০৪:৫৪ এম
নড়াইলের লোহাগড়ায় ‘টিকটকে আসক্ত’ স্ত্রীকে হত্যার পর এটি আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেয়ার চেষ্টা করেও শেষ পর্যন্ত রক্ষা হলো না অভিযুক্ত স্বামীর। পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বামী লিমন মল্লিক (২৭) স্ত্রী সুমনা ফেরদৌসীকে (৩৮) হত্যার ঘটনাটি স্বীকার করেছেন।
এই ঘটনার জন্য সোমবার (১৫ জুন) রাতে উপজেলার দিঘলিয়া এলাকা থেকে অভিযুক্ত লিমন মল্লিককে আটক করা হয়েছে। মধ্যরাতে লোহাগড়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) অজিত কুমার রায় সংবাদ মাধ্যম সময় নিউজকে ঘটনাটি নিশ্চিত করেছেন।
নিহত সুমনা ফেরদৌসী লোহাগড়া উপজেলার চর দিঘলিয়া গ্রামের ইদ্রিস মল্লিকের ছেলে লিমন মল্লিকের দ্বিতীয় স্ত্রী। তার বাবার বাড়ি নারায়ণগঞ্জ। পুলিশ জানাচ্ছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক লিমন মল্লিক জানিয়েছেন, ঢাকার একটি গার্মেন্টসে চুক্তিভিত্তিক কাজ করার সুবাদে তার সুমনার সঙ্গে পরিচয় হয়। ২০২১ সালে ঢাকাতে লিমনের দ্বিতীয় ও সুমনার চতুর্থ বিয়ে সম্পন্ন হয়। পরে, লিমন সুমনাকে নিয়ে নিজের বাড়িতে চলে আসেন। লিমনের প্রথম স্ত্রী ও সন্তানের উপস্থিতির সত্ত্বেও সুমনাকে বাড়িতে নিয়ে আসায় পারিবারিক কলহ সৃষ্টি হয়। কিছুদিন পর, লিমনের প্রথম স্ত্রী তাকে একমাত্র মেয়েকে নিয়ে রংপুরে চলে যেতে বাধ্য করেন। লিমন চায়ের দোকান পরিচালনা করার পাশাপাশি কাঠ কাটা শ্রমিক হিসেবে কাজ করে সংসার চালান।
আরও পড়ুন: শেরপুরে বাস-সিএনজির সংঘর্ষে জুয়েল মিয়া নিহত, আহত ৪
লিমন মল্লিক জানিয়েছেন, তার অনুপস্থিতিতে স্ত্রী সুমনা টিকটকে বিভিন্ন ধরনের ভিডিও পোস্ট করার পাশাপাশি অপরিচিত পুরুষদের সঙ্গে আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও আদান-প্রদান করে আসছিলেন। এই বিষয় নিয়ে লিমন ও সুমনার মধ্যে পারিবারিক কলহ চলতেই থাকতো। তবে সুমনা তার স্বামী লিমনের কাছে ওয়াদা করেছিলেন যে, ভবিষ্যতে তিনি এ ধরনের কর্মকাণ্ড করবেন না।
সোমবার (১৫ জুন) সকাল ৮টার দিকে আবারও টিকটিকে কুরুচিপূর্ণ ছবি ভিডিও পোস্ট করার অভিযোগ ওঠে এবং পরপুরুষদের সঙ্গে আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও আদান-প্রদান এবং কথোপকথনের জেরে লিমন ও সুমনার মধ্যে তীব্র বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে, লিমনের আঘাতে সুমনা রক্তাক্ত অবস্থায় মাঠিতে পড়ে যান। পরে, সুমনাকে তার স্বামী শ্বাসরোধে মৃত্যু নিশ্চিত করার পর ঘরের আড়ায় ঝুলিয়ে রাখেন।
পুলিশ জানায়, সকাল ১০টার দিকে প্রতিদিনের মতো কাজে বেরিয়ে পড়েন লিমন। স্বাভাবিকভাবে সারাদিন কাজ শেষে, বিকেল ৫টার পর বাড়িতে এসে ঘরের দরজা খুলে নিজেই চিৎকার করে কান্নাকাটি শুরু করেন। ঘটনাস্থলে পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে। প্রাথমিক সুরতহাল শেষে, পুলিশ প্রথমে নিশ্চিত হয় যে এটি আত্মহত্যা নয়, বরং হত্যা। পরে রাতে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য লিমনকে আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
লোহাগড়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) অজিত কুমার রায় সময় সংবাদকে বলেন, আটক লিমন প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্ত্রী সুমনাকে হত্যার দায় স্বীকার করে ঘটনার বর্ণনা দিয়েছেন। মূলত, হত্যার পর আত্মহত্যার আড়ালে অভিজ্ঞানহীনভাবে সুমনাকে ঘরে ঝুলিয়ে দেয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। ভুক্তভোগী নারীর পরিবারের কাছে খবর পাঠানো হয়েছে। তারা জানান, পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
আরও পড়ুন: কেন্দুয়ায় পাচারের সময় ৩২ বস্তা সার জব্দ, চালক পালিয়েছে
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন