০৫:৪৩ পি.এম
গত তিন বছর ধরে ভারতের সাবেক ক্রিকেট অধিনায়ক এবং সিএবি সভাপতি সৌরভ গাঙ্গুলি ‘জেড ক্যাটাগরি’র নিরাপত্তা পেয়ে আসছিলেন। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের সরকার পরিবর্তনের পর গাঙ্গুলির নিরাপত্তার স্তর দুই ধাপ কমিয়ে ‘ওয়াই ক্যাটাগরি’ হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, সৌরভের নিরাপত্তার দায়িত্বে ৮ থেকে ১০ জন পুলিশ মোতায়েন ছিল। ২০২৩-র মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত সাবেক এই ক্রিকেটার ‘ওয়াই ক্যাটাগরি’র নিরাপত্তা পেতেন। তখন কলকাতা পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের তিনজন পুলিশ সদস্য তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেন। সৌরভের বাসায়ও পুলিশ কর্মীরা নিরাপত্তার জন্য দায়িত্বে ছিলেন। তবে ২০২৩ সালের মে মাসে তার নিরাপত্তা বাড়িয়ে ‘জেড ক্যাটাগরি’ করে দেওয়া হয়েছিল তৎকালীন তৃণমূল সরকারের পক্ষ থেকে। কিন্তু বর্তমানে বিজেপি সরকার তার নিরাপত্তা দু ধাপ কমিয়ে ফের ‘ওয়াই ক্যাটাগরি’তে ফিরিয়ে এনেছে। সাধারণত ‘ওয়াই ক্যাটাগরি’তে নিরাপত্তার দায়িত্বে ৩ থেকে ৪ জন নিরাপত্তা কর্মী থাকেন, যাদের মধ্যে দুজন সশস্ত্র নিরাপত্তারক্ষী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ভারতে প্রধানমন্ত্রী, বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী, অন্যান্য মন্ত্রী, বিধায়ক, সাংসদ, হাইকোর্ট এবং সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি, প্রথম সারির রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং শীর্ষ আমলারা বিভিন্ন স্তরের নিরাপত্তা নিয়ে থাকেন। এই নিরাপত্তার ক্যাটাগরি তিনটি স্তরের অর্থাৎ ‘এক্স’, ‘ওয়াই’ এবং ‘জেড’ হিসেবে শ্রেণীবদ্ধ করা হয়েছে। ‘ওয়াই’ এবং ‘জেড’-এর ক্ষেত্রে ‘প্লাস’ নামে আলাদা একটি ক্যাটাগরি রয়েছে। এ ছাড়াও সরকারী নির্দেশে শিল্পপতি, তারকা, খেলোয়াড় সহ বিশিষ্ট নাগরিকরা নিরাপত্তা পেয়ে থাকেন। একজন নাগরিকের জীবনের ঝুঁকি কতটা তা নির্ধারণ করে তাঁকে কোন পর্যায়ের নিরাপত্তা প্রদান করা হবে। ‘জেড ক্যাটাগরি’তে নিরাপত্তার দায়িত্বে অন্তত ৩৫ জন পুলিশ সদস্য থাকেন, যাদের মধ্যে রাজ্য পুলিশের কমান্ডোও রয়েছেন। এ ছাড়াও রাজ্য সরকারের ‘জেড ক্যাটাগরি’তে এক পাইলট গাড়িও থাকে। রাজ্যে পালাবদলের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী প্রকাশ্যে জানান যে, প্রয়োজনের অতিরিক্ত নিরাপত্তা আর কোনো রাজনৈতিক নেতার জন্য দেওয়া হবে না। এমনকি রাজনীতিবিদ নয় যাদের নিরাপত্তা প্রয়োজন, তাদের নিরাপত্তার বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হয়। সরকার পরিবর্তনের পর তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিরাপত্তাও কমিয়ে দেয়া হয়। তিনি যেহেতু একজন সাংসদ তাই তার জন্য যে নিরাপত্তা বরাদ্দ পাওয়া উচিত ছিল তা প্রদান করা হয়। পরে অবশ্য সোনারপুরে জনরোষের সম্মুখীন হওয়ার পর তাকে ‘এক্স ক্যাটাগরি’র নিরাপত্তা দেওয়া হয়। এর পাশাপাশি, তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ রাজীব কুমার সহ তৃণমূলের ১০ নেতার নিরাপত্তা কমিয়ে দেয়া হয়। ফিরহাদ হাকিম, যিনি পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী এবং মেয়র হিসেবে ‘জেড ক্যাটাগরি’র নিরাপত্তা পেতেন। রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য নির্বাচনিতে হেরে যাওয়ার কারণে তাদের নিরাপত্তা সরানো হয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় এবার সৌরভ গাঙ্গুলির নিরাপত্তা কমানো হলো।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন