০১:৪১ পি.এম
‘‘বড় ছাওয়ালটা সাত বছর আগে চলে গেছে, এবং মেজো ছাওয়ালটি দুই বছর আগে চলে গেছে। কখনোই তারা ছুটিতে আসেনি।
ছাওয়ালটা ফোনে বলেছিল, ‘মা, কষ্ট করে খেয়ে দেনা শোধ করছি কেবল। বাড়ির কাজটা শুরু করছি, বাড়ি এসে বিল্ডিংয়ের কাজটা শেষ করব’। বাবার আর বাড়ি ফেরার সুযোগ হলো না। কি সর্বনাশ হলো বাবা আমার।’’ এভাবেই কান্নায় ভেঙে পড়েন নিহত সুমন এবং মোহনদের মা ময়না খাতুন।
সোমবার (১০ আগস্ট) সকালে নওগাঁর আত্রাই উপজেলার গন্ডগোহালী গ্রামে মোহন ও সুমনদের বাড়িতে শোকের মাতম বইছে। এর আগে রবিবার (৯ আগস্ট) দুপুর ২টায় সৌদি আরবের রিয়াদের শিফা থানার একটি সোফা তৈরির কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দুই ভাই নিহত হয়েছে। পাশাপাশি, এই গ্রামের আরো দুজনও এই ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন।
আরও পড়ুন: ‘বসন্তের কোকিল’ হিসেবে পরিচিত কাজী জাহিদ অভি? পূজামণ্ডপে অনুদান, ক্যানসার আক্রান্ত হাফেজকে সহায়তা নিয়ে প্রশ্ন
ময়না খাতুন বলেন, ‘‘গতকাল সকালে আমি মেজো ব্যাটার সঙ্গে কথা বলেছিলাম। সে বলেছিল, ‘ভালোই আছি মা, তুমি ভাত খাও। তুমি সুস্থ থাকো। ভাই মাল দিতে গেছে, মাল দিয়ে আসবে’। কিন্তু যখন আগুন লাগছে, তখন ফায়ার সার্ভিস আসছিল না।
তখন ছাওয়াল ভয়েস মেসেজ পাঠায়। সে বলেছিল, ‘মাগো, দুইডা কথা কমু মা, আমি আর কথা কমু না নে মা। আগুন লেগে পুড়ে যাচ্ছি মা, মরে যাচ্ছি।’’’
তিনি আরো বলেন, ‘হামার দুই বাবা হামার বুকে আনা দেও বাবা। আমার বাবাকোক দেখে আমি কলিজা শান্তি করমু বাবা। বড় কষ্টের ছাওয়াল, আমার দুই ধনক আমার বুকে এনে দে বাবা রে...। মোহন বলছিল, ‘এসে বিয়া করমু মা। মেয়া-টিয়ে দেখো না, আমি ১০টা দেখে একটা বিয়ে করমু মা।’
নওগাঁর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, আগুনে পুড়ে নওগাঁর আত্রাই উপজেলার এখন পর্যন্ত ১০ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে। নিহতদের পরিবারের সঙ্গে কথা বলা হচ্ছে। মরদেহ ফিরিয়ে আনতে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: স্বাধীনতার পরও পাকা হয়নি সড়ক, দুর্ভোগে পাঁচ গ্রামের মানুষ
সৌদি আরবের রিয়াদের ওই সোফা তৈরির কারখানায় আগুনে পুড়ে নওগাঁর আত্রাই উপজেলার নিহতরা হলেন- বিশা ইউনিয়নের ডুবাই গ্রামের মৃত বাদলের ছেলে সুমন (৩৫) ও একই গ্রামের চঞ্চলের ছেলে হাসিবুল হাসান শুভ (২৭), কালিকাপুর ইউনিয়নের গন্ডগোহালি গ্রামের গাফফফার প্রামাণিকের ছেলে মহন প্রামানিক ও সুমন প্রামাণিক, একই গ্রামের জান্নারের ছেলে রুবেল হোসেন (৩০) ও ফজলুর প্রামাণিকের ছেলে কলি প্রামাণিক (৩৫), পারকাসুন্দা গ্রামের মৃত তমেজ উদ্দিনের ছেলে আব্দুল জলিল (৩৮), বিশা গ্রামের আজহারের ছেলে সাগর (৩১) ও একই গ্রামের মজনুর ছেলে মজিদুল (৩৪) এবং উদনপৈ গ্রামের ময়েন শেখের ছেলে ফরিদ শেখ (৩২)।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন