মোঃ নুর হোসাইন, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, নোয়াখালী
বৃহস্পতিবার, ৮ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
১১:২২ পি.এম
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
অতীতের প্রতিকূলতার কথা তুলে ধরে শিগগিরই শীর্ষ গণমাধ্যমে দায়িত্ব নেওয়ার প্রত্যয়
একসময় বরিশালের গণমাধ্যম অঙ্গনে সাহসী ও স্পষ্টভাষী সাংবাদিক হিসেবে পরিচিত ছিলেন সাকিব বিপ্লব। তাঁর লেখনিতে রাজনৈতিক ও সামাজিক বিভিন্ন বিষয় উঠে আসত। একপর্যায়ে তাঁর প্রকাশিত সংবাদ ও পত্রিকা ঘিরে পাঠকদের মধ্যেও ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছিল। দীর্ঘ বিরতির পর এবার আবারও সাংবাদিকতায় সক্রিয়ভাবে ফেরার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।
সাকিব বিপ্লবের ভাষ্য অনুযায়ী, বিগত সরকারের সময়ে দায়ের করা কয়েকটি মামলায় দীর্ঘদিন কারাভোগ এবং পরবর্তী সময়ে পেশাগত ক্ষেত্রে তৈরি হওয়া নানা প্রতিকূলতার কারণে তিনি প্রায় সাত বছর মূলধারার সাংবাদিকতা থেকে দূরে ছিলেন।
তিনি দাবি করেন, কারাভোগের পাশাপাশি বিভিন্ন সময়ে তাঁর বিরুদ্ধে জাতীয় পর্যায়ের কয়েকটি গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানে নেতিবাচক তথ্য ও অভিযোগ উপস্থাপন করা হয়েছিল। তাঁর মতে, এসব কারণে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে পেশাগত দায়িত্ব পাওয়ার ক্ষেত্রেও জটিলতা তৈরি হয়। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
দীর্ঘ বিরতি প্রসঙ্গে সাকিব বিপ্লব বলেন, **“বুকে সেই চাপা কষ্ট নিয়ে এখনো ঘুরে বেড়াচ্ছি। ফ্যাসিস্টদের দালালরা বিগত দিনে সব ধরনের সুবিধা ভোগ করে নিজেদের আখের গুছিয়েছে। অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো, তারা এখনো নিজ নিজ অবস্থানে বহাল থেকে বরিশাল মিডিয়া অঙ্গনকে বর্তমান সময়েও নিয়ন্ত্রণ করছে।”
তবে তাঁর এই বক্তব্যের বিষয়ে নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা বা সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
বরিশালের বর্তমান সাংবাদিকতার চর্চা নিয়েও নিজের অসন্তোষের কথা জানিয়েছেন সাকিব বিপ্লব। তাঁর মতে, স্থানীয় পর্যায়ে অনুসন্ধানী ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার চর্চা আরও জোরদার হওয়া প্রয়োজন।
তিনি বলেন, “বরিশালে এখন নেই কোনো সত্য বা অনুসন্ধানী রিপোর্ট। আছে শুধু বিএনপি ও জামায়াতের একচেটিয়া দালালি ও তোষামোদির রাজনীতি।”
এটি তাঁর ব্যক্তিগত মূল্যায়ন ও মতামত বলে উল্লেখ করে তিনি স্থানীয় গণমাধ্যমে আরও স্বাধীন, তথ্যনির্ভর ও অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেন।
দীর্ঘ সাত বছরের বিরতির পর এবার নতুন করে সাংবাদিকতায় ফেরার ব্যাপারে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন সাকিব বিপ্লব। তিনি জানান, দেশের একটি শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব নিয়ে শিগগিরই মাঠে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
সাকিব বিপ্লব বলেন, “ইনশাআল্লাহ, খুব শিগগিরই রাজকীয়ভাবে ফিরব মিডিয়া ভুবনের শীর্ষ কোনো হাউসের দায়িত্বভার নিয়ে। আমার এই প্রত্যাবর্তনের মধ্য দিয়ে মাঠে আবার প্রমাণিত হবে—সৎ ও সাহসী সাংবাদিকতা কাকে বলে।
সাংবাদিকতার জগতে তাঁর দীর্ঘ বিরতি এবং ফেরার ঘোষণাকে ঘিরে বরিশালের গণমাধ্যম অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। তবে তিনি ঠিক কোন গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানে এবং কী দায়িত্বে ফিরছেন, সে বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রতিষ্ঠানের নাম প্রকাশ করা হয়নি।
সাকিব বিপ্লবের উত্থাপিত মামলা, পেশাগত প্রতিবন্ধকতা, অপপ্রচার ও গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণসংক্রান্ত অভিযোগগুলোর স্বতন্ত্র সত্যতা এই প্রতিবেদনে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চট্টগ্রাম নগরীর কোতোয়ালি থানার বিআরটিসি ফলমন্ডী এলাকায় ফুটপাতে ঘুমিয়ে থাকা দম্পতির দুই মাসের শিশু মোহাম্মদ হোসাইন চুরির ঘটনায় পুলিশ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে। শিশুটিকে পরে পাহাড়তলী এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়।
বুধবার (৭ অক্টোবর) রাতে নগরীর পাহাড়তলী এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারদের নাম মহরম আলী (৫০) ও মোহাম্মদ ইব্রাহিম (৩৮) বলে জানা গেছে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, মোহাম্মদ রাজীব তাঁর স্ত্রী রুবি বেগম এবং দুই মাসের ছেলে মোহাম্মদ হোসাইনকে নিয়ে গত তিন-চার মাস ধরে কোতোয়ালি থানার বিআরটিসি ফলমন্ডী এলাকায় ভাসমান অবস্থায় বসবাস করছেন। ৩ অক্টোবর ভোর ৪টার দিকে রাজীব ও তাঁর স্ত্রী শিশুসন্তানকে নিয়ে ফুটপাতে মশারি টানিয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। ভোর সাড়ে ৫টার দিকে ঘুম থেকে উঠে তাঁরা দেখেন, তাঁদের দুই মাসের শিশুসন্তান নেই। এরপর তাঁরা কোতোয়ালি থানার পুলিশকে বিষয়টি জানান।
কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহেদুল কবির কালের কণ্ঠকে জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় পাহাড়তলী থানার ৩ নম্বর পাহাড়তলী রেলগেট এলাকায় অভিযান চালিয়ে মহরম আলীকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাঁর হেফাজত থেকে চুরি যাওয়া শিশু মোহাম্মদ হোসাইনকে উদ্ধার করা হয়। পরে মহরমের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ইব্রাহিমকেও গ্রেপ্তার করা হয়।
তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় গ্রেপ্তার দুই আসামিসহ অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সংঘবদ্ধভাবে শিশু পাচারের উদ্দেশ্যে শিশু চুরির অভিযোগে মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইনে কোতোয়ালি থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলার মালঞ্চ জামে মসজিদের ইমাম ও খতিব মো. মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে সোনার হার দেখিয়ে এবং বিভিন্ন অজুহাতে কয়েকজনের কাছ থেকে টাকা নিয়ে আত্মগোপনে চলে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, তিনি তাঁদের কাছ থেকে মোট ৭ লাখ ৬৫ হাজার টাকা নিয়েছেন।
এ ঘটনায় বুধবার (৭ অক্টোবর) রাতে মেলান্দহ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগীরা। অভিযোগের সূত্রে জানা যায়, প্রায় তিন মাস আগে মালঞ্চ জামে মসজিদের ইমাম ও খতিব হিসেবে যোগদান করেন মিজানুর রহমান। অল্প সময়ের মধ্যে তিনি মুসল্লি ও এলাকাবাসীর আস্থা অর্জন করেন। পরে ব্যক্তিগত আর্থিক সংকট, বেতন না পাওয়া ও জরুরি প্রয়োজনের কথা বলে তিনি কয়েকজনের কাছ থেকে টাকা ধার নেন। ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেছেন যে, টাকা ফেরতের নিশ্চয়তা দিতে তিনি হংকং থেকে আসা সোনার নেকলেসের ছবি দেখান।
লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, স্থানীয় ব্যবসায়ী মো. ইমরানের কাছ থেকে ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা, জাহাঙ্গীর মাস্টারের কাছ থেকে ৪০ হাজার টাকা, আব্দুল্লাহর কাছ থেকে ২ লাখ টাকা, কাদেরের কাছ থেকে ৩০ হাজার টাকা এবং ইসমাঈল হোসেন রাজার কাছ থেকে ২ লাখ ২০ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে। তবে অভিযোগে উল্লেখ করা পাঁচজনের কাছ থেকে নেওয়া টাকার মোট পরিমাণ ৬ লাখ ১৫ হাজার টাকা। বাকি টাকার বিষয়ে অভিযোগে স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ অনুযায়ী, বুধবার দুপুর পর্যন্ত মিজানুর রহমান স্বাভাবিকভাবে মসজিদে ছিলেন এবং মুসল্লিদের সঙ্গে নামাজ আদায় করেন। এরপর থেকে তাঁকে আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। তাঁর মুঠোফোনও বন্ধ রয়েছে।
অভিযোগকারী মো. জুবায়ের বলেন, গত ৫ অক্টোবর মিজানুর রহমান তাঁর কাছে টাকার প্রয়োজনের কথা জানান। পরে তিনি মুঠোফোনে সোনার একটি নেকলেসের ছবি দেখিয়ে কয়েক দিনের মধ্যে টাকা ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দেন। ইমামের ওপর বিশ্বাস করে তিনি নগদ ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা দেন। কিছুদিন পরই মিজানুর রহমান চলে যান বলে অভিযোগ করেন তিনি।
মালঞ্চ জামে মসজিদ পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. ফরহাদ হোসেন বলেন, ‘অভিযোগের বিষয়টি আমরা আগে জানতাম না। কেউ অর্থ লেনদেনের আগে কমিটিকে অবহিত করেননি। বিষয়টি নিয়ে দ্রুত সভা করে আইনি করণীয় ঠিক করা হবে।’
অভিযোগের বিষয়ে জানতে মিজানুর রহমানের ব্যবহৃত মুঠোফোন নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে মেলান্দহ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এটিএম মাহমুদুল হক বলেন, ‘এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। অভিযুক্ত ব্যক্তি পলাতক রয়েছেন। তাঁর ব্যবহৃত মুঠোফোন নম্বর পর্যালোচনা করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ফরিদপুরের ভাঙ্গায় মাহিন্দ্রার ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী সিনহা মোল্লা (১৮) নামের এক কলেজছাত্র নিহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বিকেলে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের ভাঙ্গা উপজেলার চুমুরদী ইউনিয়নের বাবলাতলা এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত সিনহা গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার দিগনগর ইউনিয়নের ভাজন্দী গ্ৰামের শাজাহান মোল্লার ছেলে। তিনি স্থানীয় একটি কলেজে একাদশ শ্রেণিতে পড়াশোনা করতেন।
ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার উপ-পরিদর্শক সোহেল রানা জানান, বিকেলে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের বাবলাতলা এলাকায় দ্রুত গতির মাহিন্দ্রা মোটরসাইকেলকে ধাক্কা দিয়ে পালিয়ে যায়। সেই সময় মোটরসাইকেলে থাকা সিনহা গুরুতর আহত হন। স্থানীয় জনতা তাকে উদ্ধার করে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
লাশটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানান উপ-পরিদর্শক সোহেল রানা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ