ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৬ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৬ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

জরাজীর্ণ টিনশেডে চরম ঝুঁকি: কাউখালীর উত্তর নীলতি সমতট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ব্যাহত পাঠদান, আকুতি পাকা ভবনের


জরাজীর্ণ টিনশেডে চরম ঝুঁকি: কাউখালীর উত্তর নীলতি সমতট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ব্যাহত পাঠদান, আকুতি পাকা ভবনের

পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলার চিরাপাড়া-পারসাতুরিয়া ইউনিয়নের উত্তর নীলতি সমতট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ টিনশেড ভবনে ঝুঁকি নিয়েই পাঠদান চলছে। টিনের চালের অসংখ্য ছিদ্র, কাদায় ভরা মাটির মেঝে, ঝুঁকিপূর্ণ শ্রেণিকক্ষ এবং ব্যবহার অনুপযোগী খেলার মাঠের কারণে চরম দুর্ভোগে পড়েছে ১৬৫ জন শিক্ষার্থী। এ নিয়ে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ১৯৯৫ সালে এমপিওভুক্ত হওয়া এই বিদ্যালয়ের জরাজীর্ণ টিনের চালে মরিচা ধরে অসংখ্য ছিদ্রের সৃষ্টি হয়েছে। ফলে সামান্য বৃষ্টিতে চাল চুইয়ে শ্রেণিকক্ষে পানি পড়ে শিক্ষার্থীদের বই-খাতা ভিজে নষ্ট হচ্ছে। মাটির মেঝে ভিজে কাদা হয়ে যাওয়ায় স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। অন্যদিকে, প্রচণ্ড গরমে টিনশেড ঘরের তীব্র উত্তাপে শিক্ষার্থীরা ঘন ঘন অসুস্থ হয়ে পড়ছে। বর্ষা মৌসুমে নিচু খেলার মাঠে পানি জমে থাকার কারণে খেলাধুলার সুযোগও বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।

বিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষার্থী ইভা, আলভি রহমান ও নিলয় মিস্ত্রি আকুতি জানিয়ে বলেছে, "বৃষ্টির সময় টিনের ছিদ্র দিয়ে পানি পড়ে বই-খাতা সব ভিজে যায়। আর গরমের দিনে টিনের চালে ঘরের ভেতরে থাকা অসম্ভব হয়ে পড়ে। অন্যান্য স্কুলের মতো আমরাও একটি আধুনিক পাকা ভবনে নিরাপদে বসে পড়াশোনা করতে চাই।"

আরও পড়ুন: নাব্যতা সংকটে হবিগঞ্জের সুতাং নদী মরা খালে পরিণত

বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৬৭ সালে প্রতিষ্ঠিত ঐতিহ্যবাহী এই প্রতিষ্ঠানটির ১৬৫ জন শিক্ষার্থীর পাঠদান ও দাপ্তরিক কাজ বর্তমানে মাত্র সাতটি জরাজীর্ণ কক্ষে সম্পন্ন হচ্ছে। এত সব সীমাবদ্ধতার মধ্যেও শিক্ষার্থীরা পাবলিক পরীক্ষাসহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করছে এবং মেধা তালিকায় কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখে চলেছে।

অভিভাবকরা হতাশা প্রকাশ করে জানান, সরকার শিক্ষা খাতকে অগ্রাধিকার দিলেও দীর্ঘ পাঁচ দশকেও এই বিদ্যালয়টির অবকাঠামোগত কোনো পরিবর্তন হয়নি। কোমলমতি সন্তানদের নিরাপদ শিখন পরিবেশ নিশ্চিত করতে দ্রুত একটি বহুতল একাডেমিক ভবন নির্মাণের জোর দাবি জানিয়েছেন তারা।

বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জাহানারা আক্তার বলেন, "আমরা প্রতিনিয়ত শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের জীবন ঝুঁকিতে রেখে শিক্ষা কার্যক্রম চালাচ্ছি। ঝড়-বৃষ্টির দিনে চরম আতঙ্কে থাকতে হয়। নতুন বহুতল ভবনের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে একাধিকবার লিখিত আবেদন জানানো হলেও এখনও পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।"

বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত বেহাল দশা নিয়ে কাউখালী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ আব্দুল হান্নান বলেন, "উত্তর নীলতি সমতট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের জরাজীর্ণ অবস্থা ও শিক্ষার্থীদের কষ্টের বিষয়টি সম্পর্কে আমরা অবগত আছি। ইতিমধ্যে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে নতুন ভবনের প্রাক্কলন পাঠাতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বরাদ্দ সাপেক্ষে দ্রুততম সময়ে পাকা ভবন নির্মাণের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"

আরও পড়ুন: বরিশালে দুই যুবককে মারধরের অভিযোগ বিএনপি নেতা ফারুকের বিরুদ্ধে

এ বিষয়ে কাউখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোঃ আসাদুজ্জামান জানান, "শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভৌত অবকাঠামো উন্নত রাখা এবং শিক্ষার নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা আমাদের অগ্রাধিকার। বিদ্যালয়টির জরাজীর্ণ অবস্থার সার্বিক তথ্য সংগ্রহ করে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। একটি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনা তৈরি করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রেরণ করে খুব শিগগিরই পাকা ভবন বরাদ্দের বিষয়টি নিশ্চিত করা হবে।"

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

২৪ এর গণঅভ্যুত্থানে বেরোবির আওয়ামীপন্থী দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকরা কে কোথায়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বেরোবি প্রতিনিধি

সোমবার, ১৭ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০২:৫৭ পি.এম


২৪ এর গণঅভ্যুত্থানে বেরোবির আওয়ামীপন্থী দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকরা কে কোথায়

২৪-এর জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী গণঅভ্যুত্থান এবং বীর শহীদ আবু সাঈদের আত্মত্যাগের পুণ্যভূমি বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) রাজনীতি ও প্রশাসনের অবস্থান এক নতুন ও রহস্যময় মোড় নিয়েছে। পতিত স্বৈরাচারের দোসর এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে প্রকাশ্য ও গোপনে বিরোধিতা করা চরম আওয়ামীপন্থী শিক্ষকরা শুধু আত্মগোপনে রয়েছেন তা নয়; বরং তাদের একটি বড় অংশ খোলস পাল্টে বর্তমান প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদ গ্রহণ করে ক্যাম্পাসে পুনর্বাসিত হচ্ছেন বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। কিছু শিক্ষক দায়িত্বে রয়েছেন, আবার কেউ খুলসে আড়ালে বাস করছেন।

ক্যাম্পাসের পরিবেশ ও শিক্ষার্থীদের তীব্র ক্ষোভ, জাতীয় গণমাধ্যম এবং নির্ভরযোগ্য গোপন তথ্যানুযায়ী বেরোবির বিতর্কিত ও তৎকালীন দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকদের বর্তমান অবস্থানের সর্বশেষ চিত্র নিচে তুলে ধরা হলো।

শিক্ষার্থীদের তীব্র ক্ষোভ ও রক্তক্ষয়ী জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে বেরোবির চরম আওয়ামীপন্থী শিক্ষক সংগঠন ‘নীল দল’-এর দুই বারের সাবেক সভাপতি ড. নিতাই কুমার ঘোষকে কলা অনুষদের ডিন হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বর্তমান প্রশাসনের পক্ষ থেকে। এছাড়াও ঐ সময়ের পরিবহন পরিচালক এখন ক্যাম্পাসের হল প্রভোস্টের দায়িত্বেও রয়েছেন।

২৪ এর চরম উত্তালের সময় প্রশাসনের সাথে সরাসরি যুক্ত থেকে শিক্ষার্থীদের বিরোধিতা করেছিলেন ঐ সময়ের পুরো প্রক্টরিয়াল বডি। যেখানে প্রক্টর শরিফুল ইসলাম কে ব্যর্থতার জন্য অভিযুক্ত করা হয়েছে, তবে তিনি এখন কারাগারে রয়েছেন। বাকি সহকারী প্রক্টরগণ ৫ আগস্টের পরপরই আবার প্রশাসনের বিভিন্ন দায়িত্বে নিয়োজিত হয়েছেন। এর মধ্যে জুলাই আন্দোলনের সময় তৎকালীন প্রশাসনের সহযোগী হিসেবে কাজ করা সহকারী প্রক্টর মো. ইসমাইল হোসেন, যিনি গণিত বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক, পরিবর্তনের পরও সম্পূর্ণ নিরাপদ ও বহাল তবিয়তে রয়েছেন। শোনা যাচ্ছে, বর্তমান উপাচার্যের (ভিসি) সাবেক ছাত্র হওয়ার সুবাদে তিনি এই সুবিধা পেয়েছেন বলে অনেকেই মন্তব্য করেছেন।

এছাড়াও, জুলাই বিপ্লবের সময় ছাত্রদের বিপদে পাশে না দাঁড়িয়ে স্বৈরাচারের পক্ষে দালালি করার জন্য তৎকালীন ছাত্র উপদেষ্টা, নীল দলের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আনোয়ারুল আজিম ৫ আগস্টের পর পদত্যাগ করতে বাধ্য হলেও বর্তমানে তিনি সম্পূর্ণ 'ধরাছোঁয়ার বাইরে' চলে গেছেন।

এদিকে একাধিক গোপন সূত্রে জানা গেছে, নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের পক্ষে টেলিগ্রাম সিক্রেট গ্রুপের মাধ্যমে শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরানোর গোপন লিয়াজোঁ রক্ষাকারী বেরোবির ৭ জন শিক্ষকের তালিকায় তৎকালীন বহিরাঙ্গন পরিচালক এবং শিক্ষামন্ত্রী নওফেলের ঘনিষ্ঠ সাব্বীর আহমেদ চৌধুরীর নাম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। যিনি জুলাই বিপ্লবের পর শিক্ষার্থীদের ক্ষোভের মুখে পড়ে নিজেদের বাঁচাতে এক অভিনব কৌশল নিয়ে দ্রুত ক্যাম্পাস থেকে চলে যান। এমফিল করার অজুহাতে ঢাকায় অবস্থান করেন ১ বছর। এর পর বিশ্ববিদ্যালয়ে আসলে শাখা ছাত্রদল তাকে মাঠে দৌড়ানি দেয় বলেও শোনা গেছে।

হাসিনাকে ফেরানোর ওই গোপন তৎপরতার তালিকা প্রকাশিত হওয়ার পর শহীদ আবু সাঈদ হত্যা মামলায় চরম আওয়ামীপন্থী শিক্ষক আসাদ মন্ডল ও ড. মশিউর রহমান শিক্ষককে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে এবং তারা দুজনেই পলাতক রয়েছেন। এছাড়াও ঐ সময়ের বিভিন্ন দায়িত্ব প্রাপ্ত নীল ও হলুদ দলের বিভিন্ন শিক্ষকগণ এখনো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে রয়েছেন।

এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ছাত্রদলের সভাপতি রাফায়েল ইমতিয়াজ ইয়ামিন বলেন, "আমরা এই বিষয়ে অবগত রয়েছি। আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে বলেছি, ফ্যাসিস্ট শিক্ষামন্ত্রী এর শিক্ষক কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। আমরা ছাত্রদল সবসময় ফ্যাসিস্টের দোসরদের শাস্তির আওতায় আনার দাবি করেছি।"

বিশ্ববিদ্যালয় শাখা শিবিরের নেতা শিবলী সাদিক বলেন, "জুলাই বিপ্লবের আজ দীর্ঘ দুই বছর পেরিয়ে গেছে। কিন্তু দুঃখজনক বিষয়, শহীদ আবু সাইদের ক্যাম্পাসে এখনো ফ্যাসিস্টের দোসর শিক্ষকরা খোলস পাল্টে নানা পদে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। আবু সাইদ বাংলাদেশকে ফ্যাসিবাদমুক্ত করতে জীবন দিলেও তার বিশ্ববিদ্যালয় এখনো ফ্যাসিবাদমুক্ত হয়নি।"

উল্লেখ্য, আমরা বিশ্বস্ত গণমাধ্যমের সূত্রে জানতে পেরেছি, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাতজন শিক্ষক স্বৈরাচার হাসিনাকে পুনর্বাসনের জন্য কাজ করছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নামমাত্র তদন্ত কমিটি গঠন করলেও এখনও এর কোনো দৃশ্যমান ফলাফল পাওয়া যায়নি।

এমতাবস্থায়, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে আমাদের দাবি—দ্রুত ফ্যাসিস্টের দোসর শিক্ষকদের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। পাশাপাশি, তারা যদি কোনো প্রশাসনিক পদে দায়িত্ব পালন করেন, সেসব পদ থেকে তাঁদের অব্যাহতি দেওয়া উচিত এবং প্রয়োজনীয় কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।

সার্বিক বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার প্রফেসর ড. ফেরদৌস রহমান বলেন, "বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনে ৫৫ টা পদ আছে। আমাদের তো ৫৫ জন শিক্ষক দরকার, যেটা প্রাসঙ্গিক। অনেকেই জাতীয়তাবাদী ফোরামের শর্ত পূরণ করেছেন। এটা তাঁদের গণতান্ত্রিক অধিকার। সারাজীবন কেউ আওয়ামী লীগ এর রাজনীতি করবে এমন তো নয়। অনেক বড় নেতারা তাঁদের রাজনৈতিক দল পরিবর্তন করে বর্তমানে বিএনপিতে রয়েছেন। আমাদের সবাইকে নিয়েই বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনা করতে হবে।"

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ওবায়দুল কাদেরসহ ৭ জনের রায় ঘোষণা হতে পারে যেকোনো দিন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১৭ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০২:৫৯ পি.এম


ওবায়দুল কাদেরসহ ৭ জনের রায় ঘোষণা হতে পারে যেকোনো দিন

 

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময়কার মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামির পক্ষে বিপক্ষে শুনানি শেষ হয়েছে।

সোমবার শুনানি শেষে রায় অপেক্ষমাণ রেখেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। ফলে যেকোনো দিন এ মামলার রায় ঘোষণা হতে পারে।

এ মামলায় রাষ্ট্রনিযুক্ত আসামিপক্ষের আইনজীবী ছিলেন এম হাসান ইমাম ও ইশরাত জাহান। প্রসিকিউশনের পক্ষে ছিলেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম ও গাজী এম এইচ তামিম। এর আগে, গত woensdag রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়। এতে আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি চেয়েছে প্রসিকিউশন।

একই সঙ্গে তাদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের আদেশও চাওয়া হয়েছে।

ওবায়দুল কাদেরসহ মামলার অন্য আসামিরা হলেন- কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, নিষিদ্ধ ঘোষিত সন্ত্রাসী সংগঠন ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দ্রুত কার্গো খালাসে এআই প্রযুক্তি ব্যবহারের উদ্যোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ১৭ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৩:০০ পি.এম


দ্রুত কার্গো খালাসে এআই প্রযুক্তি ব্যবহারের উদ্যোগ

বিমানবন্দরে কার্গো সংশ্লিষ্ট পণ্য দ্রুত খালাসের জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ (এআই) অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়ার দিকে অগ্রসর হয়েছে। একই সঙ্গে, কার্গো হ্যান্ডলিংয়ের সক্ষমতা বাড়াতে অস্থায়ী ও স্থায়ী ওয়্যারহাউজ নির্মাণ এবং ওষুধের মতো সংবেদনশীল পণ্য সংরক্ষণের জন্য কোল্ড স্টোরেজ অবকাঠামো গড়ে তোলার বিষয়ে আলোচনা চলেছে।

আজ সোমবার সচিবালয়ে, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে বিমানবন্দরে কার্গো হ্যান্ডলিং সমস্যা নিরসনের জন্য স্থায়ী ও অস্থায়ী ওয়্যারহাউজ নির্মাণ নিয়ে আয়োজন করা আন্তমন্ত্রণালয় সভায় এসব সিদ্ধান্ত এবং প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করা হয়। সভার সভাপতিত্ব করেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। সভায় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম।

সভায় বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী বলেন, আমরা প্রযুক্তি ব্যবহারে অনুসরণকারী নয়, বরং নেতৃত্বের অবস্থানে আসতে চাই। দ্রুত কার্গো পণ্য খালাসের জন্য অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এই দেশের এভিয়েশন খাতে নতুন মাত্রা যোগ করবে।

তিনি আরও বলেন, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সকে আরও নিরাপদ, আধুনিক ও কার্যকর প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের কাজ চলছে। দীর্ঘদিনের কারিগরি ও অবকাঠামোগত সমস্যার দ্রুত সমাধানকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সহজ করে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি দ্রুত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

কার্গো হ্যান্ডলিংয়ের সক্ষমতা বৃদ্ধি করার জন্য সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান মন্ত্রী। তিনি দ্রুত অস্থায়ী ও স্থায়ী ওয়্যারহাউজ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন।

সভা চলাকালীন বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বিমানবন্দরের অবকাঠামো গঠন ও ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। কাস্টমসের মূল দায়িত্ব হল আমদানি-রপ্তানি পণ্যের বৈধতা, প্রয়োজনীয় ঘোষণা, কাগজপত্র ও শুল্কসংক্রান্ত বিষয়গুলো নিশ্চিত করা। ওয়্যারহাউজ নির্মাণ করা ও অবকাঠামো ব্যবস্থাপনা কাস্টমসের মূল দায়িত্ব নয়।

তিনি বলেন, উপরোক্ত বিষয়গুলি নিয়ে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো তৈরি করে দেওয়া হলে, কাস্টমস সেখানে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করবে। তাই, কার্গো হ্যান্ডলিংয়ের সক্ষমতা বৃদ্ধি করার জন্য অবকাঠামোগত সমস্যাগুলোর দ্রুত সমাধান অত্যন্ত জরুরি। বাণিজ্যমন্ত্রী আরও বলেন, বিষয়টি সরাসরি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আওতাভুক্ত না হলেও, দেশের বাণিজ্য ও রপ্তানি কার্যক্রমের সঙ্গে এটি ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত। বিশেষ করে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে বাণিজ্য সম্প্রসারণে আধুনিক কার্গো ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই কারণে, সমস্যা সমাধানে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবে।

সভায় একটি অস্থায়ী ওয়্যারহাউজ নির্মাণের জন্য সাতটি স্থানের এবং একটি স্থায়ী ওয়্যারহাউজ নির্মাণের জন্য চারটি সম্ভাব্য স্থান নিয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি, বিমানবন্দরে ওষুধ আমদানি-রপ্তানি দ্রুত করতে কোল্ড স্টোরেজ অবকাঠামো নির্মাণ এবং গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং নির্দেশিকা তৈরির বিষয়েও আলোচনা করা হয়েছে।

এছাড়া, কার্গো পণ্য আমদানির নোটিশ দ্রুত আমদানিকারকের কাছে পাঠানো এবং বিমানবন্দরে আমদানিকৃত পণ্য সহজে শনাক্ত ও খুঁজে বের করার জন্য এআইভিত্তিক মডেল তৈরির প্রস্তাবও সভায় আলোচনা করা হয়।

সভায় উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব ফাহমিদা আখতার, এনডিসি, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, বাংলাদেশ ব্যাংক এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

তিস্তা নিয়ে বিগত সরকার কোনো উদ্যোগ নেয়নি : পানিসম্পদ মন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ১৭ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৩:০১ পি.এম


তিস্তা নিয়ে বিগত সরকার কোনো উদ্যোগ নেয়নি : পানিসম্পদ মন্ত্রী

পানিসম্পদ মন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি মন্তব্য করেছেন যে, বিগত সরকারের সময়ে তিস্তা নিয়ে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। আজ সোমবার (১৭ আগস্ট) বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সেমিনারে বক্তব্য রাখার সময় তিনি এই মন্তব্য করেন।

মন্ত্রী বলেন, ‘বিগত সরকারের আমলে দেশের স্বার্থবিরোধী অনেক কাজ হয়েছে। তিস্তা নিয়েও কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।’

তিনি আরও জানান, ‘নদী আমাদের একটি অর্থনৈতিক রূপান্তরের উপাদান এবং অন্যদিকে এটি জীবনযাত্রার ভিত্তিও। কিন্তু এই নদী যখন সীমান্ত পার হয়ে আমার দেশে প্রবাহিত হচ্ছে, তখন এটি আমাদের নিয়ন্ত্রণে রাখা কঠিন হয়ে যাচ্ছে।

এখন পর্যন্ত আমরা বারবার বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছি এবং নিয়ন্ত্রণের বাহিরে চলে যাচ্ছে।’

মন্ত্রী বলেন, ‘নদীর গতি-প্রকৃতি কখন কোথায় যাবে, কিভাবে যাবে এবং কোথায় থামবে, তা বোঝা খুব মুশকিল। এটাকে আমাদের নিয়ন্ত্রণে আনার প্রয়োজন রয়েছে।

এক্ষেত্রে যে পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া আছে, সেটাও আমাদের চিন্তা করতে হচ্ছে। আমাদের একটি ইন্টিগ্রেটেড ওয়েতে নিয়ে আসতে হবে। আমাদের দরকার একটি সমন্বিত সমাধান।’

পানিসম্পদ মন্ত্রী উল্লেখ করেন, ‘উত্তরবঙ্গের নদীভাঙা মানুষদের জন্য যে কমিটমেন্ট আছে, সেই কমিটমেন্টকে আমরা বাস্তবায়িত করতে চাই। আমরা আশা করছি, খুব শীঘ্রই আপনাদের আন্তরিকতা এবং প্রচেষ্টার মাধ্যমে জাতির জন্য আমরা এই কাজ সফলভাবে সম্পন্ন করতে পারব।’

 

পার্শ্ববর্তী দেশের বন্ধুত্ব সম্পর্কে মন্ত্রী জানিয়েছেন, ‘পার্শ্ববর্তী বন্ধু দেশগুলোকে চিন্তা করতে হবে যে তাদেরও স্বার্থ রয়েছে এবং আমাদেরও স্বার্থ আছে। একই সঙ্গে বন্ধু দেশগুলোর স্বার্থ রক্ষা করতে হবে। আমাদের স্বার্থের প্রতি তাদের নজর দেওয়ার প্রয়োজন। আমরা কখনোই চাই না, বন্ধু দেশের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি হোক। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীও এমনটাই বলেছেন।’

মন্ত্রী বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট জিয়া যখন এ দেশের দায়িত্বে ছিলেন, তখন তিস্তা প্রকল্পের ক্ষেত্রে তার একটি দৃশ্যমান ভূমিকা ছিল। পরবর্তীতে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াও আন্তরিক ছিলেন। কিন্তু লক্ষ্য করলে দেখা যাবে, আমরা ১৭ বছর অনেকভাবে পিছিয়ে গিয়েছি এবং অনেক নির্যাতিত হয়েছি। স্বার্থবিরোধী অনেক কাজও হয়েছে।’

শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, ‘দেশের স্বার্থে এবং জনগণের স্বার্থে তিস্তার মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে যা যা প্রয়োজন, আমরা তা বাস্তবায়নের দিকে এগিয়ে যাব। তিস্তাপাড়ের মানুষ হিসেবে আমি আপনাদের সঙ্গে বলব, দ্রুত এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা আমাদের জন্য অত্যন্ত জরুরী।’

 

টেকনিক্যাল সাপোর্টের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা ইতিমধ্যে চায়না গিয়েছি। নেদারল্যান্ডের সঙ্গে আমাদের আলোচনা হয়েছে এবং অন্য কোনো দেশেও যদি টেকনিক্যাল সাপোর্ট দেওয়ার জন্য এগিয়ে আসে, আমরা সেটাকে সাদরে গ্রহণ করব।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫০
মাগরিব ০৫:২৭
ইশা ০৬:৩৮
সূর্যোদয় : ০৫:৫৯ সূর্যাস্ত : ০৫:২৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%