০৬:৪৭ পি.এম
‘গুলি করি, মরে একটা, আহত হয় একটা। একটাই যায় স্যার, বাকিডি যায় না’ এই কথোপকথনের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া পুলিশ কর্মকর্তা মো. ইকবাল হোসাইনকে চাকরি থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছে সরকার।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ওয়ারী বিভাগের সাবেক উপ-কমিশনার ইকবাল হোসাইনকে দীর্ঘদিন ধরে কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগে এই শাস্তি দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ থেকে জারি করা হয়েছে।
বর্তমানে খুলনা রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ের সঙ্গে যুক্ত ইকবাল হোসাইন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া ২০২৪ সালের ২৮ আগস্ট থেকে কর্মস্থলে অনুপস্থিত আছেন। এ কারণে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: তারেক রহমান: জামায়াত-এনসিপি আমার রাষ্ট্রীয় সম্মান সহ্য করতে পারছে না
তদন্ত শেষে তার বিরুদ্ধে ‘অসদাচরণ’ এবং ‘পলায়ন’-এর অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে মতামত দেওয়া হয়। গণমাধ্যমের কাছে আসা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নথি অনুযায়ী, অভিযোগের বিষয়ে তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হলেও ইকবাল হোসাইন কোনো সাড়া দেননি। পরে তদন্তকারী অফিসার নিয়োগ করে অভিযোগ তদন্ত করা হয়।
তদন্ত প্রতিবেদনে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় চাকরি থেকে বরখাস্ত করার গুরুদণ্ড আরোপের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। দ্বিতীয়বার কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়ার পরও তিনি জবাব দেননি। পরে, অভিযোগের গুরুত্বসহ সামগ্রিক বিষয় পর্যালোচনা করে চাকরি থেকে বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত বহাল রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
গুরুদণ্ড আরোপের জন্য সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ এবং বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পরামর্শকরণ) রেগুলেশনস, ১৯৭৯ অনুযায়ী পরামর্শ চাওয়া হয়। কমিশন ইকবাল হোসাইনকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা যেতে পারে বলে পরামর্শ দেয়। এরপর বিষয়টি রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট নথিতে ইকবাল হোসাইনসহ অন্যান্য পুলিশ কর্মকর্তাদের চাকরি থেকে বরখাস্ত করার প্রক্রিয়ার কথা উল্লেখ রয়েছে। রাষ্ট্রপতির অনুমোদন পাওয়ার পর এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে বলে সূত্র জানিয়েছে।
আরও পড়ুন: আদাবরে যুবদল নেতাকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে জখম
ইকবাল হোসাইনের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে যে, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট মাসের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় তিনি তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সঙ্গে একটি ভিডিওতে গুলি চালানোর কথা বলেছিলেন। ভিডিওতে দেখা যায়, তিনি বলেন, ‘গুলি করে করে লাশ নামানো লাগছে স্যার। গুলি করি, মরে একটা, আহত হয় একটা। একটাই যায় স্যার, বাকিডি যায় না।’ ভিডিওতে তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, পুলিশের মহাপরিদর্শক এবং স্বরাষ্ট্রসচিবের উপস্থিতি দেখা যায়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন