মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
১২:২৮ পি.এম
ওবাইদুর রহমান
ঢাকা, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬ : সরকার বাসাবাড়ির ছাদে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করে নিজস্ব চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি জাতীয় গ্রিডে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ সরবরাহের মাধ্যমে আয়ের সুযোগ প্রদান করছে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা চালু করে গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করলে প্রতি ইউনিটের জন্য ১০ টাকা ৫০ পয়সা হারে প্রণোদনা পাওয়া যাবে।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে পরিচালিত এ কর্মসূচির আওতায় গ্রাহকেরা নিজেদের ছাদে সৌর প্যানেল স্থাপন করে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও ব্যবহার করতে পারবেন। নেট মিটারিং ব্যবস্থার মাধ্যমে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করে নির্ধারিত হারে অর্থ পাওয়ার সুযোগও রয়েছে।
গত ১ সেপ্টেম্বর বিদ্যুৎ বিভাগ থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ২০২৭ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা চালু করে জাতীয় গ্রিডে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করলে পরবর্তী তিন বছর প্রতি ইউনিটে ১০ টাকা ৫০ পয়সা হারে প্রণোদনা পাওয়া যাবে। নির্ধারিত শর্ত পূরণ সাপেক্ষে এই সুবিধা ২০৩০ সাল পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।
উৎপাদিত অতিরিক্ত বিদ্যুতের বিপরীতে প্রাপ্য অর্থ প্রতি তিন মাস পরপর গ্রাহকের ব্যাংক হিসাবে জমা দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। বিদ্যুৎ বিভাগ জানিয়েছে, কোনো অবস্থাতেই নগদ অর্থ পরিশোধ করা হবে না।
ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনের পূর্বে গ্রাহকেরা বিদ্যুৎ বিভাগের রুফটপ সোলার ক্যালকুলেটর ব্যবহার করে সম্ভাব্য উৎপাদন এবং খরচ-লাভের হিসাব জানতে পারবেন। ছাদের মোট আয়তন ও ব্যবহারযোগ্য জায়গার তথ্য দিলে ক্যালকুলেটর সম্ভাব্য সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার ক্ষমতা এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনের হিসাব দেবে। এর মাধ্যমে ভবনের বিদ্যুৎ চাহিদার কতটা সৌরবিদ্যুৎ দিয়ে পূরণ করা সম্ভব, সে সম্পর্কেও ধারণা পাওয়া যাবে।
বিদ্যুৎ বিভাগের ক্যালকুলেটরের উদাহরণ অনুযায়ী, ২ হাজার বর্গফুটের একটি আবাসিক ভবনের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করা হলে মাসে গড়ে ১ হাজার ৮৩৩ ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। এ হিসাবে বছরে মোট উৎপাদন হতে পারে প্রায় ২১ হাজার ৯৯৬ ইউনিট।
ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনে গ্রাহকেরা তালিকাভুক্ত সৌরবিদ্যুৎ কোম্পানির সহায়তা নিতে পারবেন। এসব প্রতিষ্ঠান ছাদের উপযোগিতা যাচাই, সৌর প্যানেল ও ব্যাটারি স্থাপন এবং প্রয়োজনীয় রক্ষণাবেক্ষণে সহায়তা করবে।
সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার সঙ্গে ব্যাটারি ব্যবহার করলে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকলেও প্রয়োজনের সময় সংরক্ষিত বিদ্যুৎ ব্যাকআপ হিসেবে ব্যবহার করা যাবে। তবে এ সুবিধার জন্য সৌর প্যানেলের পাশাপাশি ব্যাটারি ও সংশ্লিষ্ট সরঞ্জাম স্থাপনের প্রয়োজন হবে।
সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থায় ব্যবহৃত প্যানেল, ব্যাটারি, ইনভার্টার ও মিটারসহ সংশ্লিষ্ট সব যন্ত্রপাতি বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) এবং টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (স্রেডা) নির্ধারিত কারিগরি মানদণ্ড অনুযায়ী হতে হবে।
নেট মিটারিং ব্যবস্থায় উৎপাদিত সৌরবিদ্যুৎ প্রথমে গ্রাহকের নিজস্ব চাহিদা পূরণে ব্যবহৃত হয়। অতিরিক্ত বিদ্যুৎ দ্বিমুখী মিটারের মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হয়। গ্রিড থেকে নেওয়া বিদ্যুৎ ও গ্রিডে সরবরাহ করা বিদ্যুতের হিসাব সমন্বয় করা হয়। উৎপাদন ব্যবহারের চেয়ে বেশি হলে অতিরিক্ত বিদ্যুতের বিপরীতে নির্ধারিত নিয়মে গ্রাহক অর্থ পাবে।
এ সংক্রান্ত নীতিগত ও কারিগরি সহায়তা দিতে বিদ্যুৎ বিভাগ ওয়ান-স্টপ সার্ভিস সেন্টার স্থাপন করেছে। এছাড়া বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থাগুলোর জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের কার্যালয় থেকেও গ্রাহকেরা প্রয়োজনীয় সহায়তা পাবেন।
সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার দ্রুত সম্প্রসারণে সর্বোচ্চ পাঁচ মেগাওয়াট সক্ষমতার প্রকল্প স্থাপনের সুযোগ রেখে গত ১৯ অক্টোবর ‘বিশেষ সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন অধ্যাদেশ- ২০২৬’ জারি করেছে সরকার।
এ অধ্যাদেশের আওতায় সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান, সরকারি কোম্পানি এবং বাসাবাড়ির ছাদ, আঙিনা, পরিত্যক্ত জমি, জলাশয় ও চা বাগানে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করা যাবে। এছাড়া ভবন, পার্কিং লট, গ্যারেজ, বাণিজ্যিক ও শিল্প স্থাপনার ছাদে সৌর প্যানেল স্থাপন এবং ভাসমান সৌরবিদ্যুৎ ও কৃষি-সৌরবিদ্যুৎ প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়েছে।
অধ্যাদেশ অনুযায়ী, বেসরকারি বিনিয়োগকারীরা ওপেক্স (অপারেটিং এক্সপেন্ডিচার) মডেলে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করে ব্যবসা করতে পারবেন। এ মডেলে বিনিয়োগকারী নিজ খরচে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন ও পরিচালনা করবেন এবং চুক্তি অনুযায়ী গ্রাহক বিদ্যুৎ ব্যবহারের জন্য মূল্য পরিশোধ করবেন। অন্যদিকে, নিজস্ব তহবিল থাকা প্রতিষ্ঠানগুলো ক্যাপেক্স (ক্যাপিটাল এক্সপেন্ডিচার) মডেলে নিজস্ব অর্থায়নে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করতে পারবে।
সময় সাশ্রয়ে নির্দিষ্ট শর্তে সর্বোচ্চ পাঁচ কোটি টাকা পর্যন্ত পণ্য ও সেবা কেনার ক্ষেত্রে সীমিত দরপত্র পদ্ধতি ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে ই-গভর্নমেন্ট প্রকিউরমেন্ট (ইজিপি) পদ্ধতি বাধ্যতামূলক রাখা হয়নি।
সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার সুরক্ষায় অধ্যাদেশে বিভিন্ন অপরাধের জন্য শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। বিদ্যুৎ বা যন্ত্রাংশ চুরি, চোরাই পণ্য কেনাবেচা কিংবা হেফাজতে রাখার অপরাধে সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ড, ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড দেওয়া যাবে।
সৌর প্যানেল বা যন্ত্রাংশ ভাঙচুর কিংবা ক্ষতিসাধনের জন্য সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড বা পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। এছাড়া উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের লিখিত অনুমতি ছাড়া অবৈধ সংযোগ স্থাপন এবং সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন, পরিদর্শন ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজে নিয়োজিত কর্মীদের বাধা দেওয়ার অপরাধে সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ড বা পাঁচ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া যাবে।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ জনপ্রিয় করতে হবে। এ উদ্যোগ সফল করতে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা, প্রয়োজনে প্রণোদনার মেয়াদ বৃদ্ধি এবং মেয়াদ শেষের পর সরকার সেই বিদ্যুৎ কিভাবে কিনবে তা ঘোষণা করা উচিত। একই সঙ্গে নেট মিটারিং সংযোগের জটিলতা দূর করতে বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানিগুলোকে এক মাসের মধ্যে নেট মিটারিং নিশ্চিত করতে হবে।
কোস্টাল লাইভলিহুড অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল অ্যাকশন নেটওয়ার্কের (ক্লিন) প্রধান নির্বাহী ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞ হাসান মেহেদী বলেন, ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ থেকে আয় করার সুযোগ দেওয়া সরকারের একটি ভালো উদ্যোগ। তবে এ উদ্যোগের সুফল পেতে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চালাতে হবে।
তিনি বলেন, ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়াতে তিন বছরের প্রণোদনার মেয়াদ আরও বাড়ানো উচিত। পাশাপাশি নেট মিটারিং সংযোগ পেতে যে জটিলতা রয়েছে, তা দূর করতে হবে।
হাসান মেহেদী বলেন, বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানিগুলোকে নির্দেশ দিয়ে এক মাসের মধ্যে নেট মিটারিং নিশ্চিত করা গেলে এ উদ্যোগ কার্যকর হবে। অন্যথায় সরকারের এ কর্মসূচি প্রত্যাশিত ফল নাও দিতে পারে।
বিদ্যুৎ বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, বর্তমান বিদ্যুৎ চাহিদা মেটাতে জীবাশ্ম জ্বালানির পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো জরুরি। এ কারণে সরকার বাসাবাড়ি, সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনে গুরুত্ব দিচ্ছে। সরকারি সব প্রতিষ্ঠানের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারে প্রণোদনা দেওয়ার পাশাপাশি সৌর সরঞ্জাম আমদানিতে শুল্ক ১৭ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১ শতাংশ করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও তাঁর বাসভবনের ছাদে উৎপাদিত সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহার করছেন এবং অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করছেন।
গত ৩ অক্টোবর স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম গণমাধ্যমকে জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তিন দিনে সৌরবিদ্যুৎ থেকে ১ হাজার ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহার করেছেন এবং ১ হাজার ২০০ ইউনিট জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করেছেন।
ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার মাধ্যমে নিজস্ব বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণের পাশাপাশি অতিরিক্ত বিদ্যুৎ গ্রিডে সরবরাহ করে আয় করার সুযোগ থাকায় এ কর্মসূচিতে সাধারণ গ্রাহকদের অংশগ্রহণ বাড়বে বলে আশা করছে সরকার।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মাগুরা-ফরিদপুর সড়কের বেলনগর এলাকায় দুটি মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষের ফলে আব্দুল্লাহ শেখ (২৫) নামের এক যুবক নিহত হয়েছেন। এই দুর্ঘটনায় অপর এক মোটরসাইকেল আরোহী, মিজানুর রহমান (৪০), আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে বেলনগর হাঁস খামারের সামনে এই ঘটনা ঘটে।
নিহত যুবক আব্দুল্লাহ শেখ বেলনগর গ্রামের বাকি শেখের পুত্র এবং পেশায় কৃষক ছিলেন। অপরদিকে, আহত মিজানুর রহমান কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার পান্টি গ্রামের বাসিন্দা এবং তিনি পপুলার ফার্মাসিউটিক্যালসের এরিয়া ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
রামনগর হাইওয়ে পুলিশের ওসি আব্দুল হালিম জানিয়েছেন, ‘আব্দুল্লাহ শেখ একটি অ্যাপাচি আরটিআর মোটরসাইকেল নিয়ে মধুখালী বাজার থেকে তার বাড়ির দিকে যাচ্ছিলেন। অন্যদিকে, মিজানুর রহমান একটি হিরো হোন্ডা মোটরসাইকেলে মাগুরা থেকে ওয়াপদা বাজারের দিকে যাচ্ছিলেন। বেলনগর হাঁস খামারের সামনে পৌঁছানোর পর দুটি মোটরসাইকেলের মধ্যে সংঘর্ষ ঘটে।’
তিনি আরও জানান, ‘দুর্ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন তাদের উদ্ধার করে মাগুরা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক আব্দুল্লাহ শেখকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত মিজানুর রহমানকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার পর যদি আয়ের হিসাব, কর অব্যাহতি বা কর ক্রেডিটের তথ্যসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ভুল ধরা পড়ে, তাহলে সংশোধনের সুযোগ রয়েছে। তবে, এই সুযোগ গ্রহণের জন্য নির্ধারিত সময়সীমা ও শর্তাবলী মেনে চলতে হবে। মূল রিটার্ন যদি নিরীক্ষার জন্য নির্বাচিত হয়, তাহলে সংশোধনের সুযোগ আর থাকবে না।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) নিয়ম অনুযায়ী, নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ সাপেক্ষে করদাতারা নিজেদের দাখিল করা আয়কর রিটার্ন সংশোধন করার সুযোগ পাবেন। তাই, রিটার্ন জমা দেওয়ার পর যদি কোনো ভুল দেখা দেয়, তাহলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি।
আয়কর রিটার্নে মূলত তিন ধরনের ভুল সংশোধনের সুযোগ রয়েছে। এগুলো হলো—
১. প্রদর্শিত আয়ের ভুল: রিটার্নে আয়ের পরিমাণ উল্লেখ করতে গিয়ে ভুল হলে সংশোধনের আবেদন করা যাবে।
২. কর অব্যাহতি বা কর ক্রেডিটের ভুল: কর অব্যাহতি কিংবা কর ক্রেডিট দাবি করার ক্ষেত্রে ভুল থাকলে সংশোধনের সুযোগ রয়েছে।
৩. অন্যান্য যৌক্তিক ভুল: উপরোক্ত বিষয়গুলোর বাইরে গ্রহণযোগ্য কোনো কারণে রিটার্নে ভুল হলে সেটিও সংশোধনের আওতায় আসতে পারে।
রিটার্ন সংশোধনের ক্ষেত্রে কিছু শর্ত রয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী—
মূল রিটার্ন জমা দেওয়ার তারিখ থেকে ১৮০ দিন পার হয়ে গেলে সংশোধনের সুযোগ থাকবে না।
একই করবর্ষের রিটার্ন একবার সংশোধন করার পর দ্বিতীয়বার সংশোধন করা যাবে না।
মূল রিটার্ন নিরীক্ষার জন্য নির্বাচিত হলে তা আর সংশোধন করা যাবে না।
এ কারণে, রিটার্ন জমা দেওয়ার পর ভুল শনাক্ত হলে দেরি না করে সংশোধনের প্রক্রিয়া শুরু করা প্রয়োজন।
অনলাইনে যেভাবে সংশোধিত রিটার্ন জমা দেবেন
করদাতাদের সুবিধার্থে অনলাইনে সংশোধিত আয়কর রিটার্ন দাখিলের ব্যবস্থা রয়েছে। এ জন্য এনবিআরের ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে সংশ্লিষ্ট রিটার্ন সংশোধনের অপশন ব্যবহার করতে হবে। এরপর প্রয়োজনীয় তথ্য সংশোধন করে নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে সংশোধিত রিটার্ন দাখিল করতে হবে।
সংশোধনের ফলে করের পরিমাণ বেড়ে গেলে নিয়ম অনুযায়ী অতিরিক্ত কর পরিশোধ করতে হবে। এ ছাড়া প্রযোজ্য ক্ষেত্রে জরিমানাও দিতে হতে পারে।
টিআইএনধারীর তুলনায় রিটার্ন জমা কম
প্রতিবেদনে উল্লেখিত তথ্য অনুযায়ী, এ বছর এখন পর্যন্ত প্রায় ৪২ লাখ ৫০ হাজার করদাতা আয়কর রিটার্ন জমা দিয়েছেন। অন্যদিকে, দেশে কর শনাক্তকরণ নম্বর বা টিআইএনধারীর সংখ্যা প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ।
এই পরিসংখ্যান অনুযায়ী, টিআইএনধারীর তুলনায় রিটার্ন জমা দেওয়ার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কম। একই সঙ্গে রিটার্নে সঠিক তথ্য দেওয়া এবং ভুল হলে আইন অনুযায়ী তা সংশোধন করা করদাতাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
সতর্কতা: রিটার্ন সংশোধনের সময়সীমা ও যোগ্যতার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট করবর্ষের প্রযোজ্য আইন এবং এনবিআরের সর্বশেষ নির্দেশনা যাচাই করে নেওয়া উচিত।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মাগুরায় দুই মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষের ফলে আব্দুল্লাহ শেখ (২৫) নামের এক মোটরসাইকেল আরোহী প্রাণ হারিয়েছেন। এ ঘটনায় মিজানুর রহমান নামের অপর এক মোটরসাইকেল আরোহী গুরুতর আহত অবস্থায় রয়েছেন।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকাল ৮টার সময় সদর উপজেলার রামনগর ঠাকুরবাড়ি এলাকায় এই দুর্ঘটনাটি ঘটে।
নিহত আব্দুল্লাহ শেখ সদর উপজেলার বেলনগর গ্রামের বাকি শেখের সন্তান। অপরদিকে, আহত মিজানুর রহমান কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালী থানার সদরপুর গ্রামের আব্দুর রশিদ বিশ্বাসের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুর্ঘটনার পর আহতদের উদ্ধার করে মাগুরা ২৫০ শয্যা হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক আব্দুল্লাহ শেখকে মৃত ঘোষণা করেন। বর্তমানে আহত মিজানুর রহমান হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে রামনগর হাইওয়ে থানার সার্জেন্ট গৌরব জানান, একটি মোটরসাইকেল মাগুরা থেকে ওয়াবদা এবং অন্যটি মাগুরা অভিমুখে যাচ্ছিল। রামনগর ঠাকুরবাড়ি এলাকায় পৌঁছালে দুটি মোটরসাইকেলের মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটে।
পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে মাগুরা ২৫০ শয্যা হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক আব্দুল্লাহ শেখকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত মিজানুর রহমান বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দুর্ঘটনাকবলিত মোটরসাইকেল দুটি হেফাজতে নিয়েছে।
তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
লিবিয়া থেকে স্বেচ্ছায় দেশে ফিরে এসেছেন ১৭৪ জন বাংলাদেশি, যারা অনিয়মিতভাবে সেখানে অবস্থান করছিলেন। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকাল ৫টা ৪০ মিনিটে বুরাক এয়ারের একটি ফ্লাইট (ইউজেড-২২২) তাদের নিয়ে বাংলাদেশে পৌঁছায়, যাত্রা শুরু হয়েছিল দেশটির রাজধানী ত্রিপোলি থেকে।
লিবিয়া সরকার ও আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) সহযোগিতায় তাদের প্রত্যাবাসনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়, যা বাস্তবায়িত হয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, লিবিয়ায় বাংলাদেশ দূতাবাস এবং প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দেশে ফিরে আসা বাংলাদেশিদের অধিকাংশই মানবপাচারকারীদের প্ররোচনা ও সহযোগিতায় অবৈধভাবে সমুদ্রপথে ইউরোপে যাওয়ার উদ্দেশ্যে লিবিয়ায় প্রবেশ করেছিলেন। তাদের মধ্যে অনেকেই সেখানে বিভিন্ন সময় অপহরণ ও নির্যাতনের শিকার হওয়ার অভিযোগ করেছেন।
বিমানবন্দরে দেশে ফেরা বাংলাদেশিদের অভ্যর্থনা জানান সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও আইওএমের কর্মকর্তারা। এ সময় তাদের কাছে অনুরোধ করা হয় যে, তারা নিজেদের দুর্বিষহ অভিজ্ঞতা অন্যদের সঙ্গে ভাগ করে নেন, যাতে অবৈধ পথে বিদেশযাত্রার ঝুঁকি সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি পায়।
আইওএমের পক্ষ থেকে প্রত্যাবাসিত প্রত্যেক বাংলাদেশিকে যাতায়াতের খরচ, কিছু খাদ্যসামগ্রী এবং প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা প্রদান করা হয়েছে। প্রয়োজন হলে তাদের জন্য অস্থায়ী আবাসনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, লিবিয়ার বিভিন্ন ডিটেনশন সেন্টারে আটক বাংলাদেশিদের নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনতে বাংলাদেশ দূতাবাস, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং আইওএম একযোগে কাজ করছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ