০১:৫২ পি.এম
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন বলেছেন, যে শিক্ষার্থী যেভাবে পড়াশোনা করেছে, সেভাবেই শতভাগ নিরপেক্ষ মূল্যায়ন নিশ্চিত করা হয়েছে। এই মূল্যায়নের লক্ষ্যে পরীক্ষকদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণও প্রদান করা হয়েছিল। এর ওপর ভিত্তি করেই চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, এখানে ভালো বা মন্দের বিতর্ক না তুলে বিষয়টি স্বাভাবিকভাবে দেখা উচিত। যেসব শিক্ষার্থী ভালো ফলাফলে সফল হয়েছে, তাদের আমাদের সবার উচিত আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানানো।
সোমবার (১০ আগস্ট) এসএসসি এবং সমমানের পরীক্ষার ফলাফল নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন এসব কথা বলেন।
আরও পড়ুন: ভারতীয় পর্যটকেরা বলছেন, ভারতের চেয়ে বাংলাদেশে পূজার পরিবেশ ভালো: রিজভী
তিনি আরও বলেন, আজকে ২০২৬ সালের এসএসসি, দাখিল, এসএসসি (ভোকেশনাল) ও দাখিল (ভোকেশনাল) পরীক্ষার ফলাফল দেখছি, এটি সরকারের গঠন করার মাত্র দুই মাস পরবর্তী একটি প্রক্রিয়া। পরীক্ষার কার্যক্রম গত ২১ এপ্রিল থেকে শুরু হয়েছিল। পরীক্ষার কেন্দ্রগুলোতে সিসিটিভি এবং বডি-অন ক্যামেরা ব্যবহার করা হয়েছে। এবারের খাতা মূল্যায়নের পুরো প্রক্রিয়াটি শতভাগ নির্ভুলভাবে সম্পন্ন করা হয়েছে।
মাহ্দী আমিন বলেছেন, আমরা বহু বছর ধরে দেখে আসছি, উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে কৃত্রিমভাবে জিপিএ-৫ কিংবা পাসের হার বাড়ানো হত। আমরা সেখান থেকে পুরোপুরি বের হয়ে এসেছি। কারণ প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন, আমরা এমন এক শিক্ষাব্যবস্থা চাই, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের প্রকৃত যোগ্যতা, দক্ষতা ও সৃজনশীলতা নিয়ে বের হয়ে আসবে।
তিনি আরো বলেন, যারা ভালো ফলাফল করেছে, তাদের পরিবার যেমন গর্বিত, আমরাও তেমনি গর্বিত। কিন্তু অনেকে হয়তো প্রত্যাশিত ফলাফল করতে পারেনি; তাদের উদ্দেশ্যে বলতে চাই, এটাই জীবনের শেষ সুযোগ নয়।
যারা ভালো ফলাফল করেছে তারা যেমন তাদের পরিশ্রমের উপযুক্ত স্বীকৃতি পেয়েছে, ঠিক তেমনি যারা কাঙ্ক্ষিত ফলাফল পায়নি, সরকার সবসময় তাদের পাশে থাকবে। আমরা নিশ্চিত করতে চাই, ভবিষ্যতে যেন তারা সব বাঁধা পেরিয়ে সফলতা অর্জন করতে পারে।
আরও পড়ুন: ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও চিকিৎসাসেবায় একগুচ্ছ উদ্যোগের কথা জানালেন আখতার হোসেন
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, আমাদের মূল উদ্দেশ্য হলো, যারা এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে, তাদের ফলাফল ভালো হোক বা খারাপ, কিংবা প্রত্যাশিত বা অপ্রত্যাশিত, আমরা সবাইকে নিয়ে একযোগে এগিয়ে যাব। আমরা অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে জানাতে পারছি যে, এবার কিন্তু প্রশ্নপত্র ফাঁসের কোনো ঘটনা ঘটেনি। অত্যন্ত সুন্দর ও সুষ্ঠু পরিবেশে পরীক্ষা হয়েছে।
তিনি বলেন, দীর্ঘদিন পর একটি নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকার রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। জনগণের বিপুল প্রত্যাশার মাঝখানে এসএসসি পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠিত হচ্ছে কি না এবং প্রতিটি শিক্ষার্থী তাদের মেধার সঠিক মূল্যায়ন পাচ্ছে কি না, সেটি একটি গুরুত্বের বিষয় ছিল। গণতান্ত্রিক সরকার দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে যে, আমাদের এমন একটি শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, যা শিক্ষার্থীদের আত্মনির্ভরশীল করবে এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবে। তাই পাস-ফেল যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি জরুরি হলো শিক্ষার্থীরা তাদের সৃজনশীলতা, মেধা ও যোগ্যতার শতভাগ নিরপেক্ষ মূল্যায়ন পাচ্ছে কি না। শিক্ষামন্ত্রীর সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনায় এবার ঠিক সেভাবেই এসএসসি এবং সমমানের পরীক্ষা সফলভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মাহ্দী আমিন বক্তৃতায় বলেন, আমাদের বার্তাটি অত্যন্ত স্পষ্ট: যারা ভালো ফলাফল করেছে কিংবা যারা প্রত্যাশিত ফলাফল পায়নি, সবার উদ্দেশ্যেই বলা হচ্ছে যে প্রত্যেকে একটি সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণ করো, কঠোর পরিশ্রম করো এবং নিজের ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস রাখো; কখনোই থেমে যাওয়া যাবে না। জনগণের নির্বাচিত সরকার প্রতিটি শিক্ষার্থীর পাশে রয়েছে।
তিনি বলেন, আমরা গঠনমূলক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে আমাদের শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়াই। যারা ভালো ফলাফল করেছ, এবং যে প্রতিষ্ঠানগুলো ভালো করেছে, তাদেরকে অনুপ্রেরণা জোগাই। পাশাপাশি যেসব ক্ষেত্রে ঘাটতি বা সমস্যা রয়েছে, সেগুলোর টেকসই সমাধান বের করার জন্য সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করি, যেন শিক্ষার গুণগত মান আরো উন্নত করা যায়, যেমনটি আমাদের শিক্ষামন্ত্রীও গুরুত্বারোপ করেছেন। আর ১৮০ দিনের মূল্যায়নের বিষয়টি আসছে, আমাদের মনে রাখা প্রয়োজন, ফ্যাসিবাদের দীর্ঘ শাসনের ফলে রাষ্ট্রকাঠামো ব্যাপকভাবে ভেঙে পড়েছিল; সেখান থেকেই আমরা শিক্ষা খাতকে পুনঃসংগঠিত ও পুনরুজ্জীবিত করার কাজ করছি।
আরও পড়ুন: ভোটের পাঁচ দিন আগে বাইশিমাস নির্বাচন স্থগিত, প্রার্থীদের প্রতিবাদ
তিনি আরো বলেন, প্রথমবারের মতো একটি বৈষম্যহীন শিক্ষাব্যবস্থা গড়ার লক্ষ্যে সারা দেশের একদম তৃণমূল থেকে ঢাকা পর্যন্ত সবাইকে একই প্ল্যাটফর্মের আওতায় নিয়ে বেশ কিছু প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। যেখানে প্রাথমিক পর্যায়ে ২২ লাখ শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে ফুটবল টুর্নামেন্ট আয়োজন করা হয়েছে। এছাড়া মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণে ইনোভেশন গ্রান্ট ও স্টার্টআপ কম্পিটিশন অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রথম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠালে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।
এর পাশাপাশি শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ ও সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি, শিক্ষা কার্যক্রমে ক্রীড়া ও সংস্কৃতির মেলবন্ধন ঘটানো এবং শিক্ষাব্যবস্থায় প্রযুক্তির সঠিক সংযোজন নিয়ে শিক্ষামন্ত্রীর নেতৃত্ব ও নির্দেশনায় আমাদের কাজ নিরবচ্ছিন্নভাবে চলছে। স্বাভাবিকভাবেই দীর্ঘ ১৬ বছরে ভেঙে পড়া রাষ্ট্রকাঠামো হয়তো পাঁচ বা ছয় মাসের মধ্যে আমূল বদলে ফেলা সম্ভব নয়। তবে আমাদের সর্বোচ্চ আন্তরিকতা রয়েছে এবং আপনাদেরও সার্বিক সহযোগিতা আশা করছি। সামনের দিনগুলোতে বহুপাক্ষিক আলোচনা ও মতবিনিময়ের মাধ্যমে আমরা কাঙ্ক্ষিত ইতিবাচক পরিবর্তনগুলো নিশ্চিত করতে পারবো।
তিনি সাংবাদিকদের প্রতি অনুরোধ জানান যে, আমাদের শিক্ষার্থীদের সাফল্যকে আপনারা মূলধারায় তুলে ধরুন। যারা ভালো ফলাফল করেছে এবং যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো ভালো অর্জন দেখিয়েছে, তাদেরকে অনুপ্রেরণা ও স্বীকৃতি দিন। আর যেসব জায়গায় সমস্যা বা ঘাটতি রয়েছে, সেগুলো আমরা সবাই মিলে চিহ্নিত করে ঐক্যবদ্ধভাবেই সমাধান করবো।
আরও পড়ুন: হায় সেলুকাস, আমাদের এই বাংলাদেশে আইনশৃঙ্খলার অবনতি
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন