ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

‘আমি আর কথা কমু না নে মা, আগুন লেগে পুড়ে যাচ্ছি মা’


‘আমি আর কথা কমু না নে মা, আগুন লেগে পুড়ে যাচ্ছি মা’

‘‘বড় ছাওয়ালটা সাত বছর আগে চলে গেছে, এবং মেজো ছাওয়ালটি দুই বছর আগে চলে গেছে। কখনোই তারা ছুটিতে আসেনি।

ছাওয়ালটা ফোনে বলেছিল, ‘মা, কষ্ট করে খেয়ে দেনা শোধ করছি কেবল। বাড়ির কাজটা শুরু করছি, বাড়ি এসে বিল্ডিংয়ের কাজটা শেষ করব’। বাবার আর বাড়ি ফেরার সুযোগ হলো না। কি সর্বনাশ হলো বাবা আমার।’’ এভাবেই কান্নায় ভেঙে পড়েন নিহত সুমন এবং মোহনদের মা ময়না খাতুন।

সোমবার (১০ আগস্ট) সকালে নওগাঁর আত্রাই উপজেলার গন্ডগোহালী গ্রামে মোহন ও সুমনদের বাড়িতে শোকের মাতম বইছে। এর আগে রবিবার (৯ আগস্ট) দুপুর ২টায় সৌদি আরবের রিয়াদের শিফা থানার একটি সোফা তৈরির কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দুই ভাই নিহত হয়েছে। পাশাপাশি, এই গ্রামের আরো দুজনও এই ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন।

আরও পড়ুন: ‘বসন্তের কোকিল’ হিসেবে পরিচিত কাজী জাহিদ অভি? পূজামণ্ডপে অনুদান, ক্যানসার আক্রান্ত হাফেজকে সহায়তা নিয়ে প্রশ্ন

ময়না খাতুন বলেন, ‘‘গতকাল সকালে আমি মেজো ব্যাটার সঙ্গে কথা বলেছিলাম। সে বলেছিল, ‘ভালোই আছি মা, তুমি ভাত খাও। তুমি সুস্থ থাকো। ভাই মাল দিতে গেছে, মাল দিয়ে আসবে’। কিন্তু যখন আগুন লাগছে, তখন ফায়ার সার্ভিস আসছিল না।

তখন ছাওয়াল ভয়েস মেসেজ পাঠায়। সে বলেছিল, ‘মাগো, দুইডা কথা কমু মা, আমি আর কথা কমু না নে মা। আগুন লেগে পুড়ে যাচ্ছি মা, মরে যাচ্ছি।’’’

তিনি আরো বলেন, ‘হামার দুই বাবা হামার বুকে আনা দেও বাবা। আমার বাবাকোক দেখে আমি কলিজা শান্তি করমু বাবা। বড় কষ্টের ছাওয়াল, আমার দুই ধনক আমার বুকে এনে দে বাবা রে...। মোহন বলছিল, ‘এসে বিয়া করমু মা। মেয়া-টিয়ে দেখো না, আমি ১০টা দেখে একটা বিয়ে করমু মা।’

নওগাঁর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, আগুনে পুড়ে নওগাঁর আত্রাই উপজেলার এখন পর্যন্ত ১০ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে। নিহতদের পরিবারের সঙ্গে কথা বলা হচ্ছে। মরদেহ ফিরিয়ে আনতে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন: স্বাধীনতার পরও পাকা হয়নি সড়ক, দুর্ভোগে পাঁচ গ্রামের মানুষ

সৌদি আরবের রিয়াদের ওই সোফা তৈরির কারখানায় আগুনে পুড়ে নওগাঁর আত্রাই উপজেলার নিহতরা হলেন- বিশা ইউনিয়নের ডুবাই গ্রামের মৃত বাদলের ছেলে সুমন (৩৫) ও একই গ্রামের চঞ্চলের ছেলে হাসিবুল হাসান শুভ (২৭), কালিকাপুর ইউনিয়নের গন্ডগোহালি গ্রামের গাফফফার প্রামাণিকের ছেলে মহন প্রামানিক ও সুমন প্রামাণিক, একই গ্রামের জান্নারের ছেলে রুবেল হোসেন (৩০) ও ফজলুর প্রামাণিকের ছেলে কলি প্রামাণিক (৩৫), পারকাসুন্দা গ্রামের মৃত তমেজ উদ্দিনের ছেলে আব্দুল জলিল (৩৮), বিশা গ্রামের আজহারের ছেলে সাগর (৩১) ও একই গ্রামের মজনুর ছেলে মজিদুল (৩৪) এবং উদনপৈ গ্রামের ময়েন শেখের ছেলে ফরিদ শেখ (৩২)।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর
এসএসসির ফল

বিজ্ঞান বিভাগে পাসের হার বেশি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১০ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০১:৪৫ পি.এম


বিজ্ঞান বিভাগে পাসের হার বেশি

এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ড মিলিয়ে গড় পাসের হার ৬২.২৫ শতাংশ।

এ ফলাফলে সবচেয়ে বেশি বিজ্ঞান বিভাগে ৮০.৬৪ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছে।

সোমবার (১০ আগস্ট) সকালে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন এই ফলাফল ঘোষণা করেন।

অতিরিক্ত তথ্য অনুযায়ী, বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় অন্যান্য বিভাগের তুলনায় ভালো ফলাফল করেছে। বিজ্ঞান বিভাগে ৫ লাখ ৬৬ হাজার ৯৫৮ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে, এর মধ্যে ৮০.৬৪ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছে।

অন্যদিকে ব্যবসায় শিক্ষায় ২ লাখ ১৯ হাজার ৬৬৬ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে। সেখানে ৬৪.৩০ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করার কৃতিত্ব অর্জন করেছে।

এ বছর মানবিকে মোট ৬ লাখ ১৭ হাজার ৮৮৫ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষার জন্য উপস্থিত হয়। সেখান থেকে পাস করেছে মাত্র ৩ লাখ এক হাজার ১৭৪ জন শিক্ষার্থী, যা মোট শিক্ষার্থীর ৪৮.৭৮ শতাংশ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ময়মনসিংহে পাসের হার ৫৭ দশমিক ৩৯ শতাংশ, এগিয়ে মেয়েরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১০ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০১:৪৬ পি.এম


ময়মনসিংহে পাসের হার ৫৭ দশমিক ৩৯ শতাংশ, এগিয়ে মেয়েরা

ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডে এসএসসিতে অংশগ্রহণে ছেলেরা এগিয়ে থাকলেও পাসের হার এবং জিপিএ ৫ প্রাপ্তিতে মেয়েরা এগিয়ে রয়েছে। এই বোর্ডের পাসের হার ৫৭ দশমিক ৩৯ শতাংশ।

আজ সোমবার (১০) জুলাই প্রকাশিত এসএসসির ফলাফল থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

এদিন সকাল ১০টায় ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডে এক সংবাদ সম্মেলনে ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেন ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডের সচিব প্রফেসর এনামুল হক।

ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, ময়মনসিংহ বোর্ডে মোট অংশগ্রহণকারী ছিলেন ১ লাখ ৫ হাজার ২৮ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে ছেলে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৫৩ হাজার ৮৭৭ জন।

মেয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৫১ হাজার ১৫১ জন। অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে পাস করেছে ৬০ হাজার ২৭৪ জন। এর মধ্যে ছেলে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ২৮ হাজার ৩৭২ জন এবং মেয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৩১ হাজার ৯০২ জন। ছেলেদের পাসের হার ৫২ দশমিক ৬৬ শতাংশ এবং মেয়েদের পাসের হার ৬২ দশমিক ৩৭ শতাংশ।

 

পাসের হার ছাড়াও জিপিএ ৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যায় ছেলে শিক্ষার্থীর চেয়ে মেয়ে শিক্ষার্থীরা এগিয়ে। ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডে এ বছর জিপিএ ৫ পেয়েছে ৫ হাজার ৭০০ জন। এর মধ্যে মেয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৩ হাজার ৭৯ জন এবং ছেলে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ২ হাজার ৬২১ জন।

ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে রয়েছে ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, জামালপুর ও শেরপুর জেলা।

এ চারটি জেলার মোট ১ হাজার ৩৪৪ জন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা এ বোর্ডের অধীনে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়।

জেলাভিত্তিক ফলাফলে দেখা যায়, এ বছর পাসের হারে এগিয়ে রয়েছে নেত্রকোনা জেলা। সেখানে পাসের হার ৬০ দশমিক ৪৯ শতাংশ। ৫৭ দশমিক ৮০ শতাংশ পাসের হার নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ময়মনসিংহ জেলা। তৃতীয় স্থানে থাকা জামালপুর জেলার পাসের হার ৫৫ দশমিক ৬০ শতাংশ এবং চতুর্থ স্থানে থাকা শেরপুর জেলায় পাস করেছে ৫৫ দশমিক ৪১ শতাংশ শিক্ষার্থী।

বিভাগভিত্তিক ফলাফল থেকে আরো জানা যায়, ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে পাসের হার ৭১ দশমিক ৮৭ শতাংশ। মানবিকে এ হার ৪৬ দশমিক ১২ শতাংশ এবং ব্যবসায় শিক্ষায় ৪৮ দশমিক ৯৯ শতাংশ।

প্রকাশিত ফলাফল থেকে আরো জানা যায়, চলতি বছর ময়মনসিংহ বোর্ডে ১০টি প্রতিষ্ঠানের শতভাগ শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছে। চারটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে কোনো শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়নি।

এ বিষয়ে ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডের সচিব প্রফেসর এনামুল হক বলেন, বিগত বছরগুলোতে পড়াশোনা খুব কম করেও ভালো ফলাফল করত শিক্ষার্থীরা। এই কারণে অনেক শিক্ষার্থী পড়াশোনাবিমুখ হয়ে পড়েছে, যার প্রভাব পড়েছে এ বছরের ফলাফলে। তবে এ অবস্থা থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য আগামীতে সর্বোচ্চ কাজ করতে হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর
ময়মনসিংহ বোর্ড

চার প্রতিষ্ঠানে সবাই ফেল, শতভাগ পাস ১০ প্রতিষ্ঠানে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১০ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০১:৫১ পি.এম


চার প্রতিষ্ঠানে সবাই ফেল, শতভাগ পাস ১০ প্রতিষ্ঠানে

প্রকাশিত এসএসসির ফলে ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৫৭ দশমিক ৩৯ শতাংশ। গত বছরের তুলনায় এবছর পাসের এই হার অনেক কম।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে শিক্ষার্থীরা কম পড়াশোনা করেও ভালো ফল করেছে, তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এতে পড়াশোনা থেকে তারা দূরে সরে গেছে। এ কারণে, ২০২৬ সালের পরীক্ষার ফলাফলে এর প্রভাব পড়েছে।

ময়মনসিংহ বোর্ডের চার জেলা থেকে ২০২৬ সালের পরীক্ষায় অংশ নেয় মোট এক হাজার ৩৪৪টি প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে, ১০টি প্রতিষ্ঠান থেকে শতভাগ শিক্ষার্থী পাস করেছে, কিন্তু চারটি প্রতিষ্ঠানে কোনো শিক্ষার্থীই পাস করেনি।

শতভাগ অকৃতর্য হয়েছে চারটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, যার মধ্যে রয়েছে জামালপুরের সরিষাবাড়ি উপজেলার ছাপরকোনা মনিজা আবুল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়। এই স্কুল থেকে ১১ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিলেও কেউ পাস করেনি।

আগামী তালিকায় আরো ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা উপজেলার মুক্তাগাছা কলেজ (স্কুল শাখা) রয়েছে। এখানে চারজন পরীক্ষার্থী অংশ নিলেও কেউ পাস করতে পারেনি। এছাড়া, ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার শহীদ স্মৃতি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে পাঁচজন পরীক্ষার্থীর মধ্যে কেউ পাস করেনি।

এছাড়া, জামালপুর জেলার ইসলামপুর উপজেলার কদমতলী কারিপাড়া উচ্চ বিদ্যালয় থেকেও কোনো শিক্ষার্থী পাস করতে পারেনি। এই প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষায় অংশ নেয় তিনজন শিক্ষার্থী।

শতভাগ পাস করার ক্ষেত্রে ময়মনসিংহ বোর্ডের ১০ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হচ্ছে ময়মনসিংহের বিদ্যাময়ী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ময়মনসিংহ গার্লস ক্যাডেট কলেজ, আইডিয়াল মডেল একাডেমি, ময়মনসিংহ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল এবং ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার ভালুকজান মডেল একাডেমি।

শতভাগ পাসের তালিকায় জামালপুর জেলায় দুটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যা হলো ইসলামপুর উপজেলার উত্তরা গোয়ালের চর আইডিয়াল স্কুল ও সরিষাবাড়ি উপজেলার চিলড্রেনস হোম পাবলিক স্কুল। শতভাগ পাস করা নেত্রকোনা জেলার একমাত্র প্রতিষ্ঠান হচ্ছে কেন্দুয়া উপজেলার শহীদ স্মৃতি বিদ্যাপীঠ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শিক্ষার্থীদের শতভাগ নিরপেক্ষ মূল্যায়ন নিশ্চিত করা হয়েছে : মাহ্দী আমিন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ১০ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০১:৫২ পি.এম


শিক্ষার্থীদের শতভাগ নিরপেক্ষ মূল্যায়ন নিশ্চিত করা হয়েছে : মাহ্দী আমিন

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন বলেছেন, যে শিক্ষার্থী যেভাবে পড়াশোনা করেছে, সেভাবেই শতভাগ নিরপেক্ষ মূল্যায়ন নিশ্চিত করা হয়েছে। এই মূল্যায়নের লক্ষ্যে পরীক্ষকদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণও প্রদান করা হয়েছিল। এর ওপর ভিত্তি করেই চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, এখানে ভালো বা মন্দের বিতর্ক না তুলে বিষয়টি স্বাভাবিকভাবে দেখা উচিত। যেসব শিক্ষার্থী ভালো ফলাফলে সফল হয়েছে, তাদের আমাদের সবার উচিত আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানানো।

সোমবার (১০ আগস্ট) এসএসসি এবং সমমানের পরীক্ষার ফলাফল নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, আজকে ২০২৬ সালের এসএসসি, দাখিল, এসএসসি (ভোকেশনাল) ও দাখিল (ভোকেশনাল) পরীক্ষার ফলাফল দেখছি, এটি সরকারের গঠন করার মাত্র দুই মাস পরবর্তী একটি প্রক্রিয়া। পরীক্ষার কার্যক্রম গত ২১ এপ্রিল থেকে শুরু হয়েছিল। পরীক্ষার কেন্দ্রগুলোতে সিসিটিভি এবং বডি-অন ক্যামেরা ব্যবহার করা হয়েছে। এবারের খাতা মূল্যায়নের পুরো প্রক্রিয়াটি শতভাগ নির্ভুলভাবে সম্পন্ন করা হয়েছে।

মাহ্দী আমিন বলেছেন, আমরা বহু বছর ধরে দেখে আসছি, উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে কৃত্রিমভাবে জিপিএ-৫ কিংবা পাসের হার বাড়ানো হত। আমরা সেখান থেকে পুরোপুরি বের হয়ে এসেছি। কারণ প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন, আমরা এমন এক শিক্ষাব্যবস্থা চাই, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের প্রকৃত যোগ্যতা, দক্ষতা ও সৃজনশীলতা নিয়ে বের হয়ে আসবে।

তিনি আরো বলেন, যারা ভালো ফলাফল করেছে, তাদের পরিবার যেমন গর্বিত, আমরাও তেমনি গর্বিত। কিন্তু অনেকে হয়তো প্রত্যাশিত ফলাফল করতে পারেনি; তাদের উদ্দেশ্যে বলতে চাই, এটাই জীবনের শেষ সুযোগ নয়।

যারা ভালো ফলাফল করেছে তারা যেমন তাদের পরিশ্রমের উপযুক্ত স্বীকৃতি পেয়েছে, ঠিক তেমনি যারা কাঙ্ক্ষিত ফলাফল পায়নি, সরকার সবসময় তাদের পাশে থাকবে। আমরা নিশ্চিত করতে চাই, ভবিষ্যতে যেন তারা সব বাঁধা পেরিয়ে সফলতা অর্জন করতে পারে।

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, আমাদের মূল উদ্দেশ্য হলো, যারা এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে, তাদের ফলাফল ভালো হোক বা খারাপ, কিংবা প্রত্যাশিত বা অপ্রত্যাশিত, আমরা সবাইকে নিয়ে একযোগে এগিয়ে যাব। আমরা অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে জানাতে পারছি যে, এবার কিন্তু প্রশ্নপত্র ফাঁসের কোনো ঘটনা ঘটেনি। অত্যন্ত সুন্দর ও সুষ্ঠু পরিবেশে পরীক্ষা হয়েছে।

তিনি বলেন, দীর্ঘদিন পর একটি নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকার রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। জনগণের বিপুল প্রত্যাশার মাঝখানে এসএসসি পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠিত হচ্ছে কি না এবং প্রতিটি শিক্ষার্থী তাদের মেধার সঠিক মূল্যায়ন পাচ্ছে কি না, সেটি একটি গুরুত্বের বিষয় ছিল। গণতান্ত্রিক সরকার দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে যে, আমাদের এমন একটি শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, যা শিক্ষার্থীদের আত্মনির্ভরশীল করবে এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবে। তাই পাস-ফেল যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি জরুরি হলো শিক্ষার্থীরা তাদের সৃজনশীলতা, মেধা ও যোগ্যতার শতভাগ নিরপেক্ষ মূল্যায়ন পাচ্ছে কি না। শিক্ষামন্ত্রীর সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনায় এবার ঠিক সেভাবেই এসএসসি এবং সমমানের পরীক্ষা সফলভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মাহ্দী আমিন বক্তৃতায় বলেন, আমাদের বার্তাটি অত্যন্ত স্পষ্ট: যারা ভালো ফলাফল করেছে কিংবা যারা প্রত্যাশিত ফলাফল পায়নি, সবার উদ্দেশ্যেই বলা হচ্ছে যে প্রত্যেকে একটি সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণ করো, কঠোর পরিশ্রম করো এবং নিজের ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস রাখো; কখনোই থেমে যাওয়া যাবে না। জনগণের নির্বাচিত সরকার প্রতিটি শিক্ষার্থীর পাশে রয়েছে।

তিনি বলেন, আমরা গঠনমূলক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে আমাদের শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়াই। যারা ভালো ফলাফল করেছ, এবং যে প্রতিষ্ঠানগুলো ভালো করেছে, তাদেরকে অনুপ্রেরণা জোগাই। পাশাপাশি যেসব ক্ষেত্রে ঘাটতি বা সমস্যা রয়েছে, সেগুলোর টেকসই সমাধান বের করার জন্য সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করি, যেন শিক্ষার গুণগত মান আরো উন্নত করা যায়, যেমনটি আমাদের শিক্ষামন্ত্রীও গুরুত্বারোপ করেছেন। আর ১৮০ দিনের মূল্যায়নের বিষয়টি আসছে, আমাদের মনে রাখা প্রয়োজন, ফ্যাসিবাদের দীর্ঘ শাসনের ফলে রাষ্ট্রকাঠামো ব্যাপকভাবে ভেঙে পড়েছিল; সেখান থেকেই আমরা শিক্ষা খাতকে পুনঃসংগঠিত ও পুনরুজ্জীবিত করার কাজ করছি।

তিনি আরো বলেন, প্রথমবারের মতো একটি বৈষম্যহীন শিক্ষাব্যবস্থা গড়ার লক্ষ্যে সারা দেশের একদম তৃণমূল থেকে ঢাকা পর্যন্ত সবাইকে একই প্ল্যাটফর্মের আওতায় নিয়ে বেশ কিছু প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। যেখানে প্রাথমিক পর্যায়ে ২২ লাখ শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে ফুটবল টুর্নামেন্ট আয়োজন করা হয়েছে। এছাড়া মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণে ইনোভেশন গ্রান্ট ও স্টার্টআপ কম্পিটিশন অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রথম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠালে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।

এর পাশাপাশি শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ ও সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি, শিক্ষা কার্যক্রমে ক্রীড়া ও সংস্কৃতির মেলবন্ধন ঘটানো এবং শিক্ষাব্যবস্থায় প্রযুক্তির সঠিক সংযোজন নিয়ে শিক্ষামন্ত্রীর নেতৃত্ব ও নির্দেশনায় আমাদের কাজ নিরবচ্ছিন্নভাবে চলছে। স্বাভাবিকভাবেই দীর্ঘ ১৬ বছরে ভেঙে পড়া রাষ্ট্রকাঠামো হয়তো পাঁচ বা ছয় মাসের মধ্যে আমূল বদলে ফেলা সম্ভব নয়। তবে আমাদের সর্বোচ্চ আন্তরিকতা রয়েছে এবং আপনাদেরও সার্বিক সহযোগিতা আশা করছি। সামনের দিনগুলোতে বহুপাক্ষিক আলোচনা ও মতবিনিময়ের মাধ্যমে আমরা কাঙ্ক্ষিত ইতিবাচক পরিবর্তনগুলো নিশ্চিত করতে পারবো।

তিনি সাংবাদিকদের প্রতি অনুরোধ জানান যে, আমাদের শিক্ষার্থীদের সাফল্যকে আপনারা মূলধারায় তুলে ধরুন। যারা ভালো ফলাফল করেছে এবং যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো ভালো অর্জন দেখিয়েছে, তাদেরকে অনুপ্রেরণা ও স্বীকৃতি দিন। আর যেসব জায়গায় সমস্যা বা ঘাটতি রয়েছে, সেগুলো আমরা সবাই মিলে চিহ্নিত করে ঐক্যবদ্ধভাবেই সমাধান করবো।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫১
মাগরিব ০৫:২৮
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৮ সূর্যাস্ত : ০৫:২৮
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%