০৩:০৯ পি.এম
ঢাকা, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬ : বিশ্বজুড়ে জীববৈচিত্র্য ধ্বংসের আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি এবং প্রাকৃতিক ইকোসিস্টেমের ক্ষতি প্রতিরোধের জন্য উন্নত দেশগুলোর পক্ষ থেকে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ এবং পর্যাপ্ত অর্থায়ন নিশ্চিত করার জন্য জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন।
জাতিসংঘের ঐতিহাসিক জীববৈচিত্র্য সম্মেলন (কপ-১৬)-এর অগ্রগতি পর্যালোচনার সময় তিনি এ সতর্কবার্তা প্রদান করেন।
মহাসচিব গুতেরেস স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্যের এই অভূতপূর্ব ক্ষতি মানবজাতির অস্তিত্বকে সংকটের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। তিনি বলেন, "এই মহামূল্যবান প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষায় কেবল কাগুজে প্রতিশ্রুতি নয়, বরং এই মুহূর্তেই উন্নত দেশগুলোর তরফ থেকে দৃশ্যমান ও বাস্তবসম্মত আর্থিক বিনিয়োগ নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।"
আরও পড়ুন: হারামাইনের নিরাপত্তায় আপসের কোনো সুযোগ নেই: পাকিস্তান
জাতিসংঘের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয় যে, জলবায়ু পরিবর্তনের মতো জীববৈচিত্র্য রক্ষা বা কুমিং-মন্ট্রিল গ্লোবাল বায়োডাইভারসিটি ফ্রেমওয়ার্ক (জেবিএফ) বাস্তবায়নে অর্থায়ন এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ২০৩০ সালের মধ্যে প্রতি বছর অন্তত ২০০ বিলিয়ন ডলারের বৈশ্বিক জীববৈচিত্র্য তহবিল গঠনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল, কিন্তু উন্নত দেশগুলোর গড়িমসির কারণে তার সরবরাহ এখনও অত্যন্ত ধীরগতির।
মহাসচিব গুতেরেস ক্ষতিগ্রস্ত ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর ইকোসিস্টেম পুনরুদ্ধার এবং বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে এই তহবিলের সহজলভ্যতা নিশ্চিত করার দাবি জানান। তিনি সতর্ক করেন যে, অর্থায়নের এই বিশাল ঘাটতি পূরণ না হলে ২০৩০ সালের মধ্যে জীববৈচিত্র্য ও প্রকৃতির ক্ষতি রোধ করার বৈশ্বিক লক্ষ্য অধরাই থেকে যাবে।
তহবিল সরবরাহে উন্নত দেশের ধীরগতি:
২০২২ সালের চুক্তির আলোকে ২০২৫ সালের মধ্যে উন্নত দেশগুলোর কাছ থেকে অনুন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য প্রতি বছর অন্তত ২০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার নিশ্চিত করার কথা ছিল। তবে ক্যালি সম্মেলনে প্রকাশিত তথ্যে দেখা যায়, প্রতিশ্রুত এই আন্তর্জাতিক সরকারি অর্থায়নের একটি বড় অংশ এখনও অবমুক্ত হয়নি।
আরও পড়ুন: ম্যাক্রোঁ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরেন্ট নুনেজের পদত্যাগের প্রস্তাব নাকচ করলেন
২০৩০ সালের বিশাল বৈশ্বিক লক্ষ্যমাত্রা:
২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বব্যাপী জীববৈচিত্র্য সুরক্ষায় সরকারি ও বেসরকারি উৎস মিলিয়ে প্রতি বছর অন্তত ২০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের তহবিল গঠনের লক্ষ্য রয়েছে। মহাসচিব গুতেরেস সতর্ক করে বলেন, "এখনই উন্নত দেশগুলো অর্থায়নের গতি না বাড়ালে এই লক্ষ্য অর্জন অসম্ভব হয়ে পড়বে।"
উন্নয়নশীল দেশের ওপর চাপ:
বাংলাদেশ, কলম্বিয়া ও আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের মতো চরম জীববৈচিত্র্য ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলো পর্যাপ্ত আন্তর্জাতিক অনুদান না পাওয়ায় তাদের নিজস্ব বনাঞ্চল ও জলাভূমি রক্ষা এবং বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের জাতীয় পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়ন করতে পারছে না।
আরও পড়ুন: ইরান সমর্থিত ইয়েমেনী হুথির বিরুদ্ধে যারাই যাবে তারাই পরাজিত হবে!
জলবায়ু ও জীববৈচিত্র্েযর আন্তঃসম্পর্ক:
মহাসচিব গুতেরেস তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট করেন যে, জলবায়ু পরিবর্তন ও জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি—এই দুটি সংকট একে অপরের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। একটিকে বাদ দিয়ে অন্যটির সমাধান করা সম্ভব নয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী মাসে অনুষ্ঠিতব্য কপ-৩১ জলবায়ু সম্মেলনের আগে ক্যালির এই জীববৈচিত্র্য সম্মেলনে উন্নত দেশগুলো অর্থায়নের ক্ষেত্রে কতটা আন্তরিকতা দেখায়, তার ওপরই বহুপাক্ষিক কূটনীতির ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে।
আরও পড়ুন: রিচার্লিসনের অভিযোগ: ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থীর দ্বীপের দখল আইনি প্রক্রিয়ায় হাতছাড়া
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন