আমিনুল ইসলাম রিয়াদ সন্দ্বীপ(চট্টগ্রাম)প্রতিনিধি
বুধবার, ৩০শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৭:১২ পি.এম
চট্টগ্রামের সন্দ্বীপে ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের রাজস্ব বাজেটের আওতায় ২৫টি প্রাতিষ্ঠানিক জলাশয়ে ১৭৫ কেজি রুইজাতীয় মাছের পোনা অবমুক্তকরণ করা হয়েছে। উপজেলা মৎস্য দপ্তর, সন্দ্বীপের আয়োজনে বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে আয়োজিত কর্মসূচির মাধ্যমে এসব পোনা অবমুক্ত করা হয়।
কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন সন্দ্বীপ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমজাদ হোসেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মারুফ হোসেন, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. মোতাছিম বিল্লাহ, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মোঃ মোহসীন আলম, উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আজিম উদ্দিন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক সন্দ্বীপ শাখার ব্যবস্থাপক মো. আক্তারুজ্জামান সুজন এবং সোনালী ব্যাংক লিমিটেড, সন্দ্বীপ শাখার ব্যবস্থাপক।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট আবু তাহের, সদস্য সচিব আলমগীর ঠাকুর, সংসদ সদস্যের পিএস মাস্টার আবুল কাসেমসহ রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং উপজেলা প্রশাসন ও মৎস্য দপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
কর্মসূচির আওতায় সন্দ্বীপ উপজেলার বিভিন্ন ২৫টি প্রাতিষ্ঠানিক জলাশয়ে মোট ১৭৫ কেজি রুইজাতীয় মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়। এর মাধ্যমে প্রাতিষ্ঠানিক জলাশয়ে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি, দেশীয় মাছের প্রাপ্যতা বাড়ানো এবং জলজ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, প্রাকৃতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক জলাশয়ে পরিকল্পিতভাবে মাছের পোনা অবমুক্তকরণের মাধ্যমে মাছের উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের পুষ্টির চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা সম্ভব। একই সঙ্গে দেশীয় মাছের প্রজনন ও বংশবিস্তার নিশ্চিত করতে জলাশয়ের পরিবেশ সংরক্ষণ জরুরি।
তারা আরও বলেন, মৎস্যসম্পদ দেশের অর্থনীতি, পুষ্টি ও কর্মসংস্থানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খাত। মাছের উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি জলাশয়ে মাছের নিরাপদ প্রজনন ও বেড়ে ওঠার পরিবেশ নিশ্চিত করতে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
জলাশয় সংরক্ষণে সচেতনতার আহ্বান
বক্তারা জলাশয়ে অবৈধভাবে মাছ শিকার, নিষিদ্ধ জাল ব্যবহার এবং মাছের প্রজনন ব্যাহত হয়—এমন কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার জন্য স্থানীয় জনগণের প্রতি আহ্বান জানান। পাশাপাশি জলাশয়ের পরিবেশ রক্ষা ও মৎস্যসম্পদের টেকসই ব্যবস্থাপনায় প্রশাসনকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানানো হয়।
উপজেলা মৎস্য দপ্তরের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচিতে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, ব্যাংক কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ব্রহ্মপুত্রের আগ্রাসী রূপের সম্মুখীন হচ্ছেন নদপারের বাসিন্দারা। কংক্রিটের ব্লক দিয়ে সুরক্ষিত বাঁধে ধস নামছে একের পর এক।
কুড়িগ্রামের চিলমারী এলাকায় কাঁচকোল বাজার থেকে পুঁটিমারী পর্যন্ত নদীর তীররক্ষা বাঁধের ৬০০ মিটার অংশজুড়ে প্রবাহিত হচ্ছে তীব্র স্রোত। ইতোমধ্যে চার দফায় বাঁধের ২০০ মিটার অংশ ধসে পড়ায় বসতভিটা, আবাদি জমি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ অনেক স্থাপনা ঝুঁকিতে রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সেখানকার বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানিয়েছে, বাঁধের পাশে নদীর গভীরতা বাড়ছে এবং ঘূর্ণি স্রোত দেখা দিচ্ছে। তবে ভাঙন রোধে প্রয়োজনীয় বরাদ্দের অভাব রয়েছে।
স্থানীয় সূত্র ও পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, গত জুলাই মাস থেকে ব্রহ্মপুত্রের এই এলাকায় বাঁধের পাশে তীব্র স্রোত প্রবাহিত হচ্ছে। জুলাই মাসে কাঁচকোল বাজারের উত্তরে সড়কটারি এলাকায় ১২০ মিটার অংশে ধস নেমে বাঁধটির বিলীনের শঙ্কা দেখা দেয়।
সূত্র জানায়, পানি উন্নয়ন বোর্ড জিও ব্যাগ ফেলে বাঁধ মেরামতের চেষ্টা করলেও গভীরতার কারণে সেই প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। গত তিন সপ্তাহে কাঁচকোল বাজারের কাছে দুইটি স্থানে এবং কেডি ওয়ারি স্কুল লাগোয়া ক্রসবাঁধের মাথায় প্রায় ৮০ মিটার অংশে ব্লক ধসে পড়ায় নদপারের মানুষের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।
কাঁচকোল গ্রামের বাসিন্দা ও অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক গোলাম ফারুক জানান, বাঁধের পূর্বদিকে ভট্রিভিটা ও চর বড়ভিটাসংলগ্ন এলাকায় দুটি চর জেগেছে। এর ফলে ব্রহ্মপুত্রের মূল প্রবাহের বিপুল জলরাশি বাঁধ ঘেঁষে প্রবাহিত হচ্ছে। ঘূর্ণি স্রোত গভীরতা বাড়াচ্ছে এবং ব্লক ধসে পড়ছে।
তিনি বলেন, অসময়ে নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বাঁধটি ভাঙনের ঝুঁকিতে পড়েছে। এতে ১১টি গ্রামের প্রায় এক হাজার পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার শঙ্কায় রয়েছে। পাশাপাশি দুটি বিলের শত শত একর আবাদি জমিতে বালু পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। তিনটি বিদ্যালয় ও একটি মাদরাসাসহ বাজার বিলীনের আশঙ্কায় রয়েছে। বাঁধটি অরক্ষিত হয়ে পড়লে চিলমারী উপজেলা সদরেও পানি ঢুকে পড়বে।
কাঁচকোলের বাঁধের ধারে বাস করা বৃদ্ধ আব্দুল খালেক জানান, ‘বাঁধ ভাঙলে হামার দুঃখের সীমা থাইকপার নয়। বাড়িঘর, সয়-সম্পদ সউগ যাইবে। সেই চিন্তায় হামার নিন্দ হয় না।’
সড়কটারি গ্রামের বাসিন্দা বাছিরন বেগম চার দফা নদীভাঙনের শিকার হয়ে বাঁধের নিচে মাথা গুঁজে থাকলেও তার বাড়ির পাশেই বড় অংশজুড়ে ধস নামায় চিন্তায় পড়েছেন।
কেডি ওয়ারি ক্রসবাঁধে যেখানে ধস নেমেছে, তার পাশে বাস করেন বিধবা শেফালি বেগম। জমি জিরাত না থাকায় নদের তীরেই সংসার গড়েছেন। প্রতিবছর বানের পানিতে ভাসেন, তবে এবার আশ্রয় হারানোর আতঙ্ক তাকেও পেয়ে বসেছে।
শেফালি বেগমের মতো আরো ৩০০ পরিবার বাঁধের দুই ঢালে আশ্রিত, সবার মনে শঙ্কা ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
এলাকাবাসী বলছে, ২০১৮ সালে ৪৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে ব্রহ্মপুত্রের ডান তীর রক্ষা প্রকল্পের আওতায় কংক্রিটের ব্লক পিচিং করে ভাঙন ঠেকানো গেলেও দীর্ঘসময় সংস্কার ও খননের অভাবে পুরো প্রকল্প ভেস্তে যেতে বসেছে। তাদের দাবি, জেগে ওঠা চরের পাশে ড্রেজিং করে স্রোতের গতিপথ পরিবর্তন করলে বাঁধটি রক্ষা পাবে। নইলে এবার কোনোমতে রক্ষা পেলেও সামনের বর্ষায় বাঁধটি টেকানো কঠিন হবে।
বেসরকারি চাকরিজীবী রায়হান মিয়া বলেন, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রীসহ সরকারের কর্মকর্তাদের কাছে খনন করে বাঁধটি রক্ষার দাবি জানালেও কোনো কাজ হচ্ছে না।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান জানান, কাঁচকোল এলাকায় নদীর গভীরতা কিছু কিছু স্থানে সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১৫ মিটারেও বেশি। তীর ঘেঁষে এমন গভীরতার কারণে বারবার ধস নামছে। বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। কিছু এলাকায় জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে। জরুরি ভিত্তিতে ছয় হাজার জিও ব্যাগ ফেলার জন্য বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে।
নির্বাহী প্রকৌশলী বলেন, বাঁধটি স্থায়ীভাবে সংস্কার করে সুরক্ষিত করার জন্য ডিপিপি বা প্রকল্প প্রস্তাব জমা দেওয়া হয়েছে। অনুমোদন পেলে শুকনো মৌসুমে তা বাস্তবায়ন করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বলিউডের তারকাদের ব্যক্তিগত জীবনের অজানা দিক, প্রেম-সম্পর্ক, বন্ধুত্ব এবং বিতর্কিত মন্তব্য—এসব নিয়ে দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে দর্শকদের মনোযোগ আকর্ষণ করেছে জনপ্রিয় আড্ডার অনুষ্ঠান ‘কফি উইথ করণ’। এবার সেই আড্ডার ইতি টানতে চলেছেন সঞ্চালক ও নির্মাতা করণ জোহর। নবম সিজনটি হবে অনুষ্ঠানটির শেষ অধ্যায়।
২০০৪ সালে শুরু হয়েছিল করণ জোহরের এই চ্যাট শো। ২২ বছরের দীর্ঘ সময়ের মধ্যে আটটি সিজনে মোট ১৬১টি পর্ব প্রচারিত হয়েছে। আগামী ১৪ অক্টোবর থেকে জিও হটস্টারে শুরু হবে অনুষ্ঠানটির নবম ও শেষ সিজন।
এই দীর্ঘ যাত্রায় ‘কফি উইথ করণ’-এর আড্ডায় অংশগ্রহণ করেছেন বলিউডের অসংখ্য তারকা। শাহরুখ খান, কাজল, অমিতাভ বচ্চন, অভিষেক বচ্চন, ঐশ্বরিয়া রাই এবং কারিনা কাপুরের মতো তারকারা উপস্থিত হয়ে অনুষ্ঠানটিকে প্রাণবন্ত করে তুলেছেন। করণের বিভিন্ন প্রশ্নের মাধ্যমে তারকাদের ব্যক্তিগত জীবন, প্রেম, বিয়ে এবং বন্ধুত্ব নিয়ে অনেক অজানা তথ্য প্রকাশ পেয়েছে। তৈরি হয়েছে অসংখ্য আলোচিত এবং ভাইরাল মুহূর্ত।
তবে জনপ্রিয়তার পাশাপাশি বিতর্কও অনুষ্ঠানটির পিছু ছাড়েনি। ২০১৯ সালে এক পর্বে নারীদের সম্পর্কে ক্রিকেটার হার্দিক পান্ডিয়ার বিতর্কিত মন্তব্যের কারণে এটি স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। ওই ঘটনার পর হার্দিক পান্ডিয়া এবং কে এল রাহুলকে সাময়িকভাবে জাতীয় দল থেকেও নিষিদ্ধ করা হয়েছিল।
এবার অনুষ্ঠানটি শেষ করার সিদ্ধান্তের পেছনের কারণ জানিয়ে করণ জোহর বলেছেন, ‘কফি উইথ করণ’ তার পরিচয়ের একটি বড় অংশ হলেও জীবনের পরবর্তী দশকে তিনি আরো বেশি সিনেমা পরিচালনা এবং গল্প বলার কাজে মনোযোগ দিতে চান।
দীর্ঘ ২২ বছরের পথচলার পর্দা নামার খবর শুনে ভক্তদের মধ্যে বাড়তি আগ্রহ তৈরি হয়েছে। আগামী ১৪ অক্টোবর শুরু হতে যাওয়া নবম সিজন নিয়ে দর্শকদের প্রত্যাশা তুঙ্গে। তারকাদের আড্ডা, অজানা গল্প এবং নানা আলোচিত মুহূর্তের সাক্ষী এই অনুষ্ঠান শেষবারের মতো পর্দায় ফিরছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার ঢেউখালী ইউনিয়নের ঢেউখালী নতুন বাজার সংলগ্ন আশ্রয়হীনদের জন্য নির্মিত আশ্রয়ণ প্রকল্পটি বর্তমানে দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
প্রকল্পটি বসবাসের জন্য অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। চলাচলের রাস্তার বেহাল অবস্থা, নিচু জমি এবং বৃষ্টির পানির জলাবদ্ধতায় বসবাসকারী পরিবারগুলো চরম দুর্ভোগে রয়েছে। অনেক ঘরে পানি ঢুকে পড়েছে এবং বাথরুম ও ঘরের সামনেও জমে থাকা পানির কারণে মানবেতর জীবনযাপন করছেন প্রকল্পের বাসিন্দারা।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সরেজমিনে দেখা যায়, আশ্রয়ণ প্রকল্পে মোট ৫২টি ঘর রয়েছে। এর মধ্যে মাত্র ১৫টি পরিবার কোনোরকমে বসবাস করছে। বাকি ঘরগুলো প্রায় পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। এসব ঘরের চারপাশে লতাপাতা ও ঝোপঝাড়ে ভরে গেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, পরিত্যক্ত ঘরগুলোতে দিন-রাত মাদকসেবীদের আড্ডা বসে।
প্রকল্পের বাসিন্দা মিনু আক্তার (৪০) জানান, ‘বৃষ্টির পানি বের হওয়ার কোনো ব্যবস্থা নেই। একদিন বৃষ্টি হলে সাত দিন পর্যন্ত পানি জমে থাকে। আমার থাকার ঘরে পানি ঢোকে, বারান্দায় পানি জমে থাকে। এমনকি বাথরুমেও পানি জমে থাকায় সেখানে যেতে পারি না। বাধ্য হয়ে বাইরে যেতে হয়। প্রতিদিন পানি সেচতে সেচতে হাতে ঘা হয়ে গেছে। কী করব, আমাদের তো আর কোথাও যাওয়ার জায়গা নেই। তাই বাধ্য হয়ে স্বামী ও তিন সন্তান নিয়ে এখানে থাকছি।’
আরেক বাসিন্দা জিয়াসমিন আক্তার বলেন, একদিন বৃষ্টি হলে ঘরের সামনে সাত দিন পানি জমে থাকে। কয়েকদিন আগে আমার আট মাসের শিশুসন্তান উঠানের পানিতে পড়ে গিয়েছিল। পানি কমে গেলে দুর্গন্ধ ছড়ায় এবং রাস্তায় হাঁটুসমান কাদা হয়ে যায়। মশা-মাছির উপদ্রব তো রয়েছেই।
তিনি অভিযোগ করেন, এ দুরবস্থার কারণে অধিকাংশ বাসিন্দা প্রকল্প ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছেন। তবে তাদের মতো অসহায় পরিবারের যাওয়ার মতো কোনো জায়গা নেই। পরিত্যক্ত ঘরগুলোতে মাদকসেবীদের আড্ডা বসায় তারা নিরাপত্তাহীনতায়ও ভুগছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, আশ্রয়হীনদের পুনর্বাসনের উদ্দেশ্যে প্রকল্পটি নির্মাণ করা হলেও পর্যাপ্ত পানি নিষ্কাশনব্যবস্থা না থাকায় এটি এখন তাদের জন্য দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত ঘরগুলো ঝোপঝাড়ে ঢেকে যাওয়ায় পুরো এলাকাটি অনেকটা জঙ্গলের মতো হয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে সেখানে মাদকসেবীদের আড্ডার অভিযোগ থাকায় বসবাসকারী পরিবারগুলো নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করে প্রকল্পের পরিবেশ বসবাসের উপযোগী করা এবং পরিত্যক্ত ঘরগুলো সংস্কার ও মাদকসেবীদের আড্ডা বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
ঢেউখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বয়াতি বলেন, ‘আমি তাদের দুর্দশা দেখেছি। সত্যিই সেখানে বসবাসের পরিবেশ নেই। বিষয়টি ইতিপূর্বে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে। প্রকল্পটি নির্মাণের আগে মাটি ভরাট করা প্রয়োজন ছিল। এখন মাটি ভরাট করলে জলাবদ্ধতা আরো বাড়তে পারে। এ অবস্থায় বিকল্প হিসেবে চারপাশ ঘুরিয়ে পাকা ড্রেন নির্মাণের মাধ্যমে বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করার কথা ভাবা হচ্ছে। বিষয়টি ও সম্ভাব্য সমাধানের কথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানিয়েছি।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বক্তব্য জানতে তার কার্যালয়ে গেলে তাকে পাওয়া যায়নি। পরে মোবাইল ফোনে কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মিজানুর রহমান, যিনি দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী, একটি চাকরি পাওয়ার স্বপ্ন দেখছিলেন। রোকসানা, যিনি এক পা ও এক হাতের তিনটি আঙুল হারিয়েছেন, ভিক্ষাবৃত্তি থেকে সম্মানজনকভাবে বাঁচার চেষ্টা করছিলেন। শুক্কুর আলী, যিনি স্ট্রোকে শারীরিকভাবে অক্ষম হয়ে পড়েছেন, মাথা গোঁজার জন্য একটি ঘর চেয়েছিলেন। এই তিনজন বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) গাজীপুরের জেলা প্রশাসকের কাছে গিয়ে তাদের স্বপ্ন ও দুর্দশার কথা তুলে ধরেন। জেলা প্রশাসক মো. নূরুল করিম ভূঁইয়া তাদের কথা শুনে সহায়তার আশ্বাস প্রদান করেন।
জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সাপ্তাহিক গণশুনানিতে মিজানুর রহমান চাকরির জন্য আকুতি জানান। রোকসানার জন্য একটি চাকরির ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। শুক্কুর আলীর জন্য একটি ঘর নির্মাণের আশ্বাসও দেওয়া হয়েছে। হতাশা ও দুশ্চিন্তা নিয়ে জেলা প্রশাসকের কক্ষে প্রবেশ করলেও বের হওয়ার সময় তিনজনের মুখে ছিল হাসি।
মিজানুর রহমান (৩৯) গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার বনখরিয়া এলাকার বাসিন্দা। তিনি ভাওয়াল বদরে আলম সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেছেন। দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী মিজানুরের এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। তার মেয়ে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী এবং ঢাকার জাতীয় বিশেষ শিক্ষা কেন্দ্রে অষ্টম শ্রেণিতে পড়ছে। ছেলে মাদরাসায় হিফজ বিভাগে পড়াশোনা করছে। অসুস্থ মা ও পরিবারের সদস্যদের নিয়ে তার সংসার চলছে।
মিজানুর জানান, তাদের কোনো জমিজমা নেই এবং পরিবার চালাতে তার একটি সরকারি চাকরি প্রয়োজন। কিন্তু দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী হওয়ায় চাকরি পাওয়া তার জন্য কঠিন। তিনি জেলা প্রশাসককে জানান, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে নিজের সমস্যার কথা জানাতে চান।
জেলা প্রশাসক মিজানুরের কথা শুনে তাকে সহযোগিতার আশ্বাস দেন। তার মেয়েও দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী হওয়ায় পরিবারের অসহায়ত্ব বিবেচনায় প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের সঙ্গে কথা বলে মিজানুরের সাক্ষাতের ব্যবস্থা করার চেষ্টা করবেন বলে জানান। জেলা প্রশাসক মিজানুরের জন্য চাকরির ব্যবস্থা করারও কথা বলেন।
গাজীপুর মহানগরের মাষ্টারবাড়ি এলাকার রোকসানার (২৫) জীবন সংগ্রাম আরো কঠিন। তার বাড়ি বগুড়ায়। ছোটবেলায় বাবা-মায়ের সঙ্গে চট্টগ্রাম যাওয়ার সময় ট্রেনে কাটা পড়ে তার ডান পা এবং বাঁ হাতের তিনটি আঙুল বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরবর্তীতে পরিবার তাকে ভিক্ষাবৃত্তিতে নামায়।
বড় হয়ে রোকসানার বিয়ে হয় এক রাজমিস্ত্রির সহকারী শ্রমিকের সঙ্গে। স্বামীর আয় ছিল অনিয়মিত। রোকসানা অন্তঃসত্ত্বা হলে প্রতিপক্ষের হামলায় তার স্বামী মারা যান। সন্তানকে মায়ের কাছে রেখে জীবিকার সন্ধানে গাজীপুরে এসে আবারও ভিক্ষাবৃত্তিতে নামতে হয় তাকে।
রোকসানা জেলা প্রশাসকের কাছে গিয়ে ভিক্ষাবৃত্তি ছেড়ে একটি চাকরির ব্যবস্থা করার অনুরোধ জানান। জেলা প্রশাসক জানান, রোকসানার জন্য গাজীপুরের কাশিমপুরে একটি বড় ও সুনামধন্য পোশাক কারখানায় তাৎক্ষণিক চাকরির ব্যবস্থা করা হয়েছে।
পূবাইলের হারবাইদ এলাকার বাসিন্দা শুক্কুর আলী (৪৩) দিনমজুর হিসেবে কাজ করতেন। তার কোনো জমিজমা নেই এবং স্ত্রী-সন্তান নিয়ে অন্যের বাড়িতে থাকতেন। প্রায় দুই বছর আগে স্ট্রোক করার পর শারীরিকভাবে অক্ষম হয়ে পড়েন। ফলে তার আয়-রোজগার বন্ধ হয়ে যায়।
শুক্কুর আলী জানান, তার দুর্দশা দেখে একজন ব্যক্তি ঘর নির্মাণের জন্য কিছু জমি দিতে চেয়েছেন। কিন্তু ঘর নির্মাণের সামর্থ্য তার নেই। তাই তিনি জেলা প্রশাসকের কাছে একটি ঘর নির্মাণের আবেদন করেন। জেলা প্রশাসক তার আবেদন শুনে ঘর নির্মাণের আশ্বাস দেন।
বুধবারের গণশুনানিতে মিজান, রোকসানা ও শুক্কুর ছাড়াও অর্ধশতাধিক মানুষ বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে আসেন। তাদের মধ্যে কেউ এসেছেন চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহায়তা চাইতে, কেউ গৃহসংকট, জমিজমা, বয়স্ক ভাতার কার্ড, ভাড়া না পাওয়া কিংবা এলএ বিলসংক্রান্ত অভিযোগ নিয়ে।
নিঃসন্তান ফিরোজা বেগম চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহায়তা চান। ক্যানসারে আক্রান্ত বিধবা নাজমা চিকিৎসার খরচের জন্য সহায়তা চান। বৃদ্ধ আবুল হোসেন মৃধা ভাঙা ঘর মেরামতের জন্য টিন চেয়েছেন। ভোগড়া থেকে বিল্লাল হোসেন অভিযোগ করেন, তার ভাড়াটিয়া দীর্ঘদিন ধরে ভাড়া পরিশোধ করছেন না।
শ্রীপুর থেকে আসা আশরাফুল ইসলাম রয়েল এলএ বিল পেতে ঘুষ দাবির অভিযোগ করেন। প্রতিবন্ধী শিরিন বয়স্ক ভাতার কার্ডের আবেদন করেন। আমেনা বেগম জমিসংক্রান্ত সমস্যার কথা জানান। কলেজছাত্র ও এতিম ফাহিমসহ কয়েকজন আর্থিক সহায়তার আবেদন করেন। হোসনেয়ারা, আবদুর রহিম ও আবদুর রাজ্জাক চিকিৎসা সহায়তার আবেদন নিয়ে আসেন।
মৃত সাংবাদিক আবদুল মজিদের স্ত্রী তামান্না আফরোজা তার সন্তানদের লেখাপড়া চালিয়ে নিতে সহযোগিতা চান।
গণশুনানিতে আসা প্রত্যেকের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনেন জেলা প্রশাসক। সমস্যার ধরন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। কিছু ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক সমাধানের উদ্যোগও নেওয়া হয়।
জেলা প্রশাসক মো. নূরুল করিম ভূঁইয়া বলেন, অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং তাদের সমস্যার সমাধান করাই গণশুনানির মূল উদ্দেশ্য। তিনি জানান, সামর্থ্য অনুযায়ী অসহায় মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করছেন তারা। মিজানুর রহমান, রোকসানা ও শুক্কুর আলীর মতো মানুষের সমস্যার সমাধানে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ