১২:৫০ পি.এম
ভারত থেকে পুশইনের ঘটনা ঘটছে পশ্চিমবঙ্গের নতুন সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকারের অংশ হিসেবেই। প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান এ বিষয়টি উল্লেখ করে বলেছেন, এটি বাংলাদেশকে কোনো ধরনের চাপে রাখার কৌশল নয়।
মঙ্গলবার (৯ জুন) সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতির উপর সাংবাদিকদের সঙ্গে ব্রিফিংকালে তথ্য উপদেষ্টা ভারত থেকে পুশইন বা পুশব্যাক ইস্যু এবং পাশাপাশি তিস্তা ব্যারেজ ও স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করেন।
পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পুশব্যাক নীতি নিয়ে সাংবাদিকদের একটি প্রশ্নের জবাবে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘পশ্চিমবঙ্গে নতুন সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার ছিল যে অবৈধ বাংলাদেশি থাকলে তাদের পুশব্যাক করা হবে। তারা বাংলাদেশকে চাপে রাখতে চাইছেন, বিষয়টি সেরকম নয়। তবে আমি আশা করি, শিগগিরই দুদেশের সরকারের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে এ সমস্যার সমাধান হবে।’
আরও পড়ুন: যেসব এলাকায় আজ সকাল ৮টা থেকে সাড়ে ৯ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না
এই প্রসঙ্গে তিনি আরও পরিষ্কার করে বলেন, বাংলাদেশকে চাপে রাখার জন্য ভারত থেকে পুশইন হচ্ছে না। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের নির্বাচন কমিশনের ইশতেহারে থাকার কারণে, তাদের প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবেই এই ঘটনা ঘটছে। তবে উদ্বেগের কোনো কারণ নেই, কারণ দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমে এর সমাধান সম্ভব।
ব্রিফিংয়ে তিনি তিস্তা নদীর পানি বণ্টন সমস্যার বিকল্প সমাধানের জন্য একটি বড় পরিকল্পনার বিষয়েও আলোচনা করেন। তিনি বলেন, ‘পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের মতো তিস্তা ব্যারেজ নির্মাণ করে পানি সংরক্ষণ করা হবে।’ ভারত থেকে বর্ষা মৌসুমে যে পানি আসবে, সেটি এই ব্যারেজের মাধ্যমে ধরে রেখে শুষ্ক মৌসুমে ব্যবহার করা হবে।
ডা. জাহেদ উর রহমান আরও জানান, তিস্তা এলাকায় যেহেতু ব্যারেজ কিংবা রিজার্ভার (জলাধার) নির্মাণ করা হবে, সেখানে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকার মতো খরচ হতে পারে। এই বিপুল পরিমাণ খরচ বাংলাদেশ সরকার নিজেরা বহন করতে সক্ষম। তবে, এই মেগা প্রকল্পে যদি অন্য কোনো বন্ধুভাবাপন্ন দেশ সাহায্য করতে চায়, সেই সুযোগও খোলা রাখা হবে।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে, ডা. জাহেদ উর রহমান জানান, আসন্ন নির্বাচনে সম্পূর্ণ নির্দলীয় বা দলীয় প্রতীক ছাড়া নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। যে কেউ ব্যক্তিগত পরিচয়ে নির্বাচনে অংশ নেয়া সম্ভব হবে এবং এ ক্ষেত্রে সরকার কোনো ধরনের বাধা দেবে না।
আরও পড়ুন: বাগদাদে বায়ুদূষণ শীর্ষে, ঢাকার অবস্থান ১৩তম
তবে রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগের অংশগ্রহণের বিষয়ে তিনি সরকারের অবস্থান সুস্পষ্ট করেন, ‘একারণে যে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ আছে, সুতরাং আওয়ামী লীগের পদ-পদবি ব্যবহার করে নির্বাচনে অংশ নেয়ার সুযোগ নেই। তবে যে দলেরই হোক, ব্যক্তিগতভাবে এই নির্বাচনে অংশ নিতে চাইলে, কারো প্রতি কোনো বাধা থাকবে না।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন