বৃহস্পতিবার, ২৫শে জুন, ২০২৬ ইং
০৬:১৩ পি.এম
দিনাজপুরে প্রায় ১০ কোটি ৮২ লাখ ৯০ হাজার টাকা মূল্যের মাদকদ্রব্য এবং চোরাচালান পণ্য ধ্বংস করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। আজ বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকালে দিনাজপুর সেক্টর সদর দপ্তরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এসব মাদকদ্রব্য ও চোরাচালান পণ্য ধ্বংস করা হয়েছে।
বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, দিনাজপুর সেক্টরের আওতাধীন জয়পুরহাট, ফুলবাড়ী এবং দিনাজপুর ব্যাটালিয়নের সদস্যরা ২০২৩ সাল থেকে চলতি বছরের জুন মাস পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে অভিযান চালিয়ে এসব মাদকদ্রব্য ও চোরাচালান পণ্য জব্দ করেছেন।
ধ্বংস করা মাদকদ্রব্যের মধ্যে ছিল ১৩ হাজার ১৯০ বোতল ফেনসিডিল, ২ লাখ ৪৮ হাজার ৫৯টি ইয়াবা ট্যাবলেট, ৫১৬ দশমিক ৭৫ কেজি গাঁজা এবং ১ লাখ ৫ হাজার ৭৪৬ লিটার মদ। এছাড়া ৫ লাখ ৩৪ হাজার ১১৭টি বিভিন্ন ধরনের চোরাচালান পণ্যও ধ্বংস করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিভাগীয় কমিশনার মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘মাদক একটি নীরব ঘাতক। এটি সমাজের তরুণ প্রজন্মকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।’
বিজিবি রংপুর রিজিয়নের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ এস এম নাছের বলেন, ‘মাদক শুধু একটি অবৈধ দ্রব্য নয়, এটি ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজের জন্য ভয়াবহ অভিশাপ। সীমান্ত দিয়ে মাদকের অনুপ্রবেশ রোধে বিজিবি সর্বদা সজাগ রয়েছে এবং মাদকমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে আমরা দৃढ़প্রতিজ্ঞ।’
অনুষ্ঠানে বিজিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের প্রতিনিধি এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন। পরে অতিথিরা আনুষ্ঠানিকভাবে মাদকদ্রব্য ও চোরাচালান পণ্য ধ্বংস কার্যক্রমে অংশ নেন। সীমান্ত এলাকায় মাদক এবং চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবির চলমান অভিযানের অংশ হিসেবে এ ধ্বংস কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বর্তমান সময়ে প্রায় প্রতিটি পরিবারের অপরিহার্য গৃহস্থালি যন্ত্রের তালিকায় ফ্রিজ বিদ্যমান। এটি খাবার দীর্ঘসময় সতেজ রাখতে অপরিবর্তনীয়। তবে ফ্রিজ ব্যবহার করলেই হয় না, নিয়মিত যত্ন না নিলে ফ্রিজের কার্যক্ষমতা কমে আসতে পারে এবং বিদ্যুৎ খরচও অপ্রয়োজনীয়ভাবে বেড়ে যেতে পারে।
অনেকেই ফ্রিজের ভেতর পরিষ্কার রাখেন, কিন্তু পেছনের অংশে থাকা কনডেনসার কয়েল বা ধাতব জালির দিকে নজর দেন না। অথচ, ফ্রিজের সঠিক কুলিং বজায় রাখতে এই অংশটির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
কেন কনডেনসার কয়েল গুরুত্বপূর্ণ? ফ্রিজের পেছনের জালিতে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ধুলা, ময়লা ও বিভিন্ন ক্ষুদ্র কণা জমতে থাকে। যখন এই স্তর অনেক বেশি পুরু হয়ে যায়, তখন তাপ বের হতে বাধা সৃষ্টি হয়। ফলে ফ্রিজকে নির্দিষ্ট তাপমাত্রা ধরে রাখতে অতিরিক্ত কাজ করতে হয়। এর সরাসরি প্রভাব বিদ্যুৎ ব্যবহারের ওপর পড়ে।
কতদিন পরপর পরিষ্কার করবেন? গৃহস্থালি ব্যবহারের সাধারণ সিঙ্গল ডোর ফ্রিজের ক্ষেত্রে প্রতি ৩ থেকে ৬ মাস অন্তর কনডেনসার কয়েল পরিষ্কার করার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। এতে কুলিং স্বাভাবিক থাকে এবং যন্ত্রের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে না।
যাদের আরও বেশি সতর্ক থাকতে হবে। যেসব বাড়িতে পোষা প্রাণী রয়েছে অথবা যেখানে ধুলাবালির পরিমাণ তুলনামূলক বেশি, সেখানে কয়েলে দ্রুত ময়লা জমে। এমন পরিস্থিতিতে প্রতি ২ থেকে ৩ মাস অন্তর পরিষ্কার করা ভালো।
পরিষ্কারের আগে যা করবেন? কাজ শুরু করার আগে অবশ্যই ফ্রিজের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করুন। এরপর ফ্রিজটিকে নেতা থেকে কিছুটা দূরে সরিয়ে নিন, যাতে পিছনের অংশে সহজে পৌঁছানো যায়।
কীভাবে পরিষ্কার করবেন? জালিতে জমে থাকা ধুলো সরাতে নরম ব্রাশ, শুকনো কাপড় অথবা ভ্যাকুয়াম ক্লিনার ব্যবহার করতে পারেন। তবে কখনোই পানি বা ভেজা কাপড় ব্যবহার করা উচিত নয়। এতে বৈদ্যুতিক যন্ত্রাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
পরিষ্কার না করলে কী সমস্যা হতে পারে? কনডেনসার কয়েল দীর্ঘদিন অপরিষ্কার থাকলে- ফ্রিজের কুলিং কমে যেতে পারে, কম্প্রেসরের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে, বিদ্যুৎ খরচ বেড়ে যায়, অন্যান্য যন্ত্রাংশ দ্রুত ক্ষয় হতে পারে এবং ফ্রিজের আয়ু কমে যেতে পারে।
ফ্রিজের পেছনের জালি বা কনডেনসার কয়েল পরিষ্কার রাখা একটি ছোট কাজ হলেও এর সুফল অনেক। নিয়মিত এই অংশের যত্ন নিলে কুলিং ভালো থাকবে, বিদ্যুৎ সাশ্রয় হবে এবং ফ্রিজও দীর্ঘদিন কার্যকর থাকবে। তাই ফ্রিজ পরিষ্কারের তালিকায় শুধু ভেতরের অংশ নয়, পিছনের জালিকেও সমান গুরুত্ব দিন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মো: রনি সিকদার: ঝালকাঠি জেলার নলছিটি উপজেলার দপদপিয়া ইউনিয়নে বরিশাল–পটুয়াখালী–কুয়াকাটা ও বরিশাল–ভোলা মহাসড়ক সংলগ্ন এলাকায় গড়ে ওঠা ‘প্রিজাইড গ্রীন সিটি’ নামে একটি আবাসন প্রকল্পকে ঘিরে একের পর এক গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী, স্থানীয় বাসিন্দা ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়াই পরিচালিত এই প্রকল্পে প্লট বিক্রির নামে কোটি কোটি টাকার প্রতারণা, কৃষিজমি ও সরকারি খাসজমি দখল, জলাশয় ভরাট, জালিয়াতির মাধ্যমে জমি রেজিস্ট্রি, এক প্লট একাধিক ব্যক্তির কাছে বিক্রি এবং প্রশাসনের একটি অংশের যোগসাজশে দীর্ঘদিন ধরে নানা অনিয়ম সংঘটিত হয়ে আসছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রিজাইড গ্রীন সিটির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান মনজুরুল ফরাজী। তার সঙ্গে রয়েছেন ভাইস চেয়ারম্যান মো. নাহিম আকন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ ইউসুফ কাজী, মার্কেটিং ডিরেক্টর এস. এম. রফিকুজ্জামান, পরিচালক হাফেজ মো. জাকির হোসেন, মোহাম্মদ কাইয়ুম ও মো. অহিদুর রহমান প্রিন্স। অভিযোগ রয়েছে, এদের অনেকেই অতীতে এমএলএমভিত্তিক ডেসটিনি গ্রুপের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন এবং সেই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে আবাসন ব্যবসার আড়ালে একই ধরনের বিনিয়োগ ও প্লট বিক্রির মডেল অনুসরণ করছেন।
স্থানীয়দের দাবি, ডেসটিনি-সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমে অভিজ্ঞ হিসেবে পরিচিত তরিকুল ইসলাম বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির পরামর্শক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি নিয়মিত ঢাকা থেকে এসে প্রকল্পের কার্যক্রম তদারকি করেন এবং প্লট বিপণন ও সদস্য সংগ্রহে পরামর্শ দিয়ে থাকেন। যদিও এ বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়াই প্রিজাইড গ্রীন সিটি গত ১০ থেকে ১২ বছর ধরে প্রকাশ্যে প্লট বিক্রি করে আসছে। একটি বেসরকারি আবাসন প্রকল্প পরিচালনার জন্য জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষসহ প্রায় ২০ থেকে ২২টি সরকারি প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন বাধ্যতামূলক হলেও প্রিজাইড গ্রীন সিটির নামে এমন কোনো অনুমোদন নেই বলে অভিযোগ। ট্রেড লাইসেন্স ও ইউনিয়ন পরিষদের একটি অনাপত্তিপত্র ছাড়া প্রকল্পটির প্রয়োজনীয় অনুমোদনের কোনো নথি নেই বলেও দাবি করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
অভিযোগ রয়েছে, কোম্পানিটি অন্যের জমির ওপর নিজেদের লে-আউট পরিকল্পনা তৈরি করে বড় বড় সাইনবোর্ড, আকর্ষণীয় লিফলেট, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ইউটিউবে প্রচারণা চালিয়ে প্লট বিক্রি করছে। অনেক ক্ষেত্রে অস্তিত্বহীন প্লট দেখিয়ে অর্থ আদায়, একই প্লট একাধিক ব্যক্তির কাছে বিক্রি, টাকা নেওয়ার পর প্লট বুঝিয়ে না দেওয়া এবং অন্যের মালিকানাধীন জমিকে কোম্পানির সম্পত্তি হিসেবে উপস্থাপন করার অভিযোগও রয়েছে।
ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, অনেক পরিবার জীবনের সঞ্চয় বিনিয়োগ করেও আজ পর্যন্ত কোনো প্লট বুঝে পাননি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নারী ক্রেতা বলেন, পরিবারের সমস্ত সঞ্চয় দিয়ে প্লট কিনলেও পরে অফিসে গিয়ে প্লট বুঝে চাইলে তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কৃষিজমি, সরকারি খাসজমি, খাল, নালা ও জলাশয় দখল করে বালু ভরাটের মাধ্যমে প্লট তৈরি করা হয়েছে। পরিবেশ ও কৃষিজমি রক্ষার আইন উপেক্ষা করে এসব কার্যক্রম পরিচালিত হলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
অভিযোগ রয়েছে, প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ ইউসুফ কাজী গ্রাহকদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ সংগ্রহের পর আত্মগোপনে চলে গেছেন। তবে এ বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্রিজাইড গ্রীন সিটির মার্কেটিং পরিচালক এস. এম. রফিকুজ্জামানের বিরুদ্ধেও নানা অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, তিনি শুধু প্লট বিক্রিতেই নয়, প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা, জমি দখল এবং প্রকল্প পরিচালনায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন। এসব অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্যও পাওয়া যায়নি।
সবচেয়ে আলোচিত অভিযোগগুলোর একটি হলো নলছিটি উপজেলার পূর্বচর দপদপিয়া মৌজার ১৬১ ও ১৬৬ নম্বর খতিয়ানের ৯৫ দশমিক ৫০ শতাংশ জমি নিয়ে। অভিযোগ অনুযায়ী, জমিটির প্রকৃত রেকর্ডভুক্ত মালিক ছিলেন মোক্তার আলী ফকির। তার মৃত্যুর পর উত্তরাধিকার সূত্রে জমির মালিক হন ছেলে মো. হাসমত আলী। জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী তার জন্ম ৭ এপ্রিল ১৯৪৫ এবং তার জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর ৪২১৭৩১৫৩৭৮০৭৭।
কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, গত ৩০ মে নলছিটি সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে ১৪৬৪ নম্বর সাব-কবলা দলিলের মাধ্যমে একই জমি ‘হাসমত ফকির’ নামে ভিন্ন পরিচয়ের এক ব্যক্তির নামে জাল জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করে ২৩ লাখ ৮৮ হাজার টাকায় প্রিজাইড গ্রীন সিটি লিমিটেডের নামে রেজিস্ট্রি করা হয়। ওই পরিচয়পত্রে জন্মতারিখ ২ জানুয়ারি ১৯৭৫, মায়ের নাম ফুল বানু এবং অন্যান্য তথ্য প্রকৃত মালিকের তথ্যের সঙ্গে মিল নেই বলে অভিযোগ। আইডি নম্বর ৪২১৭৩১৫৩৯০২১৭। এরপরও দলিল রেজিস্ট্রি এবং পরবর্তীতে স্থানীয় এসিল্যান্ড অফিস থেকে নামজারি সম্পন্ন হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। জন্ম তারিখ ১৯৭৫ সালের ২ জানুয়ারি। আইডি নম্বর ৪২১৭৩১৫৩৯০২১৭। এসব দেখেও যাচাই বাছাই না করেই নলছিটির সাবরেজিস্ট্রার দলিল রেজিস্ট্রি করে দেন।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে নলছিটি সাব-রেজিস্ট্রার অফিস ও এসিল্যান্ড অফিসের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন ভুক্তভোগীরা। তাদের অভিযোগ, জাল কাগজপত্র যাচাই না করেই দলিল রেজিস্ট্রি ও নামজারি সম্পন্ন করা হয়েছে। ফলে প্রশাসনের একটি অংশের যোগসাজশ ছাড়া এমন ঘটনা সম্ভব নয় বলে তারা দাবি করছেন।
স্থানীয় সূত্রের অভিযোগ, অতীতে রাজনৈতিক প্রভাবের কারণেও প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি। অভিযোগ রয়েছে, প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার সুযোগ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কৃষিজমি, খাসজমি ও জলাশয় দখল এবং প্লট বিক্রির কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে নতুন রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করেও কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা হচ্ছে বলে স্থানীয়দের দাবি। তবে এসব অভিযোগ স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এদিকে, জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন রয়েছে কি না, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। একইভাবে প্রিজাইড গ্রীন সিটির চেয়ারম্যান মনজুরুল ফরাজী, পরামর্শক তরিকুল ইসলাম, ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ ইউসুফ কাজী, মার্কেটিং পরিচালক এস. এম. রফিকুজ্জামান এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তাদের কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
ভুক্তভোগীরা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রকল্পটির বৈধতা যাচাই, জালিয়াতির মাধ্যমে সম্পাদিত দলিল ও নামজারির তদন্ত, সরকারি খাসজমি ও জলাশয় দখলের অভিযোগ অনুসন্ধান, দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের স্বার্থ রক্ষায় সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন। চলবে....
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার একটি মসজিদে চেয়ার-টেবিল বসিয়ে জামায়াতে ইসলামীর দলীয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।সভা থেকে ঘোষণা করা হয়েছে একটি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী।এই ঘটনায় মসজিদের আদব লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছে অনেকে, ফলে সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) মাগরিবের নামাজের পর উপজেলার ইমাদপুর ইউনিয়নের চকপাড়া জামের মসজিদে এই দলীয় সভা আয়োজন করা হয়।জানা গেছে, নামাজের পর মসজিদের ভেতরে চেয়ার-টেবিল বসিয়ে জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা সভা শুরু করেন।সভায় মনোহর বাদশা নামের একজনকে ইমাদপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেন উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির আসাদুজ্জামান শিমুল।এ সময়ে জামায়াতের উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
মসজিদের ভেতরে চেয়ার-টেবিল বসিয়ে সভা করার ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর পরই শুরু হয়েছে তীব্র সমালোচনা।একজন ফেসবুক ব্যবহারকারী মন্তব্য করেছেন, ‘মসজিদকে পার্টি অফিস বানিয়ে ফেলছে মোনাফেকগুলা।’ অন্য একজন ফেসবুক ব্যবহারকারী বলেন, ‘মসজিদ আল্লাহর ঘর, এখানে কিসের ভণ্ডামি, এরা ইসলামের নামে ভণ্ডামি শুরু করে দিয়েছে।’
মিঠাপুকুরের হুলাশুগঞ্জ জামিয়া কুরআনিয়া দারুল উলুম মাদ্রাসার পরিচালক মুফতি মাসুদুর রহমান কাসেমী বলেন, আমাদের দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর প্রোগ্রামে সাধারণত অন্য দলের সমালোচনা করা হয়ে থাকে, যা গিবতের পর্যায়ে পড়ছে।মসজিদের ভেতরে তো গিবত করার সুযোগ নেই।এ ছাড়া চেয়ার-টেবিল নিয়ে বসে দলীয় সভা করার ফলে মসজিদের সৌন্দর্যবর্ধন না হয়ে সৌন্দর্যহানি ঘটলে, এটি মসজিদের আদবের লঙ্ঘন হয়েছে।
এ বিষয়ে মিঠাপুকুর উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির আসাদুজ্জামান শিমুল বলেন, আমরা মসজিদভিত্তিক প্রোগ্রামগুলো করি, তবে এভাবে প্রোগ্রাম করি না।মসজিদটি গ্রামের মধ্যে, একদম বাড়ির সঙ্গে।সেসময় সেখানে লোকজন ছিল না।এ কারণে আমরা মসজিদটি ব্যবহার করেছি।তিনি আরও বলেন, ইসলামের দৃষ্টিতে মসজিদ হচ্ছে সংসদ।তবে এটাকে মানুষ ভালোভাবে নেয় না।এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটা নিয়ে অনেক সমালোচনা হয়েছে যা আমিও দেখেছি।সামাজিক দৃষ্টিকোণ থেকে মানুষ এটাকে ভালোভাবে নেয় না।সামনের দিকে আমরা বিষয়টি খেয়াল রাখব।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
আগে রিকশায় চড়তেন, এমন অনেকেই এখন প্রাডোতে (দামী গাড়ি) চড়ে জুলাই চেতনা বিক্রি করেন বলে মন্তব্য করেছেন ময়মনসিংহ-১০ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আক্তারুজ্জামান।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে এমন মন্তব্য করেন তিনি।
মোহাম্মদ আক্তারুজ্জামান বলেন, আমরা জুলাই যুদ্ধ করেছি, আমি নিজেও করেছি। আমাদের এখানে যারা আছেন অনেকেই জুলাই যুদ্ধ করেছেন, আমাদের সন্তানেরা করেছেন। অনেকেই জুলাই চেতনা বিক্রি করেন। কিন্তু, আমরা জুলাই চেতনা বিক্রি করি না, আমরা জুলাইকে ধারণ করি। জুলাই তো বিক্রি করার বিষয় না।
তিনি বলেন, অনেকেই রিকশায় চড়তেন, এখন প্রাডো গাড়িতে চড়েন আর জুলাই চেতনা বিক্রি করেন। আমি যে গাড়িতে চড়তাম সেই গাড়িটি নির্বাচনের সময় অবস্থা খুব খারাপ হয়ে গেছে, আমি এখনো সেই গাড়িতেই চড়ি। যারা জুলাই চেতনা বিক্রি করেন, আমি অনুরোধ করবো উনারা আগে কিসে চড়তেন আর এখন কিসে চড়েন, কোন বাসায় থাকেন, উনারা যেন মাঝেমধ্যে লাইভ করেন কোন বাসায় থাকেন ৷ একটু লাইভ করলেই জাতি দেখতো উনাদের কী (অবস্থা) এখন, আগে কোথায় ছিলেন এখন পরিবর্তনটা কী রকম হয়েছে।
বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে সবচেয়ে বেশি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে জানিয়ে এই সংসদ সদস্য বলেন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অবকাঠামো, চিকিৎসা- আপনি দেখবেন সামাজিক সুরক্ষা খাতে সবচেয়ে বেশি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন সিঙ্গাপুর, কানাডা নয়- আমরা এই দেশটিকে সিঙ্গাপুর, কানাডা বানাতে চাই। এই বাজেটে বিনিয়োগকে সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে দেশি- বিদেশি বিনিয়োগকে। কর ছাড়ের সুযোগ নিয়ে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশে বিনিয়োগের বিনিয়োগ করেন।
বিএনপির এ নেতা আরও বলেন, সঠিক নেতৃত্ব, দূরদর্শী নেতৃত্ব একমাত্র তারেক রহমান। মুক্তিযুদ্ধের পর আমরা যেমন মুক্তিযুদ্ধ ধারণ করি, আমরা জুলাইও ধারণ করি। মুক্তিযুদ্ধের পর মহান স্বাধীনতার ঘোষক জিয়াউর রহমান যখন এ দেশের দায়িত্ব নিয়েছিলেন, এই দেশটিকে অর্থনীতির মুক্তির জন্যে তিনি দেশপ্রেমের উজ্জ্বল সততা, আদর্শের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন। আমরা স্বাধীনতাকে জুলাই দিয়ে মুছতে চাই না, আমরা স্বাধীনতাকে অন্তরে ধারণ করি, জুলাইকেও অন্তরে ধারণ করি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ