ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার উন্নয়নে সাড়ে ৮৩ কোটি টাকার বাজেট


চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার উন্নয়নে সাড়ে ৮৩ কোটি টাকার বাজেট

চুয়াডাঙ্গা পৌরসভায় ২০২৬-২০২৭ অর্থ বছরের জন্য সর্বমোট ৮৩ কোটি ৫৫ লাখ ৮০ হাজার ৫২২ টাকা প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপন করা হয়েছে। বাজেটটি আজ দুপুর ১২টায় চুয়াডাঙ্গা পৌরসভা মিলনায়তনে পৌরসভার প্রশাসক ও স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক শারমিন আক্তার পেশ করেন।

বাজেটে রাজস্ব খাতে আয় দেখানো হয়েছে ১৮ কোটি ২৩ লাখ ৬৯ হাজার ৬৪৭ টাকা। এর মধ্যে রাজস্ব খাতে সর্বমোট আয় ১৮ কোটি ২৩ লাখ ৬৯ হাজার ৬৪৭ টাকা হিসেবে উল্লেখ রয়েছে। এ খাতে ব্যয় দেখানো হয়েছে ১৭ কোটি ৯২ লাখ ৬৯ হাজার ৬৪৭ টাকা। এর ফলে রাজস্ব খাতে বাজেট উদ্বৃত্ত হিসেবে ৩১ লাখ টাকা দেখানো হয়েছে। রাজস্ব থেকে সম্ভাব্য আদায় ১৪ কোটি ১০ লক্ষ ৪২ হাজার ৫৪ টাকা হিসেবে নির্ধারিত হয়েছে। এদিকে পৌরকর থেকে সম্ভাব্য আদায় ৫ কোটি ১৪ লক্ষ টাকা এবং পৌরকর থেকে বকেয়া আদায় ১ কোটি ৪১ লক্ষ টাকা হিসেবে দেখানো হয়েছে। ট্রেড লাইসেন্স থেকে সম্ভাব্য আদায় ১ কোটি ৭৫ হাজার টাকা এবং ট্রেড লাইসেন্স থেকে বকেয়া আদায় ১৬ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা হিসেবে উল্লেখ হয়েছে। পৌরসভার অন্যান্য উৎস থেকে সম্ভাব্য আদায় ৬ কোটি ৩৮ লক্ষ ১৭ হাজার ৫৪ টাকা।

অন্যদিকে উন্নয়ন খাতে আয় ও ব্যয় ৬৫ কোটি ৩২ লাখ ১০ হাজার ৯০৫ টাকা হিসেবে দেখা যাচ্ছে। উন্নয়ন খাতে সম্ভাব্য আয় সংস্থার একটি ইতিবাচক অবস্থান হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে উন্নয়ন এডিপি, উন্নয়ন এডিপি বিশেষ, জলবায়ু প্রকল্প, গুরুত্বপূর্ণ নগর অবকাঠামো উন্নয়ন, বিএমডিএফ উন্নয়ন প্রকল্প, আরইউটিডিপি এবং কোভিড-১৯ প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

আরও পড়ুন: কেরানীগঞ্জে প্লাস্টিক দূষণ রোধে আলোচনা ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান

পৌর প্রশাসক শারমিন আক্তার বলেন, "পৌরসভায় ইতোমধ্যে ১২টি ডাস্টবিন তৈরির টেন্ডার সম্পূর্ণ হয়েছে।" তিনি আরো জানান, "গত বছর পৌরসভায় প্রস্তাবিত বাজেটের চেয়ে কম বাজেট পেতে হয়েছিল। এ বছর যদি প্রস্তাবিত বাজেট পাই তাহলে পৌরসভার উন্নয়ন সম্ভব।"

তিনি উল্লেখ করেন, "রাস্তার দুই পাশের ফুটপাত অবৈধ দখল মুক্ত করতে ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছি।" তিনি পৌরবাসীর সহায়তা পেলে সকলের সমন্বিত প্রচেষ্টায় পৌরসভার উন্নয়ন সাধন সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন।

সভায় টাউন লেভেল কো-অর্ডিনেশন কমিটি (টিএলসিসি)র সদস্যরা বলেন, পৌরসভার বিভিন্ন স্থানে যত্রতত্র ময়লা আবর্জনা ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকে। সড়কের সৌন্দর্য বর্ধনে থানার সামনে রাস্তায় একটি ডিভাইডার তৈরি করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। তারা জনমানুষের কথা চিন্তা করে পৌর এলাকার কোর্ট মোড়ে কয়েকটি পাবলিক টয়লেট নির্মাণের প্রস্তাবনা দেন। সেই সাথে তারা অভিযোগ করেন, পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ডের দেশ ক্লিনিক ও নিউ মদিনা ক্লিনিকের সামনে বর্জ্য ফেলে পরিবেশ দূষণ করা হচ্ছে।

সভায় উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তিথি মিত্র, পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী শরিফুল ইসলাম, হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা রিয়াজুল ইসলাম, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার অহীন্দ্র কুমার মন্ডল, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক তাজুল ইসলাম, চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম সনি, জেলা জাসাসের সাধারণ সম্পাদক সেলিমুল হাবিব সেলিম, পৌর বিএনপির সভাপতি সিরাজুল ইসলাম মনি, বিএনপি নেতা মাহমুদুল হক পল্টু এবং পৌর জামায়াতের সেক্রেটারি মোস্তফা কামাল প্রমুখ।

আরও পড়ুন: কাউখালীতে নানা আয়োজনে যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

খাগড়াছড়িতে শিশুশ্রম প্রতিরোধে র‍্যালি ও আলোচনা সভা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২৯শে জুন, ২০২৬ ইং

০৪:২০ পি.এম


খাগড়াছড়িতে শিশুশ্রম প্রতিরোধে র‍্যালি ও আলোচনা সভা

 

বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে খাগড়াছড়িতে র‍্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার সকালে খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে র‌্যালিটি বের হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে।

এই সভা আয়োজন করে জেলা প্রশাসন এবং কল-কারখানা পরিদর্শন বিভাগ। সভায় সভাপতিত্ব করেন খাগড়াছড়ি অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক হাসান মারুফ।

প্রধান অতিথির বক্তৃতায় খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার শাহাদাত বলেন, ‘আমরা শুধু সরকারিভাবে এ কার্যক্রমের কাজ করলে হবে না, এখানে সামাজিকভাবে ও আমাদের সবাইকে শিশুশ্রম প্রতিরোধ করতে এগিয়ে আসতে হবে।’ এর জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা কামনা করেন।

মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখেন জেলা মাধ্যমিক সহকারী কর্মকর্তা রবিউল হোসেন, প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ আরিফ, টিটিসির অধ্যক্ষ নারায়ন চন্দ্র খাঁ এবং খাগড়াছড়ি প্রেসক্লাবের সিনিয়র সহ-সভাপতি মোহাম্মদ জহুরুল আলম।

আলোচনা সভা ও র‍্যালিতে উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী এবং সরকারি কর্মকর্তারা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কর ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ও পাচারকৃত অর্থ ফেরালেই রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা ছাড়াবে: ডা. শফিকুর রহমান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২৯শে জুন, ২০২৬ ইং

০৪:২৪ পি.এম


কর ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ও পাচারকৃত অর্থ ফেরালেই রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা ছাড়াবে: ডা. শফিকুর রহমান

জাতীয় সংসদে বিরোধী দলীয় নেতা ডা. মো. শফিকুর রহমান বলেছেন, কর ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করা এবং বিদেশে পাচার হয়ে যাওয়া অর্থ ফেরত আনতে পারলে প্রস্তাবিত লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ার মতো রাজস্ব আদায় করা সম্ভব হবে।

স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে আজ জাতীয় সংসদে বাজেটের ওপর অনুষ্ঠিত সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, যদি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে সততা ও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে পারা যায়, তাহলে ব্যবসায়ীরা আরো উৎসাহ নিয়ে কর দেবেন। তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমান সময়ে সৎ করদাতারা নানা ধরনের হয়রানির শিকার হচ্ছেন।

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ১১ জুন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার জাতীয় বাজেট উপস্থাপন করেন, যেখানে জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য রাখা হয়েছে ৬ দশমিক ৫ শতাংশ। কিন্তু বিদায়ী অর্থবছরে সাময়িক হিসেবে প্রবৃদ্ধি ছিল ৪ দশমিক ১৪ শতাংশ।

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে সব খাতের জন্য ন্যায়সঙ্গত বরাদ্দ নিশ্চিত না হওয়ার অভিযোগ তুলে শফিকুর রহমান বলেছেন, 'যে বাজেট সমস্ত খাতকে সমান গুরুত্ব দেবে এবং সমাজের সব অংশীজনকে উপকৃত করবে, সেই বাজেটই একটি গ্রহণযোগ্য ও সফল বাজেট হিসেবে বিবেচিত হবে।'

তিনি উল্লেখ করেন, একটি বাজেট তখনই ভারসাম্যপূর্ণ ও ন্যায়ভিত্তিক হয়, যখন দেশের সমস্ত মানুষের অধিকার যথাযথভাবে নিশ্চিত করা হয়।

শিক্ষা খাতের বিষয়ে তিনি জানান, বাংলাদেশে ইবতেদায়ি শিক্ষা সাধারণ প্রাথমিক শিক্ষার সমমানের থাকা সত্ত্বেও এ শিক্ষাব্যবস্থার জন্য বাজেটে কোনো বরাদ্দ বা বিশেষ বিবেচনা রাখা হয়নি।

বিরোধী দলের নেতা আরো বলেন, শিক্ষা উন্নয়নের পাশাপাশি বেশ কয়েকটি বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয়কে গবেষণার দায়িত্ব নিতে হবে। অন্যথায় বাংলাদেশ আমদানিনির্ভর দেশ হিসেবেই থেকে যাবে।

বাজেটের সমালোচনা করে তিনি বলেন, গত ১৫ বছর ধরে অসাধু ব্যবসায়ীদের একটি অংশ দেশ থেকে ২৮ লাখ কোটি টাকা পাচার করেছে, কিন্তু বাজেটে সেই অর্থ ফেরত আনার বিষয়ে কোনো উল্লেখ নেই।

তিনি বলেন, 'বাজেট ঘাটতি খুব বেশি নয়। পাচার হওয়া অর্থের মাত্র এক নবমাংশ উদ্ধার করতে পারলে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট ঘাটতি পূরণ করা সম্ভব হবে এবং অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। এ বিষয়ে দৃশ্যমান পদক্ষেপ দেখতে চাই।'

পাহাড়ি ও অন্যান্য অনগ্রসর ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর উন্নয়নে বাজেটে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এসব জনগণের অনেকেই এখনো যোগাযোগ, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার দিক থেকে বঞ্চিত। তাদের উন্নয়ন নিশ্চিত করা গেলে পার্বত্য অঞ্চলে অস্থিরতা কমবে এবং শান্তি প্রতিষ্ঠিত হবে।

স্বাস্থ্য খাত সম্পর্কে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বিদেশি স্বাস্থ্যব্যবস্থার অনুকরণ না করে আমাদের দেশের বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ গবেষণাভিত্তিক স্বাস্থ্যনীতি গঠন করতে হবে।

সরকারি হাসপাতালগুলোর বিরুদ্ধেও প্রয়োজনে বেসরকারি হাসপাতালের মতো ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তিনি আহ্বান জানান। সম্প্রতি আদ-দ্বীন হাসপাতালের বিরুদ্ধে সরকারের পদক্ষেপের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, হাসপাতালটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে সেখানে অধ্যয়নরত প্রায় ৭৫০ জন শিক্ষার্থী ও নার্সের ভবিষ্যৎ সংকটাপন্ন হয়ে পড়েছে। তিনি মানবিকভাবে সমস্যার সমাধান করার আহ্বান জানান।

বিদেশে কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে মালয়েশিয়াগামী শ্রমিকদের কাছ থেকে ৮৫ হাজার টাকার পরিবর্তে ৬ থেকে ৭ লাখ টাকা আদায় করছে একটি সিন্ডিকেট উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ সিন্ডিকেট ভেঙে দেওয়া গেলে বৈদেশিক কর্মসংস্থান আরো বৃদ্ধি পাবে।

দুর্নীতিকে দেশের অন্যতম প্রধান বাধা উল্লেখ করে তিনি বলেন, দুর্নীতি নির্মূল করার জন্য কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে বাজেটের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব হবে না।

মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকার কিছু মুক্তিযোদ্ধার ভাতা বাড়ানোর প্রস্তাব করেছে। তবে এই সুবিধা অবশ্যই সব মুক্তিযোদ্ধার জন্য প্রযোজ্য হওয়া উচিত।

সংসদে বিরোধী দলের ভূমিকা প্রসঙ্গে ড. শফিকুর রহমান বলেন, বিরোধী দলের কাজ হল বাজেটের দুর্বল দিকগুলো তুলে ধরা। আলোচনা ও সমালোচনা মাধ্যমে বাজেটের গুণগতমান বাড়ানো সম্ভব।

তিনি আরও জানান, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সম্পূরক বাজেটে বিরোধী দলের একটি কাট-মোশন গ্রহণ করা হয়নি। অন্তত একটি প্রস্তাব গ্রহণ করা হলে গণতন্ত্রের জন্য তা ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হত।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, এবারের বাজেটেও বিরোধী দলের যৌক্তিক প্রস্তাবগুলো সরকার বিবেচনায় নেবে এবং অর্থমন্ত্রী এগুলো সংশোধনসহ সংসদে উপস্থাপন করবেন।

জনগণের সময়ের অপচয় কমানোর জন্য তিনি অর্থবছরকে জানুয়ারি-ডিসেম্বর ক্যালেন্ডার বছরের সঙ্গে মিলিয়ে রাখার প্রস্তাব করেছেন। বর্তমান অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে মোট বরাদ্দের ৪২ শতাংশ এবং শেষ দুই মাসে বাকি অর্থ ছাড় হওয়ায় দুর্নীতি ও অপচয়ের সুযোগ তৈরি হয়।

বক্তৃতার শুরুতে বিরোধী দলীয় নেতা স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, মুক্তিযুদ্ধে মুক্তিবাহিনীর সর্বাধিনায়ক জেনারেল এম. এ. জি. ওসমানী, মহান মুক্তিযুদ্ধের সব শহীদ এবং ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চাকরির জন্য তরুণদের আর বছরের পর বছর অপেক্ষা করতে হবে না: প্রধানমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ২৯শে জুন, ২০২৬ ইং

০৪:২৫ পি.এম


চাকরির জন্য তরুণদের আর বছরের পর বছর অপেক্ষা করতে হবে না: প্রধানমন্ত্রী

বিগত সময়ে স্বাস্থ্য খাতের বিপর্যয়, ভুল নীতি এবং হাজার হাজার কোটি টাকা পাচারের কারণে দেশের অর্থনৈতিক খাত সম্পূর্ণভাবে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছিল, এই কথা মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

তিনি আরো বলেন, দেশের উৎপাদন ও বিনিয়োগ প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছিল। পুঁজিবাজারে সর্বস্ব হারিয়ে সাধারণ মানুষ আত্মহত্যা করেছে এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ভয়াবহ অবস্থায় পৌঁছেছিল। সেই সঙ্গে বিগত সরকারের নেওয়া বেশ কিছু ‘ভ্যানিটি প্রজেক্ট’ বা অহেতুক প্রকল্পের কারণে যে দেশি-বিদেশি ঋণ নেওয়া হয়েছিল, তা এখন জাতির ওপর বড় বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সংসদে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ-এর সভাপতিত্বে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার বক্তব্যে বিরোধী দলের নেতার বক্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ করে বলেন, "আমরা দেশের এই অর্থনৈতিক সংকটকে অস্বীকার করতে চাই না, তবে সংকটকে কোনো অজুহাত হিসেবেও ব্যবহার করব না। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও কার্যকর নীতির মাধ্যমে এই সংকট সফলভাবে মোকাবিলা করা হবে।"

সরকারের যাত্রালগ্ন থেকেই রমজান মাসে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখতে আপ্রাণ চেষ্টা করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, "আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের সংকটের কারণে যে বিশাল চাপ তৈরি হয়েছিল, তা দেশের সাধারণ মানুষও বুঝতে পেরেছে।" এমন একটি ভঙ্গুর অর্থনীতি ও বহুমুখী সংকটকে সামনে রেখেই এই বাজেট প্রণয়ন করতে হয়েছে। জীবন যাপনে দেশের মানুষ তাদের যে পবিত্র দায়িত্ব দিয়েছে, তা রক্ষা করতে সরকার বদ্ধপরিকর এবং সরকারের মূল দর্শন হলো ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ এবং ‘সবার জন্য বাংলাদেশ’।

গণতান্ত্রিক, মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতির অভিযাত্রা শিরোনামে উপস্থাপিত এবারের বাজেটটি শুধু বার্ষিক আয়-ব্যয়ের হিসাব নয়, বরং অর্থনীতিকে একটি নতুন ভিত্তির ওপর দাঁড় করানোর রূপকল্প বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেছেন, নয় লাখ আটত্রিশ হাজার কোটি টাকার এই বাজেটের অন্যতম মূল লক্ষ্য হলো অর্থনীতিকে মুষ্টিমেয় সুবিধাভোগীদের কবল থেকে বের করে এনে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা। দেশের সম্পদের সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও, বিনিয়োগ ও উৎপাদনের চাকা বেগবান করতে উন্নয়ন ব্যয় পঞ্চাশ শতাংশেরও বেশি বৃদ্ধি করে তিন লাখ ষোল হাজার কোটি টাকায় উন্নীত করা হয়েছে। সরকারি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে প্রকল্পের পেছনে কত টাকা ব্যয় হলো তা বড় বিষয় নয়, বরং সেই প্রকল্প মানুষের জীবনে কী ভূমিকা রাখবে এবং কতটা কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে, সেটিই সরকারের মূল বিবেচনা।

অর্থনৈতিক কৌশল বাস্তবায়নে সরকারের তিনটি ধাপের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রথম ধাপে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনা শক্তিশালীকরণ এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সুরক্ষা নিশ্চিত করা হবে। দ্বিতীয় ধাপে রাজস্ব সংস্কার, ব্যাংকিং খাতের পুনর্গঠন এবং রপ্তানি বহুমুখীকরণ করা হবে। আর চূড়ান্ত ধাপে উৎপাদনশীল ও উদ্ভাবননির্ভর প্রতিযোগিতাপূর্ণ অর্থনীতির ভিত সুদৃঢ় করা হবে।

প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, "শুধু জিডিপি প্রবৃদ্ধি বাড়লেই প্রকৃত উন্নয়ন হয় না, প্রকৃত উন্নয়ন তখনই হয় যখন সাধারণ মানুষের ঘরে স্বস্তি আসে এবং তরুণরা যোগ্যতা অনুযায়ী কাজ পায়।" ঋণনির্ভর নয়, বরং উৎপাদন ও বিনিয়োগনির্ভর এমন একটি বাংলাদেশ গড়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে যেখানে তরুণদের চাকরির জন্য বছরের পর বছর অপেক্ষা করতে হবে না, বরং তারা নিজেরাই নিজেদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে।

দেশীয় শিল্পের বিকাশ, রুগ্ন শিল্প কারখানা পুনরুজ্জীবিত করা এবং নতুন শিল্পাঞ্চল ভিত্তিক কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে একটি রপ্তানিমুখী ও উদ্ভাবননির্ভর অর্থনীতি গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চট্টগ্রামে পলাশ হত্যা মামলায় আসামিদের যাবজ্জীবন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২৯শে জুন, ২০২৬ ইং

০৪:২৫ পি.এম


চট্টগ্রামে পলাশ হত্যা মামলায় আসামিদের যাবজ্জীবন

চট্টগ্রাম নগরীর বাকলিয়া থানার ডিসি রোড এলাকায় মো. পলাশ হত্যা মামলায় দুই আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাদের অর্থদণ্ড, ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা এবং অনাদায়ে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।

সূত্রে জানা যায়, সোমবার (২৯ জুন) চট্টগ্রামের পঞ্চম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. তাজুল ইসলাম এ রায় দেন। দণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামি হলেন, নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার আইয়ুব আলী বাবুল (৪৪) এবং একই জেলার বেগমগঞ্জ উপজেলার মাহমুদুল হাসান সোহেল (৩৭)।

আদালতের বেঞ্চ সহকারী এস এম কাওসার সাগর কালের কণ্ঠকে বলেন, দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় আইয়ুব আলী ও মাহমুদুল হাসানকে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাদের ৫০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে আরো ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

এই রায় ঘোষণার আগে ১৪ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ সম্পন্ন হয়। পলাতক দুই আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি করা হয়েছে।

মামলার নথি অনুসারে, নিহত মো. পলাশ নেত্রকোণার আটপাড়া উপজেলার আবদুল হেকিমের সন্তান। তিনি চট্টগ্রাম নগরীর চকবাজার এলাকার একটি রেস্টুরেন্টে বাবুর্চি হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

২০০৯ সালের ২৭ আগস্ট বাকলিয়া থানার ডিসি রোড এলাকায় পূর্ব বিরোধের জন্য তাকে ডেকে নিয়ে হত্যা করেন আসামিরা। এই ঘটনার পরদিন ২৮ আগস্ট নিহতের ভাই মো. সম্রাট বাকলিয়া থানায় আইয়ুব আলী ও মাহমুদুল হাসানকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা করেন। তদন্ত শেষে পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে এবং ২০১২ সালে ১২ নভেম্বর আদালত অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর নির্দেশ দেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%