রবিবার, ৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৪:১৯ পি.এম
ঢাকা, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, মানবিক সহায়তার পাশাপাশি রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই রাজনৈতিক সমাধান নিশ্চিত করতে হবে।
আজ (রোববার) রাজধানীর বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) মিলনায়তনে ইনস্টিটিউট ফর গ্লোবাল কোঅপারেশন ফাউন্ডেশন (আইজিসিএফ) কর্তৃক আয়োজিত ‘দ্য রোহিঙ্গা ক্রাইসিস : ইমার্জিং চ্যালেঞ্জেস অ্যান্ড রিফ্রেমিং রেসপনসিবিলিটিজ’ শীর্ষক এক গোলটেবিল আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে ‘গেস্ট অব অনার’ হিসেবে বক্তব্য রাখেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ।
তিনি রোহিঙ্গা ইস্যুতে প্রশাসনিক সমন্বয়ের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা প্রয়োজন। রোহিঙ্গাদের মর্যাদাপূর্নভাবে মায়ানমারে ফেরত পাঠাতে চেষ্টা করবে সরকার।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যুটি যেন জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক রাডারে সর্বদা সক্রিয় থাকে এবং অন্য কোনো বৈশ্বিক রাজনৈতিক সংঘাত বা সংকটের আড়ালে চাপা পড়ে না যায়।
তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের যৌথ প্রচেষ্টা ও কার্যকর কূটনীতির মাধ্যমে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের নিজ মাতৃভূমি মিয়ানমারে দ্রুত মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে হবে।
মন্ত্রী বলেন, আশ্রয় পাওয়া প্রায় ১.৫ মিলিয়ন (ইউএনএইচসিআর-এর হিসাবে ১.২ মিলিয়ন) বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিককে (এফডিএমএন) যেন আমরা পূর্ণ মর্যাদা ও নিরাপত্তার সাথে তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠাতে পারি। এজন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অব্যাহত সহায়তা ও রাজনৈতিক ভূমিকা অত্যন্ত জরুরি।’
মন্ত্রী বলেন, ১৯৭৮ সালে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সফল নেতৃত্বে এবং ১৯৯২ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দূরদর্শী কূটনৈতিক উদ্যোগে বাংলাদেশ সফলভাবে মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন সম্পন্ন করেছিল। অতীতের সেই সফল অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্বে বর্তমান সরকার আবারও শতভাগ সফল প্রত্যাবাসন বাস্তবায়নে বদ্ধপরিকর।
মন্ত্রী আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গতিশীল নেতৃত্বে ইতোমধ্যে ‘ন্যাশনাল স্ট্র্যাটেজি ফর্মুলেশন কমিটি অন রোহিঙ্গা অ্যাফেয়ার্স’ গঠিত হয়েছে। পাশাপাশি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ও সার্বিক সমন্বয়ের জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নেতৃত্বে অপর একটি উচ্চপর্যায়ের জাতীয় কমিটি সক্রিয় রয়েছে।
এসময় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, রোহিঙ্গা পূনর্বাসন নিয়ে সরকার আশাবাদী। বাংলাদেশ মানবিক সহযোগিতা বহাল রাখবে। তবে মিয়ানমারের বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় রোহিঙ্গাদের নিরাপদে সেখানে পৌছাতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা প্রয়োজন।
আইজিসিএফ-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা চৌধুরী আদনান রহমানের স্বাগত বক্তব্যের মাধ্যমে গোলটেবিল আলোচনাটি শুরু হয়। সমগ্র অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. বুলবুল সিদ্দিকী।
গোলটেবিল আলোচনায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশে ইউএনএইচসিআর প্রতিনিধি আইভো ফ্রেইসেন, বিআইআইএসএস-এর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল এ এস এম রিদওয়ানুর রহমান, শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের শরণার্থী সেলের প্রধান ও যুগ্মসচিব মোহাম্মদ নাজমুল আবেদীন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তি ও সংঘাত অধ্যয়ন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. সাজ্জাদ সিদ্দিকী, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ড. নিলয় রঞ্জন বিশ্বাস, আইইউবি’র অধ্যাপক ড. কাজী মাহমুদুল রহমান, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. নুরুল হুদা সাকিব এবং ইউল্যাব-এর সহকারী অধ্যাপক মিসেস অবন্তী হারুন, অ্যাকশন-এইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ কবির এবং দৈনিক প্রথম আলোর বিশেষ প্রতিনিধি রাহীদ এজাজ প্রমুখ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকার সাভারে ছাত্রদল নেতা মোনারুল ইসলাম বকশীকে হত্যার অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলার এজাহারভুক্ত এক আসামিকে গ্রেফতার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) ।
রবিবার দুপুরে র্যাব-১৩-এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক বিপ্লব কুমার গোস্বামী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এর আগে, শনিবার রাত ১০টার দিকে রংপুরের পীরগাছা উপজেলার বাজার সৈয়দপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে মো. মিন্টু (৪৪) নামে ওই আসামিকে গ্রেফতার করা হয়। মিন্টু পীরগাছা উপজেলার সুল্লিপাড়া গ্রামের ফুল মিয়ার পুত্র।
র্যাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গত ২৩ জুলাই নিহতের ভাগ্নে শাহরিয়ার কবির সৌমিক এক কিশোরীকে নিয়ে নিখোঁজ হন। এ ঘটনায় কিশোরীর বাবা পীরগাছা থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। পরে গোয়েন্দা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে পুলিশ কিশোরীর অবস্থান সাভারে শনাক্ত করে।
গত ৬ আগস্ট রাতে, কয়েকজন ব্যক্তি পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে সাভারের বিপিএসসিটি এলাকার একটি আবাসিক ভবনে গিয়ে নিজেদের নিহত মোনারুল ইসলাম বকশীর আত্মীয় পরিচয় দেন। ভবনের নিরাপত্তাকর্মী তাদের প্রবেশের অনুমতি দিলে তারা ফ্ল্যাটে তল্লাশি চালান। কিশোরীকে না পেয়ে মোনারুল ইসলাম বকশীকে ভবনের ছাদে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
র্যাবের ভাষ্যমতে, একপর্যায়ে বাকবিতণ্ডা ও ধস্তাধস্তির সময় মোনারুল ইসলাম বকশীকে পাঁচতলার ছাদ থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়া হয়। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু ঘটে।
এ ঘটনায় নিহতের ভাই বাদী হয়ে গত ১৫ আগস্ট সাভার থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। এরপর আসামিরা আত্মগোপনে চলে যায়।
র্যাব জানিয়েছে, গ্রেপ্তার মিন্টুকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
এছাড়া, এ ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে পীরগাছা থানার চার পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করে রংপুর পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি ঢাকা ও রংপুরে পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী মন্তব্য করেছেন, "জাতির প্রকৃত পরিচয় তার সংস্কৃতি।" তিনি উল্লেখ করেছেন যে, সংস্কৃতি মানুষের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি করে না, বরং এটি ঐক্যবদ্ধ করে। তিনি বলেন, "সাংস্কৃতিক ঐক্যই সম্প্রীতির সবচেয়ে বড় শক্তি।"
আজ বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী সংস্কৃতি মন্ত্রীর দপ্তরে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সংস্কৃতি মন্ত্রী এ কথা বলেন।
প্রায় ঘণ্টাব্যাপী বৈঠকে দুই দেশের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক বন্ধন, নজরুল বর্ষ উদযাপন, শিল্পী ও গবেষক বিনিময়, ক্ল্যাসিক্যাল সংগীত, লোকসংস্কৃতি, তরুণ প্রতিভা বিকাশ এবং সামুদ্রিক সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে যৌথ উদ্যোগ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
সংস্কৃতি মন্ত্রী আরও বলেন, "বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক কেবল প্রতিবেশী রাষ্ট্রের নয়, এটি আত্মার সম্পর্ক।" তিনি উল্লেখ করেন, দুই দেশের মানুষের ভাষা, সাহিত্য, সংগীত, লোকঐতিহ্য ও মানবিক মূল্যবোধের মধ্যে যে গভীর সেতুবন্ধন রয়েছে, সেটিই দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের সবচেয়ে শক্তিশালী ভিত্তি।
তিনি আরও বলেন, উপমহাদেশের কিংবদন্তি শিল্পী মোহাম্মদ রফি, হেমন্ত মুখোপাধ্যায়, অলকা ইয়াগনিক ও পণ্ডিত রবিশঙ্করের শিল্পকর্ম দুই দেশের কোটি মানুষের হৃদয়ে সমানভাবে অনুরণিত হয়েছে। তিনি বলেন, "তাঁদের সৃষ্টিশীল অবদান প্রমাণ করে যে শিল্প ও সংস্কৃতি সীমান্তের গণ্ডি অতিক্রম করে মানুষের হৃদয়ের ভাষায় কথা বলে।"
চলমান নজরুল বর্ষ উপলক্ষে বাংলাদেশে আয়োজিত জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ভারতের খ্যাতিমান নজরুল গবেষক, শিল্পী ও সংস্কৃতিবিদদের অংশগ্রহণের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানান তিনি। একই সঙ্গে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, লালন শাহ এবং বাংলা লোকসংগীতকে দুই দেশের অভিন্ন সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অন্যতম ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করেন।
মন্ত্রী বলেন, বর্তমান বিশ্বে ধর্মীয় উগ্রবাদ, অসহিষ্ণুতা ও সাম্প্রদায়িক বিভাজনের বিরুদ্ধে সাংস্কৃতিক জাগরণই সবচেয়ে কার্যকর প্রতিরোধ। তিনি বলেন, সাহিত্য, সংগীত, নাটক ও লোকসংস্কৃতির মাধ্যমে মানবিক মূল্যবোধ ও সম্প্রীতির চর্চা জোরদার করতে বাংলাদেশ ও ভারতের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
সাক্ষাতে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী, দুই দেশের মধ্যে একটি ক্ল্যাসিক্যাল মিউজিক নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার প্রস্তাব দেন। তিনি প্রাথমিক পর্যায়ে ভারত থেকে দুইজন ক্ল্যাসিক্যাল শিল্পীকে আমন্ত্রণ জানিয়ে বাংলাদেশে কর্মশালা আয়োজনের প্রস্তাব করেন। এছাড়া বাংলাদেশ-ভারত সাংস্কৃতিক সহযোগিতা চুক্তি নবায়নের মাধ্যমে নতুন কর্মপরিকল্পনা গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।
সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম, নবনিযুক্ত সংস্কৃতি সচিব মিজ ইয়াসমিন বেগমসহ, ভারতীয় হাইকমিশনের ডেপুটি হাইকমিশনার ও ইন্দিরা গান্ধী কালচারাল সেন্টারের ডিরেক্টর এসময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী মন্তব্য করেন, দুই দেশের ' ইয়াং ট্যালেন্টদের জন্য যৌথ প্রশিক্ষণ, রেসিডেন্সি প্রোগ্রাম ও সাংস্কৃতিক বিনিময় কার্যক্রম চালু করা গেলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া আরও সুদৃঢ় হবে। তিনি বলেন, "এছাড়া বঙ্গোপসাগরকে কেন্দ্র করে কনজারভেশন অব মেরিটাইম কালচার বা সামুদ্রিক সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে বাংলাদেশ ও ভারতের যৌথ গবেষণা ও সাংস্কৃতিক উদ্যোগ গ্রহণেরও যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে।"
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক আত্মার সম্পর্ক। খাদ্যাভ্যাস, ভাষা, ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির বহু ক্ষেত্রে আমাদের গভীর অভিন্নতা রয়েছে। তিনি বাংলাদেশকে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, সংগীত ও সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের দেশ হিসেবে উল্লেখ করেন।
হাইকমিশনার কাজী নজরুল ইসলামের জন্মস্থান চুরুলিয়ায় আরো ব্যাপক পরিসরে আন্তর্জাতিক মানের অনুষ্ঠান আয়োজনে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন এবং সেই আয়োজনে ব্যক্তিগতভাবে উপস্থিত থাকার ইচ্ছা ব্যক্ত করেন। তিনি পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে নিয়মিত যৌথ অনুষ্ঠান করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশের শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. এএনএম এহসানুল হক মিলনের সঙ্গে গুগলের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রবিবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রীর দফতরে এই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, বৈঠকে গুগলের গভর্নমেন্ট অ্যাফেয়ার্স অ্যান্ড পাবলিক পলিসি ম্যানেজার কাইল গার্ডনার এবং গুগল ফর এডুকেশনের এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের স্পেশাল প্রজেক্ট চিফ টিম পাওলিনিও উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে, ১৯ মে যুক্তরাজ্যের লন্ডনে কুইন এলিজাবেথ টু সেন্টারে অনুষ্ঠিত এডুকেশন ওয়ার্ল্ড ফোরাম ২০২৬-এর সাইডলাইনে শিক্ষামন্ত্রী ড. মিলন গুগলের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন।
সেই বৈঠকে গুগল ফর এডুকেশনের প্যাসিফিক রিজিয়ন ডিরেক্টর কলিন মারসন এবং হেড অব সলিউশন্স ইঞ্জিনিয়ারিং অলি ট্রাসেলও উপস্থিত ছিলেন। বিষয়টি শিক্ষামন্ত্রী একটি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।
বৈঠকে গুগলের কর্মকর্তারা বিভিন্ন দেশের শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়নে প্রযুক্তির ব্যবহার সম্প্রসারণে প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন উদ্যোগ সম্পর্কে মন্ত্রীকে অবহিত করেন।
এ সময় বাংলাদেশের শিক্ষা খাতে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর জন্য সরকারের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে গুগল কীভাবে সহযোগিতা করতে পারে, সে বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বিশেষ করে ‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’ কর্মসূচি বাস্তবায়নে গুগলের সহায়তার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : শুক্রবার বলিভিয়ার মধ্যাঞ্চলীয় শহর কোচাবাম্বায় শতাধিক কোকা চাষি এবং সাবেক প্রেসিডেন্ট ইভো মোরালেসের সমর্থকরা বিক্ষোভে অংশগ্রহণ করেছেন।
এএফপির প্রতিবেদকরা জানিয়েছেন, তারা সরকারের ডিজেলের দাম দ্বিগুণ করার বিরুদ্ধে এই প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেন।
বার্তা সংস্থা এএফপি বলিভিয়ার কোচাবাম্বা থেকে এই খবরটি জানায়।
জুন মাসে, কেন্দ্র-ডানপন্থী প্রেসিডেন্ট রড্রিগো পাজ জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন। কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা ব্যাপক সরকারবিরোধী বিক্ষোভের পর তিনি এই জরুরি অবস্থা জারি করেন। শুক্রবারের বিক্ষোভ এই পরিস্থিতির মধ্যে অনুষ্ঠিত হলো।
বিক্ষোভকারীদের মধ্যে বেশিরভাগই আদিবাসী এবং তারা পাজের জারি করা একটি ডিক্রি বাতিলের দাবি জানান। ওই ডিক্রির অধীনে কৃষকসহ অধিক পরিমাণে ডিজেল ক্রয়ের জন্য প্রতি লিটারের দাম ৮০ সেন্ট থেকে ১ ডলার ৫০ সেন্টে উন্নীত করা হয়েছে।
সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অন্যান্য দেশে জ্বালানি পাচার প্রতিরোধের উদ্দেশ্যে ডিজেলের দাম বৃদ্ধি করা হয়েছে। এই পাচারের ফলে বলিভিয়ায় জ্বালানির সংকট আরও তীব্র হয়ে উঠছে।
এক বিক্ষোভকারী দড়ি দিয়ে একটি ট্রাক্টর টানতে টানতে চিৎকার করে বলেন, ‘ডিজেল নেই, ডিজেল নেই!’
৪০ বছর বয়সী কৃষক এলেনা আইনে জানান, দাম বৃদ্ধির ফলে ‘সবার নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের খরচ ব্যাপকভাবে বেড়ে যাচ্ছে।’
জরুরি অবস্থার আওতায় এ ধরনের সমাবেশ নিষিদ্ধ হলেও পুলিশ বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করেনি।
বুধবার সরকার ক্ষুদ্র কৃষকদের জন্য সহায়তার ঘোষণা দেয়।
তাদের প্রতি মাসে সর্বোচ্চ ২ হাজার ৫০০ লিটার জ্বালানি আগের দামেই, অর্থাৎ প্রতি লিটার ৮০ সেন্টে কেনার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
তবে সরকারের এই ছাড়েও বিক্ষোভকারীরা সন্তুষ্ট হননি।
গত বছর, আন্দিজ অঞ্চলের দেশ বলিভিয়ায় চার দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকটের সময় পাজ ক্ষমতায় আসেন। তখন দেশটিতে জ্বালানি ও ডলারের তীব্র সংকট চলছিল।
ক্ষমতায় এসে, তার প্রথম পদক্ষেপগুলোর মধ্যে একটি ছিল বিদায়ী সমাজতান্ত্রিক সরকারের চালু করা জ্বালানি ভর্তুকি বাতিল করা। এই ভর্তুকির কারণে বলিভিয়ার মুদ্রার রিজার্ভে চাপ সৃষ্টি হয়েছিল।
তবে দেশের কিছু এলাকায় পেট্রল পাম্পে জ্বালানির জন্য অপেক্ষমাণ যানবাহনের সারি এখনও কয়েক কিলোমিটার পর্যন্ত দীর্ঘ হচ্ছে।
বলিভিয়ার প্রথম আদিবাসী প্রেসিডেন্ট মোরালেস ২০০৬ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত দেশটির নেতৃত্ব দিয়েছেন। তিনি পাজের অন্যতম কট্টর সমালোচক।
মোরালেস শুক্রবার রেড আমেরিকা টেলিভিশন নেটওয়ার্ককে বলেন, ‘এই সরকারের ভবিষ্যৎ খুব বেশি দিন নেই। রাজনীতিবিদ হিসেবে রড্রিগো পাজের ভবিষ্যৎ আরও কম।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ