ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

মাদরাসার নামে সরকারি জমি দখলচেষ্টার অভিযোগ


মাদরাসার নামে সরকারি জমি দখলচেষ্টার অভিযোগ

রংপুরের মিঠাপুকুরে একটি মাদরাসার নামে রেকর্ড হওয়া ৪২ শতক সরকারি জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। সেই সঙ্গে সেখানে থাকা শতাধিক মূল্যবান গাছ কাটা নেওয়ার অভিযোগও একটি প্রভাবশালী মহলের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে।

সরকারি সম্পদ রক্ষা, অবৈধ দখল উচ্ছেদ, গাছ কাটা বন্ধ এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে রংপুর জেলা প্রশাসক ও মিঠাপুকুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লেখা ২৩ জুন এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে আবেদন করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) সকালে সরেজমিন উপজেলা বড় হযরতপুর ইউনিয়নের সদুরপাড়া গ্রামে গেলে স্থানীয়রা এসব কথা বলেন। তারা অভিযোগ করেন যে বেশ কয়েকটি গাছ কাটা হয়েছে। ড। অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, সদুরপাড়া গ্রামে অহেতন নেছা ইবতেদায়ী মাদরাসার নামে প্রায় ৪২ শতক জমি রেকর্ডভুক্ত।

আরও পড়ুন: রাজশাহীতে মাদক কারবারি সহ গ্রেপ্তার ৩৩

দীর্ঘকাল ধরে ওই জমিতে ইউক্যালিপটাস, শালসহ বিভিন্ন প্রজাতির শতাধিক গাছ রোপণ ও সংরক্ষণ করা হয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, এসব গাছের বর্তমান বাজারমূল্য ১০ লাখ টাকারও বেশি। তাদের মতে, জমিটি শুধু একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সম্পদ নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সংরক্ষিত একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি সম্পদও। তাদের দাবি, অতীতে রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে জমিটি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল এবং এখনো সেই চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, শাজাহান, সাজু, সাইদুলসহ কয়েকজন ব্যক্তি জমিটি নিজেদের দাবি করে দীর্ঘদিন ধরে দখলের চেষ্টা চালিয়ে আসছেন। ইতোমধ্যে কিছু মূল্যবান গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। অবশিষ্ট গাছগুলোও কাটার প্রস্তুতি চলছে।

অভিযোগের প্রেক্ষিতে শাজাহান মিয়া বলেন, ‘আমার মা মাদরাসার নামে জমিটি দান করেছেন। জমির রেকর্ড মাদ্রাসার নামে হয়েছে। তবে গাছের মালিকানা নিয়ে আমাদের দাবি রয়েছে।’

আরও পড়ুন: কাউখালীতে ইউএনওর আকস্মিক শ্রেণিকক্ষ পরিদর্শন, শিক্ষার্থীদের পাঠদান করালেন রেহেনা আক্তার

আর স্থানীয়রা বলছেন, জমি এবং গাছ উভয়ই সরকারি সম্পদের অংশ।

এলাকাবাসী জানায়, বহু বছর আগে ওই জমিতে অহেতন নেছা ইবতেদায়ী মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। নানা কারণে মাদরাসাটি স্থানান্তরিত হলেও জমিটি এখনো মাদরাসার নামেই রেকর্ডভুক্ত। তাই জমিটির মালিকানা নিয়ে বিভ্রান্তির কোনো সুযোগ নেই বলে দাবি তাদের।

অভিযোগপত্রে আরো উল্লেখ করা হয়, ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের নামাজ আদায়ের সুবিধার কথা বিবেচনা করে সেখানে একটি ওয়াক্তের নামাজঘর নির্মাণ করা হয়েছে। এর পাশে সীমানা প্রাচীর নির্মাণের জন্য রংপুর জেলা পরিষদ থেকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। কিন্তু প্রভাবশালী মহলের বাধার কারণে সেই প্রাচীর নির্মাণের কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, সরকারি জমির একাংশে অবৈধভাবে দোকানপাট নির্মাণ করা হয়েছে। এসব দোকানে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ ব্যবহার করা হচ্ছে এবং সেখানে মাদক সেবনসহ নানা অসামাজিক কর্মকাণ্ড সংঘটিত হচ্ছে।

আরও পড়ুন: পূর্বধলায় যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

এছাড়া যথাযথ প্রশাসনিক অনুমোদন ছাড়াই সরকারি জমির একটি অংশে লাশ দাফন কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও বসতবাড়ির পাশে এসব কর্মকাণ্ড চলায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও অসন্তোষ বাড়ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা মতিয়ার রহমান বলেন, জমিটি সরকারি রেকর্ডে মাদরাসার নামে রয়েছে। এখানে অনেক কষ্ট করে গাছ লাগানো হয়েছে। বেশ কিছু গাছ ইতিমধ্যে কাটা গেছে। আমরা চাই প্রশাসন দ্রুত তদন্ত করে সরকারি সম্পদ রক্ষা করুক এবং দখলচেষ্টার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবেন।

গ্রামের ব্যবসায়ী একরামুল হক মণ্ডল বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র জমিটি দখলের চেষ্টা করছে। তারা এখন গাছও কেটে নিতে চাইছে। প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে সরকারি সম্পদের বড় ধরনের ক্ষতি হবে। আমরা চাই জমিটি দখলমুক্ত করে জনগণের স্বার্থে সংরক্ষণ করা হোক।’

মাদরাসার শিক্ষক গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘এই জমি মাদরাসার নামে রেকর্ডভুক্ত। এটি দখলমুক্ত করে সংরক্ষণ করা হলে ভবিষ্যতে শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক ও শিক্ষা-সহায়ক কার্যক্রম পরিচালনায় ব্যবহার করা যাবে। সরকারি সম্পদ রক্ষা করা সবার দায়িত্ব।’

আরও পড়ুন: শিবচরে সংবাদ সংগ্রহে সাংবাদিকদের উপর হামলা ও প্রাণনাশের হুমকির প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

এর আগে প্রভাবশালীরা একটি ইউক্যালিপটাস গাছ চার হাজার টাকায় বিক্রি করেছেন। তবে আর কয়েকটি গাছ কয়েক বছরে গাছ বিক্রি করা হচ্ছে।

অন্য শিক্ষক জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ‘সরকারি সম্পদ দখল কিংবা গাছ কাটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। প্রশাসন নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত অবস্থা যাচাই করলে সত্য বেরিয়ে আসবে। আমরা চাই আইন অনুযায়ী দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হোক।’

আবেদনে এলাকাবাসী সাত দফা দাবি জানিয়েছেন। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে- জমির মালিকানা ও রেকর্ড যাচাই করে জরুরি তদন্ত, অবৈধ দখল উচ্ছেদ, অবৈধ দোকানপাট ও স্থাপনা অপসারণ, অনুমোদনবিহীন দাফনের বিষয়ে তদন্ত, সরকারি গাছ কাটার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ, অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বন্ধ এবং জমিটি মাদরাসার নামে সংরক্ষিত করে শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা ও শিক্ষা-সহায়ক কার্যক্রমের জন্য ব্যবহার নিশ্চিত করা।

রংপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রুহুল আমিন বলেন, ‘লিখিত অভিযোগটি আমাদের নথিভুক্ত হয়ে থাকলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হবে। সরকারি জমি, সরকারি গাছ কিংবা অন্য কোনো রাষ্ট্রীয় সম্পদ কেউ অবৈধভাবে দখল বা ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারবে না। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন: টাঙ্গাইলে মহাসড়কে মিলল অজ্ঞাত নারীর মরদেহ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মানবতাবিরোধী অপরাধ প্রমাণ হলে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে আ.লীগের বিচার: চিফ প্রসিকিউটর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ৫ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০২:০৪ পি.এম


মানবতাবিরোধী অপরাধ প্রমাণ হলে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে আ.লীগের বিচার: চিফ প্রসিকিউটর

মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে, রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে, আদালতের আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দলটিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হতে পারে। একই সাথে, শাপলা চত্বরের ঘটনাসহ বেশ কয়েকটি সুনির্দিষ্ট মামলায় আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনাকে বিচারের মুখোমুখি করতে হবে বলেও জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম।

রোববার (৫ জুলাই) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এ কথা জানিয়েছেন চিফ প্রসিকিউটর।

তিনি বলেন, যদি দলগতভাবে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের প্রমাণ পাওয়া যায় তবে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের সংশ্লিষ্ট ধারা এবং ট্রাইব্যুনালের বিদ্যমান আইনের মাধ্যমে দলটির বিচার করা পুরোপুরি সম্ভব।

চিফ প্রসিকিউটর আরও বলেন, ২০১৩ সালের শাপলা চত্বরের হত্যাকাণ্ডসহ শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া একাধিক মামলার তদন্ত কাজ বর্তমানে চলছে।

শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের পাশাপশি, দলগতভাবে অপরাধ প্রমাণিত হলে আওয়ামী লীগের দলীয় সভানেত্রী হিসেবে তাকে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে বলেও জানিয়েছেন চিফ প্রসিকিউটর।

এর আগে শনিবার (৪ জুলাই) জুলাই জাতীয় সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বর্তমান কার্যক্রম নিষিদ্ধ হলে আওয়ামী লীগ দেশে আর কোনোদিন রাজনীতি করতে পারবে না।

তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক পতন হয়েছে। তারা এ দেশে আর কোনোদিন রাজনীতি করতে পারবে না। রাজনৈতিকভাবে তাদের দাফন হয়ে গেছে।’

শিগগিরই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের দায়ে রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগকে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হবে বলেও মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কুরআনের আয়াতের মাধ্যমে শত্রু-মিত্রদের বার্তা দিল ইরান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ৫ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০২:১০ পি.এম


কুরআনের আয়াতের মাধ্যমে শত্রু-মিত্রদের বার্তা দিল ইরান

ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শেষ শ্রদ্ধা অনুষ্ঠানে পবিত্র কোরআন থেকে কিছু নির্বাচিত আয়াত বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদলের সামনে তিলাওয়াত করা হয়েছে।

এই আয়াতগুলো সুচিন্তিতভাবে বাছাই করা হয়েছিল এবং এটির মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট দেশ ও পক্ষের প্রতি ইরানের কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং ভবিষ্যৎ অবস্থান স্পষ্ট ফুটে উঠেছে। বন্ধুদেশ এবং প্রতিরোধ শিবিরের জন্য যেখানে শাহাদাতের মর্যাদা ও অবিচল বিশ্বাসের আয়াত পাঠ করা হয়েছে, সেখানে বিপরীতে প্রতিদ্বন্দ্বী বা নিষ্ক্রিয় পক্ষগুলোর জন্য এসেছে তিরস্কার, কাফিরদের পরিণতি কিংবা পরোক্ষ সতর্কবার্তা।

প্রয়াত আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লায় তিন দিন তার মরদেহ শায়িত ছিল। সেখানে ৩০টির বেশি দেশের প্রতিনিধিদল এই উক্ত অনুষ্ঠানটিতে উপস্থিত হন। তবে মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বী সৌদি আরবের প্রতিনিধিদল যখন শ্রদ্ধা জানাতে আসে, তখন সেখানে পবিত্র কোরআনের সূরা আলে ইমরানের ১৩ নম্বর আয়াত তিলাওয়াত করা হয়।

এই আয়াতে ৬২৪ খ্রিষ্টাব্দে সংঘটিত বদরের যুদ্ধের প্রসঙ্গ রয়েছে, যেখানে সংখ্যা ও সামরিক শক্তিতে পিছিয়ে থাকা মুসলিম বাহিনীর অলৌকিক বিজয়ের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। বর্তমান সৌদি আরবের ভূখণ্ডে হওয়া এই যুদ্ধের আয়াত নির্বাচন কোনোভাবেই কাকতালীয় ছিল না। এর ফলে প্রশ্ন উঠেছে এটি সৌদির প্রতি প্রশংসা, সূক্ষ্ম বিদ্রূপ নাকি দুটোরই একটি জটিল মিশ্রণ।

বিশ্লেষকদের মতে, এই আয়াত ইসলামের প্রাথমিক একটি গৌরবময় বিজয়ের ইতিহাসকে স্মরণ করায়। এটি তেহরান এবং রিয়াদের মধ্যকার একটি অভিন্ন সভ্যতাগত স্মৃতির দিকে ইঙ্গিত করে। কিন্তু সাম্প্রতিক আঞ্চলিক উত্তেজনার পটভূমিতে ইরান কেবল টিকেই থাকেনি, বরং আরও শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। এ সময় দেশটি এখন হরমুজ প্রণালির ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার খুব নিকটবর্তী অবস্থানে পৌঁছে গেছে।

বিপরীতে পুরো যুদ্ধজুড়ে সৌদি আরব নীরবে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষাবলম্বন করেছে। কিছু প্রতিবেদনে এমনকি ইরানের ওপর হামলায় রিয়াদের গোপন অংশীদারিত্বের দাবিও করা হয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে এই আয়াতের অন্তর্নিহিত অর্থ আরও বেশি তীক্ষ্ণ হয়ে ওঠে। যখন ইসরায়েল পুরো অঞ্চলকে ধ্বংসের অতলগহ্বরের দিকে ঠেলে দিতে চেয়েছিল, তখন রিয়াদ হয় নীরব দর্শক ছিল নয়তো ইরানের বিরুদ্ধেও ভূমিকা পালন করেছে।

এদিকে, ইরানের মিত্র হিসেবে পরিচিত হামাস, ফিলিস্তিনি ইসলামিক জিহাদ, হিজবুল্লাহ, হুতি, হাশদ আল-শাবি এবং তালেবানের জন্য যে আয়াতগুলো নির্বাচিত হয়েছিল, সেগুলোর মূল সুর ছিল শহীদ হওয়ার, আল্লাহর প্রতি অটুট অঙ্গীকার এবং চূড়ান্ত বিজয়।

হামাস প্রতিনিধিদের জন্য সূরা আহযাবের ৬৬ নম্বর আয়াত তিলাওয়াত করা হয়, যেখানে বলা হয়েছে এমন একদল মানুষের কথা ‘যারা আল্লাহর সঙ্গে করা অঙ্গীকার সত্য প্রমাণ করেছে।’ সেখানে বলা হয়েছে, তাদের কিছু ‘নিজের অঙ্গীকার পূর্ণ করেছে’ আবার কিছু ‘নিজের সময়ের অপেক্ষায় রয়েছে।’ তবে তারা ‘নিজেদের অঙ্গীকারে বিন্দুমাত্র পরিবর্তন আনেনি।’

হিজবুল্লাহর জন্য নির্বাচিত আয়াতে ‘সত্যিকারের মুমিনদের’ জন্য ‘চূড়ান্ত বিজয়ের’ প্রতিশ্রুতি প্রদান করা হয়েছে। সেখানে সামরিক বিপর্যয়কে এমন একটি ঐশী পরীক্ষার অংশ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে, যার মাধ্যমে আল্লাহ ‘শহীদ নির্বাচন করেন’। এবং কারা সত্যিকার অর্থে অবিচল রয়েছে, তা প্রকাশ করেন।

ইয়েমেনের হুতিদের জন্য সূরা আল-ফাতহের ২৯ নম্বর আয়াত বেছে নেওয়া হয়। এই আয়াতে চাপের মুখেও আনুগত্য, শৃঙ্খলা এবং বিকাশের উল্লেখ রয়েছে। আয়াতে রাসুল মুহাম্মদ (সা.)-এর সঙ্গীদের এভাবে বর্ণনা করা হয়েছে, যারা ‘কাফিরদের বিরুদ্ধে কঠোর’ এবং ‘পরস্পরের প্রতি দয়ালু’। এর মাধ্যমে আন্দোলনটিকে শত্রুদের বিরুদ্ধে কঠোর, কিন্তু নিজেদের মধ্যে ঐক্যবদ্ধ ও সংহত হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। এ ছাড়াও সুরা আলে ইমরানের ১৪৬ নম্বর আয়াতও তিলাওয়াত করা হয় এই দলটির জন্য। আয়াতে বলা হয়েছে, ‘আল্লাহর পথে তাদের ওপর যা আপতিত হয়েছে, তাতে তারা হীনবল হয়নি, দুর্বলও হয়নি, নতিস্বীকারও করেনি।’

ইরাকের হাশদ আল-শাবি এবং সামগ্রিকভাবে ইরাকের জন্য পাঠ করা হয়েছে ঐ পরিচিত আয়াত, যেখানে বলা হয়েছে, যারা ‘আল্লাহর পথে শহীদ হয়েছে’, তাদের সম্পর্কে চিন্তা করো না। তারা জীবিত, কিন্তু সাধারণ মানুষের উপলব্ধির বাইরে।

ফিলিস্তিনি ইসলামিক জিহাদ এবং তালেবান—উভয়ের জন্যই একই সূরা আল-ফাতহর সূচনাংশ তিলাওয়াত করা হয়। সেখানে বলা হয়েছে, ‘সুস্পষ্ট বিজয়’ দান করা হয়েছে, যাতে অতীত ও ভবিষ্যতের ত্রুটি ক্ষমা করা হয় এবং আল্লাহর অনুগ্রহ পূর্ণতা লাভ করে।

দুই ভিন্ন প্রেক্ষাপটের সংগঠনের জন্য একই আয়াত নির্বাচন ইঙ্গিত করে যে তেহরানের আদর্শিক বলয়ে তাদের অবস্থান অভিন্ন। এর মাধ্যমে এই বার্তাও দেওয়া হয়েছে যে তালেবান যেভাবে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বিজয় অর্জন করে, ফিলিস্তিনিরাও একদিন ইসরায়েলি দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে তেমনই বিজয় ছিনিয়ে আনতে পারে।

অন্যদিকে, রাশিয়া, চীন, ভারত ও মিসরের জন্য ইরানের তিলাওয়াতের সুর ছিল অনেক শান্ত। এসব আয়াতে যুদ্ধের বদলে ন্যায়পরায়ণতা, আশ্বাস ও পুরস্কারের বার্তা প্রাধান্য পেয়েছে।

রাশিয়ার জন্য পাঠ করা আয়াতে বলা হয়, পরকালে রয়েছে ‘চিরস্থায়ী নিবাস’, যা তাদের জন্য সংরক্ষিত, ‘যারা পৃথিবীতে না অত্যাচার করতে চায়, না অশান্তি ও বিপর্যয় সৃষ্টি করতে চায়।’ আয়াতের শেষে বলা হচ্ছে, ‘চূড়ান্ত পরিণতি মুত্তাকিদেরই।’

চীনের জন্য নির্বাচিত আয়াতটি ছিল আরও কোমল। সেখানে বলা হয়, আল্লাহ এটিকে তোমাদের অন্তরের প্রশান্তির কারণ ও সুসংবাদ হিসেবে নির্ধারণ করেছেন, আর বিজয় কেবল আল্লাহর পক্ষ থেকেই আসে।

ভারতের জন্য হিজবুল্লাহর মতো একই আয়াত পাঠ করা হলেও হিজবুল্লাহর শহীদ ও জালিমদের প্রসঙ্গ অংশটুকু বাদ দেওয়া হয়েছে এবং কেবল তুলনামূলক নরম অংশটি বেছে নেওয়া হয়, যেখানে বলা হয়েছে তোমরা হীনবল বা দুঃখিত হইও না।

মিসরের জন্য দুটি তিলাওয়াতের একটিতে বলা হয়েছে, ‘যারা ইমান এনেছে এবং সৎকর্ম করেছে, তারাই সৃষ্টির সর্বোত্তম মানুষ।’ তাদের জন্য রয়েছে এমন জান্নাত, যেখানে আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট থাকবে এবং তারাও আল্লাহর প্রতি সন্তুষ্ট থাকবে।

এদিকে কাতার, তুরস্ক, পাকিস্তান এবং মিসরের প্রথম তিলাওয়াত ছিল এক মাঝামাঝি অবস্থানের প্রতিফলন। তাদের প্রশংসা ও স্বাগত জানানো হলেও প্রতিরোধের অংশ হিসেবে হিসাবে দেখানো হয়নি।

গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ভূমিকা রাখা কাতারের জন্য পাঠ করা হয়েছে সেই একই ‘সুস্পষ্ট বিজয়ের’ আয়াত, যা ফিলিস্তিনি ইসলামিক জিহাদ ও তালেবানের জন্যও ব্যবহার করা হয়েছিল। তবে কূটনৈতিক প্রেক্ষাপটে ব্যবহারের কারণে আয়াতটির অর্থ অনেকটা কোমল হয়ে যায়। এটি যুদ্ধের আহ্বান নয়, বরং সমর্থনের জন্য প্রশংসা হিসেবে উপস্থাপিত হয়। কাতারের জন্য পাঠ করা সুরা আলে ইমরানের ১৫২ নম্বর আয়াতের শেষাংশে বলা হয়েছে, ‘তিনি তোমাদের ক্ষমা করেছেন। আল্লাহ মুমিনদের প্রতি অনুগ্রহশীল।’

তুরস্কের জন্য পাঠ করা সুরা নিসার ৯৫ নম্বর আয়াত। যাতে বলা হয়েছে, ‘যারা নিজেদের সম্পদ ও জীবন দিয়ে সংগ্রাম করে’, তারা ‘যারা পেছনে থেকে যায় বা বসে থাকে’ তাদের তুলনায় শ্রেষ্ঠ। এটি আত্মত্যাগ ও প্রচেষ্টার গুরুত্ব তুলে ধরা একটি আয়াত।

আঙ্কারা শুরু থেকেই যুদ্ধে না জড়ানোর নীতি স্পষ্ট করেছে। একই সঙ্গে তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান সতর্ক করেছেন যে ইসরায়েল যুদ্ধে আসক্ত এবং পুরো অঞ্চলে আধিপত্য প্রতিষ্ঠায় মরিয়া।

পাকিস্তানের জন্য নির্বাচিত ছিল সম্মানজনকভাবে প্রবেশ ও বের হওয়ার তাওফিক চাওয়ার একটি দোয়া। ইসলামাবাদ ও দোহা শুরু থেকেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সম্পর্ক কাজে লাগিয়ে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের দূরত্ব কমানোর কূটনৈতিক চেষ্টা করেছে, যা ইসরায়েলকে অসন্তুষ্ট করেছে।

মিসরের জন্য তিলাওয়াত করা প্রথম আয়াতে পরহেজগারদের জন্য ‘চিরস্থায়ী জান্নাতের’ প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। এটি ছিল সম্পূর্ণ পুরস্কারকেন্দ্রিক একটি আয়াত, যেখানে যুদ্ধক্ষেত্রের কোনো চিত্র নেই। এসব সরকার যেন দুই ভিন্ন জগতের মাঝখানে অবস্থান করছে। বাণিজ্য, মধ্যস্থতা বা আঞ্চলিক রাজনীতির মাধ্যমে তারা ইরানের সঙ্গে যুক্ত। কিন্তু সশস্ত্র প্রতিরোধ আন্দোলনের আদর্শিক অংশীদার হিসেবে নিজেদের তুলে ধরতে রাজি নয়।

অন্যদিকে, সৌদি আরবের মতো লেবানন সরকারের প্রতিও ছিল একটি স্পষ্ট তিরস্কার, যা হিজবুল্লাহর প্রশংসার ঠিক বিপরীত। লেবাননের জন্য ইরান সুরা আন-নিসার ৬৬ নম্বর আয়াত পাঠ করে। সেখানে বলা হয়েছে, ‘যদি আমি তাদের নির্দেশ দিতাম যে নিজেদের প্রাণ উৎসর্গ করো অথবা নিজেদের ঘরবাড়ি ছেড়ে বেরিয়ে যাও, তবে অল্প কয়েকজন ছাড়া কেউই তা মানত না। আর যদি তারা তাদের যে উপদেশ দেওয়া হয়েছিল তা মেনে চলত, তবে তা তাদের জন্য অবশ্যই অনেক বেশি কল্যাণকর এবং অনেক বেশি দৃঢ়তা ও প্রশান্তির কারণ হতো।’

প্রসঙ্গ বিবেচনায় আয়াতটি স্পষ্টতই ভর্ৎসনার মতো শোনায়। সমালোচকেরা দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছেন, লেবাননের ভূখণ্ডে ইসরায়েলের দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে যথেষ্ট প্রতিরোধ গড়ে তুলতে দেশটির সরকার ব্যর্থ হয়েছে। একই সঙ্গে তারা ইসরায়েলি বাহিনীর বিরুদ্ধে হিজবুল্লাহর পাল্টা হামলারও সমালোচনা করেছে।

প্রসঙ্গত, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ৮৬ বছর বয়সী খামেনি মধ্য তেহরানে তার বাসভবনে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় নিহত হন। ওই হামলায় তার ১৪ মাস বয়সী নাতনি, জামাতা এবং পুত্রবধূও নিহত হন। তার মরদেহ তিন দিন ধরে তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লায় শায়িত রাখা হয়। এটি দেশের সবচেয়ে বড় নামাজের কমপ্লেক্স এবং গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় আয়োজনের প্রধান ভেন্যু।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে স্পেনের রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য বৈঠক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ৫ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০২:১৬ পি.এম


বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে স্পেনের রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য বৈঠক

বিরোধীদলীয় নেতা এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান এমপির সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত স্পেনের মান্যবর রাষ্ট্রদূত গ্যাব্রিয়েল সিস্তিয়াগা ওচোয়া দে চিনচেত্রুর একটি সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

এটি রবিবার (৫ জুলাই) সকাল সাড়ে ১১টায় জাতীয় সংসদ ভবনের বিরোধীদলীয় নেতার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত একটি বৈঠক। বৈঠকে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়, যেমন জাতীয় নির্বাচন-পরবর্তী রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, জাতীয় বাজেট, বাংলাদেশ-স্পেন দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, উন্নয়ন সহযোগিতা এবং অন্যান্য পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলি।

বৈঠকের সাথে সাথে সমসাময়িক রাজনৈতিক পরিস্থিতি, প্রত্যাশিত সংস্কার, জুলাই জাতীয় সনদ এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালীকরণ নিয়েও আলোচনা করেন তারা। এই বৈঠকে বাজেট বাস্তবায়নের বিভিন্ন দিক, রোহিঙ্গা ইস্যু, এর সম্ভাব্য সমাধান এবং দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের বিষয়েও মতবিনিময় হয়।

ডা. শফিকুর রহমান বাংলাদেশের এবং স্পেনের মধ্যে বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের প্রশংসা করেন এবং আশা প্রকাশ করেন যে স্পেনের সহযোগিতা বাংলাদেশের উন্নয়ন ও গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় অব্যাহত থাকবে। তিনি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পক্ষে স্পেনের দৃঢ় অবস্থানেরও প্রশংসা করেন।

স্পেনের রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের ও স্পেনের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরও জোরদার হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। উল্লেখ্য, ডা. শফিকুর রহমান বিরোধীদলীয় নেতার দায়িত্ব গ্রহণ করার পর এটিই স্পেনের রাষ্ট্রদূতের সাথে তার প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক। বৈঠকে বিরোধীদলীয় নেতার পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাসেম আরমান এমপি এবং পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা কমিটির সদস্য আলী আহমাদ মাবরুরও উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কাউখালীতে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসন সংকট চরমে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রিয়াদ মাহমুদ সিকদার,কাউখালী প্রতিনিধি

রবিবার, ৫ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০২:২১ পি.এম


কাউখালীতে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসন সংকট চরমে

 

 
পিরোজপুরের কাউখালীতে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রয়োজনীয় আবাসন ব্যবস্থা না থাকায় বসবাসে চরম সংকট দেখা দিয়েছে। এর ফলে অফিসের নির্ধারিত সময়ের বাইরে গুরুত্বপূর্ণ বা জরুরি সরকারি কাজকর্ম সম্পন্ন করতে গিয়ে নানা প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হচ্ছেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। আবাসিক সমস্যার এই নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে স্থানীয় উন্নয়ন কর্মকাণ্ডেও, যার ফলে অনেকাংশেই পিছিয়ে পড়ছে এলাকার সামগ্রিক অগ্রগতি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, অত্র উপজেলায় মোট ৩২টি সরকারি দপ্তর রয়েছে। এর মধ্যে নিয়ম অনুযায়ী ২৭টি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপজেলায় আবাসিক ভবনে থাকার কথা। অথচ বর্তমানে তাদের থাকার জন্য কোনো উপযুক্ত সরকারি ভবন নেই।
জাতীয় পার্টি (এরশাদ) সরকারের আমলে ১৯৮৫ সালে উপজেলায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বসবাসের জন্য একটি মহাপরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল। সে সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার জন্য একটি আবাসিক ভবন, উপজেলা চেয়ারম্যানের জন্য একটি আবাসিক ভবন, গেজেটেড কর্মকর্তাদের জন্য একটি ভবন এবং নন-গেজেটেড কর্মকর্তাদের জন্য একটি আবাসিক ভবনসহ তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের জন্য আরও তিনটি ভবন নির্মাণ করা হয়েছিল। কিন্তু কালের বিবর্তনে রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে গেজেটেড ও নন-গেজেটেড কর্মকর্তাদের পুরাতন চারটি ভবনই সম্পূর্ণ পরিত্যক্ত হয়ে পড়েছে। দীর্ঘদিন ধরে নতুন কোনো ভবন নির্মাণ না হওয়ায় অধিকাংশ কর্মকর্তা-কর্মচারী এই উপজেলায় অবস্থান করে অফিস করতে পারছেন না। বাধ্য হয়ে তাদের দূর-দূরান্ত থেকে যাতায়াত করতে হচ্ছে, যার ফলে অনেক সময় সাধারণ মানুষ সময়মতো কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
উপজেলায় আবাসন না থাকার ভোগান্তি ও ঝুঁকির কথা উল্লেখ করে কাউখালী উপজেলা পল্লী উন্নয়ন অফিসার মোঃ মাসুম মিয়া,উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আব্দুল হান্নান ও কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার প্রদীপ কুমার জানান, উপজেলায় সরকারি আবাসিক ভবন না থাকার কারণে আমাদের বাধ্য হয়ে বাহিরে বা দূরবর্তী স্থানে বসবাস করতে হয়। এর ফলে সরকারি অফিশিয়াল কাজকর্ম সময়মতো বা জরুরি ভিত্তিতে করতে প্রায়শই সমস্যার সৃষ্টি হয়। এছাড়া কর্মস্থলের বাইরে বা অনিরাপদ স্থানে বসবাস করার কারণে আমাদের সবসময় এক ধরনের নিরাপত্তাহীনতায়ও ভুগতে হয়।
 এ বিষয়ে কাউখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোঃ আসাদুজ্জামান-এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি সমস্যার সত্যতা স্বীকার করেন। সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন,
 সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসন সংকট সত্যিই অত্যন্ত প্রকট। ১৯৮৫ সালে নির্মিত ভবনগুলো দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহারের অনুপযোগী এবং পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। বর্তমানে উপজেলা চেয়ারম্যানের জন্য নতুন আবাসিক ভবন তৈরির কাজ চলমান থাকলেও গেজেটেড ও নন-গেজেটেড কর্মকর্তাদের জন্য কোনো নতুন ভবন নেই। আবাসন সুবিধা না থাকায় অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারী দূর থেকে এসে অফিস করেন, যার ফলে জরুরি মুহূর্তে বা অফিস সময়ের বাইরে তাদের তাৎক্ষণিক পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। এতে দাপ্তরিক গতিশীলতা যেমন কমে, তেমনি সাধারণ মানুষের সেবা পাওয়ার ক্ষেত্রেও কিছুটা বিঘ্ন ঘটে।
 আমরা বিষয়টি নিয়ে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে কাজ করছি। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের এই আবাসন সংকট দূর করার লক্ষ্যে ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কাছে নতুন ও আধুনিক বহুতল আবাসিক ভবন নির্মাণের জন্য লিখিতভাবে চাহিদা পাঠানো হয়েছে। আমরা আশা করছি, দ্রুতই এই বিষয়ে বরাদ্দ পাওয়া যাবে এবং নতুন ভবন নির্মাণের কাজ শুরু করা সম্ভব হবে।
 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%