০৪:৪৭ পি.এম
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের পর ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনা চলার মধ্যে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও উপসাগরীয় দেশগুলো সফর শুরু করেছেন।
বুধবার, তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বিন জায়েদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।
ইরানের হামলায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত উপসাগরীয় দেশগুলোর সফরের অংশ হিসেবে, রুবিও মঙ্গলবার রাতে আবুধাবি পৌঁছান। সেখানে তিনি শেখ মোহাম্মদের সঙ্গে একটি রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন।
আরও পড়ুন: স্পেনে ট্রেন দুর্ঘটনায় তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা
রুবিওর কুয়েত ও বাহরাইন যাওয়ার কথা রয়েছে পরবর্তী সময়ে। বৃহস্পতিবার, সেখানে তিনি উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের (জিসিসি) বৈঠকে অংশ নেবেন। এই খবরটি আবুধাবি থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে।
ইরানের হামলার শিকার হওয়া এই তিন দেশের প্রতি সংহতি জানাতেই রুবিওর এ সফর প্রসঙ্গে বলা হচ্ছে।
মঙ্গলবার, রুবিও উল্লেখ করেন যে, তিনি উপসাগরীয় নেতাদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া সমঝোতা স্মারক নিয়ে আলোচনা করবেন। তবে তিনি এও বলেন যে, ঐ সমঝোতায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ও মিত্র গোষ্ঠীগুলোর বিষয় অন্তর্ভুক্ত নেই, যা দীর্ঘ সময় ধরে উপসাগরীয় দেশগুলোর উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
পাশাপাশি, ওমান ও ইরান হরমুজ প্রণালীর মধ্য দিয়ে চলাচলের ক্ষেত্রে যে ‘খরচ’ নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে তা জানিয়ে রুবিও বলেন, কোনো দেশকে এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে টোল আরোপের অনুমতি দেওয়া হবে না।
আরও পড়ুন: ডিসেম্বরে খুলছে পঞ্চবটি-মুক্তারপুর দ্বিতল সড়ক, টোল নির্ধারণ
সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানীতে পৌঁছে তিনি বলেন, ‘এটি একটি আন্তর্জাতিক নৌপথ। কোনো দেশ আন্তর্জাতিক নৌপথে টোল বা ফি নিতে পারে না। এটি বিদ্যমান আন্তর্জাতিক আইন।’
গত সপ্তাহে চুক্তি সই হওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যে কোনো শীর্ষ মার্কিন কর্মকর্তার এটি প্রথম সফর।
বিশেষজ্ঞরা মন্তব্য করছেন, যে চুক্তি উপসাগরীয় মিত্রদের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি সেটি নিয়ে উদ্বেগ দূর করতে যুক্তরাষ্ট্র তার ধনী উপসাগরীয় মিত্রদের আশ্বস্ত করার চেষ্টা করছে।
জ্বালানি সমৃদ্ধ উপসাগরীয় অঞ্চল ফেব্রুয়ারি ২৮ তারিখের যুদ্ধের সময় ইরানের পাল্টা হামলার বড় ধাক্কা সামলেছে। এই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি সামরিক ঘাঁটি রয়েছে।
আরও পড়ুন: ইসরাইলের নির্বাচনে হিজবুল্লাহর মাথাব্যথা নেই: নাঈম কাসেম
ওই যুদ্ধ শুরু হয়েছিল ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার পর।
সংযুক্ত আরব আমিরাতে ২ হাজার ৮০০টির বেশি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা পরিচালিত হয়েছে, যা এ অঞ্চলের অন্যান্য দেশের তুলনায় অনেক বেশি।
কুয়েত ও বাহরাইনও বড় ধরণের হামলার শিকার হয়েছে।
যুদ্ধ চলাকালে, সংযুক্ত আরব আমিরাত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তার জোট আরও শক্তিশালী করেছে।
আরও পড়ুন: যাত্রাবাড়ীতে ছিনতাই সন্দেহে গণপিটুনিতে আহত যুবক নিশাত মিয়ার মৃত্যু
আঞ্চলিক নেতারা দীর্ঘকাল ধরে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখেছেন। তারা যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে কোটি কোটি ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরানের হামলার সময় যুক্তরাষ্ট্র তাদের ঝুঁকির মধ্যে ফেলে রেখেছিল, তাই তারা এখন অবিশ্বস্ত অংশীদার হিসেবে ওয়াশিংটনকে নিয়ে সতর্ক হয়ে উঠেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন