রবিবার, ২৭শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৭:২৯ পি.এম
কক্সবাজারের টেকনাফে অস্ত্র, গোলাবারুদ, বিস্ফোরক ও বিভিন্ন সরঞ্জামসহ তিন রোহিঙ্গা নাগরিককে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) হ্নীলা ইউনিয়নের লেদা বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। এ সময় অস্ত্র ও সরঞ্জাম পরিবহনে ব্যবহৃত একটি ইজিবাইক জব্দ করা হয়েছে।
এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. হানিফুর রহমান ভূঁইয়া।
আটক ব্যক্তিরা হলেন উখিয়ার কুতুপালং ক্যাম্পের রুবালির ছেলে মো. উসমান বেলাল, একই ক্যাম্পের ইউনুসের ছেলে মো. আনসার আলী ও টেকনাফের মোচনি ক্যাম্পের ফয়েজ আহমদের ছেলে মো. মুসলিম।
বিজিবি জানায়, সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সন্দেহজনকভাবে একটি ইজিবাইক লেদা বাজার এলাকা দিয়ে যাওয়ার সময় বিজিবি সদস্যরা সেটি থামান। মেটাল ডিটেক্টরের মাধ্যমে ইজিবাইকে থাকা বস্তার ভেতরে ধাতব পদার্থের উপস্থিতি শনাক্ত করা হয়। পরে ইজিবাইকসহ তিনজনকে লেদা বিওপিতে নিয়ে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় আলুর বস্তার ভেতর লুকানো অবস্থায় অস্ত্র ও অন্যান্য সরঞ্জাম পাওয়া যায়।
জব্দ করা মালামালের মধ্যে রয়েছে দুটি জি-৩ রাইফেল, দুটি দেশীয় একনলা বন্দুক, ৪২ রাউন্ড গুলি, তিনটি টেজার, ছয়টি ওয়াকিটকি সেট, একটি ম্যাগাজিন, চার কেজি বিস্ফোরক দ্রব্য, ২৫টি জর্দার কৌটা, ২৫টি লাল স্কচটেপ, দুটি অ্যান্ড্রয়েড ও একটি বাটন মোবাইল ফোন। এ ছাড়া অস্ত্র পরিবহনে ব্যবহৃত ইজিবাইকটিও জব্দ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. হানিফুর রহমান বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পের পাশে একটি অস্ত্র-গোলাবারুদ চালান হস্তান্তরের সময় তিনজন রোহিঙ্গাকে আটক করা হয়। এসময় তাদের কাছ থেকে অস্ত্র ও বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় আইনি প্রক্রিয়া চলছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের গত সপ্তাহের জাঁকালো আমেরিকা সফরের পর, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নভেম্বরে চীনের শেনঝেনে অনুষ্ঠিতব্য অ্যাপেক শীর্ষ সম্মেলনে এমন এক শি’র মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন, যিনি আগের চেয়ে অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী এবং বৈশি^ক প্রভাব অর্জন করেছেন। চীনের কৌশলগত স্থিতিশীলতার উন্নত কাঠামো, ট্রাম্পের চীন সফরের পরবর্তী সময়ে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উষ্ণতার বহিঃপ্রকাশ এবং আয়োজক দেশ হিসেবে চীনের বাড়তি প্রভাব এর পেছনে ভূমিকা রাখছে।
হংকং বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘সেন্টার অন কনটেম্পরারি চায়না অ্যান্ড দ্য ওয়ার্ল্ড’-এর ঝাং চি এই উন্নত সম্পর্ককে একটি অত্যন্ত সফল কৌশলগত মেলবন্ধন হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি মন্তব্য করেন, আমেরিকার সর্বোচ্চ চাপ প্রয়োগের নীতি ক্ষমতার ভারসাম্য পরিবর্তনে ব্যর্থ হয়েছে এবং উল্টো লাগামহীন সমস্যার সৃষ্টি করেছে। একই সময়ে, চীনের প্রযুক্তি সক্ষমতা, বৈশি^ক দক্ষিণের ওপর এর আধিপত্য এবং ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড’ অংশীদারিত্ব দেশটির অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করছে।
সিংহুয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘সেন্টার ফর ইউএস-চায়না রিলেশনস’-এর পরিচালক চেন চি বলেন, “অ্যাপেক সম্মেলনের আয়োজক হিসেবে ওয়াশিংটন সম্মেলনের তুলনায় আলোচ্যসূচি নির্ধারণ, বিষয়বস্তু নির্বাচন এবং প্রস্তুতির ক্ষেত্রে চীনের হাতে নিঃসন্দেহে অনেক বেশি স্বাধীনতা থাকবে।” মার্কিন সরকারের শনিবারের বিবৃতিতে জানানো হয়েছে যে ট্রাম্প এতে যোগ দেওয়ার পরিকল্পনা করছেন, যার ফলে এ বছর শি-র সঙ্গে তাঁর তৃতীয় বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।
ডিসেম্বরে মায়ামিতে অনুষ্ঠেয় জি-২০ শীর্ষ সম্মেলনে চতুর্থ বৈঠকটিও ঘটতে পারে। এর আগে, মে’তে ট্রাম্পের বেইজিং সফরের সময় তাঁদের সর্বশেষ বৈঠক হয়েছিল। চীনা বিশেষজ্ঞদের মতে, আট মাসের মধ্যে চারটি অভূতপূর্ব শীর্ষ সম্মেলন এমন একটি স্থিতিশীলতার ইঙ্গিত দেয়, যা বেইজিংকে আমেরিকার একতরফা পদক্ষেপের প্রভাব থেকে রক্ষা করতে পারে। ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের আলি ওয়াইন বলেন, মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের সম্ভাব্য ক্ষতির পর অ্যাপেক সম্মেলন শি’কে মার্কিন মিত্রদেশগুলোর ওপরও চীনের প্রভাব তুলে ধরার সুযোগ করে দেবে। আমেরিকা চীন পরস্পরের ওপর কঠোর বানিজ্য নিষেধাজ্ঞা স্থহিত করার পর, হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, উভয় পক্ষই উভয়মুখী বাণিজ্যের ক্ষেত্রে ৩হাজার কোটি ডলার মূল্যের ‘অ-সংবেদনশীল’ পণ্যের ওপর পারস্পরিক শুল্ক ছাড়ের সুপারিশ করেছে।
আমেরিকার অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত রপ্তানি পণ্যের তালিকায় রয়েছেÑকৃষিপণ্য, সামুদ্রিক খাবার, কাঠ, প্রসাধনী ও চিকিৎসা সরঞ্জাম; অন্যদিকে চীনের তালিকায় রয়েছে ছোট গৃহস্থালি যন্ত্রপাতি, খেলনা, উৎসবের সাজসজ্জার সামগ্রী এবং শিশুদের গাড়ির আসন। তবে, মধ্যবর্তী নির্বাচন ও ইরান-সংকট নিয়ে ব্যস্ততার মাঝে ট্রাম্প তাঁর প্রতিশ্রুতি রক্ষা করবেন কি না এবং ওয়াশিংটন তাইওয়ানের কাছে উসকানিমূলকভাবে অস্ত্র বিক্রি করবে কি না, সে বিষয়ে ঝাং সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। মে’র সম্মেলনের পর ট্রাম্প এই সংক্রান্ত ১৪শ’ কোটি ডলারের একটি চুক্তিস্থগিত করেছেন।
‘পোস্ট’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, আমেরিকা বছরের শেষ সময় পর্যন্ত এ সংক্রান্ত ঘোষণা বিলম্বিত করার বিবেচনা করছে। বেইজিং তাইওয়ানকে চীনের অংশ বলে মনে করে এবং বলে থাকে যে, প্রয়োজনে বলপ্রয়োগের মাধ্যমে তারা এর পুনরেকত্রীকরণ ঘটাবে। চীনের নানজিং বিশ্ববিদ্যালয়ের মা বো বলেছেন, ওয়াশিংটন যখন বন্ধুত্বপূর্ণ মনোভাব প্রদর্শন করছিল, ঠিক তখনই তাদের নিরাপত্তা-সংক্রান্ত বিভিন্ন সংস্থা ও মিত্ররা নিজেদের কার্যক্রম এগিয়ে নিচ্ছিল। ফুদান বিশ্ববিদ্যালয়ের শিন চিয়াংবলেন, চীনা-মার্কিন সম্পর্ক স্থিতিশীল হলে টোকিও থেকে ম্যানিলা পর্যন্ত আমেরিকার যে সমর্থন রয়েছে, তা দুর্বল হয়ে পড়তে পারে। ঝাং-এর মতে, পরিস্থিতির উন্নতি হলে বেইজিংয়ের ওপর ইউরোপের বাণিজ্য-সংক্রান্ত চাপকে বেমানান মনে হতে পারে; পাশাপাশি, ট্রাম্পের কাছে নতি স্বীকার করে কোনো লাভদেখছে না, এমন দেশগুলো বেইজিংয়ের দিকে ঝুঁকে পড়তে পারে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানিয়েছেন, সরকার যেকোনো মূল্যে নদ-নদী এবং খালের বেদখল হয়ে যাওয়া জমি পুনরুদ্ধার করবে।
তিনি রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিকালে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের জিরানি-ত্রিমোহনী ঘাটে খাল পুনরুদ্ধার এবং সংস্কার প্রকল্পের অগ্রগতি পরিদর্শন শেষে এই মন্তব্য করেন।
স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, সরকার ঢাকার নদীগুলোকে একটি নেটওয়ার্কের আওতায় নিয়ে আসবে। তিনি আরও বলেন, সুয়ারেজ লাইনগুলো ঢাকার বাইরের দিকে স্থানান্তর করা হবে। নদী রক্ষা এবং গাইড ওয়াল নির্মাণের কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়ে গেছে।
তিনি জানান, ঢাকা দক্ষিণে ২৬টি এবং উত্তরে ২৯টি খাল পুনঃখনন করে খালের পানি নদীতে ফেলার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবে সরকার।
পরিদর্শন কার্যক্রমে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এবিএম আব্দুস সাত্তার, রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুস সালামসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পূর্ব সুন্দরবনের পৃথক স্থান থেকে বনদস্যুরা ১৫ জন জেলেকে অপহরণ করেছে একটি ট্রলারসহ।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে সুন্দরবনের ভাঙ্গা, আমবাড়ীয়া ও নারিকেলবাড়ীয়া এলাকায় এই অপহরণের ঘটনা ঘটে। গত দুই দিনে ২১ জন জেলেকে অপহরণের ঘটনায় জেলে ও মহাজনদের মধ্যে আতঙ্ক এবং হতাশা দেখা দিয়েছে।
সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জের জেলেপল্লি দুবলা টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফরেস্ট রেঞ্জার মিল্টন রায় রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে মুঠোফোনে জানান, শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দিবাগত গভীর রাতে সাগরসংলগ্ন সুন্দরবনের ভাঙ্গা, আমবাড়ীয়া ও নারিকেলবাড়ীয়া এলাকায় মাছ ধরারত জেলেদের বহরে অজ্ঞাতপরিচয় বনদস্যুরা হামলা চালায়। তারা প্রতি নৌকা থেকে একজন করে ১৫ জেলেকে তুলে একটি জেলেদের ট্রলারে উঠিয়ে নিয়ে যায়।
অপহৃত ১০ জেলের নাম জানা গেছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন—আরিফ (২৫), সগীর (৩৪), মিঠু (৩০), ফেরদাউস (২৮)—এদের বাড়ি খুলনায়; এবং ইব্রাহিম (৩৫), ইমরান (২৫), মোস্তাফিজুর (৩৫), আলামিন (২৮), হানিফ (৩৮) ও মারুফ (৪৯)—এই জেলেদের বাড়ি বরগুনার পাথরঘাটা ও তালতলী এলাকায়। ফরেস্ট রেঞ্জার জানান, এসব জেলে বন বিভাগের পাশ নিয়ে চরপাটা, পোকা জাল ও বড়শি দিয়ে সুন্দরবনের খালে মাছ ধরছিলেন।
অপরদিকে, মোংলা থেকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন জেলে-মহাজন মুঠোফোনে জানান, শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দিবাগত গভীর রাতে বনদস্যু করিম-শরীফ বাহিনী সুন্দরবনের ঝাপসি এলাকার ভদ্রা নদী থেকে দুই জেলেকে অপহরণ করেছে। অপহৃত জেলেরা হলেন মোংলার উলুকাটা চিলা এলাকার মাসুদ ইজারদার (২৮) ও ইমদাদুল ইজারদার (৩০)।
শরণখোলা এলাকার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন জেলে-মহাজন বলেন, গত দুই দিনে ২১ জন জেলেকে অপহরণের ঘটনায় জেলে ও মৎস্য ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। তারা অপহৃতদের উদ্ধার ও দস্যু দমনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আশু হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।
এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোন, মোংলার একজন কর্মকর্তা বলেন, সুন্দরবনে জেলে অপহরণের খবর তাদের জানা নেই। তিনি জানান, বিষয়টির খোঁজখবর নেওয়া হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ