০৭:৫৮ পি.এম
‘দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’ বলা হয় ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপকে। আর এই মহাযজ্ঞের ম্যাচ দেখতে সারাবিশ্বের ফুটবল ভক্তরা মুখিয়ে থাকে। তবে মাঠে বসে খেলা দেখার সুযোগ পায় খুবই কম সংখ্যক দর্শক। এর একটি কারণ হলো ভিসা জটিলতা ও অর্থের অভাব।
বিশ্বকাপের ম্যাচ দেখতে দর্শকদের পাড়ি জমাতে হয় এক মহাদেশ থেকে আরেক মহাদেশে। আর এই ভিসা, বিমানের টিকিট, আবাসন ও ম্যাচের টিকিট মিলিয়ে বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় করতে হয় দর্শকদের।
ইউরোপ ও আমেরিকা মহাদেশের উচ্চ অর্থনীতির দেশগুলো থেকে দর্শকরা নিয়মিত বিশ্বকাপ দেখতে আগ্রহ প্রকাশ করে থাকেন। তবে এশিয়ার মধ্য ও নিম্ন মধ্য আয়ের দেশগুলো থেকে বিশ্বকাপ খেলা মাঠে বসে দেখতে চাওয়া অনেকটা বিলাসিতার মতো মনে হয়।
আরও পড়ুন: কক্সবাজারে নলকূপ খননের স্থান থেকে গ্যাসের আগুন, বাপেক্সের বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থলে
কিছু মানুষের কাছে অর্থ থাকলেও তারা ভিসা জটিলতার কারণে সমস্যায় পড়েন। সেখান থেকে বের হওয়া খুবই কঠিন ও দীর্ঘ প্রক্রিয়ার ব্যাপার। যা সাধারণ দর্শকদের জন্য এক ভোগান্তির বিষয়। তাই অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে বাংলাদেশ থেকে বিশ্বকাপের ম্যাচ দেখতে যেতে হলে কি কি বাধা অতিক্রম করতে হবে।
এই প্রতিবেদনে সেই সব বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করা হলো—
এবারের বিশ্বকাপের আয়োজন করছে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো। এই আসরের ম্যাচ মাঠে বসে দেখতে হলে কত খরচ হবে তা নির্ভর করবে আপনি কোন শহরে যাচ্ছেন, কোন দল খেলছে, টিকিট কোথা থেকে কিনছেন, কত রাত থাকছেন এবং আপনার কি আগে থেকে ভিসা আছে—এসবের ওপর।
সাধারণভাবে দেখা যায়, ঢাকা থেকে যুক্তরাষ্ট্র গিয়ে একটি গ্রুপ পর্বের ম্যাচ দেখে তিন রাত থেকে ফিরে আসতে চাইলে একজন বাংলাদেশি দর্শকের খরচ পড়তে পারে সাড়ে ৪ লাখ থেকে ৭ লাখ টাকার মধ্যে। আর ফাইনাল দেখতে আগ্রহী হলে খরচ ১০ লাখ টাকার অনেক ওপরে চলে যাওয়া অস্বাভাবিক নয়।
আরও পড়ুন: কুমিল্লায় রাজস্ব কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী হত্যা মামলায় পাঁচজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট
প্রথমে ভিসা আবেদন
বিশ্বকাপ যাত্রার শুরুর দিকে আসবে ভিসার প্রয়োজনীয়তা। যুক্তরাষ্ট্রে যেতে বাংলাদেশি দর্শকের বি১/বি২ ভিসা প্রয়োজন। ভিসা আবেদন ফি ১৮৫ ডলার, বাংলাদেশি টাকায় এর পরিমাণ প্রায় ২৩,০০০ টাকা। তবে এখানেই শেষ নয়। বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীদের জন্য বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা বন্ডের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। ভিসা অনুমোদনের পর আবেদনকারীকে ৫ হাজার, ১০ হাজার বা ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ফেরতযোগ্য বন্ড প্রদান করতে বলা হতে পারে।
এটি সরাসরি খরচ নয়; নিয়ম মেনে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়লে টাকা ফেরত পাওয়ার কথা। কিন্তু ভ্রমণের আগে এত বড় অঙ্কের অর্থ জমা দেওয়ার সামর্থ্য থাকতে হবে। ৫ হাজার ডলার মানে প্রায় ৬ লাখ ১৫ হাজার টাকা, আর ১৫ হাজার ডলারের মান প্রায় ১৮ লাখ ৪৫ হাজার টাকা।
তবে বিশ্বকাপ দর্শকদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যতিক্রম রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ম অনুযায়ী, নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করা কিছু ফিফা বিশ্বকাপ টিকিটধারী ভিসা বন্ড থেকে মুক্তি পেতে পারেন। বিশেষ করে যারা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ফিফার টিকিট কিনেছেন এবং ফিফার অগ্রাধিকার ভিত্তিক ভিসা অ্যাপয়েন্টমেন্ট ব্যবস্থায় যুক্ত হয়েছেন, তাদের জন্য এই ছাড় প্রযোজ্য হতে পারে।
আরও পড়ুন: সেনাপ্রধানের সঙ্গে মার্কিন প্রতিনিধি দলের সাক্ষাৎ, এলএফটি-২০২৬ সফলভাবে সম্পন্ন
বিমান ভাড়া
ঢাকা থেকে নিউইয়র্ক, লস অ্যাঞ্জেলেস, মায়ামি বা যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য বড় শহরে যাওয়া-আসার টিকিটের মূল্য সময় অনুযায়ী ওঠানামা করে। বর্তমান বাজারদরে ঢাকা থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বড় শহরগুলোতে ইকোনমি ক্লাসে যাওয়া-আসার ভাড়া সাধারণভাবে দেড় লাখ থেকে তিন লাখ টাকার মধ্যে হতে পারে।
বিশ্বকাপের সময়, ম্যাচের শহর, বুকিংয়ের সময় এবং ট্রানজিট অনুযায়ী এই খরচ আরও বাড়তে পারে। নিরাপদ হিসাব করতে গেলে বিমানভাড়ার জন্য অন্তত ২ লাখ থেকে ৩ লাখ টাকা ধরে রাখা উচিত।
ম্যাচের টিকিট
আরও পড়ুন: ঢাকা টেস্ট বাংলাদেশের জন্য নিজেদের প্রমাণের গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা
প্রথম দুই ধাপ পেরানোর পর গুরুত্বপূর্ণ হলো ম্যাচের টিকিট। ছোট দল বা কম চাহিদার গ্রুপ ম্যাচ হলে তুলনামূলক কম দামে টিকিট পাওয়া যেতে পারে। কিন্তু বাস্তব বাজারে অনেক ম্যাচেই ৩০০ ডলারের নিচে টিকিট পাওয়া কঠিন হয়ে উঠেছে। বাংলাদেশি টাকায় সেটি প্রায় ৩৭,০০০ টাকা।
ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, ফ্রান্স, ইংল্যান্ড, যুক্তরাষ্ট্র বা বড় শহরের ম্যাচ হলে টিকিটের দাম দ্রুত বেড়ে যেতে পারে। অনেক ম্যাচে ৬০০-৭০০ ডলার, অর্থাৎ ৭৫,০০০ থেকে ৮৫,০০০ টাকা ধরে প্রস্তুত থাকাই বাস্তবসম্মত। নিউইয়র্ক, মায়ামি বা বড় ম্যাচ হলে ১,০০০ ডলার, অর্থাৎ প্রায় ১ লাখ ২৩ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ হতে পারে।
আবাসন ব্যয়
বিশ্বকাপের সময় যুক্তরাষ্ট্রের অনেক আয়োজক শহরে হোটেল ভাড়া বেড়েছে। তুলনামূলক কম খরচের শহরে ২৫০-৩০০ ডলার রাতপ্রতি হোটেল ধরলেও তিন রাতের জন্য খরচ হবে প্রায় ১ লাখ টাকা। লস অ্যাঞ্জেলেসে সেই হিসাবটি ১ লাখ ৪০ হাজার টাকার কাছাকাছি যেতে পারে। নিউ ইয়র্ক/নিউ জার্সি এলাকায় তিন রাতের হোটেল খরচ ২ লাখ টাকারও বেশি হতে পারে। ফাইনালের সপ্তাহে এই খরচ আরও অনেক বেশি হতে পারে।
আরও পড়ুন: আদাবরে যুবদল নেতাকে কুপিয়ে মারাত্মকভাবে জখম
খাওয়া ও যানবহন খরচ
যুক্তরাষ্ট্রে দিনে তিন বেলা সাধারণ খাবার, পানি, কফি বা হালকা খাবার নিয়ে ৫০-৮০ ডলার খরচ করা খুবই স্বাভাবিক। চার দিনের ভ্রমণ ধরলে খাবারে খরচ হবে ২৫,০০০ থেকে ৪০,০০০ টাকা। স্টেডিয়ামের ভিতরে খাবার-পানীয় কিনলে খরচ আরও বাড়তে পারে। সেই সঙ্গে স্থানীয় যাতায়াতের জন্য আলাদা বাজেট রাখা উচিত।
বিমানবন্দর থেকে হোটেল, হোটেল থেকে স্টেডিয়াম, ম্যাচ শেষে ফেরার ভাড়া—সব মিলিয়ে ১৫০-২৫০ ডলার ধরে রাখা ভাল। বাংলাদেশি টাকায় এর পরিমাণ প্রায় ১৮,০০০ থেকে ৩০,০০০ টাকা। বড় শহরে অ্যাপভিত্তিক গাড়ি বা ম্যাচের দিন বিশেষ যাতায়াত ব্যবহার করলে খরচ আরও বেশি হতে পারে।
এর বাইরে থাকবে ভ্রমণ বিমা, মোবাইল সিম বা রোমিং, ভিসা ফটো, ডকুমেন্ট প্রিন্ট, ছোটখাটো জরুরি খরচ, শহর ঘোরা, হয়তো একটি জার্সি বা স্মারক কেনা। এসব মিলিয়ে আরও ৩০,০০০ থেকে ৫০,000 টাকা ধরে রাখা নিরাপদ।
আরও পড়ুন: সাঈদীর মামলার বাদীকে দাফনে বাধা দেয়ার ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন জামায়াতের
ফলে সব মিলিয়ে বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে একটি ম্যাচ দেখতে মোট খরচ হতে পারে ৪ লাখ থেকে ৭ লাখ টাকা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন