০২:৫৪ পি.এম
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (পুর) মো. সাইদুর রহমান এবং তাঁর স্ত্রীর বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ অনুসন্ধানে প্রমাণিত না হওয়ায় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এটি পরিসমাপ্তি করেছে।
এ-সংক্রান্ত দুদকের একটি চিঠির তথ্য সাম্প্রতিক সময়ে সামনে আসার পর, সাইদুর রহমানের বিরুদ্ধে প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদনের সত্যতা ও তথ্য যাচাই নিয়ে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে।
দুদক প্রধান কার্যালয়ের পরিচালক (বিশেষ অনুসন্ধান ও তদন্ত-১) মো. কামরুজ্জামানের স্বাক্ষরিত ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখের একটি চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, অভিযোগটি অনুসন্ধানে প্রমাণিত না হওয়ায় চূড়ান্তভাবে পরিসমাপ্তির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। উল্লেখ করা হয়েছে চিঠিতে স্মারক নম্বর ০০.০১.০০০০.০০০.৫০১.০১.০০৩৭.১৭.১৫।
আরও পড়ুন: ডিসিদের আদলে ১ ডিসেম্বর শুরু হচ্ছে ইউএনও সম্মেলন
সাইদুর রহমান ও তাঁর স্ত্রীর বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ নিয়ে দুদকের অনুসন্ধান চলছিল। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, অনুসন্ধানে অভিযোগের পক্ষে পর্যাপ্ত প্রমাণের অভাব থাকায় কমিশন বিষয়টি পরিসমাপ্তির সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে।
ফলে, সাইদুর রহমানের বিরুদ্ধে প্রকাশিত অভিযোগগুলোকে চূড়ান্তভাবে প্রতিষ্ঠিত সত্য হিসেবে গ্রহণ করার আগে বদল হওয়া দুদকের পারিশ্রমিকের সিদ্ধান্তটি বিবেচনায় নেওয়া উচিত বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিআইডব্লিউটিএর কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীর ভাষ্য মতে, দীর্ঘ কর্মজীবনে প্রকৌশলী হিসেবে সাইদুর রহমান বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। পেশাগত দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও কর্তৃত্বপূর্ণতা কারণে তিনি প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পেয়েছেন বলেও তাঁদের দাবি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা বলেন, কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে সেটা যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তদন্ত হওয়া জরুরি। অভিযোগের সত্যতা যাচাই না করে শুধুমাত্র সংবাদ বা প্রচারের ভিত্তিতে কাউকে দায়ী করা উচিত নয়।
আরও পড়ুন: শিক্ষাকে কর্মজীবনের সঙ্গে যুক্ত করতে হবে: ইউজিসি চেয়ারম্যান
তিনি আরও উল্লেখ করেন, কোন প্রকল্প বা সিদ্ধান্তে অনিয়মের অভিযোগ থাকলে ওই সিদ্ধান্ত গ্রহণের সময় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার প্রকৃত দায়িত্ব ও ক্ষমতার পরিধিও খোঁজ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।
বিআইডব্লিউটিএর একটি সূত্র দাবি করেছে, প্রতিষ্ঠানের স্বার্থে দায়িত্ব পালন করার সময় সাইদুর রহমান বিভিন্ন অনিয়ম ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে অবস্থান অভিব্যক্তি করেছেন। এই কারণে একটি স্বার্থান্বেষী মহল তাঁর পেশাগত ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার জন্য বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে।
যা জানতে চাইলে, বিআইডব্লিউটিএর অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (পুর) মো. সাইদুর রহমান বলেন, কর্মজীবনে তিনি প্রতিষ্ঠানের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার চেষ্টা করেছেন এবং অসৎ বা অনৈতিক চাপের কাছে মাথা নত করেননি।
তাঁর প্রকাশিত সংবাদ প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, কোনো কর্মকর্তা বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে সাংবাদিকদের তা অনুসন্ধান করা উচিত। তবে সংবাদ প্রকাশের পূর্বে সংশ্লিষ্ট নথি যাচাই এবং অভিযুক্ত ব্যক্তির বক্তব্য নেওয়ো সাংবাদিকতার মৌলিক দায়িত্ব।
আরও পড়ুন: ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের নাগরিক সেবা ‘মাইগভ’ প্ল্যাটফর্ম উদ্বোধন
তিনি সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, কোনো ব্যক্তি বা স্বার্থান্বেষী মহল কর্তৃক প্রদত্ত তথ্যের ওপর এককভাবে নির্ভর না করে সরকারি নথি, প্রকল্পের কাগজপত্র, সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্ত এবং প্রত্যক্ষ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য যাচাই করে সংবাদ প্রকাশ করা উচিত।
সাইদুর রহমান আরও জানান, সত্য উদঘাটনের উদ্দেশ্যে সাংবাদিকদের অনুসন্ধানকে তিনি স্বাগত জানান। তবে যদি মিথ্যা বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত তথ্যের ভিত্তিতে সংবাদ প্রকাশ করা হয়, তাহলে একজন কর্মকর্তার পাশাপাশি তাঁর পরিবার ও প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন