০৭:২৯ পি.এম
দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নৈতিক অভিযোগের প্রেক্ষিতে কওমি মাদরাসায় হামলা, ভাঙচুর ও শিক্ষার পরিবেশ বিনষ্টের ঘটনায় জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সংগঠনটির বক্তব্য হলো, "কোনো ব্যক্তি অপরাধ করলে তার দায় ব্যক্তির; এর সঙ্গে পুরো একটি শিক্ষা-ব্যবস্থা বা মাদরাসা প্রতিষ্ঠানকে জড়ানো কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।"
শনিবার রাজধানীর পুরানা পল্টনে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে কেন্দ্রীয় মজলিসে আমেলার অধিবেশনে নেতারা এসব মন্তব্য করেন। কেন্দ্রীয় সভাপতি শাইখুল হাদিস মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুকের সভাপতিত্বে এবং মহাসচিব মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দীর পরিচালনায় এই অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়।
এ অধিবেশনে আরো উপস্থিত ছিলেন মাওলানা আব্দুর রব ইউসুফী, মাওলানা আব্দুল কুদ্দুস তালুকদার, মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব, মাওলানা শেখ মুজিবুর রহমান, মাওলানা নাজমুল হাসান কাসেমী, মাওলানা বাহাউদ্দীন যাকারিয়া, মুফতি মনির হোসাইন কাসেমী, মুফতি মকবুল হোসাইন কাসেমী এবং মাওলানা লোকমান মাযহারী প্রমুখ।
আরও পড়ুন: ডিসেম্বরে দেশে আসার সুযোগ নেই: নাহিদ ইসলাম
নেতারা উল্লেখ করেন, "কোনো মাদ্রাসার শিক্ষক, কর্মকর্তা বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট ও গুরুতর অভিযোগ থাকলে আইনানুগ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করতে হবে।" অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রকৃত দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। তবে অভিযোগের অজুহাতে কোনো মাদ্রাসায় হামলা, ভাঙচুর, শিক্ষার্থীদের আতঙ্কিত করা কিংবা প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষুণ্ণ করার অপচেষ্টা কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না।
তারা আরও বলেন, কওমি মাদ্রাসাগুলো দীর্ঘদিন ধরে দেশের শিক্ষা, ধর্মীয় মূল্যবোধ ও নৈতিকতা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। বিচ্ছিন্ন কোনো অপরাধের অভিযোগের ভিত্তিতে ঢালাওভাবে কওমি মাদ্রাসাগুলোকে প্রশ্নবিদ্ধ করা এবং হামলার পরিবেশ সৃষ্টি করা একটি গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ হতে পারে। তাই, কোনো ঘটনার ক্ষেত্রে আবেগ, গুজব বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রচারণার ওপর নির্ভর না করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটন করতে হবে।
জমিয়ত নেতারা বলেন, "আমরা কোনো অপরাধীর পক্ষাবলম্বন করি না।" অপরাধী যে-ই হোক, তার পরিচয় ও প্রতিষ্ঠান বিবেচনা না করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। একই সঙ্গে নিরপরাধ শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও প্রতিষ্ঠানের ওপর অন্যায়ের দায় চাপিয়ে দেওয়া কিংবা আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা বন্ধ করতে হবে।
তারা প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, অভিযোগের নামে দেশের কোনো মাদ্রাসায় হামলা বা ভাঙচুরের ঘটনা যাতে না ঘটে, সে বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। একই সঙ্গে প্রকৃত অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। "অপরাধীর বিচার চাই, কিন্তু কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস বা একটি বৃহৎ শিক্ষা ব্যবস্থাকে কলঙ্কিত করার ষড়যন্ত্র মেনে নেওয়া হবে না।"
আরও পড়ুন: নয়াপল্টন থেকে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে সার্বভৌমত্ব র্যালিতে হেঁটে প্রধানমন্ত্রী
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন