ঢাকা শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৭ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১২ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৭ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

আমাদের সফর কোনো অন্য কেউ নির্ধারণ করবে না: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা


আমাদের সফর কোনো অন্য কেউ নির্ধারণ করবে না: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির বলেছেন, বাংলাদেশের স্বার্থে আমাদের যখন যেখানে যাওয়া প্রয়োজন, সেখানেই আমরা যাব। যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার প্রয়োজন হলে যুক্তরাষ্ট্রে যাব, যদি প্রয়োজন হয়, তাহলে চীনেও যাব। ভারতের সঙ্গে পরিবেশ অনুকূল হলে ভারতেও যাব। আমাদের গন্তব্যগুলি কোথায় হবে, সেটা নির্ধারণ করবে অন্য কেউ, এমনটা নয়। কারণ আমরা বৈধ সরকার, জনগণের ম্যান্ডেটপ্রাপ্ত সরকার। আমাদের কাউকে খুশি করার জন্য নাচতে হবে না।

শনিবার (২০ জুন) দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর চীন ও মালয়েশিয়া সফর প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা আরও বলেন, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি সম্পর্কে আমি শুধু এটুকুই বলব—বর্তমানে বাংলাদেশ সব বড় অংশীদার দেশের সঙ্গে সবচেয়ে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে। ওয়াশিংটন, বেইজিং, ইউরোপ কিংবা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া—আমরা সব ক্ষেত্রেই ভারসাম্য রেখে এগোচ্ছি। এটি সম্ভব হয়েছে, কারণ আমরা দুই-তৃতীয়াংশ ভোটে জনগণের বিশাল ম্যান্ডেট নিয়ে ক্ষমতায় এসেছি। ফলে আমরা এখন শক্ত অবস্থান থেকে কথা বলতে পারছি এবং দর-কষাকষি করতে সক্ষম। গত পনেরো বছরে কোনো সরকার তা করতে পারেনি, কারণ জনগণের আস্থা ও বৈধতা তাদের ছিল না।

আরও পড়ুন: দ্রুত সময়ে সিরাজগঞ্জ বিসিক শিল্প পার্ক দৃশ্যমান হবে: প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব

এছাড়া তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর চীন সফর অবশ্যই ভালো হবে। চীন আমাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন অংশীদার। মালয়েশিয়া হচ্ছে মুসলিম বিশ্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ দেশ। মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ হিসেবে মালয়েশিয়া সফরেরও বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে। সেখানে আমাদের বেশ কিছু কৌশলগত স্বার্থও জড়িত রয়েছে। এছাড়া আমরা আসিয়ানের সদস্যপদের জন্য আবেদন করছি। ভবিষ্যতে ‘কম্প্রিহেনসিভ অ্যান্ড প্রগ্রেসিভ অ্যাগ্রিমেন্ট ফর ট্রান্স-প্যাসিফিক পার্টনারশিপ’ বা সিপিটিপিপি বাজারেও প্রবেশের চেষ্টা করব। এসব বিষয়ও আলোচনায় অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

হুমায়ুন কবির উল্লেখ করেন, আমরা এখন বৈশ্বিক অঙ্গনে একটি সক্রিয় পক্ষ—যে নরম শক্তি, কূটনীতি এবং অর্থনৈতিক সম্পৃক্ততার মাধ্যমে নিজেদের অবস্থানকে প্রভাবশালী করে তুলতে চায়। আমরা সব অংশীজনের সঙ্গে অর্থবহভাবে যুক্ত হব, তবে দেশপ্রেম সব সময় অগ্রাধিকার পাবে।

তিনি বলেন, আমি আশা করি এই সফর সফল হবে। প্রথম সফর মালয়েশিয়া, দ্বিতীয় সফর চীন। এরপর আরও সফর হতে পারে। তবে প্রতিটি সফরই হবে বাংলাদেশের জনগণের স্বার্থকে সামনে রেখে।

প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া সফরে আনুষ্ঠানিক প্রতিনিধি দলের সদস্য সংখ্যা ২৭ জন এবং চীন সফরে ২৮ জন উল্লেখ করে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, এটি প্রধানমন্ত্রীর সফর। যাদের প্রয়োজন, শুধু তাদেরই নেওয়া হবে। আগের মতো বড় বড় দল নিয়ে বিদেশে ঘুরতে যাওয়া কিংবা সরকারি অর্থ অপচয় করার সংস্কৃতি এখন আর নেই। এখন প্রতিটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে কাজের প্রয়োজন ও জনগণের টাকার জবাবদিহির ভিত্তিতে।

আরও পড়ুন: শুধু ৯ দেশ-ই নয়, বিশ্ব এক হলেও হারবে? কারণ- ইয়েমেনের জন্য নবী (সা.) দোয়া করেছিলেন!

‘প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেছেন—যাদের মালয়েশিয়ায় প্রয়োজন, তারা মালয়েশিয়া যাবেন; যাদের চীনে প্রয়োজন, তারা চীন যাবেন। শুধু বিমানভর্তি লোক নিয়ে সফরের সেই সময় শেষ হয়ে গেছে। এখন প্রতিটি পয়সা খরচ হবে জনগণের স্বার্থে, বিচক্ষণতার সঙ্গে। এটাই এই সরকারের অবস্থান। জনগণের অর্থ জনগণের কল্যাণে ব্যয় হবে, কারও ব্যক্তিগত আগ্রহ বা বিলাস পূরণের উদ্দেশ্যে নয়। তাই আমরা বিশ্বাস করি মালয়েশিয়া ও চীন, দুই সফরই সফল ও ফলপ্রসূ হবে এবং বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে,’ বলেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র উপদেষ্টা।

এসময় পররাষ্ট্র উপদেষ্টা আরও উল্লেখ করেন, পাচার হওয়া অর্থ পুনরুদ্ধার আমাদের সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারগুলোর একটি। যুক্তরাজ্য, মধ্যপ্রাচ্য বা এশিয়া, যেখানেই অর্থ পাচার হোক, সেখান থেকেই তা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করব। এ বিষয়ে আমরা বিভিন্ন দ্বিপক্ষীয় অংশীদারের সঙ্গে কাজ করছি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সমৃদ্ধির নতুন যুগে প্রবেশ করছে পাকিস্তান ও ইরান: শেহবাজ শরিফ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ২০ই জুন, ২০২৬ ইং

০৪:৪৬ পি.এম


সমৃদ্ধির নতুন যুগে প্রবেশ করছে পাকিস্তান ও ইরান: শেহবাজ শরিফ

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ বলেছেন, ইসলামাবাদ এবং তেহরান সম্মৃদ্ধি, অর্থনৈতিক সহযোগিতা, এবং শক্তিশালী দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের এক নতুন যুগে প্রবেশ করছে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যে, যুদ্ধবিরতি এবং শান্তি প্রচেষ্টার ফলে পাকিস্তান ও ইরানের অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতি ঘটবে।

পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সমঝোতা স্মারক সই হওয়ার পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।

শুক্রবার পাকিস্তানের পার্লামেন্টে দেওয়া ভাষণে শেহবাজ শরিফ বলেন, পাকিস্তান শান্তিচুক্তি সম্পাদনে ভূমিকা রাখায় বিশ্বব্যাপী স্বীকৃতি অর্জন করেছে। তিনি উল্লেখ করেন, এই অর্জন দেশের ক্রমবর্ধমান কূটনৈতিক মর্যাদাকেই প্রতিফলিত করে।

প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ জানান, ইরানকে সমর্থন করায় দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান টেলিফোনে পাকিস্তানকে ধন্যবাদ জানান। এছাড়াও, তাকে আয়াতুল্লাহ আলি খামিনির জানাজায় অংশগ্রহণের জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছেন পেজেশকিয়ান। শেহবাজ আশ্বাস দিয়েছেন যে, পাকিস্তানি প্রতিনিধিদল জানাজায় অংশ নেবে।

সূত্র: এক্সপ্রেস ট্রিবিউন

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পূবাইলে কেমিক্যাল কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, ২০১৬ সালে নিহত হয়েছিল ৬ জন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ২০ই জুন, ২০২৬ ইং

০৪:৪৮ পি.এম


পূবাইলে কেমিক্যাল কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, ২০১৬ সালে নিহত হয়েছিল ৬ জন

গাজীপুর মহানগরীর পূবাইল থানার কলেজ গেইট এলাকায় 'ইকো গ্রীন ওয়েল কোম্পানি লিমিটেড' নামের একটি অবৈধ পোড়া মবিল ও টায়ার গলিয়ে কেমিক্যাল উৎপাদনকারী কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (২০ জুন) দুপুরে, এ আগুনের সূত্রপাত হয়।

খবর পেয়ে টঙ্গী ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ফায়ার সার্ভিসের তাৎক্ষণিক প্রচেষ্টায় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়, কিন্তু আগুন লাগার সুনির্দিষ্ট কারণ এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। তবে, এ ঘটনায় কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শনিবার দুপুরে হঠাৎ করেই কারখানার ভেতর থেকে দাউ দাউ করে আগুন জ্বলতে দেখা যায়। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন চারদিকে ছড়িয়ে পড়লে কারখানায় কর্মরত শ্রমিকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। প্রাণ বাঁচাতে শ্রমিকরা দ্রুত কারখানা থেকে বেরিয়ে আসেন।

এলাকাবাসীদের অভিযোগ, আবাসিক এলাকায় গড়ে ওঠা এই ঝুঁকিপূর্ণ ও অবৈধ কারখানাটিতে এর আগে ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটেছে। ২০১৬ সালের ২৪ জানুয়ারি, একই কারখানায় বয়লার বিস্ফোরণের ঘটনায় নারীসহ ৬ জন শ্রমিক নিহত হন এবং আহত হন আরও অন্তত ১০ জন। সেই মর্মান্তিক ঘটনার এক দশক পর আবারও একই প্রতিষ্ঠানে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতা দেখা দিয়েছে।

ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় বছরের পর বছর ধরে এমন ঝুঁকিপূর্ণ কারখানা কীভাবে পরিচালিত হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তারা অবিলম্বে কারখানাটি সিলগালা করে মালিকপক্ষের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

টঙ্গী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের সিনিয়র স্টেশন অফিসার মো. শাহিন আলম জানান, দুপুর আড়াইটার দিকে খবর পেয়ে ১০ মিনিটের মধ্যে টঙ্গী ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। এরপর প্রায় ৩০ মিনিটের চেষ্টায় তারা আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন।

তিনি আরও জানান, এটি সম্পূর্ণ একটি অবৈধ এবং ঝুঁকিপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। এখানে পরিত্যক্ত টায়ার পুড়িয়ে অশোধিত জ্বালানি উৎপাদন করে তা বাজারজাত করা হতো। অগ্নিকাণ্ডের পর ঘটনাস্থলে মালিকপক্ষ বা দায়িত্বপ্রাপ্ত কাউকে পাওয়া যায়নি। তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব না হওয়ায় ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা যায়নি.

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কেন ২০ জুনকেই ‘পশ্চিমবঙ্গ দিবস’ হিসেবে বেছে নিল বিজেপি সরকার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ২০ই জুন, ২০২৬ ইং

০৪:৪৯ পি.এম


কেন ২০ জুনকেই ‘পশ্চিমবঙ্গ দিবস’ হিসেবে বেছে নিল বিজেপি সরকার

২০ জুন আজ সরকারিভাবে প্রথমবারের মতো ‘পশ্চিমবঙ্গ দিবস’ উৎসব হিসেবে পালিত হচ্ছে। ২০২৫ সালে মিছিল করার সময় শুভেন্দু অধিকারী এই দাবিটি জানান। বিজেপি পশ্চিমবঙ্গের সরকার গঠন করার পর থেকে দিনটিকে ‘পশ্চিমবঙ্গ সৃষ্টি’ এবং ভারতের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার দিন হিসেবে উদযাপন করা হচ্ছে। তবে আজ থেকে পাঁচ বছর আগে এই দিনটির উদযাপনের কোনো চল ছিল না।

বিগত তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের অবস্থান ছিল, বাংলা ভাগ হওয়া উদযাপনের বিষয় নয়। কারণ দেশভাগের ফলে লাখ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছিলেন এবং তারা তাদের স্বজন হারিয়েছিলেন। সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ২০ জুনের পরিবর্তে পহেলা বৈশাখকে ‘পশ্চিমবঙ্গ দিবস’ হিসেবে পালন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তবে বিজেপি সরকার গঠনের পর সেই সিদ্ধান্ত বদলে ২০ জুনকেই সরকারিভাবে বেছে নেওয়া হয়েছে।

বিজেপি সরকার এই দিনটি উদযাপন করছে, তার নিচে যে সকল কারণ তুলে ধরা হলো সেগুলো হল, ইতিহাসের পাতায় ২০ জুনের সিদ্ধান্ত ও ভারতভুক্তি। আজ থেকে ৭৯ বছর আগে, ১৯৪৭ সালের ২০ জুন বঙ্গীয় প্রাদেশিক আইনসভায় অবিভক্ত বাংলা ভাগ হওয়া নিয়ে ভোটাভুটি হয়। ওই দিন মুসলিম সংখ্যাগুরু পূর্ববঙ্গ এবং হিন্দু সংখ্যাগুরু পশ্চিমবঙ্গের জনপ্রতিনিধিরা আলাদাভাবে ভোট দেন। পূর্ববঙ্গের মুসলিম নেতাদের বেশিরভাগ বাংলা ভাগের বিপক্ষে ভোট দিলেও, পশ্চিমবঙ্গের হিন্দু জনপ্রতিনিধিরা বাংলা ভাগের পক্ষে ভোট দেন। এই কারণেই সিদ্ধান্ত হয় যে বাংলার পূর্ব অংশ পাকিস্তানে যাবে এবং পশ্চিম অংশ ভারতের সঙ্গে যুক্ত হবে। হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলো একে পশ্চিমবঙ্গ সৃষ্টির দিন হিসেবে গণ্য করে।

আরএসএসের ইতিহাসবিদ রবি রঞ্জন সেনের মতে, এই দিনটিকে বাংলা ভাগের দিন হিসেবে না দেখে, এটি পশ্চিমবঙ্গ সৃষ্টি ও তার ভারতভুক্তির দিন হিসেবে দেখা উচিত। স্বাধীনতার আগে বাংলার তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী এবং কংগ্রেস নেতা শরৎ চন্দ্র বসু বাংলাকে ভাগ না করে একটি স্বাধীন ‘যুক্তবঙ্গ’ গঠনের পরিকল্পনা করেছিলেন। কিন্তু হিন্দু মহাসভার নেতা ও জনসঙ্ঘের প্রতিষ্ঠাতা শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জী এই পরিকল্পনার তীব্র বিরোধিতা করেন। জওহরলাল নেহেরু ও বল্লভভাই প্যাটেলও এর বিরোধী ছিলেন। বিজেপি ও আরএসএস শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জীকে ‘পশ্চিমবঙ্গের জনক’ মনে করে।

বিজেপির দাবি, শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জীর লড়াইয়ের কারণেই বাঙালি হিন্দুরা নিজেদের জীবন সুরক্ষিত করার জন্য একটি ‘হোমল্যান্ড’ বা আবাসভূমি পেয়েছেন। রাজ্যের বর্তমান মন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত মনে করেন, বাংলা ভাগ হওয়া অনিবার্য ছিল। তার মতে, যদি দুই বাংলা যুক্ত থাকত তবে হিন্দু বাঙালিদের সমস্যা আরো বাড়ত। তিনি এক প্রবন্ধে উল্লেখ করেছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকার চিরকাল বাংলায় হিন্দু রাজনৈতিক চেতনাকে অস্বীকার করে এসেছে।

তিনি আরো দাবি করেন, ভারতের বাঙালি স্বত্বা এবং বাংলাদেশের বাঙালি স্বত্বার মধ্যে কিছু মিল থাকলেও, দুটি পরিচয় সম্পূর্ণ ভিন্ন। এই ভিন্ন পরিচয় উদযাপন করা এবং ‘বাঙালি হিন্দুর হোমল্যান্ড’ হিসেবে পশ্চিমবঙ্গের ইতিহাসগত ভিত্তি তৈরি করতেই বিজেপি এই দিনটিকে গুরুত্ব দিচ্ছে।

পশ্চিমবঙ্গ দিবস উদযাপন উপলক্ষে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি কলকাতা সফরে এসেছেন। পশ্চিমবঙ্গ দিবস ও ২১ জুনের যোগ দিবস উপলক্ষে কলকাতায় তার দুই দিনের কর্মসূচি রয়েছে। এই দিবসটি উপলক্ষে বিভিন্ন জেলা, ছোট শহর ও গ্রামে শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জীর ছবিতে মাল্যদান অনুষ্ঠান চলছে। সকালে কলকাতার ভবানীপুরে শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জীর মূর্তিতে মালা পরান বিজেপি নেতা অগ্নিমিত্রা পাল। তিনি বলেন, ‘ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জীর জন্যই আমরা আজ বাংলাদেশে নেই। উনি না থাকলে হয়তো আমরা থাকতাম না।’

তবে এই উদযাপনের ভিন্ন মতও রয়েছে। ইতিহাসবিদ ও হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সুগত বসু জানান, মাউন্টব্যাটেন পরিকল্পনায় আগেই দেশভাগ নিশ্চিত হয়েছিল এবং ২০ জুনের ভোটে শুধু সিলমোহর পড়েছিল। তার মতে, ‘এটি কোনো গৌরবের দিন নয়, এটি আত্মঘাতী বাঙালীর লজ্জার দিন।’

সূত্র: বিবিসি বাংলা

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে অন-ক্যাম্পাস মাস্টার্সে ভর্তির আবেদন জমার সময় বাড়ল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ২০ই জুন, ২০২৬ ইং

০৪:৫০ পি.এম


জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে অন-ক্যাম্পাস মাস্টার্সে ভর্তির আবেদন জমার সময় বাড়ল

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের অন-ক্যাম্পাস মাস্টার্স (ফাইনাল) প্রোগ্রামে ভর্তির জন্য অনলাইনে প্রাথমিক আবেদন জমার সময় বৃদ্ধি করা হয়েছে। আগ্রহী শিক্ষার্থীরা এখন পর্যন্ত আগামী ১৯ জুলাই রাত ১২টা পর্যন্ত আবেদন করার সুযোগ পাবেন।

একটি বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্যটি প্রকাশ করেছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ভর্তিচ্ছু প্রার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তিবিষয়ক ওয়েবসাইটে গিয়ে নির্ধারিত আবেদন ফরম পূরণ করে অনলাইনে প্রাথমিক আবেদন সম্পন্ন করতে হবে।

আবেদনের সঙ্গে প্রাথমিক আবেদন ফি বাবদ এক হাজার টাকা জমা দিতে হবে। প্রার্থীরা সোনালী সেবা অথবা নির্ধারিত মোবাইল ব্যাংকিং সেবার মাধ্যমে আগামী ২৩ জুলাই ২০২৬-এর মধ্যে ফি পরিশোধ করতে সক্ষম হবেন।

ভর্তি-সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য পাওয়ার জন্য প্রার্থীরা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তিবিষয়ক ওয়েবসাইটের দিকে নজর রাখতে পারেন।

সংশোধিত সময়সূচি অনুযায়ী, অনলাইনে আবেদন ফরম পূরণের শেষ সময় ১৯ জুলাই নির্ধারণ করা হয়েছে। সোনালী সেবার মাধ্যমে আবেদন ফি জমা দেওয়ার শেষ তারিখও ২৩ জুলাই। আবেদন ফি জমা দেওয়ার সময় প্রয়োজনীয় পে-স্লিপে ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের সংশ্লিষ্ট খাতের সঞ্চয়ী হিসাব নম্বর ০২১৮১১০০০০২৭০১ উল্লেখ করে টাকার পরিমাণ লেখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে, ভর্তির লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার তারিখ এবং কেন্দ্র পরে বিস্তারিতভাবে বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হবে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। বিজ্ঞপ্তিতে আরো উল্লেখ করা হয়েছে, গত ২২ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত ভর্তি বিজ্ঞপ্তির অন্যান্য সমস্ত শর্ত পূর্বের মতো অপরিবর্তিত থাকবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১২ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৪৯
মাগরিব ০৫:২৬
ইশা ০৬:৩৭
সূর্যোদয় : ০৫:৫৯ সূর্যাস্ত : ০৫:২৬
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%