বুধবার, ২ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০১:১৭ পি.এম
ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে আরো দুইজনের মৃত্যু ঘটেছে। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সকালে মমেক হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. মুহাম্মদ মাঈন উদ্দিন খান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি উল্লেখ করেন, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৪৩ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ১১১ জন ভর্তি আছেন। তাদের মধ্যে ৬৯ জন পুরুষ, ২৭ জন নারী এবং ১৫ জন শিশু রয়েছে। এর মধ্যে একজন নারী আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এছাড়া, গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতাল থেকে ৩১ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীকে ছুটি দেওয়া হয়েছে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে মোট এক হাজার ৫৪৬ জন ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে।
গত বছরের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীর সংখ্যা ছিল মোট দুই হাজার ৯৪৮ জন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্রের ইউটাহ অঙ্গরাজ্যে রক্ষণশীল কর্মী চার্লি কার্ক হত্যা মামলায় ২৩ বছর বয়সী টাইলার রবিনসন নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন। তবে আদালত জানিয়েছে, মামলার বিচার চলাকালে প্রসিকিউশন তার জন্য মৃত্যুদণ্ড চাইতে পারবে।
রবিনসনের বিরুদ্ধে গুরুতর হত্যাসহ (অ্যাগ্রাভেটেড মার্ডার) মোট সাতটি অভিযোগ রয়েছে। ২০২৫ সালের ১০ সেপ্টেম্বর ইউটাহ ভ্যালি ইউনিভার্সিটির একটি অনুষ্ঠানে চার্লি কার্ককে গুলি করে হত্যার ঘটনায় এসব অভিযোগ আনা হয়। রবিনসনের আইনজীবীরা মৃত্যুদণ্ডের সুযোগ বাতিল করার আবেদন করেছিলেন। কিন্তু প্রসিকিউশন বলেছে, শিশুদের উপস্থিতিতে জনসমাগমের মধ্যে গুলি চালানোর মতো গুরুতর বিষয় থাকায় এই মামলায় মৃত্যুদণ্ডের আবেদন করা উচিত।
৩১ বছর বয়সী চার্লি কার্ক ছিলেন রক্ষণশীল সংগঠন টার্নিং পয়েন্ট ইউএসএর সহপ্রতিষ্ঠাতা। ইউটাহ ভ্যালি ইউনিভার্সিটির ওরেম ক্যাম্পাসে বক্তব্য দেওয়ার সময় তার ঘাড়ে গুলি লাগে। পরে তিনি মারা যান।
মঙ্গলবার প্রোভো শহরের আদালতে হাজির হন রবিনসন। এ সময় তার পরনে ছিল ধূসর স্যুট। তিনি মাঝে মাঝে আইনজীবীদের সঙ্গে কথা বলেন। আদালতে কার্কের স্ত্রী এরিকা, তাদের দুই সন্তান এবং কার্কের বাবা-মা রবার্ট ও ক্যাথরিনও উপস্থিত ছিলেন।
শুনানির পর কার্কের পরিবার এক বিবৃতিতে জানায়, আদালতের এই সিদ্ধান্ত তাদের ন্যায়বিচার পাওয়ার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। পরিবারটি আরো জানায়, কার্কের হত্যার কারণে তাদের পরিবার যে ক্ষতির মুখে পড়েছে, তা কোনোভাবেই পূরণ হওয়ার নয়। বিশেষ করে তার দুই সন্তান বাবাকে ছাড়া বড় হবে, এটাই তাদের সবচেয়ে বেশি কষ্ট দিচ্ছে।
গত জুলাইয়ে পাঁচ দিন ধরে মামলার প্রাথমিক শুনানি হয়। সেখানে প্রসিকিউশন রবিনসনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন প্রমাণ তুলে ধরে। প্রসিকিউশনের দাবি, ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া অস্ত্র ও অন্যান্য জিনিসে রবিনসনের ডিএনএ পাওয়া গেছে। এ ছাড়া তিনি কয়েকজন ঘনিষ্ঠ ব্যক্তির কাছে হত্যার বিষয়ে স্বীকারোক্তিমূলক কথা বলেছেন বলেও দাবি করা হয়।
একটি ভিডিও বক্তব্যও আদালতে দেখানো হয়েছে। মঙ্গলবার প্রসিকিউটর রায়ান ম্যাকব্রাইড বলেন, রবিনসনের বিরুদ্ধে অনেক প্রমাণ রয়েছে। এসব প্রমাণের মধ্যে ভিডিও ফুটেজ, ডিএনএ এবং তার কথিত স্বীকারোক্তি রয়েছে।
প্রসিকিউশনের দাবি, হত্যার দিন ক্যাম্পাসে রবিনসনকে এমন অবস্থায় দেখা যায়, যা থেকে বোঝা যায় তিনি হামলার জন্য প্রস্তুত ছিলেন। প্রসিকিউশন আরো বলেছে, চার্লি কার্কের রক্ষণশীল রাজনৈতিক মতাদর্শের প্রতি রবিনসনের তীব্র বিরোধিতা ছিল। বিশেষ করে ট্রান্সজেন্ডার বিষয়ক কার্কের মতামত তিনি অপছন্দ করতেন। এটিকে হত্যার সম্ভাব্য কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে প্রসিকিউশন। তবে রবিনসন তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন। মামলাটির মূল বিচার এখনো শুরু হয়নি।
মঙ্গলবার আদালতে টাইলার রবিনসনের বিরুদ্ধে আরো কিছু অভিযোগ তুলে ধরেছে প্রসিকিউশন। প্রসিকিউশনের দাবি, চার্লি কার্ককে গুলি করার সময় রবিনসন আশপাশের মানুষের জীবনও ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছিলেন। সেখানে অনেক মানুষ থাকলেও তিনি গুলি চালান।
প্রসিকিউটর চ্যাড গ্রুনান্ডার বলেন, রবিনসন যেন মানুষের জীবন নিয়ে ‘গুলির খেলা’ খেলছিলেন। তিনি বলেন, চার্লি কার্ক হত্যার ৩৫৬ দিন পার হয়েছে। এখন রবিনসনের বিচার শুরু করা উচিত। তবে রবিনসনের আইনজীবীরা প্রসিকিউশনের প্রমাণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তারা বলেছেন, এসব প্রমাণ নিয়ে সন্দেহ রয়েছে।
জুলাইয়ের শুনানিতে রবিনসনের আইনজীবীরা তদন্তের পদ্ধতি এবং আদালতে সাক্ষ্য দেওয়া বিশেষজ্ঞদের যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। আদালতের শুনানি সরাসরি ক্যামেরায় দেখানোর বিষয়েও তারা আপত্তি জানান। মঙ্গলবার বিচারক টনি গ্রাফ এ বিষয়ে দুই পক্ষের বক্তব্য শোনেন। পরে তিনি আদালতের কার্যক্রম সরাসরি দেখানোর অনুমতি দেন।
প্রসিকিউশনের দাবি, চার্লি কার্ককে গুলি করার দিন রবিনসন কয়েকবার ক্যাম্পাসে গিয়েছিলেন। তিনি টার্নিং পয়েন্ট ইউএসএর কয়েকজন সদস্যের সঙ্গে কথা বলেন এবং খাবার খান। পরে অন্য পোশাক পরে আবার ক্যাম্পাসে ফিরে আসেন।
প্রসিকিউটর রায়ান ম্যাকব্রাইড বলেন, রবিনসন এমন লম্বা প্যান্ট পরেছিলেন। এর ভেতরে রাইফেল লুকিয়ে রাখা হয়েছিল বলে প্রসিকিউশন মনে করে।
প্রসিকিউশনের আরো দাবি, হত্যার পর ক্যাম্পাসের কাছে লুকিয়ে রাখা একটি রাইফেলে রবিনসনের ডিএনএ পাওয়া যায়। রাইফেলটি যে তোয়ালে দিয়ে মোড়ানো ছিল, সেখানেও তার ডিএনএ পাওয়া গেছে বলে দাবি করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া একটি স্ক্রু-ড্রাইভারেও তার ডিএনএ পাওয়া যায় বলে জানায় প্রসিকিউশন।
এ ছাড়া ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া গুলির খোসায় থাকা কিছু চিহ্নের সঙ্গে রবিনসনের বাড়ি থেকে পাওয়া একটি যন্ত্রের মিল রয়েছে বলে প্রসিকিউশন দাবি করেছে। রবিনসনের রুমমেট ও প্রেমিক ল্যান্স টুইগসও তার বিরুদ্ধে বক্তব্য দিয়েছেন। টুইগসের দাবি, রবিনসন তার কাছে চার্লি কার্ককে গুলি করার কথা স্বীকার করেছিলেন। এ সময় তিনি কেঁদেছিলেন এবং বলেছিলেন, তিনি চান ঘটনাটি না ঘটুক। হত্যার পরের দিন রবিনসন তার পরিবারের সদস্য ও এক প্রতিবেশীর সঙ্গে পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেন। আগামী ২৩ অক্টোবর রবিনসনকে আবার আদালতে হাজির করা হবে। ওই দিন মামলার মূল বিচার কবে শুরু হবে, তা নির্ধারণ করা হতে পারে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নেপালের হিমালয় অঞ্চলে ভয়াবহ বন্যার ফলে এক হাজারেরও বেশি মানুষের মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। বর্তমানে নিখোঁজ রয়েছেন চার হাজার ৪৬২ জন।
বুধবার নেপাল এবং প্রতিবেশী দেশের কর্তৃপক্ষ এই তথ্য প্রকাশ করেছে।
মর্গে মরদেহ রাখার জন্য পর্যাপ্ত জায়গা না থাকার কারণে অনেক মরদেহ শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের পর শত শত অজ্ঞাতপরিচয় মরদেহ দাফন করতে হয়েছে। নিখোঁজ স্বজনদের খুঁজতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পর অনেক পরিবার তাদের আশা হারিয়ে ফেলেছে।
নিখোঁজ স্বজনদের স্মরণে তারা প্রতীকী শেষকৃত্য আয়োজন শুরু করেছে। তবে উদ্ধারকারী দলগুলো এখনো জীবিতদের খুঁজে বের করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
অন্যদিকে, চীনের তিব্বত অঞ্চলে বিদেশি সাংবাদিকদের সংবাদ সংগ্রহের ওপর বিভিন্ন ধরনের বিধি-নিষেধ রয়েছে। ওই অঞ্চলে তথ্য প্রকাশের ওপর চীনা কর্তৃপক্ষের কঠোর নিয়ন্ত্রণ রয়েছে।
প্রবাসী তিব্বতি অধিকারকর্মীরা দুর্যোগের বিষয়ে চীনের দেওয়া তথ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তবে বেইজিংয়ের দাবি, তারা দুর্যোগের তথ্য ‘খোলামেলা, স্বচ্ছ ও সময়মতো’ প্রকাশ করেছে।
এদিকে, নেপাল ও চীনে উদ্ধার এবং পুনরুদ্ধার কার্যক্রম এখনো অব্যাহত রয়েছে। কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেছেন, ধ্বংসস্তূপ সরানোর পর আরো মরদেহ পাওয়া যেতে পারে। দুর্গম এলাকায় উদ্ধারকারী দল পৌঁছাতে পারলে হতাহতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে।
কিন্তু কিছু দুর্গত এলাকায় যোগাযোগ ও প্রবেশে বাধা থাকায় সেখানে প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতি এবং হতাহতের সংখ্যা স্বাধীনভাবে যাচাই করা এখনো কঠিন। উদ্ধার অভিযান চলতে থাকায় পরিস্থিতির পুরো চিত্র পেতে সময় লাগতে পারে।
নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানায়, ২৬ আগস্ট হিমালয়ের উচ্চ এলাকায় হিমবাহ ধসের পর এই দুর্যোগ শুরু হয়। এতে বরফগলা পানি, পাথর এবং ধ্বংসাবশেষের বিশাল স্রোত নিচের দিকে নেমে আসে। নেপালে এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৫০টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। দেশের আরো ৩ হাজার ৯১৬ জন নিখোঁজ রয়েছে।
চীনের তিব্বত অঞ্চলে ১৬ জনের মৃত্যু এবং ৫৪৬ জন নিখোঁজ হওয়ার খবর জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম। এ হিসাবে, নেপাল ও তিব্বতে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৬৬ জন এবং নিখোঁজ ৪ হাজার ৪৬২ জন। এদিকে, ভারতের ভাটির দিকের নদীগুলো থেকেও অন্তত ১৭টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ।
নিখোঁজ স্বজনদের খুঁজতে কয়েক দিন ধরে আশ্রয়কেন্দ্র ও মর্গে ঘুরছেন অনেক পরিবারের সদস্য। কিন্তু কোনো সন্ধান না পাওয়ায় কেউ কেউ এখন প্রতীকী শেষকৃত্য করছেন। দোলমা নেওয়ার তামাংয়ের স্বামী দুর্যোগের সময় চীনের দিকে যাচ্ছিলেন। এরপর থেকে তার কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।
তিনি বলেন, স্বামীর আত্মার শান্তির জন্যই তারা প্রতীকী শেষকৃত্য করেছেন। তিনি জানান, খবর পাওয়ার পর স্বামীকে ফোন করেছিলেন। বারবার ফোন করলেও তিনি ফোন ধরেননি। উদ্ধারকারী দলগুলো এখনো জীবিতদের খুঁজছে। বিশেষ করে ওই এলাকার জলবিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর টানেলগুলোতে কেউ আটকে থাকতে পারেন বলে আশা করা হচ্ছে।
কয়েকটি টানেল থেকে শুধু মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তবুও উদ্ধারকারীরা হাল ছাড়েননি। তারা ধ্বংসস্তূপ সরাতে খনন ও ড্রিলিংয়ের পাশাপাশি প্রয়োজনে বিস্ফোরণ ব্যবহার করছেন। নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল বলেন, অলৌকিক ঘটনাও ঘটতে পারে। তাই তিনি এখনই পুরোপুরি আশা ছেড়ে দিতে চান না। নিখোঁজদের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান এখনো চলছে।
জলবায়ু পরিবর্তন ও বৈশ্বিক দায়িত্ব
নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ বলেছেন, এই ভয়াবহ দুর্যোগ হিমালয় অঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ঝুঁকি বাড়ার একটি বড় সতর্কবার্তা। ফেসবুকে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব সারা বিশ্বে পড়ছে। তাই দুর্যোগ মোকাবেলার দায়িত্বও শুধু একটি দেশের নয়, পুরো বিশ্বের।
ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ইন্টিগ্রেটেড মাউন্টেন ডেভেলপমেন্টের বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, বৈশ্বিক তাপমাত্রা বাড়ার কারণে হিমালয় দ্রুত উষ্ণ হচ্ছে। এর ফলে হিমবাহ দ্রুত গলে যাচ্ছে এবং পাহাড়ি এলাকায় বন্যা ও অন্যান্য দুর্যোগের ঝুঁকি বাড়ছে।
জাতিসংঘ জানিয়েছে, হিমালয় ও হিন্দুকুশ পর্বতমালার হিমবাহ কোটি কোটি মানুষের পানির গুরুত্বপূর্ণ উৎস। পাহাড়ি এলাকায় প্রায় ২৪ কোটি মানুষ এবং দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার নদী অববাহিকায় আরো প্রায় ১৬ কোটি ৫০ লাখ মানুষ এসব পানির ওপর নির্ভরশীল।
প্রায় ৩ কোটি মানুষের দেশ নেপালে এই দুর্যোগ নিয়ে মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য দায়ী গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণে নেপালের ভূমিকা খুবই কম। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর মধ্যে নেপাল অন্যতম।
নেপাল সরকার জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পুনর্গঠনে কয়েক বিলিয়ন মার্কিন ডলার খরচ হতে পারে। দেশটির অর্থনীতি এমনিতেই চাপের মধ্যে রয়েছে। তাই এত বড় দুর্যোগ মোকাবেলায় নেপালের নিজস্ব অর্থ ও সম্পদ সীমিত। এদিকে চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর একটি তিব্বতের জিরং বন্দরে সড়ক যোগাযোগ আবার চালু হয়েছে। কয়েক দিন ধরে টানা মেরামতকাজ চালানোর পর বুধবার ওই এলাকার সড়ক যোগাযোগ স্বাভাবিক করা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
গাজীপুরের টঙ্গীর মাজার বস্তি উচ্ছেদ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। একদিকে, স্থানীয়রা অভিযোগ করছেন যে, দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় মাদক সেবন এবং মাদক সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডের অভিযোগ ছিল। অন্যদিকে, উচ্ছেদের ফলে বস্তিতে বসবাসকারী অসংখ্য মানুষ তাদের ঘরবাড়ি হারিয়ে ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন।
স্থানীয়দের একটি অংশের দাবি, মাদক নিয়ন্ত্রণ এবং অপরাধপ্রবণতা কমাতে বস্তি উচ্ছেদের উদ্যোগটি ইতিবাচক। তাদের অভিযোগ, মাজার বস্তিতে বিপুলসংখ্যক মানুষ একত্রে মাদক সেবন করতেন, ফলে এলাকাটি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বেগ ছিল।
তবে, বস্তিবাসীদের ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে সামনে এসেছে। উচ্ছেদের ফলে অনেক পরিবার তাদের বসতঘর এবং প্রয়োজনীয় সামগ্রী হারিয়েছেন। যদি তাদের পুনর্বাসন বা বিকল্প আবাসনের ব্যবস্থা না করা হয়, তাহলে দুর্ভোগ আরও বাড়তে পারে বলে স্থানীয়রা মনে করছেন।
এখন প্রশ্ন উঠছে—শুধু একটি বস্তি উচ্ছেদ করলেই কি মাদক নিয়ন্ত্রণ সম্ভব? নাকি এতে মাদক সেবনের স্থান পরিবর্তিত হয়ে তা আশপাশের অন্য এলাকায় ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে?
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, মাদক নিয়ন্ত্রণে উচ্ছেদের পাশাপাশি নিয়মিত অভিযান, মাদক বিক্রির উৎস বন্ধ করা, মাদকাসক্তদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসন এবং ক্ষতিগ্রস্ত বস্তিবাসীদের মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করা জরুরি।
টঙ্গীর মাজার বস্তি উচ্ছেদ—সমাধান, নাকি সমস্যার নতুন অধ্যায়?
এই প্রশ্নের উত্তর এখন সময়ই দেবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নবম জাতীয় বেতন স্কেল-২০২৬ অনুমোদনের পর অফিশিয়াল প্রজ্ঞাপনের জন্য অপেক্ষা করছেন। মন্ত্রিপরিষদসচিব নাসিমুল গনি জানিয়েছেন, বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) অথবা বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) এর মধ্যেই এই প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন প্রকাশিত হলে নতুন মূল বেতন, স্কেল এবং ভাতার বিস্তারিত তথ্য পরিষ্কার হবে।
সোমবার (৩১ আগস্ট) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে ‘জাতীয় বেতন স্কেল-২০২৬’ ও ‘সশস্ত্র বাহিনীর যৌথবাহিনী নির্দেশাবলি-২০২৬’ অনুমোদন করা হয়। নতুন পে স্কেল ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর হবে।
জাতীয় বেতন কমিশন-২০২৫ এবং সচিব কমিটির সুপারিশ, মূল্যস্ফীতি, সরকারের আর্থিক সক্ষমতা এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বিবেচনায় নিয়ে এই ভারসাম্যপূর্ণ বেতন কাঠামো চূড়ান্ত করা হয়েছে।
অনুমোদিত পে স্কেলে বিদ্যমান ২০টি গ্রেড বহাল থাকলেও, প্রতিটি গ্রেডের মূল বেতনে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনা হয়েছে। ২০তম (সর্বনিম্ন) গ্রেডের প্রারম্ভিক মূল বেতন ২০,০০০ টাকা, যা পূর্বের তুলনায় ১৪২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ১ম (সর্বোচ্চ) গ্রেডের নির্ধারিত মূল বেতন ১,৫৬,০০০ টাকা, যা আগের তুলনায় ১০০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
বেতন অনুপাত পরিবর্তন
সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন বেতনের বৈষম্য দূর করতে বিদ্যমান ১:১.৯৪৫ অনুপাত কমিয়ে ১:১.৭৮ করা হয়েছে।
এদিকে, নতুন পে স্কেল পুরোপুরি বাস্তবায়ন করতে সরকারের বছরে অতিরিক্ত ১ লাখ ৫ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা ব্যয় হবে।
এই অর্থের জোগান দিতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) চলতি অর্থবছরের রাজস্ব আদায়ের বড় লক্ষ্যমাত্রা পূরণের উপায় খুঁজে বের করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ