০৫:০১ এম
নতুন টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচে ইসরায়েল-ফিলিস্তিনকে মুখোমুখি করার পরিকল্পনা করছে ফিফা। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, আগামী সেপ্টেম্বর মাসে যুক্তরাষ্ট্রে অনূর্ধ্ব-১৫ টুর্নামেন্টে এই ম্যাচ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
যদিও এটি ফিফার আনুষ্ঠানিক অনূর্ধ্ব-১৫ বিশ্বকাপ নয়। তবে প্রতিযোগিতাটি ফিফার ২১১টি সদস্য রাষ্ট্রের জন্যই উন্মুক্ত। এমনকি সিনিয়র পর্যায়ে নিষিদ্ধ থাকা রাশিয়াও চাইলে এতে অংশ নিতে পারবে।
আরও পড়ুন: মালদ্বীপের স্পিকারের সঙ্গে বাংলাদেশের হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ, আলোচনা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নিয়ে
গত ডিসেম্বরে ফিফা এই টুর্নামেন্টের বিস্তারিত ঘোষণা করে।
উদ্বোধনী ম্যাচ নিয়ে ফিফার উচ্চাকাক্সক্ষী পরিকল্পনা রয়েছে। কারণ ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো ফুটবলকে শান্তি ও বিশ্ব ঐক্যের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
এর আগে গত এপ্রিলে ভ্যাঙ্কুভারে অনুষ্ঠিত ফিফার সভায় ফিলিস্তিন ও ইসরায়েলের প্রতিনিধিদের মধ্যে করমর্দন করানোর একটি প্রচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায় ইনফান্তিনো বেশ বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েছিলেন। সভায় ইনফান্তিনো বারবার অনুরোধ করা সত্ত্বেও ফিলিস্তিন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি জিব্রিল রাজুব ইসরায়েল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি বাসিম শেখ সুলাইমানের পাশে দাঁড়াতে অস্বীকৃতি জানান।
ফিলিস্তিনে ইসরায়েলের আগ্রাসনের প্রতিবাদে হাত মেলানোর অনুরোধ নাকচ করেন তিনি।
আরও পড়ুন: বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের দশম স্থলবাহিনী সংলাপ ঢাকা সেনানিবাসে সফলভাবে সম্পন্ন
তবে সেই তিক্ত অভিজ্ঞতায় ইনফান্তিনোকে দমে যাননি। বরং অনূর্ধ্ব-১৫ টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী দিনে ইসরায়েল বনাম ফিলিস্তিন ম্যাচ আয়োজনের প্রস্তাবটি এখনো বিবেচনার মধ্যে রয়েছে। টুর্নামেন্টের ভেন্যু এখনো চূড়ান্ত হয়নি। তবে সম্ভাব্য ভেন্যু হিসেবে মায়ামিকে বিবেচনা করা হচ্ছে।
টুর্নামেন্টের পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম আসরটি হবে ছেলেদের জন্য এবং এর ১২ মাস পর মেয়েদের একটি সংস্করণ হবে। এরপর ২০২৮ সাল থেকে প্রতি বছর দুটি করে আলাদা ফুটবল উৎসব আয়োজনের লক্ষ্য রয়েছে ফিফার।
ইসরায়েল-ফিলিস্তিন রাজনীতিতে ফিফার এই হস্তক্ষেপের চেষ্টাকে বিপজ্জনক মনে করা হচ্ছে কি না এমন প্রশ্নে ফিফার সূত্রগুলো তা নাকচ করে দিয়েছে। ভ্যাঙ্কুভারের ঘটনার পরও ইনফান্তিনো এই উদ্যোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন এবং রাজুব করমর্দন করতে অস্বীকৃতি জানানোর পরপরই তিনি অনূর্ধ্ব-১৫ টুর্নামেন্টের কথা উল্লেখ করেছিলেন।
ইনফান্তিনো বলেছিলেন, ‘ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের যে দুই প্রতিনিধি এখানে উপস্থিত আছেন, তাদের ধন্যবাদ জানাই। ফিফার সদস্য হিসেবে তাদের একই অধিকার, কর্তব্য ও বাধ্যবাধকতা রয়েছে। শিশুদের আশা জোগাতে আমরা একসঙ্গে কাজ করব। আসুন আমরা সবাই মিলে সেটির জন্য কাজ করি।’
আরও পড়ুন: গণতন্ত্রের শর্ত ও রাজনৈতিক সংকটের গুরুত্ব: তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে বিতর্ক
ফিফার অনূর্ধ্ব-১৫ টুর্নামেন্ট নিয়ে ইনফান্তিনো বলেন, ‘আমরা বয়সভিত্তিক দারুণ একটি টুর্নামেন্ট আয়োজন করতে যাচ্ছি। সেখানে আমরা ফিফার অন্তর্ভুক্ত ২১১টি দেশের শিশুদের অংশগ্রহণের জন্য আমন্ত্রণ জানাব। আসুন, শিশুদের জন্যই আমরা এটি করি এবং সবাই মিলে কাজ করি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন