মোঃ ওসমান গনি শেরপুর জেলা প্রতিনিধি
০৭:২৮ পি.এম
শেরপুরে ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস যথাযোগ্য মর্যাদা ও উৎসবমুখর পরিবেশে পালন করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা (জাসাস), শেরপুর জেলা শাখা। দিবসটি উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র্যালি ও আলোচনা সভার আয়োজন করে সংগঠনটি। কর্মসূচিতে জেলা, উপজেলা, পৌরসভা ও বিভিন্ন ইউনিটের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ও সমর্থকের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে পুরো আয়োজন প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।
শনিবার (৭ নভেম্বর) বিকেলে জেলা জাসাসের উদ্যোগে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক ঘুরে থানার মোড় মুক্তমঞ্চে গিয়ে শেষ হয়। এ সময় নেতাকর্মীরা জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং জাতীয়তাবাদী আদর্শ, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও সাংস্কৃতিক চেতনা সমুন্নত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
র্যালিতে নেতৃত্ব দেন শেরপুর জেলা জাসাসের আহ্বায়ক এ.কে.এম. এনামুল হক বিপু। পরে থানার মোড় মুক্তমঞ্চে দিবসটির ঐতিহাসিক গুরুত্ব ও তাৎপর্য তুলে ধরে এক সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
এতে উপস্থিত ছিলেন জেলা জাসাসের সদস্য সচিব মোঃ হারুন অর রশিদ, যুগ্ম আহ্বায়ক মোঃ জাকির হোসেন, মিলন মিয়া ও সবুজ মিয়া এবং জেলা জাসাসের সদস্য ও দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত জহুরুল ইসলাম জাপি। এ ছাড়া উপজেলা, পৌরসভা ও বিভিন্ন ইউনিটের নেতৃবৃন্দ, জাসাসের সাংস্কৃতিক কর্মী, শিল্পী, সমর্থকসহ বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, ৭ নভেম্বর বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ দিন। ১৯৭৫ সালের এই দিনে সংঘটিত ঐতিহাসিক ঘটনাপ্রবাহ দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে গভীর প্রভাব ফেলেছিল। জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের মূল চেতনার সঙ্গে জাতীয় ঐক্য, স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা, দেশপ্রেম এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার বিষয়গুলো জড়িয়ে রয়েছে। ইতিহাসের এই গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় থেকে শিক্ষা নিয়ে জাতীয়তাবাদী আদর্শ ও গণতান্ত্রিক চেতনাকে আরও সুসংহত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তাঁরা।
বক্তারা আরও বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা (জাসাস) কেবল একটি সাংগঠনিক প্ল্যাটফর্ম নয়; এটি জাতীয়তাবাদী দর্শন, দেশীয় সংস্কৃতি, সাহিত্য, সংগীত ও শিল্পচর্চার বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। সাংস্কৃতিক অঙ্গনে জাতীয় চেতনা, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, দেশপ্রেম ও মানুষের অধিকারবোধকে ছড়িয়ে দিতে জাসাসের নেতাকর্মীদের আরও দায়িত্বশীল ও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে।
তাঁরা বলেন, সাংগঠনিক ঐক্য, পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও শৃঙ্খলা বজায় রেখে সংগঠনকে তৃণমূল পর্যায়ে আরও শক্তিশালী করতে হবে। একই সঙ্গে দেশীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ, নতুন প্রজন্মের মধ্যে দেশপ্রেম জাগ্রত করা এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় সাংস্কৃতিক আন্দোলনকে এগিয়ে নিতে হবে।
জেলা জাসাসের আহ্বায়ক এ.কে.এম. এনামুল হক বিপুর নেতৃত্বে আয়োজিত এ কর্মসূচির মধ্য দিয়ে সংগঠনের নেতাকর্মীরা ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বরের চেতনাকে ধারণ করে জাতীয়তাবাদী আদর্শ ও সাংস্কৃতিক ঐক্য সুদৃঢ় করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
বর্ণাঢ্য র্যালি ও আলোচনা সভার মধ্য দিয়ে দিবসটি পালন শেরপুর জেলা জাসাসের সাংগঠনিক তৎপরতায় নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে। পাশাপাশি নেতাকর্মীদের মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতি, ঐক্য ও সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধির প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন আয়োজকরা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নৈতিক অভিযোগের প্রেক্ষিতে কওমি মাদরাসায় হামলা, ভাঙচুর ও শিক্ষার পরিবেশ বিনষ্টের ঘটনায় জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সংগঠনটির বক্তব্য হলো, "কোনো ব্যক্তি অপরাধ করলে তার দায় ব্যক্তির; এর সঙ্গে পুরো একটি শিক্ষা-ব্যবস্থা বা মাদরাসা প্রতিষ্ঠানকে জড়ানো কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।"
শনিবার রাজধানীর পুরানা পল্টনে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে কেন্দ্রীয় মজলিসে আমেলার অধিবেশনে নেতারা এসব মন্তব্য করেন। কেন্দ্রীয় সভাপতি শাইখুল হাদিস মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুকের সভাপতিত্বে এবং মহাসচিব মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দীর পরিচালনায় এই অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়।
এ অধিবেশনে আরো উপস্থিত ছিলেন মাওলানা আব্দুর রব ইউসুফী, মাওলানা আব্দুল কুদ্দুস তালুকদার, মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব, মাওলানা শেখ মুজিবুর রহমান, মাওলানা নাজমুল হাসান কাসেমী, মাওলানা বাহাউদ্দীন যাকারিয়া, মুফতি মনির হোসাইন কাসেমী, মুফতি মকবুল হোসাইন কাসেমী এবং মাওলানা লোকমান মাযহারী প্রমুখ।
নেতারা উল্লেখ করেন, "কোনো মাদ্রাসার শিক্ষক, কর্মকর্তা বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট ও গুরুতর অভিযোগ থাকলে আইনানুগ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করতে হবে।" অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রকৃত দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। তবে অভিযোগের অজুহাতে কোনো মাদ্রাসায় হামলা, ভাঙচুর, শিক্ষার্থীদের আতঙ্কিত করা কিংবা প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষুণ্ণ করার অপচেষ্টা কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না।
তারা আরও বলেন, কওমি মাদ্রাসাগুলো দীর্ঘদিন ধরে দেশের শিক্ষা, ধর্মীয় মূল্যবোধ ও নৈতিকতা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। বিচ্ছিন্ন কোনো অপরাধের অভিযোগের ভিত্তিতে ঢালাওভাবে কওমি মাদ্রাসাগুলোকে প্রশ্নবিদ্ধ করা এবং হামলার পরিবেশ সৃষ্টি করা একটি গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ হতে পারে। তাই, কোনো ঘটনার ক্ষেত্রে আবেগ, গুজব বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রচারণার ওপর নির্ভর না করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটন করতে হবে।
জমিয়ত নেতারা বলেন, "আমরা কোনো অপরাধীর পক্ষাবলম্বন করি না।" অপরাধী যে-ই হোক, তার পরিচয় ও প্রতিষ্ঠান বিবেচনা না করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। একই সঙ্গে নিরপরাধ শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও প্রতিষ্ঠানের ওপর অন্যায়ের দায় চাপিয়ে দেওয়া কিংবা আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা বন্ধ করতে হবে।
তারা প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, অভিযোগের নামে দেশের কোনো মাদ্রাসায় হামলা বা ভাঙচুরের ঘটনা যাতে না ঘটে, সে বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। একই সঙ্গে প্রকৃত অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। "অপরাধীর বিচার চাই, কিন্তু কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস বা একটি বৃহৎ শিক্ষা ব্যবস্থাকে কলঙ্কিত করার ষড়যন্ত্র মেনে নেওয়া হবে না।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে যথাযোগ্য মর্যাদায় দিনব্যাপী নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে শনিবার (৭ নভেম্বর) সকালে সব সরকারি, আধা-সরকারি,স্বায়ত্তশাসিত ও দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়, পরে দলীয় কার্যালয়ে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রতিকৃতিতে পূস্পমাল্য অর্পণ করা হয় এসময় উপজেলা বিএনপি ও এর অংগ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবিন্দ উপস্থিত ছিলেন। সকাল ১০টায় সিএসএফ গ্লোবালের আয়োজনে বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশু-কিশোরদের আনন্দ ও সচেতনতা র্যালি অনুষ্ঠিত হয়। র্যালীতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় স্বাস্থ্য ও পরিবারপরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড.এম,এ,মুহিত। র্যালিটি বিসিক বাসস্টাণ্ড সংলগ্ল প্রগতি ক্লাব থেকে শুরু হয়ে পৌর এলাকার বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে প্রেসক্লাব চত্বরে এসে শেষ হয়। পরে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে শাহজাদপুর সরকারি মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত প্রর্দশনী ফুটবল ম্যাচের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড.এম,এ,মুহিত। উপজেলা প্রশাসন এ ফুটবল ম্যাচের আয়োজন করেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাবরিনা সারমিন। অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশোনার ( ভূমি) ফরিদুল ইসলাম,থানার অফিসার ইনচার্জ সাইফুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ইকবাল হাসান হিরু,সাধারাণ সম্পাদক আরিফুজ্জামান আরিফ। এসময় অতিথি বৃন্দ সপ্তবর্ণ মডেল স্কুলের শিক্ষার্থীদের পরিবেশিত ডিসপ্লে উপভোগ করেণ। দুপুরে উপজেলার নুকালিতে অবস্থিত সিএসএফ সেন্টারে বিশ্ব সেরিব্রাল পালসি দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয় এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড.এম,এ,মুহিত সভাপতিত্ব করেন সিএসএফ গ্লোবালের নির্বাহি সদস্য মো: আল মামুন,বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নিবার্হী অফিসার সাবরিনা শারমিন। বেলা ২ টায় উপজেলা বিএনপির আয়োজনে দলীয় কার্যালয় থেকে বিশাল র্যালী বের হয়ে শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষীণ করে। বিকেল ৩ টায় শাহজাদপুর সরকারি মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবার,যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাসহ মুক্তিযোদ্ধাদের সমন্বয়ে ও শাহজাদপুর উপজেলা বিএনপির অংশ গ্রহণে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড.এম,এ,মুহিত এমপি। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ইকবাল হোসেন হিরু,সাধারণ সম্পাদক আরিফুজ্জামান আরিফ। এতে বক্তব্য রাখেন সিনিয়র সহ-সভাপতি আব্দুল জব্বার,সাংগঠনিক সম্পাদক আমির হোসেন সবুজ,পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি ইমদাদুল হক নওশাদ প্রেস ক্লাবের সভাপতি আল আমিন হোসেন প্রমূখ। সংস্কৃতিক অনুষ্টানে সংগীত পরিবেশন করেন উপজেলা শিল্পকলা একাডেমি ও শাহমখদুম বাউল একাডেমির শিল্পীবৃন্দ।
মো: রাসেল সরকার
শাহজাদপুর,সিরাজগঞ্জ
মোবা:০১৭২৯-১৪৮৮৮৪
তারিখ: ০৭.১১.২০২৬খ্রি:
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চট্টগ্রাম নগরীতে খেলাধুলার পরিবেশ সৃষ্টি করার লক্ষ্যে এবং তরুণ প্রজন্মকে মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও কিশোর গ্যাংয়ের মতো সামাজিক অপরাধ থেকে দূরে রাখার উদ্দেশ্যে ৪১টি ওয়ার্ডে ৪১টি খেলার মাঠ গড়ে তোলার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক)। চসিক প্রশাসক ডা. শাহাদাত হোসেন ভবিষ্যতে পর্যায়ক্রমে মাঠের সংখ্যা বাড়িয়ে ৮২টিতে উন্নীত করার পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ করেছেন।
শনিবার (৭ নভেম্বর) নগরীর আগ্রাবাদ জাম্বুরি মাঠ ও কয়েকটি সড়কের উন্নয়ন এবং সৌন্দর্যবর্ধন কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ তথ্য জানান।
চসিক প্রশাসক বলেন, ‘চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ৪১টি ওয়ার্ডে ৪১টি খেলার মাঠ গড়ে তোলার যে উদ্যোগ নিয়েছি, সেটি বাস্তবায়নে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। ইতোমধ্যে ১১টি খেলার মাঠ প্রস্তুত হয়েছে। পর্যায়ক্রমে আরও মাঠ গড়ে তুলে এই সংখ্যা ৮২টিতে উন্নীত করতে চাই।’
ডা. শাহাদাত হোসেন আরও বলেন, ‘আমরা মাদক চাই না, সন্ত্রাস চাই না, চাঁদাবাজি চাই না, কিশোর গ্যাং চাই না। শুধু মুখে এসবের বিরুদ্ধে কথা বললে হবে না। তরুণদের জন্য খেলাধুলার উপকরণ ও বিনোদনের উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করে দিতে হবে।’
তিনি উল্লেখ করেন, তরুণদের জন্য মাঠ ও খেলাধুলার সুযোগ নিশ্চিত করা গেলে তারা অপরাধের পথ ছেড়ে সুস্থ ও সুন্দর জীবনের দিকে এগিয়ে আসবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম মন্তব্য করেছেন, ‘ডিসেম্বরে কোনো আপার এ দেশে আসার সুযোগ নেই, আমরা প্রস্তুত আছি।’
তিনি শনিবার দুপুরে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ ও জুলাই গণ-অভ্যুত্থান নিয়ে শিক্ষার্থীদের ভাবনা কার্যক্রমের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন।
নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, ‘আগামী ডিসেম্বর মাসে মনে হয় কেউ দেশে আসতে চাচ্ছে। আপনারা কি প্রস্তুত আছেন? জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে যেভাবে প্রস্তুত ছিলাম, এবারও কি সেভাবে প্রস্তুত আছি? এবার কি আগের চেয়ে বেশি হবে না কম হবে?’
তিনি উল্লেখ করেন, ‘আগেরবার আমরা অনেক উদারতা দেখিয়েছি। আমরা ক্ষমা করে দিয়েছিলাম। আমরা বলেছিলাম, ওসমান হাদির ভাষায়, শত্রুর প্রতি আমরা ইনসাফ করব, ন্যায়বিচার করব। কিন্তু গত দুই বছরে আমরা কোনো বিচার পাইনি। আমরা ওসমান হাদি হত্যার বিচার পাইনি। জুলাইয়ে আমাদের যেসব ভাই-বোন শহীদ হয়েছেন, তাঁদের হত্যারও বিচার পাইনি।’
নাহিদ ইসলাম বলেন, বিচার না পেলে জনগণ নিজেরাই প্রতিরোধ গড়ে তুলবে। তিনি বলেন, ‘মানুষ যদি ন্যায়বিচার না পায়, তখন জনগণ নিজেই প্রতিরোধ শুরু করে। ডিসেম্বর আমাদের প্রতিরোধের মাস, আমাদের বিজয়ের মাস। একাত্তরে বিজয় লাভ করেছি, চব্বিশেও বিজয় লাভ করেছি। ২০২৬ সালেও বিজয় লাভ করব ইনশাআল্লাহ। আগামী সব ডিসেম্বরেই বাংলাদেশের ছাত্র-জনতা বিজয় লাভ করবে।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়জীবন শুধুমাত্র ব্যক্তিগত ক্যারিয়ার গঠনের সময় নয়, বরং দেশ ও সমাজের প্রতি দায়িত্ব পালনের সময়ও। বিশ্ববিদ্যালয়ে আবাসন, পরিবহন ও শ্রেণিকক্ষ সংকট নিরসনে রাষ্ট্র ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে দায়িত্ব নিতে হবে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতেও উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর ভূমিকা রাখতে হবে।
তিনি বলেন, বিগত সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে র্যাগিং, ছাত্র নির্যাতন, গেস্টরুম ও গণরুম সংস্কৃতির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ওপর নিপীড়ন চালানো হয়েছে। এসবের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের গণতান্ত্রিক পরিবেশ ও স্বাধীনতা রক্ষা করতে হবে।
ছাত্রসংগঠনগুলোর ভূমিকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শুধুমাত্র নবীন শিক্ষার্থীদের ফুল ও উপহার দিয়ে মন জয় করাই ছাত্রসংগঠনের কাজ নয়। শিক্ষার্থীদের আবাসন, পরিবহন ও শ্রেণিকক্ষ সংকটসহ বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে আন্দোলন করা এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ওপর চাপ সৃষ্টি করাই প্রকৃত ছাত্ররাজনীতির দায়িত্ব।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে মেধাভিত্তিক বাংলাদেশ গঠন, দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতি বন্ধ, সুশাসন প্রতিষ্ঠা, আধিপত্যবাদ প্রতিরোধ এবং গণতন্ত্র নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। শিক্ষার্থীদের যেকোনো অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী হওয়ার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে জাতীয় ছাত্রশক্তির নোবিপ্রবি শাখার আয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
এমএইচ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ