০৪:১৩ পি.এম
বিদ্যালয় পরিচালনার জন্য ১২ জন শিক্ষক-কর্মচারী দায়িত্ব পালন করছেন, কিন্তু পুরো প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা মাত্র ১১ জন। পিরোজপুরের নাজিরপুরের পল্লীমঙ্গল বালিকা নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার পরিবেশের অভাবের অভিযোগ তুলেছেন অভিভাবকরা এবং স্থানীয়রা, যদিও সরকারের বিপুল পরিমাণ অর্থ বেতন-ভাতায় খরচ হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মচারীরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা অলস সময় কাটান এবং হাজিরা খাতায় কাল্পনিক শিক্ষার্থীর নাম লিখে সরকারি অর্থের অপচয় করেন। ১৯৯৫ সালে শিকদারমল্লিক ডাকঘরের অধীনে নৈলতলা এলাকায় পূর্ণশ্রী রায় বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়, কিন্তু প্রতিষ্ঠার তিন দশক পরও বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম কেবল কাগজপত্রেই সীমাবদ্ধ রয়েছে।
সম্প্রতি সরেজমিনে গিয়ে প্রধান শিক্ষককে পাওয়া যায়নি। তবে সাংবাদিকদের আগমনের খবর পেয়ে প্রধান শিক্ষক জ্যোতি প্রকাশ রায় লাইব্রেরিতে হাজির হন। অন্য শিক্ষকদেরও শ্রেণিকক্ষে পাওয়া যায়নি এবং তাদেরকে লাইব্রেরিতে অলস আড্ডায় মেতে থাকতে দেখা যায়।
আরও পড়ুন: ঢাকায় সরকারি বাসা নেওয়া চাকরিজীবীদেরকে কড়া হুঁশিয়ারি প্রতিমন্ত্রীর
বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর সংখ্যা জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক দাবি করেন ৩৫ জন। কিন্তু হাজিরা খাতায় ২২ জনের নাম পাওয়া যায় এবং শ্রেণিকক্ষে ঘুরে দেখা যায় মাত্র ১১ জন ছাত্রী। ষষ্ঠ শ্রেণির এক ছাত্রীর ভাষ্য, ‘আমাদের ক্লাসে মোট ৯ জন ছাত্রী। আমি সবার নামও বলতে পারি, কিন্তু আজ ক্লাসে আসছি মাত্র পাঁচজন।’ অথচ হাজিরা খাতায় নাম আটজনের।
সপ্তম শ্রেণির ক্লাসে উপস্থিত এক ছাত্রী জানায়, ‘বছরের শুরুতে আমাদের সঙ্গে সাতজন ছাত্রী ভর্তি হয়েছিল, কিন্তু এখন আমরা পাঁচজন আছি। প্রতিদিন এই পাঁচজনই ক্লাসে উপস্থিত থাকি।’ অষ্টম শ্রেণিতে উপস্থিত পাওয়া যায় মাত্র একজনকে, যার ভাষ্য, ‘আমাদের ক্লাসে মাত্র চারজন ছাত্রী আছে।’ হাজিরা খাতায় দেখা যায় সাতজনের নাম, কিন্তু ওই ছাত্রী জানায়, তাদের প্রতিষ্ঠানে সব মিলিয়ে ১৪ জনের বেশি ছাত্রী নেই।
নয়ন মণ্ডল নামের এক শিক্ষক বলেন, ‘স্কুলে ২২ ছাত্রী রয়েছে হাজিরা খাতায়। এখন আর আগের মতো বেশি ছাত্রী দেখানো যায় না।’ প্রধান শিক্ষক জ্যোতি প্রকাশ রায় শিক্ষকদের মন্তব্য ও হাজিরা বিষয়ে কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। তিনি বলেন, ‘এই স্কুলটি সরকারের বন্ধ করে দেওয়া উচিত। কারণ সরকারের এখানে অর্থের অপচয় হচ্ছে।’
এদিকে, বিদ্যালয়ের এমন দশায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকার বাসিন্দারা। স্থানীয় অভিভাবকদের ভাষ্য, ‘শিক্ষকদের অবহেলার কারণে আজ প্রতিষ্ঠানটির এমন অবস্থা। সরকারের লাখ লাখ টাকা প্রতিমাসে বেতন হিসেবে যাচ্ছে, অথচ শিক্ষকরা লাইব্রেরিতে অলস আড্ডা দিয়ে দিন পার করছেন।’
আরও পড়ুন: জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান হলেন আহসান হাবিব, প্রজ্ঞাপন জারি
অভিভাবকরা আরও বলেন, ভুয়া শিক্ষার্থী দেখিয়ে এভাবে রাষ্ট্রীয় অর্থ অপচয় করা এক ধরনের অপরাধ। তারা অবিলম্বে এর সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ী শিক্ষকদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানাচ্ছেন। নাজিরপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জহিরুল আলম বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন