বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৫:৩৯ পি.এম
ট্রান্সজেন্ডারদের পরিচয়, সম্পর্ক ও জীবনসংগ্রামের এমন কিছু বাস্তবতা রয়েছে, যা নিয়ে সমাজে খুব কমই আলোচনা হয়। স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘আমান’ এই না বলা গল্পগুলোকে পর্দায় তুলে ধরেছে। ছবিটি ব্রিটিশ ফিল্ম ইনস্টিটিউট (বিএফআই) লন্ডন চলচ্চিত্র উৎসবে সেরা স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের পুরস্কার অর্জন করেছে।
ভারতের সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস-এর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ছবিটির পরিচালনা করেছেন রাহুল রয়ে। এতে আমান চরিত্রে অভিনয় করেছেন ৩৪ বছর বয়সী কবির মান। এটি তার প্রথম চলচ্চিত্র।
ছবিতে আমান একজন ট্রান্সজেন্ডার পুরুষ। লিঙ্গনিশ্চিতকরণ অস্ত্রোপচারের কিছুদিন আগে তিনি জানতে পারেন, তিনি গর্ভবতী। একজন সিসজেন্ডার পুরুষের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্কও গল্পের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ছবিটি সমাজে প্রচলিত ধারণা ও ট্যাবুকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে।
কবির মান জানান, প্রথমে চরিত্রটি নিয়ে তার দ্বিধা ছিল। তিনি দীর্ঘদিন ধরে নিজের পরিচয় প্রতিষ্ঠার জন্য লড়াই করেছেন এবং এমন একটি চরিত্রে অভিনয় করলে সমাজের পুরনো ধারণাগুলো আবার উঠে আসবে কি না, তা নিয়ে চিন্তিত ছিলেন। পরে তিনি অনুভব করেন, এই চলচ্চিত্রের মাধ্যমে ট্রান্সজেন্ডার মানুষের জীবন ও অভিজ্ঞতা সম্পর্কে আরো বেশি মানুষকে জানানো সম্ভব।
ছবির কিছু দৃশ্য তার জন্য মানসিকভাবে কঠিন ছিল বলেও জানান কবির। তিনি নিজের জীবনের কষ্টকর অভিজ্ঞতার স্মৃতি কাজে লাগিয়ে চরিত্রের আবেগ ফুটিয়ে তুলেছেন। তার কাছে ছবিটি ব্যক্তিগত যন্ত্রণা প্রকাশের পাশাপাশি বৃহত্তর সমাজের কাছে নিজের পরিচয় ও অভিজ্ঞতা তুলে ধরার একটি মাধ্যম হয়ে উঠেছে।
সাক্ষাৎকারে কবির নিজের জীবনের নানা বাধার কথাও উল্লেখ করেছেন। তার দাবি, শিক্ষাগত সনদে নাম সংশোধন, শিক্ষকতার চাকরিতে আবেদন এবং পাসপোর্ট নবায়নের সময় লিঙ্গপরিচয়সংক্রান্ত নথিপত্র নিয়ে সমস্যায় পড়তে হয়েছে তাকে। এসব অভিজ্ঞতা দেখায়, ট্রান্সজেন্ডার মানুষের সংগ্রাম শুধু সামাজিক গ্রহণযোগ্যতায় সীমাবদ্ধ নয়; শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও সরকারি পরিষেবা পাওয়ার ক্ষেত্রেও তাদের বাধার মুখে পড়তে হয়।
‘আমান’ চলচ্চিত্রটি সেই পরিচয়, সংগ্রাম ও না বলা অভিজ্ঞতাগুলো সামনে এনেছে। লন্ডন চলচ্চিত্র উৎসবে পুরস্কার জয় ছবিটিকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দেওয়ার পাশাপাশি ট্রান্সজেন্ডার মানুষের জীবন নিয়ে আলোচনার সুযোগও তৈরি করেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
গবেষকেরা এবার বাংলাদেশের মিঠাপানির মাছ চাষের পুকুরের পলি এবং মাছের নমুনায় মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি শনাক্ত করেছেন। গবেষণায় দেখা গেছে, অধিকাংশ পুকুরের তলদেশের পলিতে মাঝারি থেকে উচ্চ মাত্রার দূষণ বিদ্যমান। এর আগে নদী, সমুদ্র এবং এমনকি ইলিশ মাছেও মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি পাওয়া গিয়েছিল, তবে চাষের পুকুরে এ ধরনের সমন্বিত গবেষণা এবারই প্রথম হয়েছে।
গবেষকদের মতে, এই তথ্যগুলো জলজ খাদ্যশৃঙ্খলে মাইক্রোপ্লাস্টিকের প্রবেশ প্রক্রিয়া বোঝার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলায় পরিচালিত এই গবেষণায় দেখা যায়— নির্বাচিত ২৫টি পুকুরের প্রতিটি পলির নমুনায় মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে। মাছের নমুনায়ও এই ক্ষুদ্র কণাগুলোর উপস্থিতি মিলেছে, যা মৎস্যসম্পদ, পরিবেশ এবং জনস্বাস্থ্যের জন্য সম্ভাব্য ঝুঁকির বিষয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।
গবেষণাটির শিরোনাম ‘মাইক্রোপ্লাস্টিক ইন ফ্রেশওয়াটার অ্যাকুয়াকালচার: এভিডেন্স অব সেডিমেন্ট–ফিশ ট্রান্সফার অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েটেড ইকোলজিক্যাল রিস্ক ইন বাংলাদেশ’। চলতি মাসে আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাময়িকী এনভায়রনমেন্টাল পলিউশন-এ এই গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে।
গবেষকদের দাবি, মিঠাপানির চাষের মাছে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি নিয়ে এ ধরনের গবেষণা এই প্রথম, যা দেশের মৎস্যসম্পদের সম্ভাব্য ক্ষতি নিরূপণে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।
মিঠাপানির মাছ চাষের অন্যতম প্রধান অঞ্চল ময়মনসিংহের ত্রিশাল। এখানে নিবিড় ও আধা নিবিড় পদ্ধতিতে বাণিজ্যিকভাবে মাছ উৎপাদন করা হয়। শীতকালে ২৫টি খামার থেকে নমুনা সংগ্রহ করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স অ্যান্ড ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্টের অধ্যাপক বদিউজ্জামান খান এই গবেষণায় নেতৃত্ব দেন।
তিনি বলেন, মিঠাপানির চাষের মাছে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি নিয়ে এ ধরনের গবেষণা এই প্রথম। এটি দেশের মৎস্যসম্পদের সম্ভাব্য ক্ষতি নিরূপণে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।
অধ্যাপক বদিউজ্জামান জানান, গবেষণার মূল উদ্দেশ্য ছিল পুকুরের তলদেশের পলি ও মাছের মধ্যে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি ও বৈশিষ্ট্য নির্ণয় করা। সেই সঙ্গে মাছের শারীরিক বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে মাইক্রোপ্লাস্টিক গ্রহণের সম্পর্ক, প্লাস্টিকের রাসায়নিক গঠন এবং পরিবেশগত ঝুঁকি মূল্যায়ন করা ছিল এর লক্ষ্য।
সাধারণত পাঁচ মিলিমিটারের চেয়ে ছোট প্লাস্টিক কণাকে মাইক্রোপ্লাস্টিক বলা হয়। প্লাস্টিক ব্যাগ, মোড়ক, দড়ি, মাছ ধরার জাল এবং বিভিন্ন বর্জ্য সামগ্রী ভেঙে এই ক্ষুদ্র কণা তৈরি হয় এবং পরিবেশে ছড়িয়ে পড়ে।
ত্রিশালের ২৫টি পুকুরের গবেষণায় দেখা গেছে, তলদেশের পলিতে প্রতি কেজিতে গড়ে ১১ দশমিক ০৪টি মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা রয়েছে। পলিউশন লোড ইনডেক্স বা দূষণভার সূচকের মান ১ থেকে ৪ দশমিক ৫ এর মধ্যে পাওয়া গেছে, যার ভিত্তিতে অধিকাংশ স্থানকে মাঝারি থেকে উচ্চ দূষণযুক্ত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। প্রবহমান নদীর তুলনায় পুকুরে পানির বিনিময় সীমিত হওয়ায় তলদেশে এই কণাগুলো দীর্ঘ সময় জমে থাকার সুযোগ পায়। ফলে তলদেশে খাবার খোঁজা মাছ ও অন্যান্য জলজ প্রাণীর এই কণা গ্রহণের ঝুঁকি বেশি থাকে। তবে প্রজাতি, খাদ্য অভ্যাস এবং পুকুরের পরিবেশের ওপর ভিত্তি করে কণা গ্রহণের মাত্রা ভিন্ন হতে পারে।
গবেষকেরা ছয় প্রজাতির মোট ১৫০টি মাছ পরীক্ষা করে মোট ৯০টি মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা শনাক্ত করেছেন। প্রতিটি মাছে গড় কণার সংখ্যা ছিল শূন্য দশমিক ৬০। প্রজাতিভেদে এই পার্থক্য ছিল লক্ষণীয়; সরপুঁটি মাছে প্রতিটি মাছে গড়ে ১ দশমিক ২০টি কণা পাওয়া গেছে, আর রুই ও মৃগেলের ক্ষেত্রে এই গড় ছিল শূন্য দশমিক ৬৮। অন্যদিকে কাতলা, কমন কার্প ও পাঙাশ মাছে তুলনামূলক কম কণা পাওয়া গেছে।
বসবাসের স্তর অনুযায়ী, তলদেশে বসবাসকারী মাছের মধ্যে মোট শনাক্ত কণার ৫২ শতাংশ পাওয়া গেছে। মধ্যবর্তী স্তরের মাছের ক্ষেত্রে এই হার ৩৫ শতাংশ এবং উপরিভাগের মাছের ক্ষেত্রে ১৩ শতাংশ। অধ্যাপক বদিউজ্জামান খান বলেন, মাছকে প্রচুর ফিড খাওয়ানো হয়। সব ফিড যে খারাপ, তা বলছি না। তবে কিছু ফিডে এসব থাকে। অনেক সময় বন্যার পানিতে অন্য স্থানের মাইক্রোপ্লাস্টিক পুকুরে চলে আসে। মাছের পরিপাকতন্ত্রে আমরা মূলত এর উপস্থিতি দেখেছি।
গবেষণায় প্রধানত পলিথিন (পিই) ও পলিপ্রপিলিন (পিপি) পলিমার শনাক্ত হয়েছে। পলিথিন সাধারণত ব্যাগ ও প্যাকেজিংয়ে এবং পলিপ্রপিলিন পাত্র, দড়ি ও প্লাস্টিক পণ্যে ব্যবহৃত হয়। গবেষকদের মতে, মাছের খাদ্য, বস্তা, মোড়ক, মাছ ধরার সরঞ্জাম, পানির পাইপ এবং গৃহস্থালি বর্জ্য এর সম্ভাব্য উৎস হতে পারে। তবে নির্দিষ্ট উৎস নিশ্চিত করতে আরও পৃথক নমুনা বিশ্লেষণ প্রয়োজন।
ত্রিশাল উপজেলায় প্রায় ২২ হাজার পুকুরে মাছ চাষ হয় এবং বছরে উৎপাদিত হয় ৭২ হাজার মেট্রিক টন মাছ। জ্যেষ্ঠ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা শাহানা নাজনীন জানান, পুকুরের পাড়ে পোল্ট্রি খামারের কারণে দূষণ ঘটতে পারে। তিনি বলেন, মাছের পুকুরের পাড়ে পোলট্রির জন্য মাছ চাষে দূষণের ঘটনা ঘটতে পারে। এ নিয়ে আমরা ইতিমধ্যে অভিযান শুরু করেছি। ইতিমধ্যে একটি পুকুরের পাশ থেকে মুরগির খামার তুলে দেওয়া হয়েছে।
গবেষকরা বলেন, পরিস্থিতি এমন হয়েছে যে মাইক্রোপ্লাস্টিক এখন সর্বত্র ছড়িয়ে গেছে। এটা কোথায় ফেলা হবে, এর কোনো সঠিক জায়গা নেই। প্রক্রিয়াজাত প্রায় হচ্ছেই না। মানুষের শরীরে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি আমরা দেখেছি। মাছ থেকে তাই এটি মানুষের শরীরে পৌঁছাবে না, এর কোনো নিশ্চয়তা নেই।
তারা জানান, পলিথিন অসংখ্য অণুর সমন্বয়ে গঠিত হওয়ায় রান্নার তাপে এটি সহজে নষ্ট হয় না। ফলে মাছের মাধ্যমে এটি মানুষের শরীরে প্রবেশ করে যকৃত ও কিডনির কার্যক্রমে বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চ্যাম্পিয়ন্স লিগে আরবি লাইপজিগের বিরুদ্ধে ৪-১ গোলের বিশাল জয়ের পর এল ক্লাসিকোর প্রস্তুতির দিকে মনোযোগ দিচ্ছেন রিয়াল মাদ্রিদের দুই তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পে ও আরদা গুলের। লা লিগার পয়েন্ট তালিকায় বার্সেলোনার চেয়ে ৬ পয়েন্ট পিছিয়ে থাকার কারণে আসন্ন এই লড়াইটি রিয়ালের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। লস ব্লাঙ্কোসরা জয় ছাড়া অন্য কিছু ভাবতে চাইবে না, কারণ তারা শিরোপার দৌড়ে টিকে থাকতে চায়।
লাইপজিগের বিপক্ষে ম্যাচ শেষে এমবাপ্পে জানান, ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় মাঠে নামার আগে দলের পুরো মনোযোগ ছিল কেবল ওই ম্যাচের দিকে। এল ক্লাসিকোর গুরুত্ব থাকা সত্ত্বেও তারা আগের ম্যাচের প্রস্তুতিতে কোনো ঘাটতি রাখতে চাননি।
এফসিবি ওয়ার্ল্ডের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে, বার্সেলোনার বিপক্ষে ম্যাচের গুরুত্ব তুলে ধরে এমবাপ্পে বলেন, "এল ক্লাসিকো অন্য যেকোনো ম্যাচের চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা। তবে আমরা আগে কেবল লাইপজিগ ম্যাচ নিয়েই ভাবছিলাম। রোববার কী ঘটবে, তা নিয়ে ভাবার সময় এখন এসেছে।"
ফরাসি ফরোয়ার্ড আরও জানান, আসন্ন ক্লাসিকোর উত্তেজনা তাদের ইউরোপীয় ম্যাচের প্রস্তুতিতে কোনো প্রভাব ফেলেনি। তার কথায়, "এর আগে পুরো দল রোববারের ম্যাচটি নিয়ে কোনো চিন্তাই করেনি।"
এদিকে, বার্সেলোনার বিপক্ষে লড়াই নিয়ে আত্মবিশ্বাসী রিয়ালের তুর্কি মিডফিল্ডার আরদা গুলেরও। ম্যাচটিকে ফুটবলের সর্বোচ্চ পর্যায়ের লড়াই হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, "এটি অনেক বড় একটি ম্যাচ, একদম সর্বোচ্চ পর্যায়ের ফুটবলের লড়াই। জয় পেতে আমরা আমাদের সবটুকু উজাড় করে দেব।"
রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে প্রতিটি ম্যাচে জয়ের প্রত্যাশার কথাও মনে করিয়ে দিয়েছেন গুলের। ক্লাবটির জার্সির মর্যাদা ও সমর্থকদের প্রত্যাশার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, "আমরা রিয়াল মাদ্রিদ, প্রতিটি ম্যাচেই জেতা আমাদের দায়িত্ব। আমরা সম্পূর্ণ প্রস্তুত।"
গুলেরের বক্তব্যে স্পষ্ট, বার্সেলোনার বিপক্ষে লড়াইয়ে নিজেদের সর্বোচ্চটা দিতে প্রস্তুত রিয়াল মাদ্রিদ। অন্যদিকে, পয়েন্ট তালিকায় এগিয়ে থাকা বার্সেলোনার জন্যও ম্যাচটি গুরুত্বপূর্ণ। এই লড়াইয়ে জয় পেলে ব্যবধান আরও বাড়িয়ে নেওয়ার সুযোগ পাবে কাতালান ক্লাবটি।
পিএসজির বিপক্ষে হতাশাজনক ফলের পর বার্সেলোনা এল ক্লাসিকোতে ঘুরে দাঁড়াতে চাইবে। রিয়ালকে হারাতে পারলে তাদের সঙ্গে পয়েন্টের ব্যবধান ৯-এ পৌঁছাবে, যা শিরোপার লড়াইয়ে বার্সেলোনাকে বাড়তি স্বস্তি দিতে পারে। দুই দলের জন্য আসন্ন এল ক্লাসিকো কেবল মর্যাদার লড়াই নয়, লা লিগার শিরোপা দৌড়েও বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
এল ক্লাসিকোর আগে রিয়াল মাদ্রিদ এবং বার্সেলোনার মাঠের বাইরের সম্পর্কের তিক্ততা আরও প্রকাশ্যে এসেছে। রোববার ক্যাম্প ন্যুতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ম্যাচে রিয়াল মাদ্রিদের সভাপতি ফ্লোরেন্তিনো পেরেজ উপস্থিত থাকবেন না। নেগ্রেইরা-কাণ্ডকে কেন্দ্র করে দুই ক্লাবের প্রাতিষ্ঠানিক সম্পর্কের টানাপোড়েনের মধ্যে পেরেজ এবারও বার্সেলোনায় যাচ্ছেন না, এমনটি জানিয়েছে মুণ্ডো দেপোর্তিভো।
পেরেজের অনুপস্থিতির পাশাপাশি, ম্যাচের আগে দুই ক্লাবের পরিচালনা পর্ষদের ঐতিহ্যবাহী মধ্যাহ্নভোজও অনুষ্ঠিত হবে না। এল ক্লাসিকোর পূর্বে দুই ক্লাবের কর্মকর্তাদের মধ্যে এই বৈঠক দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত একটি আনুষ্ঠানিকতা ছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে সম্পর্কের অবনতির কারণে সেই রীতিও এবার বাদ পড়ছে।
মুণ্ডো দেপোর্তিভোর তথ্য অনুযায়ী, রিয়াল মাদ্রিদের একজন সহসভাপতি এবার ক্লাবের প্রতিনিধিত্ব করে বিশেষ অতিথিদের আসনে উপস্থিত থাকবেন। ক্যাম্প ন্যুতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এল ক্লাসিকোয় পেরেজের এটি তৃতীয়বারের মতো অনুপস্থিতি হতে যাচ্ছে। সর্বশেষ ২০২১ সালের ২৪ অক্টোবর বার্সেলোনার মাঠে লিগের এল ক্লাসিকোয় তিনি উপস্থিত ছিলেন। এরপর থেকে দুই ক্লাবের প্রাতিষ্ঠানিক সম্পর্কের অবনতির সময়েই তাঁর অনুপস্থিতি দেখা গেছে।
বার্সেলোনা এবং রিয়াল মাদ্রিদের এবারের এল ক্লাসিকো অনুষ্ঠিত হবে ২৫ অক্টোবর, ক্যাম্প ন্যুতে। নেগ্রেইরা-কাণ্ডকে ঘিরে দুই ক্লাবের মধ্যে চলমান বিরোধের পাশাপাশি সাম্প্রতিক সময়ে মাঠের বাইরেও নানা বিষয়ে দুই পক্ষের দূরত্ব বেড়েছে। ফলে বহুল প্রতীক্ষিত ম্যাচটির আগে পেরেজের অনুপস্থিতি এবং দুই ক্লাবের ঐতিহ্যবাহী মধ্যাহ্নভোজ বাতিল হওয়া সেই টানাপোড়েনেরই আরেকটি প্রকাশ হিসেবে সামনে এসেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চট্টগ্রাম রেঞ্জের ১১টি জেলার ৪ হাজার ৮৯৬টি পূজামণ্ডপে নির্বিঘ্নে দুর্গাপূজা উদ্যাপনের উদ্দেশ্যে প্রায় ২০ হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েনসহ সমন্বিত নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করেছে রেঞ্জ পুলিশ। বডি ওর্ন ক্যামেরা, বিশেষ টহল, প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি, অপরাধবিরোধী অভিযান এবং একাধিক স্তরের তদারকির মাধ্যমে পূজামণ্ডপগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী পিপিএমের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে এ নিরাপত্তাব্যবস্থা পরিচালিত হয়। ১৬ থেকে ১৯ অক্টোবর পর্যন্ত চার দিনে তিনি রেঞ্জের ১১টি জেলা পরিদর্শন করেন। অতিরিক্ত ডিআইজিদের নেতৃত্বে চারটি তদারকি দল গঠন করা হয় এবং প্রতিটি জেলা ও রেঞ্জ অফিসে মনিটরিং সেল চালু করা হয়।
রেঞ্জ পুলিশের সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, পূজা শুরুর এক মাস আগে থেকেই সম্ভাব্য অপরাধ প্রতিরোধ, প্রতিমা তৈরির স্থানগুলোর নিরাপত্তা এবং অনলাইনে গুজব ছড়ানো ঠেকাতে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়। এসব প্রস্তুতি ও সমন্বিত কার্যক্রমের মাধ্যমে রেঞ্জের ১১টি জেলায় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই দুর্গাপূজা সম্পন্ন হয়েছে।
প্রতিটি পূজামণ্ডপে বহুমাত্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা পুলিশের জন্য একটি বড় ধরনের ব্যবস্থাপনাগত চ্যালেঞ্জ ছিল। এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় শুধু পুলিশ সদস্য মোতায়েন নয়, প্রতিটি পূজামণ্ডপকে সমন্বিত নিরাপত্তাব্যবস্থার আওতায় আনা হয়।
নিরাপত্তা পরিকল্পনায় প্রতিটি পূজামণ্ডপে স্ট্যাটিক পুলিশ ফোর্স, বডি ওর্ন ক্যামেরা, স্বেচ্ছাসেবক ও স্ট্যান্ডবাই জেনারেটরের ব্যবস্থা রাখা হয়। মোবাইল পেট্রল, মোটরসাইকেল পেট্রল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স মোতায়েন করা হয়, যাতে কোনো এলাকায় পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কা দেখা দিলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া যায়।
বডি ওর্ন ক্যামেরার ব্যবহার মাঠপর্যায়ে পুলিশের দায়িত্ব পালন নথিবদ্ধ করা এবং স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়ানোর সুযোগ তৈরি করে। অন্যদিকে, বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সময় পূজামণ্ডপের কার্যক্রম ও নিরাপত্তাব্যবস্থা সচল রাখার প্রস্তুতির অংশ ছিল স্ট্যান্ডবাই জেনারেটর।
দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় চট্টগ্রাম রেঞ্জজুড়ে প্রায় ২০ হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়। এর পাশাপাশি ছয় প্লাটুন আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) এবং ১৫ প্লাটুন রিজার্ভ রেঞ্জ ফোর্স (আরআরএফ) সদস্য দায়িত্ব পালন করেন।
পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা, জনসমাগম নিয়ন্ত্রণ, নিয়মিত টহল, গুরুত্বপূর্ণ স্থানের সুরক্ষা এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দেওয়ার লক্ষ্যে এ জনবল মোতায়েন করা হয়। স্ট্যাটিক ফোর্সের পাশাপাশি মোবাইল ও মোটরসাইকেল পেট্রল পরিচালনার মাধ্যমে নিরাপত্তাব্যবস্থাকে নির্দিষ্ট স্থানের বাইরে বিস্তৃত এলাকায় সক্রিয় রাখা হয়। প্রয়োজনে দ্রুত অতিরিক্ত সহায়তা দিতে প্রস্তুত রাখা হয় স্ট্রাইকিং ফোর্স।
চার দিনে ১১ জেলা পরিদর্শন ডিআইজির
নিরাপত্তা কার্যক্রমের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল ডিআইজি আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী পিপিএমের সরাসরি মাঠপর্যায়ের তদারকি। ১৬ থেকে ১৯ অক্টোবর পর্যন্ত চার দিনে তিনি রেঞ্জের ১১টি জেলার সবগুলো পরিদর্শন করেন। এ সময় পূজামণ্ডপকেন্দ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ, দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে সমন্বয় এবং মাঠপর্যায়ের প্রস্তুতি পর্যালোচনার সুযোগ তৈরি হয়।
বিস্তৃত ভৌগোলিক এলাকা ও বিপুলসংখ্যক পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা কার্যক্রম তদারকিতে অতিরিক্ত ডিআইজিদের নেতৃত্বে চারটি দল গঠন করা হয়। দলগুলোর দায়িত্ব বণ্টন করা হয় এভাবে—প্রথম দল কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও চাঁদপুর; দ্বিতীয় দল নোয়াখালী, ফেনী ও লক্ষ্মীপুর; তৃতীয় দল চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও বান্দরবান এবং চতুর্থ দল রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি জেলার দায়িত্ব পালন করে।
এতে রেঞ্জ অফিসের কেন্দ্রীয় তদারকির পাশাপাশি আঞ্চলিক পর্যায়েও নিরাপত্তা কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ ও সমন্বয়ের ব্যবস্থা গড়ে ওঠে।
এএসপি থেকে এসপি—সব পর্যায়ে তদারকি
পূজার নিরাপত্তাব্যবস্থা কার্যকর রাখতে সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) থেকে পুলিশ সুপার (এসপি) পর্যন্ত কর্মকর্তাদের তদারকির আওতায় রাখা হয়। জেলা ও থানা পুলিশের মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি প্রতিটি জেলায় এবং রেঞ্জ অফিসে মনিটরিং সেল চালু করা হয়।
এর মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ের নিরাপত্তা কার্যক্রমের সঙ্গে রেঞ্জ পর্যায়ের সামগ্রিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের সমন্বয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়। দায়িত্ব বণ্টনের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় পর্যায়ে নজরদারি অব্যাহত রাখায় বিপুলসংখ্যক পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় সমন্বিত কাঠামো তৈরি হয়।
পূজার এক মাস আগে থেকেই অপরাধবিরোধী অভিযান
পূজার দিনগুলোতে শুধু তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে সম্ভাব্য অপরাধ ও বিশৃঙ্খলা প্রতিরোধে আগাম উদ্যোগ নেয় চট্টগ্রাম রেঞ্জ পুলিশ। পূজা শুরুর এক মাস আগে থেকেই বিভিন্ন জেলায় মাদকবিরোধী অভিযান, কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযান, আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধীদের গ্রেপ্তার এবং অবৈধ মোটরসাইকেলের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হয়।
এসব উদ্যোগের লক্ষ্য ছিল উৎসবকে কেন্দ্র করে অপরাধের আশঙ্কা কমানো, অপরাধপ্রবণ ব্যক্তিদের তৎপরতা নিয়ন্ত্রণ এবং জননিরাপত্তা বজায় রাখা। পাশাপাশি প্রতিমা তৈরির সময় থেকেই সংশ্লিষ্ট স্থানগুলোতে নজরদারি চালানো হয়। ফলে পূজার প্রস্তুতিপর্ব থেকে শুরু করে উৎসব চলাকালীন নিরাপত্তার বিষয়টি পরিকল্পনার আওতায় রাখা হয়।
অনলাইনে গুজব প্রতিরোধে নজরদারি
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গুজব, বিভ্রান্তিকর তথ্য ও উসকানিমূলক বক্তব্য সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি এবং আইনশৃঙ্খলার জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। এ বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে রেঞ্জের ১১টি জেলার অনলাইন কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ ও গুজব প্রতিরোধে বিশেষ নজরদারির ব্যবস্থা করা হয়।
জেলা পুলিশকে অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া সম্ভাব্য উসকানিমূলক ও বিভ্রান্তিকর তথ্যের বিষয়ে সতর্ক থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়। এর মাধ্যমে মাঠপর্যায়ের নিরাপত্তার পাশাপাশি তথ্যপ্রবাহ পর্যবেক্ষণকেও উৎসবের নিরাপত্তা পরিকল্পনার অংশ করা হয়।
স্থানীয় অংশীজনদের সম্পৃক্ততা
পূজার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের পাশাপাশি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সম্পৃক্ত করা হয়। স্থানীয় পর্যায়ে সমন্বয় ও সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার মাধ্যমে নিরাপত্তাব্যবস্থাকে শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যক্রমে সীমাবদ্ধ না রেখে সামাজিক অংশীজনদের সহযোগিতার সঙ্গে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
সমন্বিত নিরাপত্তাব্যবস্থার দৃষ্টান্ত
চট্টগ্রাম রেঞ্জের দুর্গাপূজার নিরাপত্তাব্যবস্থার বিশেষত্ব ছিল জনবল মোতায়েন, প্রযুক্তির ব্যবহার, বিশেষ টহল, আগাম অপরাধবিরোধী অভিযান, অনলাইন নজরদারি এবং কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের তদারকিকে একই পরিকল্পনার আওতায় আনা।
ডিআইজি আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী পিপিএমের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে চার দিনে ১১টি জেলা পরিদর্শন, চারটি তদারকি দলের মাধ্যমে দায়িত্ব বণ্টন এবং বিভিন্ন পর্যায়ে মনিটরিং সেল চালুর মধ্য দিয়ে মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের কাঠামো গড়ে তোলা হয়।
রেঞ্জ পুলিশের সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, ১১টি জেলার ৪ হাজার ৮৯৬টি পূজামণ্ডপে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই দুর্গাপূজা সম্পন্ন হয়েছে। এ কার্যক্রমে জেলা পুলিশ, মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা, দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্য এবং স্থানীয় অংশীজনদের সমন্বিত ভূমিকা ছিল।
আগাম প্রস্তুতি, প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি, দায়িত্বের সুনির্দিষ্ট বণ্টন এবং ধারাবাহিক তদারকির সমন্বয়ে পরিচালিত এ নিরাপত্তাব্যবস্থা ভবিষ্যতে দুর্গাপূজাসহ বড় ধর্মীয় উৎসব ও বৃহৎ জনসমাগমের নিরাপত্তা পরিকল্পনায় অনুসরণযোগ্য অভিজ্ঞতা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ