সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৭:৪০ পি.এম
ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে গত বছরের সামরিক সংঘাতের পর ব্রহ্মস ক্ষেপণাস্ত্রের প্রতি আন্তর্জাতিক বাজারে আগ্রহ বৃদ্ধি পেয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে, ক্ষেপণাস্ত্রটির সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য একাধিক উন্নয়ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ব্রহ্মস অ্যারোস্পেস। খবরটি প্রকাশ করেছে আরটি-ইংলিশ।
ভারত ও রাশিয়ার যৌথ উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক জয়তীর্থ যোশি সম্প্রতি স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ক্ষেপণাস্ত্রটির কার্যক্ষমতা এবং পরিচালনাগত সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি নতুন সংস্করণ তৈরির কাজও চলছে।
ব্রহ্মস নামটি এসেছে ভারতের ব্রহ্মপুত্র ও রাশিয়ার মস্কভা নদীর নাম থেকে। এই ক্ষেপণাস্ত্রটি স্থল, সমুদ্র এবং পানির নিচের বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম থেকে উৎক্ষেপণ করা যায় এবং এটি নির্ভুলভাবে দূরবর্তী লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম।
গত বছর ভারতের জম্মু ও কাশ্মীরে সন্ত্রাসী হামলার পর ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন ব্যবহার করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে। ‘অপারেশন সিঁদুর’ নামে পরিচিত অভিযানে ভারত ব্রহ্মস ব্যবহার করে গুরুত্বপূর্ণ ও সুরক্ষিত লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায়। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, এসব লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে পাকিস্তানের যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি এফ-১৬ যুদ্ধবিমানের হ্যাঙ্গারও ছিল।
ভারতের দাবি, ওই সংঘাতে ব্রহ্মসের কোনো ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা যায়নি। এর পর, বিভিন্ন দেশের মধ্যে ক্ষেপণাস্ত্রটি কেনার বিষয়ে আগ্রহ বৃদ্ধি পেয়েছে।
বাড়ছে ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা
ব্রহ্মসের প্রাথমিক সংস্করণ ছিল স্থল থেকে উৎক্ষেপণযোগ্য ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র। শব্দের গতির প্রায় তিন গুণ গতিতে চলতে সক্ষম এই ক্ষেপণাস্ত্র ২০০ থেকে ৩০০ কেজি ওজনের ওয়ারহেড বহন করতে পারে। শুরুতে এর পাল্লা ছিল ২৯০ কিলোমিটার। ধারাবাহিক উন্নয়নের মাধ্যমে এর সক্ষমতা বৃদ্ধি করা হয়েছে।
২০২৩ সালে ভারতীয় বিমানবাহিনী ৪৫০ কিলোমিটার পাল্লার একটি সংস্করণের সফল পরীক্ষা সম্পন্ন করেছে। ‘ব্রহ্মস-এ’ নামে পরিচিত এই সংস্করণটি এসইউ-৩০এমকেআই যুদ্ধবিমানে ব্যবহার করা যায়। এর ফলে, ভারতীয় বিমানবাহিনী দূর থেকে শত্রুর গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় নির্ভুলভাবে আঘাত হানার সক্ষমতা অর্জন করেছে।
এছাড়া, ব্রহ্মসের ব্লক-৩ সংস্করণটি স্থলভিত্তিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলার জন্য তৈরি করা হয়েছে। এটি ভূমির খুব কাছ দিয়ে উড়ে অপ্রত্যাশিত দিক থেকে লক্ষ্যবস্তুর কাছে পৌঁছাতে সক্ষম। ফলে, শত্রুপক্ষের প্রতিরক্ষাব্যবস্থার জন্য ক্ষেপণাস্ত্রটি প্রতিহত করা কঠিন হতে পারে।
আসছে হালকা সংস্করণ ব্রহ্মস-এনজি
ব্রহ্মস অ্যারোস্পেসের অন্যতম বড় প্রকল্প হলো ব্রহ্মস-এনজি। এটি হবে তুলনামূলকভাবে হালকা এবং আকাশ থেকে উৎক্ষেপণযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র। ভারতের তেজসসহ আরও কয়েক ধরনের যুদ্ধবিমানে এটি ব্যবহার করা যাবে।
প্রতিষ্ঠানটির পরিকল্পনা অনুযায়ী, এসইউ-৩০এমকেআই যুদ্ধবিমান থেকে একসঙ্গে তিনটি ব্রহ্মস-এনজি ক্ষেপণাস্ত্র বহন ও নিক্ষেপ করা সম্ভব হবে। নতুন সংস্করণে ভারতের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি উপাদানের ব্যবহার বৃদ্ধি করা হবে। পাশাপাশি এতে উন্নত উপকরণ ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে।
২০২৭-২৮ সালের মধ্যে এই ক্ষেপণাস্ত্রের প্রাথমিক পরীক্ষামূলক মডেল উন্মোচনের প্রত্যাশা করছে ভারত ও রাশিয়ার যৌথ উদ্যোগের প্রতিষ্ঠানটি।
১ হাজার ৫০০ কিলোমিটার পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে। প্রস্তাবিত এই ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা হতে পারে ১ হাজার ৫০০ কিলোমিটার। তবে প্রকল্পটি এখনো ধারণাগত পর্যায়ে রয়েছে।
জয়তীর্থ যোশির ভাষ্য অনুযায়ী, ক্ষেপণাস্ত্রটির পাল্লা বাড়ানোর কাজ ধাপে ধাপে এগিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এর কার্যক্ষমতা যাচাই করতে স্থল, সমুদ্র এবং আকাশ থেকে পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ করা হবে। এ বিষয়ে রাশিয়ার অংশীদার প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা চলছে।
এদিকে, হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির পরিকল্পনাও করছে ব্রহ্মস অ্যারোস্পেস। ‘ব্রহ্মস-২’ নামে পরিচিত এই প্রকল্পে শব্দের গতির পাঁচ গুণ বা তার বেশি গতিতে চলতে সক্ষম ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রস্তাবিত এই ক্ষেপণাস্ত্রে বায়ু থেকে অক্সিজেন গ্রহণকারী স্ক্র্যামজেট ইঞ্জিন ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে প্রকল্পটি এখনো উন্নয়ন ও পরিকল্পনার পর্যায়ে রয়েছে।
বিদেশি ক্রেতাদের আগ্রহ বাড়ছে
ব্রহ্মস ক্ষেপণাস্ত্রের অন্যতম প্রথম বিদেশি ক্রেতা ফিলিপাইন। ২০২২ সালে দেশটির সঙ্গে ৩৭ কোটি ৫০ লাখ ডলারের চুক্তি করে ভারত। ২০২৪ সালের এপ্রিলে প্রথম চালান এবং ২০২৫ সালের এপ্রিলে দ্বিতীয় চালান সরবরাহ করা হবে।
এছাড়া, ভিয়েতনামকে ক্ষেপণাস্ত্রটি সরবরাহের বিষয়ে চুক্তির কথা চলতি বছরের জুনে নিশ্চিত করেছে ভারত। ইন্দোনেশিয়াও এটি কেনার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছে এবং সংগ্রহের পরিকল্পনা এগিয়ে নিয়েছে।
মালয়েশিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, মিসর, চিলি ও দক্ষিণ আফ্রিকাসহ এক ডজনের বেশি দেশ ব্রহ্মস ক্ষেপণাস্ত্রব্যবস্থা মূল্যায়ন করেছে অথবা কেনার বিষয়ে আনুষ্ঠানিক আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
উৎপাদন বাড়ানোর প্রস্তুতি
ভারতের প্রতিরক্ষা শিল্পের গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পগুলোর একটি হলো ব্রহ্মস। এই প্রকল্পটি দেশটির অস্ত্র আমদানিনির্ভরতা কমানো এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম রপ্তানি বাড়ানোর লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
বর্তমানে ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর জন্য ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে ব্রহ্মস অ্যারোস্পেস। সম্প্রতি, আরো যুদ্ধজাহাজে ক্ষেপণাস্ত্রটি যুক্ত করতে অতিরিক্ত উৎক্ষেপণব্যবস্থা ও অগ্নিনিয়ন্ত্রণব্যবস্থা কেনার চুক্তি করেছে ভারত।
ভারতের হায়দরাবাদ, নাগপুর, পিলানি ও লক্ষ্ণৌতে ব্রহ্মসের উৎপাদনকেন্দ্র রয়েছে। পরবর্তী প্রজন্মের ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির জন্য বিশেষ প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করতে গবেষণা ও উন্নয়নকেন্দ্রও স্থাপন করা হয়েছে।
চাহিদা বাড়ার সম্ভাবনা বিবেচনায় নিয়ে সরবরাহব্যবস্থা শক্তিশালী করার উদ্যোগ নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। প্রতিটি ব্যবস্থা ও উপব্যবস্থার জন্য শিল্প সহযোগীর সংখ্যা বর্তমানের এক বা দুজন থেকে বাড়িয়ে সর্বোচ্চ ৪৫ জন করার পরিকল্পনা রয়েছে।
ভারত ২০২৯ সালের মধ্যে বার্ষিক প্রতিরক্ষা উৎপাদন ৩ হাজার ১০০ কোটি ডলারে উন্নীত করতে চায়। এর মধ্যে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা ৫৫০ কোটি ডলার। গত মার্চে শেষ হওয়া অর্থবছরে দেশটির প্রতিরক্ষা রপ্তানি আগের বছরের তুলনায় ৬৭ শতাংশ বেড়ে ৪০০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা মহানগরীকে পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য নগরী হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে গঠিত পরিবীক্ষণ টিমগুলোকে কঠোর আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশনা দিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। একইসাথে, ঢাকায় সরকারি বাসা নিয়ে বসবাসরত চাকরিজীবীদের উদ্দেশে তিনি একটি কঠোর হুঁশিয়ারি বার্তা প্রদান করেছেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, "ঢাকা শহরের পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে কোনো রকম আপস করা হবে না।" তিনি আরও উল্লেখ করেছেন যে, সরকারি বাসস্থানে অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ অথবা এডিস মশার লার্ভা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ফ্ল্যাটের বরাদ্দ বাতিল করা হবে এবং আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে বড় অঙ্কের জরিমানা আরোপ করা হবে।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) বিকেলে তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শাপলা হলে আয়োজিত ‘ঢাকা মহানগরীর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম বাস্তবায়ন ও পরিবীক্ষণ’ বিষয়ক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
মীর শাহে আলম বলেন, "ঢাকা শহরকে বাসযোগ্য নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে প্রধানমন্ত্রী প্রথম দিন থেকেই অত্যন্ত সচেষ্ট।" তিনি উল্লেখ করেন যে, বিভিন্ন সরকারি হাসপাতাল ও কোয়ার্টারের অবস্থা তিনি নিজে পরিদর্শন করেছেন। তবে, তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, বড় বড় সরকারি কোয়ার্টার, বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্ট ও হাসপাতাল পরিদর্শন করে এডিস মশার লার্ভা ও চরম অবহেলার চিত্র দেখতে পেয়েছেন।
পরিবীক্ষণ কমিটির সদস্যদের উদ্দেশে তিনি বলেন, "আপনারা প্রধানমন্ত্রীর প্রতিনিধি হিসেবে মাঠে কাজ করছেন।" তিনি নির্দেশনা দেন, যেখানে অনিয়ম ও লার্ভা পাওয়া যাবে, সেখানেই তাৎক্ষণিক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ ও কঠোর জরিমানা আদায় করতে হবে। তিনি বলেন, সরকারি কর্মচারীরা যদি নিজেদের কোয়ার্টার পরিষ্কার রাখতে ব্যর্থ হন, তাহলে তাদের সরকারি বাসায় থাকার কোনো যোগ্যতা নেই।
নগরীর সৌন্দর্য ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী জানান, ঢাকার হাতিরঝিল, ধানমন্ডি, বনানী ও গুলশান লেকের পরিচ্ছন্নতা ফিরিয়ে আনতে রাজউক ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন কাজ করছে। এছাড়া, উত্তর সিটি করপোরেশনের ২৯টি এবং দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ২৬টি খাল পুনঃখনন, গাইড ওয়াল নির্মাণ ও নেটিং করার কাজ চলমান রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, "প্লাস্টিক বা লোহার ডাস্টবিন চুরি হয়ে যাওয়ার বিষয়টি মাথায় রেখে ফাইবার বোর্ড দিয়ে নতুন বিন তৈরির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।" এই নতুন বিনগুলো দুই সিটি করপোরেশন পর্যায়ক্রমে স্থাপন করবে।
প্রতিমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, টিমগুলোর সমন্বিত ও কঠোর ভূমিকা থাকলে আগামী এক-দুই মাসের মধ্যে ঢাকার দৃশ্যমান পরিবর্তন আসবে।
এছাড়া, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের আওতাধীন প্রতিটি আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের এলাকাভিত্তিক ২০টি জোনে ২০টি বিশেষ পরিবীক্ষণ কমিটি গঠন করা হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা উত্তরে ১০টি এবং দক্ষিণে ১০টি কমিটি কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এসব জোনাল কমিটির প্রধান হিসেবে নেতৃত্ব দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিচালক পর্যায়ের কর্মকর্তারা।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর। এছাড়া, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিবীক্ষণের দায়িত্বে থাকা ২০ কমিটির সদস্যরাও এতে অংশগ্রহণ করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে দীর্ঘদিন ধরে চলা অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা, ওষুধের অভাব, চিকিৎসা পরীক্ষায় ভোগান্তি এবং লিফট ব্যবস্থাপনায় দুর্নীতির অভিযোগ তুলে নাগরিক সংগঠন ময়মনসিংহ মঞ্চ বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করেছে।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) বেলা ১১টায় হাসপাতালের প্রধান ফটকের সামনে এই বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। ঘণ্টাব্যাপী এই কর্মসূচিতে বক্তারা হাসপাতালের বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, "চিকিৎসা মানুষের মৌলিক অধিকার।" অথচ ময়মনসিংহসহ বৃহত্তর অঞ্চলের সাধারণ মানুষের অন্যতম ভরসাস্থল এই হাসপাতালে দীর্ঘদিন ধরে নানা অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে দরিদ্র ও খেটে খাওয়া মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা উচিত।
বক্তারা অভিযোগ করেন, হাসপাতালের চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা প্রয়োজনীয় ওষুধ পাচ্ছেন না। অনেক ক্ষেত্রে সাধারণ স্যালাইনও বাইরে থেকে কিনতে হচ্ছে। বক্তারা উল্লেখ করেন, গত ২৪ অক্টোবর হাসপাতাল পরিদর্শনকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এক নারী রোগীকে স্যালাইন কেনার জন্য এক হাজার টাকা দিয়েছেন। বক্তাদের প্রশ্ন, "সরকারি হাসপাতালে প্রয়োজনীয় ওষুধ ও চিকিৎসাসামগ্রী না পাওয়ার এমন পরিস্থিতি কেন দীর্ঘদিন ধরে চলবে?"
হাসপাতালের পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যবস্থা নিয়েও বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাঁদের অভিযোগ, রোগীদের বিভিন্ন পরীক্ষা করাতে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের দ্বারস্থ হতে হচ্ছে। এক্স-রের মতো সাধারণ পরীক্ষার জন্যও রোগীদের দুই থেকে তিন দিন অপেক্ষা করতে হয়। বছরের পর বছর যন্ত্রপাতি বিকল হয়ে পড়ে থাকলেও সেগুলো মেরামত বা নতুন যন্ত্রপাতি কেনার বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ দৃশ্যমান নয় বলে দাবি করেন তাঁরা।
হাসপাতালে ওষুধ ও চিকিৎসাসামগ্রী পাচারের অভিযোগ প্রসঙ্গে বক্তারা বলেন, এ ধরনের চক্রের বিষয়ে বিভিন্ন সময়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। রোগীরা যখন প্রয়োজনীয় ওষুধ ও চিকিৎসাসামগ্রী থেকে বঞ্চিত হন, তখন এ ধরনের অভিযোগ উদ্বেগ আরও বাড়ায়। বক্তারা হাসপাতালকে পাচারচক্রমুক্ত রাখতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া এবং জড়িতদের চিহ্নিত করে শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানান।
গত সেপ্টেম্বর মাসে হাসপাতালে সংঘটিত অগ্নিকাণ্ডের তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশেরও দাবি জানান বক্তারা। তাঁদের ভাষ্য, তদন্ত কমিটি প্রতিবেদন জমা দিলেও তা প্রকাশে বিলম্ব করা হচ্ছে। এ ঘটনায় রোগীদের হতাহত হওয়ার ঘটনা, আতঙ্ক এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদের ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে জনস্বার্থে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা প্রয়োজন।
এ ছাড়া গণপূর্ত বিভাগের অধীনে পরিচালিত হাসপাতালের লিফট ব্যবস্থাপনায় দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ তুলে বক্তারা বলেন, লিফট ব্যবহার করতে গিয়ে রোগী ও তাঁদের স্বজনদের ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। গত সেপ্টেম্বরের অগ্নিকাণ্ডের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তাঁরা লিফট ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং অভিযোগগুলোর যথাযথ তদন্তের দাবি জানান।
সমাবেশে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালকে জনবান্ধব প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। বক্তারা বলেন, সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা সাধারণ মানুষ যেন প্রয়োজনীয় ওষুধ, পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও মানসম্মত চিকিৎসাসেবা পান, তা নিশ্চিত করতে হবে।
ময়মনসিংহ মঞ্চের মুখ্য সমন্বয়ক ইমতিয়াজ আহমেদের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য দেন সংগঠনের সহ-মুখ্য সমন্বয়ক আবু বক্কর সিদ্দিক রুমেল, সংগঠক আব্দুল হান্নান আল আজাদ, শাহরিয়ার আহমেদ আশিক, সাদ্দাম হোসেন, তানজিল হোসেন মুনিম, সজীব আকন্দ, সুশান্ত শীল, মো. আসাদসহ অন্যান্যরা।
সমাবেশ থেকে হাসপাতালের অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা দূর করে সাধারণ মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
থাইল্যান্ডের দক্ষিণাঞ্চলীয় দ্বীপ প্রদেশ ফুকেটে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে আকস্মিক বন্যায় পানিবন্দি হয়ে পড়েছে শতাধিক পরিবার।
রোববার (২৫ অক্টোবর) রাতভর বৃষ্টির পর দেশটির তিনটি জেলায় বন্যার পানি ঢুকে পড়ে। কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, এর মধ্যে প্রাদেশিক রাজধানী ফুকেট সিটিও অন্তর্ভুক্ত।
প্রাদেশিক উপগভর্নর রমদন হাইয়াওয়ে জানিয়েছেন, সোমবার সকাল গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে বন্যার পানি কমতে শুরু করে। তবে নিচু এলাকাগুলোর কিছু অংশ তখনো পানির নিচে ছিল। এ অবস্থায় ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলো এড়িয়ে চলতে কর্তৃপক্ষ ছোট যানবাহনের চালকদের পরামর্শ দিয়েছে।
তিনি আরও জানান, কয়েকটি এলাকায় ভূমিধস ঘটেছে। খাল ও জলপথে মাটি-পাথরসহ ধ্বংসাবশেষ জমে পানিপ্রবাহ বন্ধ হয়ে যাওয়া ঠেকাতে সেগুলো সরানোর কাজ করছেন কর্মকর্তারা।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবি ও ভিডিওতে দেখা গেছে, বন্যার পানি আবাসিক এলাকায় ঢুকে পড়েছে এবং সড়ক তলিয়ে গেছে। এতে বেশ কয়েকটি সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। কোথাও কোথাও বন্যার পানিতে ভেসে আসা কাদা ও পাথরের নিচে আংশিকভাবে চাপা পড়ে যানবাহন।
রমদন জানান, বন্যায় প্রায় ১০০টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে সোমবার পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
বুধবার পর্যন্ত ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস
থাইল্যান্ডের আবহাওয়া অধিদপ্তর সতর্ক করেছে, বুধবার পর্যন্ত দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে ভারী ও অব্যাহত বৃষ্টিপাত হতে পারে। এতে নতুন করে আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের ঝুঁকি বাড়তে পারে।
দেশটির দুর্যোগ প্রতিরোধ ও প্রশমন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময় থেকে থাইল্যান্ডের বিভিন্ন অঞ্চলে বন্যা দেখা দিয়েছে। সোমবার পর্যন্ত এসব বন্যায় অন্তত ৮৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।
এর আগে, সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে কয়েক দিনের প্রবল বর্ষণে রাজধানী ব্যাংককেও ব্যাপক জলাবদ্ধতা ও বন্যা দেখা দেয়। সে সময় হাজার হাজার মানুষকে বাড়িঘর ছেড়ে নিরাপদ স্থানে সরে যেতে হয় এবং ব্যাহত হয় স্বাভাবিক জনজীবন।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের নতুন সতর্কবার্তার পর দক্ষিণাঞ্চলের বন্যাপ্রবণ এলাকাগুলোতে আরও বৃষ্টিপাত ও ভূমিধসের আশঙ্কায় সতর্ক অবস্থানে রয়েছে কর্তৃপক্ষ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
এশিয়ান হকি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির উদ্বোধনী ম্যাচে বাংলাদেশ ও ভারত, দুই প্রতিবেশী দেশ মুখোমুখি হতে চলেছে।
মর্যাদাপূর্ণ এই টুর্নামেন্ট, যা এশিয়ার হকির ‘ওয়ার্ল্ড কাপ’ হিসেবে পরিচিত, এর উদ্বোধনী ম্যাচটি শুরু হবে মঙ্গলবার বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৭:৫০ মিনিটে।
গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচের আগের দিন, ভারতের পাঞ্জাবের জলন্ধরে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী অলিম্পিয়ান সুরজিৎ সিং হকি স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ জাতীয় হকি দল তাদের সবশেষ প্রস্তুতি সেশন সফলভাবে সম্পন্ন করেছে।
বাংলাদেশ দল পুরোপুরি প্রস্তুত, শক্তিশালী ভারতের মুখোমুখি হওয়ার জন্য। কন্ডিশনের সাথে মানিয়ে নিয়ে নিজেদের সেরাটা দিতে তারা কঠোর পরিশ্রম করেছেন লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।
অনুশীলন সেশন শেষে, বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক আশরাফুল ইসলাম এবং টিম ম্যানেজার রাহুল রায় দলের সার্বিক প্রস্তুতি ও পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেন।
আশরাফুল বলেন, "ভারতে আসার পর দুই বেলা অনুশীলন সেশনে সবাই বেশ আত্মবিশ্বাসী ছিল। কোচের পরিকল্পনা অনুযায়ী নিজেদের সেরাটা দিতে পারলে ভারতের বিপক্ষে ভাল ম্যাচ উপহার দেয়া সম্ভব।"
ম্যানেজার রাহুল রায়ও আশরাফুলের সাথে একমত পোষন করেছেন। তিনি জানান, "এশিয়ান হকি অন্যতম পরাশক্তি ভারতের বিপক্ষে খেলার আগে পুরো দল বেশ ভাল অবস্থায় আছে। আসরের প্রথম ম্যাচেই ভারতের মত দলের বিপক্ষে খেলাটা কঠিন হলেও বাংলাদেশ দল প্রস্তুত।"
সূত্র: বাসস
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ