যুক্ত না হলে বৈশ্বিক বাজারে দেশের প্রতিযোগিতার সক্ষমতা ধরে রাখা কঠিন হবে।
মন্ত্রী বলেন, দেশের বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও তরুণ উদ্যোক্তারা প্রতিনিয়ত নতুন উদ্ভাবন নিয়ে কাজ করলেও প্রযুক্তি হস্তান্তর, রেগুলেটরি অনুমোদন, বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পদ (আইপি) সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণের বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার কারণে তা সফলভাবে ব্যবসায় রূপ নিতে পারছে না। সরকার এই বিচ্ছিন্নতা দূর করে উদ্ভাবক, উদ্যোক্তা, বিনিয়োগকারী এবং সরকারি সংস্থার সমন্বয়ে একটি ‘অ্যান্ড-টু-অ্যান্ড ইনোভেশন ইকোসিস্টেম’ তৈরি করছে।
ফকির মাহবুব আনাম বলেন, তরুণ প্রজন্মের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাণিজ্যিকীকরণে রূপ দিতে বর্তমান সরকার ৫০০ কোটি টাকার একটি বিশেষ স্টার্টআপ তহবিল গঠন করেছে।
আরও পড়ুন: মিরপুরে কিশোর গ্যাংয়ের হোতা তিন ভাই গ্রেফতার
তিনি আরও বলেন, কেবল সরকারের পক্ষ থেকে উদ্ভাবনভিত্তিক অর্থনীতি গড়ে তোলা সম্ভব নয়। সরকার প্রয়োজনীয় পলিসি ফ্রেমওয়ার্ক ও সহায়ক পরিবেশ তৈরি করবে, তবে বাণিজ্যিকীকরণ, বিনিয়োগ ও প্রযুক্তি গ্রহণের প্রধান দায়িত্ব বেসরকারি খাতকেই নিতে হবে।
বিদেশি বিনিয়োগের পাশাপাশি দেশীয় শিল্পোদ্যোক্তাদের অগ্রণী ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, সিলেট, রাজশাহী, যশোরসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে নির্মিত হাই-টেক ও ইনোভেশন পার্কগুলোতে আধুনিক অবকাঠামো এবং জমি প্রস্তুত রয়েছে। দেশীয় ব্যবসায়ীরা যেকোনো সময় এসব পার্ক পরিদর্শন করে সেখানে নতুন শিল্প স্থাপন করার উদ্যোগ গ্রহণ করতে পারেন।
মন্ত্রী বলেন, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকটে দেশের শিল্পকারখানাগুলো যে চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে সে বিষয়ে সরকার সম্পূর্ণ সচেতন। দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের বিশেষজ্ঞ এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা যৌথভাবে সমস্যা সমাধানের জন্য নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। আশা করছি অল্প সময়ের মধ্যেই এই সমস্যার সমাধান হবে।
‘বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার ২০২৬’-এ সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়ে ব্যবসায়ীদের তাদের নিজস্ব প্রযুক্তি শোকেস করা, উদ্ভাবকদের মেন্টরিং ও ইনকিউবেশনে সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি বাণিজ্যিকীকরণের বাধা অথবা ফিন্যান্সিং গ্যাপ চিহ্নিত করে সরকারকে সুনির্দিষ্ট মতামত দেওয়ার আহ্বানও জানান মন্ত্রী।
আরও পড়ুন: জেলা প্রশাসক মিজ কউসার গাবুরার মেগা প্রকল্প পরিদর্শন করলেন
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সচিব মো. আনোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় এফবিসিসিআই প্রশাসক ফজলুল হক, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী নেতা তপন চৌধুরী, বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া সভায় এফআইসিসিআই, ইউরো চেম্বার, বাক্কো, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড বাংলাদেশ, এইচএসবিসি বাংলাদেশ, ব্যাংক এশিয়া পিএলসি, মাস্টারকার্ড বাংলাদেশ, গ্রামীণফোন, বাংলালিংক, ড্যাফোডিল গ্রুপ, বার্জার পেইন্টস বাংলাদেশ, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক, পিআই স্ট্র্যাটেজি, রানার গ্রুপ, এভিন্স গ্রুপ, দিপন গ্রুপ, এসএসজি বাংলাদেশ, বিসিএমইএ-সহ বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
অংশগ্রহণকারীরা নীতি সংস্কার, গবেষণা বাণিজ্যিকীকরণ, স্টার্টআপ অর্থায়ন, উদ্ভাবন শাসন (গভর্ন্যান্স), মেধার বিকাশ, প্রযুক্তি গ্রহণ এবং বাংলাদেশকে বৈশ্বিকভাবে প্রতিযোগিতামূলক উদ্ভাবন কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের ওপর মতামত তুলে ধরেন।
আরও পড়ুন: সাত মাত্রার ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল চীনের তিব্বত
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন