০৫:৪৭ পি.এম
কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নের চর ঝাকালিয়া গ্রামের বাসিন্দা রবি মিয়া জাজারীর্ণ ঘরের সামনে দাঁড়িয়ে আছেন। ছবিটি তুলেছেন কালের কণ্ঠের প্রতিনিধিত্বকারী সাংবাদিক ছাইদুর রহমান নাঈম।
কখনো বৃষ্টির পানি টিনের ফাঁক দিয়ে পড়ে, আবার কখনো সূর্যের আলো ঘরের ভেতরে ঢুকে পড়ে। বৃষ্টির সময় জামাকাপড়, বইপত্র এবং প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র ভিজে যায়।
ঝড়-তুফান এলেই আতঙ্কে থাকতে হয় পরিবারের সদস্যদের—এটাই বুঝি টিনের চাল উড়ে যাবে। এমন নড়বড়ে এবং জরাজীর্ণ ঘরে ছয় সদস্যের পরিবার নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন হতদরিদ্র রবি মিয়া।
আরও পড়ুন: সকাল ৯টায়ও তালাবদ্ধ চিকিৎসকের কক্ষ, রোগীরা চরম ভোগান্তিতে
কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের চর ঝাকালিয়া গ্রামের এই পরিবার দীর্ঘদিন ধরে চরম অভাব-অনটনের মধ্যে জীবন কাটাচ্ছে। দুঃখ-কষ্ট ও অভাব যেন তাদের নিরন্তর সঙ্গী।
ছোট্ট ঘরে গাদাগাদি করে বসবাস করতে হয় বাবা-মা ও সন্তানদের। খাবারের কষ্টও লেগেই আছে—কখনো একেবারেই খাবার জোটে, আবার কখনো উপোস থাকতে হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, অর্থের অভাবে উপযুক্ত বয়স হয়ে গেলেও রবি মিয়া দুই মেয়ের বিয়ে দিতে পারছেন না। তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন।
ফলে নিয়মিত কোনো কাজ করতে পারেন না। পরিবারের সদস্যদের মধ্যে অসুস্থ বৃদ্ধ মা, স্ত্রী, দুই মেয়ে এবং এক ছেলে রয়েছেন। বড় দুই মেয়ে তাদের পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছে, আর ছোট ছেলে স্থানীয় একটি মাদরাসায় অধ্যয়নরত। সংসারের আর্থিক সংকটের কারণে দুই বোন টিউশনি করে নিজেদের লেখাপড়ার খরচ চালানোর চেষ্টা করছেন।
আরও পড়ুন: সিরাজগঞ্জে যুবলীগের মিছিলে পুলিশের ৪ সদস্যকে শাস্তি
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, একটি ছোট বসতভিটায় তিনটি টিনের ঘর রয়েছে। দীর্ঘদিনের ব্যবহারে ঘরগুলো জরাজীর্ণ ও নড়বড়েতে হয়ে পড়েছে। একটি ঘরে রবি মিয়ার বৃদ্ধ মা থাকেন, অপর দুটি ঘরে পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা থাকেন। ঘরের বিভিন্ন স্থানে টিন ফুটো হয়ে যাওয়ার ফলে কাগজ, কাপড় এবং পলিথিন দিয়ে জোড়াতালি দেওয়া হয়েছে। বইপত্রগুলো রক্ষার জন্য সেগুলোও পলিথিন দিয়ে মুড়িয়ে রাখা হয়েছে। পরিবারের সদস্যদের চেহারায় অভাব-অনটনের স্পষ্ট ছাপ দেখা যায়। অনেকেই বিভিন্ন রোগে ভুগছেন।
ঘরের ভেতরে বৃষ্টিতে ভেজা বই দেখছেন রবি মিয়ার কলেজ পড়ুয়া মেয়ে। ঝড়-বৃষ্টি এলেই টিনের চাল উড়ে যাওয়ার আশঙ্কায় আতঙ্কে থাকেন পরিবারের সদস্যরা। ভয়, কষ্ট এবং তীব্র অভাব যেন তাদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য একটি অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই দুর্দশা স্থানীয়দেরও নাড়া দিয়েছে।
রবি মিয়ার কলেজপড়ুয়া মেয়ে সানজিদা আক্তার তামান্না কালের কণ্ঠকে জানান, ‘বৃষ্টি হলে ঘরের ভেতরে পানি পড়ে। বইপত্র, কাঁথা-বালিশসহ প্রয়োজনীয় জিনিস ভিজে যায়। নিজের কলেজের খরচের পাশাপাশি ছোট বোনের পড়াশোনার খরচও বহন করতে হয়। সামান্য টিউশনি করে সবকিছু সামলানো খুবই কঠিন।’
রবি মিয়া বলেন, ‘আমার বয়স হয়ে গেছে, শরীরে আর শক্তি পাই না। নিয়মিত কোনো কাজ করতে পারি না। টাকার অভাবে উপযুক্ত বয়স হলেও দুই মেয়ের বিয়ে দিতে পারছি না। ঘরগুলোও নষ্ট হয়ে গেছে। ছেলেমেয়েরা যদি কোনো আবদার করে, তা পূরণ করতে পারি না। আমাদের দেখার মতো কেউ নেই। সংসার কীভাবে চলবে, আর সন্তানদের ভবিষ্যৎ কী হবে—এই চিন্তায় সব সময় দুশ্চিন্তায় থাকি।’
আরও পড়ুন: শনিবার ৯ ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন থাকবে শিবগঞ্জের কিছু এলাকা
কটিয়াদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামীমা আফরোজ মারলিজ বলেন, ‘রবি মিয়ার পরিবারের বিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের চেষ্টা করা হবে।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন