০২:১৪ পি.এম
আফগানিস্তানের পূর্বাঞ্চলীয় গজনি প্রদেশে সোভিয়েত আমলের একটি অবিস্ফোরিত বোমা উদ্ধার করা হয়েছে। বোমার ওজন ছিল ৫০০ কেজি। এটি একটি ব্যক্তিগত বাগান থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। পরে নিরাপদ স্থানে নিয়ে গিয়ে সেটি বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ধ্বংস করা হয়।
বৃহস্পতিবার পুলিশ এ তথ্য প্রদান করেছে।
গজনি প্রদেশের সির গ্রামে বুধবার এক বাসিন্দা নিজের বাড়ির আঙিনার বাগানে একটি সন্দেহজনক বস্তু দেখতে পান। বিষয়টি জানানো হলে নিরাপত্তা বাহিনী ঘটনাস্থলে গিয়ে উপস্থিত হয়। গজনি পুলিশের মুখপাত্র খালিদ সারহাদি সংবাদ মাধ্যম এএফপিকে জানান, খবর পাওয়ার সাথে সাথে নিরাপত্তা বাহিনী এবং ডেনিশ রিফিউজি কাউন্সিলের একটি মাইন অপসারণকারী দল ওই বাড়িতে উপস্থিত হয়।
আরও পড়ুন: মধ্যপ্রাচ্য সংঘাত শেষ হলেও জ্বালানি সংকট অব্যাহত থাকবে: আইইএ প্রধান
পরে তারা সেখানে সোভিয়েত আমলের ৫০০ কেজি ওজনের বোমাটি দেখতে পায়। সারহাদি বলেন, বোমাটি বাড়ির কাছে থেকে সরিয়ে একটি পাহাড়ি এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সেখানে নিরাপদে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে সেটি ধ্বংস করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, বোমাটি কত বছর ধরে ওই জায়গায় ছিল বা কিভাবে সেখানে এসেছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। তবে এটি সোভিয়েত আমলের বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। আফগানিস্তানে কয়েক দশকের যুদ্ধের কারণে দেশের বিভিন্ন এলাকায় এখনো বিপুল পরিমাণ অবিস্ফোরিত বোমা, গোলাবারুদ ও মাইন ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে। অনেক সময় এসব অস্ত্র মানুষের বাড়ির আশপাশ, কৃষিজমি, রাস্তা ও অন্যান্য জায়গা থেকে উদ্ধার করা হয়ে থাকে। সির গ্রামের ঘটনাটিও সেই দীর্ঘস্থায়ী সমস্যার একটি উদাহরণ।
সোভিয়েত সেনারা প্রায় এক দশক ধরে আফগানিস্তানে অবস্থান করার পর ১৯৮৯ সালে দেশটি ছেড়ে যায়। কিন্তু তারপরও আফগানিস্তানে একের পর এক যুদ্ধ ও সংঘাত হয়েছে। দীর্ঘদিনের সংঘাতের ফলে দেশটির বিভিন্ন এলাকায় মাইন ও অবিস্ফোরিত অস্ত্র রয়ে গেছে। যুদ্ধের সময় ব্যবহার করা অনেক বোমা ও গোলাবারুদ বিস্ফোরিত না হয়ে মাটির নিচে বা বিভিন্ন স্থানে পড়ে আছে। জাতিসংঘের মাইন অ্যাকশন সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৮৯ সালে সোভিয়েত সেনারা আফগানিস্তান ছাড়ার পর থেকে দেশটিতে মাইন ও অবিস্ফোরিত যুদ্ধাস্ত্রের কারণে ৪৫ হাজারের বেশি মানুষ নিহত অথবা আহত হয়েছেন। এর মধ্যে সাধারণ মানুষও রয়েছেন। বিশেষ করে শিশুদের জন্য এসব অস্ত্র বড় ধরনের ঝ risks তৈরি করে। অনেক সময় পুরোনো গোলাবারুদকে খেলনা অথবা ধাতব বস্তু মনে করে মানুষ সেটি স্পর্শ করলে দুর্ঘটনা ঘটে।
আফগানিস্তানে এখনো বিপুল পরিমাণ মাইন ও অবিস্ফোরিত অস্ত্র রয়েছে, কিন্তু এগুলো অপসারণের কাজ করা দলের সংখ্যা কমে গেছে। আফগানিস্তানে জাতিসংঘের মিশনের মাইন অ্যাকশন বিভাগের প্রধান নিক পন্ড জুন মাসে এএফপিকে জানিয়েছিলেন, গত দুই বছরে এই সমস্যা মোকাবিলায় কাজ করা দলের সংখ্যা ৬৪ শতাংশ কমেছে। এর ফলে দেশের বিভিন্ন এলাকায় পড়ে থাকা পুরোনো মাইন ও অবিস্ফোরিত অস্ত্র সরাতে আরো বেশি সময় লাগতে পারে বলেও আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে গ্রাম ও দুর্গম এলাকায় এসব অস্ত্রের ঝুঁকি বেশি রয়েছে। কারণ এসব জায়গায় মানুষ কৃষিকাজ, পশুপালন বা দৈনন্দিন চলাচলের সময় হঠাৎ করে পুরোনো অস্ত্রের মুখোমুখি হতে পারেন। গজনির সির গ্রামের ঘটনায় বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটেনি। বাসিন্দা সময়মতো সন্দেহজনক বস্তুটি দেখতে পাওয়ায় এবং নিরাপত্তা বাহিনীকে জানানোয় বড় ধরনের বিপদ এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
আরও পড়ুন: পিরোজপুরে লাশ দাফনে বাধা, নাহিদ ইসলামের নিন্দা ও ইনসাফের আহ্বান
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন