সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৭:৩৮ পি.এম
যুদ্ধের কারণে ফ্লাইটের বিপর্যয়ের ফলে নির্ধারিত সময়ে সৌদি আরবে পৌঁছাতে না পারা এবং এ অবস্থায় আকামার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়া বাংলাদেশি কর্মীরা দেশটিতে প্রবেশের সুযোগ পাবেন। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী জানিয়েছেন, পরবর্তীতে সৌদি আরবে গেলে ইলেকট্রনিক সিস্টেমের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তাঁদের এন্ট্রি সম্পন্ন হবে।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর নিউ ইস্কাটনে বিয়াম ফাউন্ডেশন অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর উদ্দেশ্যে বলেন, সরকার ও এজেন্সিগুলো একসঙ্গে কাজ করলে জনশক্তি রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব। তিনি উল্লেখ করেন, কর্মীদের অভিবাসন ব্যয় কমাতে হবে। যেখানে বিদেশে যাওয়ার জন্য তিন লাখ টাকার প্রয়োজন, সেখানে সাত থেকে আট লাখ টাকা নেওয়া অনুচিত। ব্যবসা হালাল উপায়ে পরিচালনা করতে হবে এবং কর্মীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় থেকে বিরত থাকতে হবে।
মন্ত্রী আরও জানান, কর্মীদের বিদেশ গমনের প্রক্রিয়া সহজ করার জন্য এবং ভিসার বৈধতা দ্রুত যাচাইয়ের জন্য জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোতে (বিএমইটি) আধুনিক প্রযুক্তি চালুর কাজ চলছে। যেকোনো অভিযোগ নিষ্পত্তিতে উন্মুক্ত ইমেইল সেবা চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং তা প্রচারের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
মন্ত্রী গন্তব্য দেশের আইনকানুন মেনে চলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি এ বিষয়ে প্রচার-প্রচারণায় সরকারের পাশাপাশি রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোকেও এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক এবং বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ড. এনামুল হক চৌধুরী। গেস্ট অব অনার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত ড. আবদুল্লাহ জাফর এইচ বিন আবিয়া। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোখতার আহমেদ।
প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক সৌদি আরবে কারাবন্দি বাংলাদেশিদের আগামী রমজানে বিশেষ ক্ষমার আওতায় আনার বিষয়ে সৌদি সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তিনি দ্বিপক্ষীয় সমস্যা আলোচনা করে সমাধানের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন এবং রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোকে অভিবাসন ব্যয় কমানোর আহ্বান জানান।
সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত ড. আবদুল্লাহ জাফর এইচ বিন আবিয়া বলেন, সৌদি আরবে নিজ দেশের নাগরিকদের পর সবচেয়ে বেশি বসবাস করেন বাংলাদেশের কর্মীরা। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, দুই দেশের বিদ্যমান সুসম্পর্ক ভবিষ্যতে শ্রম খাতে আরও জোরদার হবে।
আলোচনা সভায় বিএমইটির মহাপরিচালক জামিল আহমেদ, ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের মহাপরিচালক মো. আসাদুজ্জামান এবং বোয়েসেলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ রাশেদুল হকসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও রিক্রুটিং এজেন্সির প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় রিক্রুটিং এজেন্সির প্রতিনিধিরা তাকামুল পরীক্ষা সহজ করা, ফি কমানো, বিএমইটির জনশক্তি-সংক্রান্ত জটিলতা নিরসন এবং এজেন্সিগুলোকে আরও শক্তিশালী ও কার্যকর করার দাবি জানান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান হিসেবে এবং অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের পূর্ণ সচিব হিসেবে মো. আহসান হাবিবকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উচ্চতর নিয়োগ-১ শাখা থেকে রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এর আগে, তিনি এই পদে ভারপ্রাপ্ত সচিব ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব জেতী প্রু স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ভারপ্রাপ্ত সচিব এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. আহসান হাবিবকে রাষ্ট্রপতির ১০% কোটায় সচিব, অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ ও চেয়ারম্যান, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) পদে প্রেষণে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এছাড়া, অবসরে যাওয়ার পূর্বে তিনি নিজ ক্যাডারে প্রত্যাবর্তন করবেন।
জনস্বার্থে জারীকৃত এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এটি উল্লেখযোগ্য যে, আহসান হাবিব বিসিএস ১৫তম ব্যাচের কর ক্যাডারে প্রথম স্থান অধিকার করে ১৯৯৫ সালের ১৫ নভেম্বর সরকারি চাকরিতে যোগদান করেন। দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি কর প্রশাসন ও ব্যবস্থাপনা দক্ষতার সাথে পরিচালনা করেছেন। তিনি কর অঞ্চল-১/২/৩/৭/৮/১৫, ঢাকা, কর অঞ্চল-খুলনা, কর অঞ্চল-রংপুর, কর আপিল অঞ্চল-খুলনা, কর আপিল অঞ্চল-রাজশাহী ও কেন্দ্রীয় কর জরিপ অঞ্চলসহ বিভিন্ন কর্মস্থলে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন।
এছাড়া, তিনি সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেল (সিআইসি) এবং কর পরিদর্শন পরিদপ্তরের মহাপরিচালক ও অতিরিক্ত মহাপরিচালক পদে দায়িত্ব পালন করেছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকঢোল, কাঁশি-ঠিকারির বাদ্য, জারি-সারি গানের সুর এবং হাজারো মানুষের উচ্ছ্বাসে মুখরিত হয়ে উঠেছে গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার কালিগঞ্জ। সোমবার (২৬ অক্টোবর) বর্ণিল আয়োজনে শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী ঐতিহ্যবাহী ‘বিল বাঘিয়ার নৌকাবাইচ’, যা আবহমান বাংলার দুই শতাব্দীর ঐতিহ্য ধারণ করে। স্থানীয় মাঝি-মাল্লাদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে এই লোকজ উৎসব বছরের পর বছর ধরে টিকে আছে, কোনো আনুষ্ঠানিক আয়োজক কমিটি কিংবা পুরস্কারের ব্যবস্থা ছাড়াই।
নৌকা বাইচকে কেন্দ্র করে কালিগঞ্জে বসেছে হাজারো মানুষের মিলনমেলা। কোটালীপাড়া উপজেলার কলাবাড়ী ইউনিয়নের বাবুর খালে, কালিগঞ্জ বাজার থেকে খেজুরবাড়ি পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকাজুড়ে চলছে এই প্রতিযোগিতা ও মেলা। গোপালগঞ্জ ছাড়াও মাদারীপুর, পিরোজপুর ও বরিশালের বিভিন্ন এলাকার প্রতিযোগীরা সরেঙ্গা, ছিপ, কোষা, চিলাকাটা ও জয়নগর বাচারী নৌকা নিয়ে এতে অংশগ্রহণ করছেন।
সোমবার দুপুরে শুরু হওয়া নৌকা বাইচ চলে সন্ধ্যা পর্যন্ত। নানা রঙে ও বিচিত্র সাজে সজ্জিত বিশাল নৌকাগুলো যখন খালের বুকে পাল্লা দিয়ে এগিয়ে যায়, তখন দুই পাড়ে দাঁড়িয়ে থাকা দর্শকদের উল্লাসে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। বৈঠার ছলাৎ-ছলাৎ শব্দ, মাঝিদের সমবেত হাঁকডাক এবং দর্শকদের করতালি ও হর্ষধ্বনিতে সৃষ্টি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ।
ঠিকারি ও কাঁশির বাদ্যের তালে জারি-সারি গানের সুর, মাঝিদের ছন্দময় বৈঠা চালানো এবং ‘হেঁইয়ো হেঁইয়ো’ ধ্বনিতে ফুটে ওঠে গ্রামবাংলার চিরচেনা রূপ। নৌকা বাইচ ঘিরে বসেছে মেলাও। দূর-দূরান্ত থেকে আসা নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোরসহ নানা বয়সী মানুষের পদচারণায় উৎসবস্থল পরিণত হয়েছে আনন্দের মিলনমেলায়।
প্রাচীন বাংলার কৃষ্টি, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য ধারণ করে চলা এই নৌকাবাইচ শুধুমাত্র প্রতিযোগিতা নয়; এটি কোটালীপাড়ার মানুষের আবেগ, ভালোবাসা এবং শেকড়ের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা এক প্রাণের উৎসব।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দ্বিতীয় দিনেও দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলবে নৌকাবাইচ। বুধবার (২৮ অক্টোবর) তৃতীয় ও শেষ দিন দুপুরে শুরু হয়ে সন্ধ্যায় শেষ হবে তিন দিনের এই উৎসব। এরপরই ভাঙবে হাজারো মানুষের মিলনমেলা।
কোটালীপাড়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল বশার হাওলাদার বলেন, তিনি ছোটবেলা থেকেই এই নৌকা বাইচ দেখে আসছেন। এখানে কাউকে বিশেষ দায়িত্ব নিয়ে আয়োজন করতে হয় না। মাঝি-মাল্লারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে নৌকা নিয়ে এসে বাইচে অংশ নেন। কোনো আয়োজক কমিটি নেই, পুরস্কারের ব্যবস্থাও নেই। তারপরও প্রায় ২০০ বছর ধরে এই উৎসব চলে আসছে। এটি কোটালীপাড়ার নিজস্ব ঐতিহ্য। সব প্রতিকূলতা মোকাবেলা করে এই ঐতিহ্য টিকিয়ে রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
নৌকাবাইচ দেখতে আসা শিক্ষার্থী পলাশ বাড়ৈ, শান্তা ইসলাম, আহমদ আলী, ফরিদ শেখ, অনন্যা হালদার, প্রিয়ন্তি রায় পিউ এবং গৃহবধূ জ্যোৎস্না অধিকারী বলেন, তাঁরা জীবনে অনেক জায়গায় নৌকাবাইচ দেখেছেন। তবে এখানকার মতো এত বড়, রঙিন ও রাজকীয় ঢঙের নৌকা বাইচ আর কোথাও দেখেননি। তাঁদের ভাষায়, বাইচ দেখে মন জুড়িয়ে যায়। নৌকাবাইচে যে এত আনন্দ, তা না দেখলে বোঝা যায় না।
নৌকা বাইচে অংশ নেওয়া কোটালীপাড়া উপজেলার নৈয়ারবাড়ি গ্রামের সুকমল সরকার বলেন, তিন দিনের এই নৌকাবাইচে অংশ নিয়ে তাঁরা দর্শনার্থীদের আনন্দ দেন এবং নিজেরাও আনন্দ উপভোগ করেন। শত শত বছর ধরে তাঁদের পূর্বপুরুষেরা এই উৎসবে অংশ নিয়ে ঐতিহ্য সৃষ্টি করেছেন। তাঁরা সেই ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছেন এবং পরবর্তী প্রজন্মও এই ঐতিহ্য ধরে রাখবে বলে আশা করেন তিনি।
আরেক মাল্লা অতুল বাড়ে বলেন, আগে বিলে নৌকা বাইচ হতো। এখন বিলে পানি না থাকায় খালে বাইচ হয়। খাল যত দিন টিকে থাকবে, তত দিন নৌকাবাইচও টিকে থাকবে। তাই এই ঐতিহ্য রক্ষায় বাবুর খাল সংরক্ষণ করা জরুরি।
কলাবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট বিজন বিশ্বাস বলেন, নদীমাতৃক এই অঞ্চলের ২০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী বাঘিয়া বিলের নৌকা বাইচ তাঁদের গর্ব। আবহমান গ্রামবাংলার প্রাচীন কৃষ্টি, সংস্কৃতি ও স্বকীয়তা ধরে রাখতে হবে। এই ঐতিহ্য আগামী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
গোপালগঞ্জ উদীচীর সভাপতি নাজমুল ইসলাম বলেন, দুই শতাব্দীর ঐতিহ্য, মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এবং প্রাণের উচ্ছ্বাসে বিল বাঘিয়ার নৌকা বাইচ প্রমাণ করে, বাংলার লোকজ সংস্কৃতি মানুষের হৃদয়ে কতটা গভীরভাবে প্রোথিত। বাবুর খালের ঢেউয়ে বৈঠার ছন্দ যত দিন বেঁচে থাকবে, তত দিন কোটালীপাড়ার এই ঐতিহ্যবাহী আনন্দ উৎসবও টিকে থাকবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে গত বছরের সামরিক সংঘাতের পর ব্রহ্মস ক্ষেপণাস্ত্রের প্রতি আন্তর্জাতিক বাজারে আগ্রহ বৃদ্ধি পেয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে, ক্ষেপণাস্ত্রটির সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য একাধিক উন্নয়ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ব্রহ্মস অ্যারোস্পেস। খবরটি প্রকাশ করেছে আরটি-ইংলিশ।
ভারত ও রাশিয়ার যৌথ উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক জয়তীর্থ যোশি সম্প্রতি স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ক্ষেপণাস্ত্রটির কার্যক্ষমতা এবং পরিচালনাগত সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি নতুন সংস্করণ তৈরির কাজও চলছে।
ব্রহ্মস নামটি এসেছে ভারতের ব্রহ্মপুত্র ও রাশিয়ার মস্কভা নদীর নাম থেকে। এই ক্ষেপণাস্ত্রটি স্থল, সমুদ্র এবং পানির নিচের বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম থেকে উৎক্ষেপণ করা যায় এবং এটি নির্ভুলভাবে দূরবর্তী লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম।
গত বছর ভারতের জম্মু ও কাশ্মীরে সন্ত্রাসী হামলার পর ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন ব্যবহার করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে। ‘অপারেশন সিঁদুর’ নামে পরিচিত অভিযানে ভারত ব্রহ্মস ব্যবহার করে গুরুত্বপূর্ণ ও সুরক্ষিত লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায়। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, এসব লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে পাকিস্তানের যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি এফ-১৬ যুদ্ধবিমানের হ্যাঙ্গারও ছিল।
ভারতের দাবি, ওই সংঘাতে ব্রহ্মসের কোনো ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা যায়নি। এর পর, বিভিন্ন দেশের মধ্যে ক্ষেপণাস্ত্রটি কেনার বিষয়ে আগ্রহ বৃদ্ধি পেয়েছে।
বাড়ছে ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা
ব্রহ্মসের প্রাথমিক সংস্করণ ছিল স্থল থেকে উৎক্ষেপণযোগ্য ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র। শব্দের গতির প্রায় তিন গুণ গতিতে চলতে সক্ষম এই ক্ষেপণাস্ত্র ২০০ থেকে ৩০০ কেজি ওজনের ওয়ারহেড বহন করতে পারে। শুরুতে এর পাল্লা ছিল ২৯০ কিলোমিটার। ধারাবাহিক উন্নয়নের মাধ্যমে এর সক্ষমতা বৃদ্ধি করা হয়েছে।
২০২৩ সালে ভারতীয় বিমানবাহিনী ৪৫০ কিলোমিটার পাল্লার একটি সংস্করণের সফল পরীক্ষা সম্পন্ন করেছে। ‘ব্রহ্মস-এ’ নামে পরিচিত এই সংস্করণটি এসইউ-৩০এমকেআই যুদ্ধবিমানে ব্যবহার করা যায়। এর ফলে, ভারতীয় বিমানবাহিনী দূর থেকে শত্রুর গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় নির্ভুলভাবে আঘাত হানার সক্ষমতা অর্জন করেছে।
এছাড়া, ব্রহ্মসের ব্লক-৩ সংস্করণটি স্থলভিত্তিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলার জন্য তৈরি করা হয়েছে। এটি ভূমির খুব কাছ দিয়ে উড়ে অপ্রত্যাশিত দিক থেকে লক্ষ্যবস্তুর কাছে পৌঁছাতে সক্ষম। ফলে, শত্রুপক্ষের প্রতিরক্ষাব্যবস্থার জন্য ক্ষেপণাস্ত্রটি প্রতিহত করা কঠিন হতে পারে।
আসছে হালকা সংস্করণ ব্রহ্মস-এনজি
ব্রহ্মস অ্যারোস্পেসের অন্যতম বড় প্রকল্প হলো ব্রহ্মস-এনজি। এটি হবে তুলনামূলকভাবে হালকা এবং আকাশ থেকে উৎক্ষেপণযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র। ভারতের তেজসসহ আরও কয়েক ধরনের যুদ্ধবিমানে এটি ব্যবহার করা যাবে।
প্রতিষ্ঠানটির পরিকল্পনা অনুযায়ী, এসইউ-৩০এমকেআই যুদ্ধবিমান থেকে একসঙ্গে তিনটি ব্রহ্মস-এনজি ক্ষেপণাস্ত্র বহন ও নিক্ষেপ করা সম্ভব হবে। নতুন সংস্করণে ভারতের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি উপাদানের ব্যবহার বৃদ্ধি করা হবে। পাশাপাশি এতে উন্নত উপকরণ ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে।
২০২৭-২৮ সালের মধ্যে এই ক্ষেপণাস্ত্রের প্রাথমিক পরীক্ষামূলক মডেল উন্মোচনের প্রত্যাশা করছে ভারত ও রাশিয়ার যৌথ উদ্যোগের প্রতিষ্ঠানটি।
১ হাজার ৫০০ কিলোমিটার পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে। প্রস্তাবিত এই ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা হতে পারে ১ হাজার ৫০০ কিলোমিটার। তবে প্রকল্পটি এখনো ধারণাগত পর্যায়ে রয়েছে।
জয়তীর্থ যোশির ভাষ্য অনুযায়ী, ক্ষেপণাস্ত্রটির পাল্লা বাড়ানোর কাজ ধাপে ধাপে এগিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এর কার্যক্ষমতা যাচাই করতে স্থল, সমুদ্র এবং আকাশ থেকে পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ করা হবে। এ বিষয়ে রাশিয়ার অংশীদার প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা চলছে।
এদিকে, হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির পরিকল্পনাও করছে ব্রহ্মস অ্যারোস্পেস। ‘ব্রহ্মস-২’ নামে পরিচিত এই প্রকল্পে শব্দের গতির পাঁচ গুণ বা তার বেশি গতিতে চলতে সক্ষম ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রস্তাবিত এই ক্ষেপণাস্ত্রে বায়ু থেকে অক্সিজেন গ্রহণকারী স্ক্র্যামজেট ইঞ্জিন ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে প্রকল্পটি এখনো উন্নয়ন ও পরিকল্পনার পর্যায়ে রয়েছে।
বিদেশি ক্রেতাদের আগ্রহ বাড়ছে
ব্রহ্মস ক্ষেপণাস্ত্রের অন্যতম প্রথম বিদেশি ক্রেতা ফিলিপাইন। ২০২২ সালে দেশটির সঙ্গে ৩৭ কোটি ৫০ লাখ ডলারের চুক্তি করে ভারত। ২০২৪ সালের এপ্রিলে প্রথম চালান এবং ২০২৫ সালের এপ্রিলে দ্বিতীয় চালান সরবরাহ করা হবে।
এছাড়া, ভিয়েতনামকে ক্ষেপণাস্ত্রটি সরবরাহের বিষয়ে চুক্তির কথা চলতি বছরের জুনে নিশ্চিত করেছে ভারত। ইন্দোনেশিয়াও এটি কেনার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছে এবং সংগ্রহের পরিকল্পনা এগিয়ে নিয়েছে।
মালয়েশিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, মিসর, চিলি ও দক্ষিণ আফ্রিকাসহ এক ডজনের বেশি দেশ ব্রহ্মস ক্ষেপণাস্ত্রব্যবস্থা মূল্যায়ন করেছে অথবা কেনার বিষয়ে আনুষ্ঠানিক আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
উৎপাদন বাড়ানোর প্রস্তুতি
ভারতের প্রতিরক্ষা শিল্পের গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পগুলোর একটি হলো ব্রহ্মস। এই প্রকল্পটি দেশটির অস্ত্র আমদানিনির্ভরতা কমানো এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম রপ্তানি বাড়ানোর লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
বর্তমানে ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর জন্য ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে ব্রহ্মস অ্যারোস্পেস। সম্প্রতি, আরো যুদ্ধজাহাজে ক্ষেপণাস্ত্রটি যুক্ত করতে অতিরিক্ত উৎক্ষেপণব্যবস্থা ও অগ্নিনিয়ন্ত্রণব্যবস্থা কেনার চুক্তি করেছে ভারত।
ভারতের হায়দরাবাদ, নাগপুর, পিলানি ও লক্ষ্ণৌতে ব্রহ্মসের উৎপাদনকেন্দ্র রয়েছে। পরবর্তী প্রজন্মের ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির জন্য বিশেষ প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করতে গবেষণা ও উন্নয়নকেন্দ্রও স্থাপন করা হয়েছে।
চাহিদা বাড়ার সম্ভাবনা বিবেচনায় নিয়ে সরবরাহব্যবস্থা শক্তিশালী করার উদ্যোগ নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। প্রতিটি ব্যবস্থা ও উপব্যবস্থার জন্য শিল্প সহযোগীর সংখ্যা বর্তমানের এক বা দুজন থেকে বাড়িয়ে সর্বোচ্চ ৪৫ জন করার পরিকল্পনা রয়েছে।
ভারত ২০২৯ সালের মধ্যে বার্ষিক প্রতিরক্ষা উৎপাদন ৩ হাজার ১০০ কোটি ডলারে উন্নীত করতে চায়। এর মধ্যে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা ৫৫০ কোটি ডলার। গত মার্চে শেষ হওয়া অর্থবছরে দেশটির প্রতিরক্ষা রপ্তানি আগের বছরের তুলনায় ৬৭ শতাংশ বেড়ে ৪০০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা মহানগরীকে পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য নগরী হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে গঠিত পরিবীক্ষণ টিমগুলোকে কঠোর আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশনা দিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। একইসাথে, ঢাকায় সরকারি বাসা নিয়ে বসবাসরত চাকরিজীবীদের উদ্দেশে তিনি একটি কঠোর হুঁশিয়ারি বার্তা প্রদান করেছেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, "ঢাকা শহরের পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে কোনো রকম আপস করা হবে না।" তিনি আরও উল্লেখ করেছেন যে, সরকারি বাসস্থানে অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ অথবা এডিস মশার লার্ভা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ফ্ল্যাটের বরাদ্দ বাতিল করা হবে এবং আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে বড় অঙ্কের জরিমানা আরোপ করা হবে।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) বিকেলে তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শাপলা হলে আয়োজিত ‘ঢাকা মহানগরীর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম বাস্তবায়ন ও পরিবীক্ষণ’ বিষয়ক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
মীর শাহে আলম বলেন, "ঢাকা শহরকে বাসযোগ্য নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে প্রধানমন্ত্রী প্রথম দিন থেকেই অত্যন্ত সচেষ্ট।" তিনি উল্লেখ করেন যে, বিভিন্ন সরকারি হাসপাতাল ও কোয়ার্টারের অবস্থা তিনি নিজে পরিদর্শন করেছেন। তবে, তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, বড় বড় সরকারি কোয়ার্টার, বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্ট ও হাসপাতাল পরিদর্শন করে এডিস মশার লার্ভা ও চরম অবহেলার চিত্র দেখতে পেয়েছেন।
পরিবীক্ষণ কমিটির সদস্যদের উদ্দেশে তিনি বলেন, "আপনারা প্রধানমন্ত্রীর প্রতিনিধি হিসেবে মাঠে কাজ করছেন।" তিনি নির্দেশনা দেন, যেখানে অনিয়ম ও লার্ভা পাওয়া যাবে, সেখানেই তাৎক্ষণিক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ ও কঠোর জরিমানা আদায় করতে হবে। তিনি বলেন, সরকারি কর্মচারীরা যদি নিজেদের কোয়ার্টার পরিষ্কার রাখতে ব্যর্থ হন, তাহলে তাদের সরকারি বাসায় থাকার কোনো যোগ্যতা নেই।
নগরীর সৌন্দর্য ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী জানান, ঢাকার হাতিরঝিল, ধানমন্ডি, বনানী ও গুলশান লেকের পরিচ্ছন্নতা ফিরিয়ে আনতে রাজউক ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন কাজ করছে। এছাড়া, উত্তর সিটি করপোরেশনের ২৯টি এবং দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ২৬টি খাল পুনঃখনন, গাইড ওয়াল নির্মাণ ও নেটিং করার কাজ চলমান রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, "প্লাস্টিক বা লোহার ডাস্টবিন চুরি হয়ে যাওয়ার বিষয়টি মাথায় রেখে ফাইবার বোর্ড দিয়ে নতুন বিন তৈরির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।" এই নতুন বিনগুলো দুই সিটি করপোরেশন পর্যায়ক্রমে স্থাপন করবে।
প্রতিমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, টিমগুলোর সমন্বিত ও কঠোর ভূমিকা থাকলে আগামী এক-দুই মাসের মধ্যে ঢাকার দৃশ্যমান পরিবর্তন আসবে।
এছাড়া, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের আওতাধীন প্রতিটি আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের এলাকাভিত্তিক ২০টি জোনে ২০টি বিশেষ পরিবীক্ষণ কমিটি গঠন করা হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা উত্তরে ১০টি এবং দক্ষিণে ১০টি কমিটি কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এসব জোনাল কমিটির প্রধান হিসেবে নেতৃত্ব দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিচালক পর্যায়ের কর্মকর্তারা।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর। এছাড়া, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিবীক্ষণের দায়িত্বে থাকা ২০ কমিটির সদস্যরাও এতে অংশগ্রহণ করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ