০৬:০৮ পি.এম
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) সুগন্ধা বিচ পয়েন্টের বালিয়াড়িতে রাস্তা নির্মাণের কাজ বন্ধ করার দাবি জানিয়েছে। সংগঠনটির অভিযোগ, আইন ও হাইকোর্টের নির্দেশনা অমান্য করে বালিয়াড়িতে রাস্তা নির্মাণ করা হচ্ছে, যা পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ) হিসেবে চিহ্নিত।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) রাজধানীর ধানমণ্ডিতে জয়িতা টাওয়ারের সামনে অনুষ্ঠিত মানববন্ধন ও সমাবেশ থেকে এই দাবি উত্থাপন করা হয়।
সমাবেশে বাপার সহসভাপতি জাকির হোসেনের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির নির্বাহী সদস্য ও নগরবিদ স্থপতি ইকবাল হাবিব, সাংগঠনিক সম্পাদক মিহির বিশ্বাস, কক্সবাজার জেলা শাখার সভাপতি এম. জাফর আলম দিদার ও সাধারণ সম্পাদক কলিম উল্লাহ এবং বাংলাদেশ যুব ইউনিয়নের সভাপতি আসাদুজ্জামান খান। কর্মসূচি পরিচালনা করেন বাপার সাধারণ সম্পাদক মো. আলমগীর কবির।
আরও পড়ুন: যাত্রাবাড়ীতে ছিনতাই সন্দেহে গণপিটুনিতে আহত যুবক নিশাত মিয়ার মৃত্যু
সমাবেশ থেকে সাত দফা দাবি জানানো হয় বাপার পক্ষ থেকে।
দাবিগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—সুগন্ধা বিচসহ সমুদ্রসৈকতের বালিয়াড়িতে চলমান রাস্তা নির্মাণকাজ অবিলম্বে বন্ধ করা, হাইকোর্টের রায় ও নির্দেশনা পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়ন করা এবং ২০২৫ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী অবৈধ স্থাপনা ও দখল উচ্ছেদ করা।
এছাড়া, বালিয়াড়িতে কোনো প্রকল্প গ্রহণের পূর্বে পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন (ইআইএ) ও বিশেষজ্ঞদের মতামত বাধ্যতামূলক করার দাবি জানানো হয়। বালিয়াড়ি ও সামুদ্রিক কচ্ছপের প্রজননক্ষেত্রসহ উপকূলীয় জীববৈচিত্র্য রক্ষায় দীর্ঘমেয়াদি সংরক্ষণ পরিকল্পনা গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়। পরিবেশবিধ্বংসী কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং কক্সবাজারে অবৈধভাবে টিলা ও পাহাড় কাটা বন্ধের দাবি জানানো হয়।
সমাবেশে বাপার কক্সবাজার জেলা শাখার সভাপতি এম. জাফর আলম দিদার মন্তব্য করেন, কক্সবাজারের বালিয়াড়ি শুধুমাত্র সৈকতের সৌন্দর্যের অংশ নয়, এটি ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও শক্তিশালী ঢেউয়ের বিরুদ্ধে উপকূলের প্রাকৃতিক প্রতিরক্ষা হিসেবে কাজ করে। একইসাথে এটি সামুদ্রিক কাঁকড়া, কচ্ছপসহ বিভিন্ন প্রাণী ও উদ্ভিদের গুরুত্বপূর্ণ আবাসস্থল।
আরও পড়ুন: রাজধানীতে মদ-বিয়ার ও ইয়াবা জব্দ, গ্রেপ্তার ৩
তিনি আরও বলেন, নির্বিচারে বালিয়াড়ি কেটে রাস্তা বা স্থাপনা নির্মাণ করা হলে উপকূলীয় ভাঙন বৃদ্ধি পেতে পারে। এতে জীববৈচিত্র্য ধ্বংসের পাশাপাশি পর্যটন পরিবেশও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বাপার সহসভাপতি জাকির হোসেন বলেন, সাময়িক উন্নয়নের নামে সমুদ্রসৈকতের প্রাকৃতিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করা হলে এর ক্ষতি অপূরণীয় হতে পারে। পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের মতামত উপেক্ষা করে বালিয়াড়িতে রাস্তা নির্মাণ গ্রহণযোগ্য নয়।
নগরবিদ স্থপতি ইকবাল হাবিব মন্তব্য করেন, বালুর ওপর রাস্তা নির্মাণ একটি ব্যয়বহুল প্রকল্প।
এ ধরনের উদ্যোগের পেছনে বাণিজ্যিক স্বার্থ থাকতে পারে। প্রাকৃতিক পরিবেশের ক্ষতি করে উন্নয়নের নামে কোনো প্রকল্প গ্রহণ করা উচিত নয়।
আরও পড়ুন: গণভোটের রায় না মানলে তারেক রহমানের ক্ষমতায় থাকার অধিকার নেই: জুনায়েদ
বাপার সাধারণ সম্পাদক মো. আলমগীর কবির বলেন, সুগন্ধা বিচ পয়েন্টের বালিয়াড়িতে রাস্তা নির্মাণের কার্যক্রম শুরু হওয়ায় তারা উদ্বিগ্ন। তিনি অবিলম্বে প্রকল্পের কাজ বন্ধ করার দাবি জানান।
সাংগঠনিক সম্পাদক মিহির বিশ্বাস বলেন, বালিয়াড়ি সামুদ্রিক কাঁকড়া ও কচ্ছপের প্রজননক্ষেত্র হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ। পরিবেশবিধ্বংসী কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সম্পদ নয়; এটি রাষ্ট্রের প্রাকৃতিক সম্পদ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সম্পদ। অপরিকল্পিত উন্নয়ন, অবৈধ দখল, স্থাপনা নির্মাণ ও বালিয়াড়ি ধ্বংসের কারণে সৈকতের প্রাকৃতিক পরিবেশ ও প্রতিবেশ হুমকির মুখে পড়েছে।
বক্তারা আরো বলেন, সাধারণত শিল্পকারখানা ও বাণিজ্যিক এলাকায় পণ্য পরিবহনের জন্য রাস্তা নির্মাণের প্রয়োজন হয়। কিন্তু বালিয়াড়ির ওপর দিয়ে কী ধরনের মালামাল পরিবহন করা হবে, তা জনগণের জানা প্রয়োজন।
আরও পড়ুন: বিয়ের ১৫ দিনের মাথায় সড়কে প্রাণ গেল ইতালি প্রবাসী তানভীরের
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন