০৪:১২ পি.এম
পর্তুগালের ন্যাশনাল রিপাবলিকান গার্ড (এনআরজি) দেশে ভেতরে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং অনিয়মিত অভিবাসন মোকাবিলা করার উদ্দেশ্যে চিরুনি অভিযান শুরু করেছে। এই অভিযানের ফলে অনেক অভিবাসী শ্রমিকের মধ্যে উদ্বেগ এবং অনিশ্চয়তা বেড়ে গেছে।
সাম্প্রতিক একটি প্রতিবেদনে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের শুরু থেকে এই চেষ্টা চলাকালীন স্থল, সমুদ্র, এবং আকাশপথে পরিচালিত বিভিন্ন যৌথ ও বিশেষ অভিযানে ৩০০ জনেরও বেশি অনিয়মিত অভিবাসীকে শনাক্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে, আইনি প্রক্রিয়া অনুযায়ী প্রায় ১৫০ জনকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে স্বেচ্ছায় দেশ ত্যাগের নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
জানা গেছে, দেশের অর্থনৈতিক ও কৃষি কেন্দ্রগুলোর দিকে লক্ষ্য রেখে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। বিশেষ করে পর্তুগালের বিভিন্ন অঞ্চলের স্ট্রবেরি খামার, প্রধান রেলওয়ে স্টেশন, আন্তঃদেশীয় সংযোগ সড়ক এবং সমুদ্র উপকূলবর্তী এলাকাগুলোতে নিয়মিত তদারকি ও তল্লাশি বহুগুণ জোরদার করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: একই নারীর সঙ্গে মামা-ভাগিনার প্রেমের জেরে ব্যবসায়ী হত্যা
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আটক ও শনাক্ত হওয়া অভিবাসীদের একটি বড় অংশ দক্ষিণ এশিয়া এবং পশ্চিম আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের নাগরিক। ভারত, নেপাল এবং গিনি বিসাউ থেকে আসা শ্রমিকের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। ইউরোপ ও উন্নত বিশ্বের শ্রমবাজারে প্রবেশের মুখ হিসেবে পরিচিত এই অঞ্চলে এসে অনেকেই বৈধ নথিপত্রের মেয়াদ শেষ হওয়া সত্ত্বেও অবস্থান করছেন।
স্থানীয় কৃষি খামারের মালিকদের একাংশ জানিয়েছেন, মৌসুমি ফসলের সময় সস্তা শ্রমের ওপর তারা নির্ভর করতে বাধ্য হন। তবে প্রশাসনের কঠোর অভিযানের ফলে কৃষি খাতে শ্রমিক সংকট সৃষ্টি হতে পারে বলে ব্যবসায়ী সংগঠনগুলো আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
উন্নত জীবন, অর্থনৈতিক স্বচ্ছলতা এবং পরিবারের মুখে হাসি ফোটানোর এক বুক আশা নিয়ে হাজার হাজার কিলোমিটার পাড়ি দেওয়া এই অভিবাসীরা, কিন্তু দেশ আসার পর অনেকের ভাগ্যে জুটছে চরম অনিশ্চয়তা এবং প্রতিকূল পরিস্থিতি।
পর্তুগালের তদন্তকারী কর্মকর্তা ও মানবাধিকার কর্মীদের তথ্যানুসারে, অভিবাসীদের জীবনযাত্রার মান অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তাদের যাপনচিত্রের প্রধান কয়েকটি সংকট হল:
আরও পড়ুন: জামায়াত-এনসিপির ৯০ এমপির মেধা-যোগ্যতা বনাম স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাশেদ খান
ন্যূনতম মজুরি ও শোষণ: আইনি সুরক্ষার অভাবের কারণে বেশিরভাগ অনিয়মিত শ্রমিককে নির্ধারিত ন্যূনতম মজুরির চেয়েও কম মূল্যে দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করতে হচ্ছে।
বাসস্থান সংকট ও উচ্চ ভাড়া: সীমিত আয়ের বিপরীতে আবাসন খরচ আকাশচুম্বী হওয়ায়, তারা এক একটি ছোট ঘরে গাদাগাদি করে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে থাকতে বাধ্য হচ্ছেন।
দীর্ঘ ও ঝুঁকিপূর্ণ যাতায়াত: প্রত্যন্ত কর্মস্থলে পৌঁছানোর জন্য তাদের প্রতিদিন দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হচ্ছে, যা শারীরিক এবং মানসিকভাবে তাদের বিপর্যস্ত করছে।
রেমিট্যান্সের চাপ: নিজের দেশে থাকা পরিবারের ভরণপোষণ ও অভিবাসনের জন্য নেওয়া ঋণ শোধ করার তীব্র মানসিক চাপ তাদের ওপর রয়েছে।
আরও পড়ুন: সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ডের বিষয়ে জানতে চেয়েছে সংসদীয় কমিটি
স্থানীয় মানবাধিকার কর্মীরা জানিয়েছেন, অনেকেই আইনি বাধ্যবাধকতা এবং ভাষার দক্ষতার অভাবে স্থানীয় শ্রম আইনের সুবিধা নিতে পারেন না। ফলে তাদের এক প্রকার বাধ্য হয়ে মালিকপক্ষের চাপিয়ে দেওয়া অস্বাস্থ্যকর ও অবৈধ কর্মপরিবেশ মেনে নিতে হচ্ছে।
ন্যাশনাল রিপাবলিকান গার্ডের একজন মুখপাত্র বলেছেন, এই অভিযান কোনো নির্দিষ্ট দেশের নাগরিকদের বিরুদ্ধে নয়, বরং মানবপাচার চক্র রুখতে এবং অবৈধ অনুপ্রবেশ বন্ধ করতে নেওয়া আইনি পদক্ষেপ। সীমান্ত সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এবং অবৈধ কর্মসংস্থান প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে অতিরিক্ত কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের পরিকল্পনা রয়েছে।
বর্তমানে আটক অনিয়মিত অভিবাসীদের আইনি প্রক্রিয়া ও নথিপত্র যাচাইয়ের কাজ চলছে। যাদেরকে স্বেচ্ছায় দেশত্যাগের জন্য নোটিশ দেওয়া হয়েছে, তারা যদি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে দেশ না ছাড়েন, তবে তাদের জোরপূর্বক নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হতে পারে।
আরও পড়ুন: তানজিন তিশার মামলার অধিকতর তদন্তের নির্দেশ সিআইডিকে
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন