ঢাকা রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৯ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৪ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৯ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ফের আইনি বিপাকে পড়লেন হানি সিং


ফের আইনি বিপাকে পড়লেন হানি সিং

জনপ্রিয় র‍্যাপার হানি সিংয়ের জন্য বিতর্ক যেন কখনো শেষ হচ্ছে না। এবার গাড়িতে শারীরিক সম্পর্ক নিয়ে মন্তব্য করার কারণে তিনি আইনি জটিলতায় পড়েছেন। মহারাষ্ট্র সাইবার সেলে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। যদিও তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা হয়েছিল, নির্ধারিত দিনে হাজির হননি হানি সিং। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের একটি প্রতিবেদনে এসব তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।

ঘটনাটি শুরু হয় গত জানুয়ারিতে। একটি কনসার্টে শীতের রাতে গাড়িতে শারীরিক সম্পর্ক নিয়ে মন্তব্য করেন হানি সিং। তিনি বলেন, ‘উফফ, দিল্লিতে এমন ঠান্ডা! শীতের রাতে গাড়িতে শারীরিক সম্পর্ক করার মজাই আলাদা…’। তার এই মন্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই সমালোচনা শুরু হয়। কিছু মানুষ তাকে কটাক্ষ করেন, আবার অনেকে নেতিবাচক মন্তব্য করতে থাকেন।

সমালোচনার মুখে ক্ষমা চেয়েছেন এই র‍্যাপার। কিন্তু তাতেও বিতর্ক থামেনি। মহারাষ্ট্র সাইবার সেলে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয় এবং এর ভিত্তিতে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা হয়। গতকাল ৫ অক্টোবর সাইবার সেলে হাজির হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু নির্ধারিত দিনে উপস্থিত হননি তিনি। বরং এ জন্য আরও কিছুটা সময় চেয়ে নিয়েছেন বলে জানা গেছে।

আরও পড়ুন: সংস্কৃতিমন্ত্রী: 'ক্ষুদ্র' শব্দটি নৃগোষ্ঠীর জন্য অপমানজনক

এদিকে, চলতি বছর একটি গান নিয়েও আইনি জটিলতায় পড়েন হানি সিং। গত মে মাসে প্রকাশিত তার একটি গানের বিরুদ্ধে নারী বিদ্বেষ ছড়ানোর অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় হিন্দু শক্তি দল তার বিরুদ্ধে মামলা করে, যা এখনো আদালতে বিচারাধীন।

এক বিতর্কের রেশ কাটতে না কাটতেই নতুন করে আইনি জটিলতায় পড়ায় আবারও আলোচনায় এসেছেন হানি সিং। তবে সর্বশেষ অভিযোগের বিষয়ে তার পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, তা নিয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইরানে হামলায় ব্যবহৃত মার্কিন বিমানঘাঁটিতে ষড়যন্ত্রের অভিযোগে যুক্তরাজ্যে আরও ১ গ্রেপ্তার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৬ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৭:৩৯ পি.এম


ইরানে হামলায় ব্যবহৃত মার্কিন বিমানঘাঁটিতে ষড়যন্ত্রের অভিযোগে যুক্তরাজ্যে আরও ১ গ্রেপ্তার

যুক্তরাজ্যের কাউন্টার টেররিজম পুলিশ একটি ব্রিটিশ বিমানঘাঁটিতে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড বা 'সন্ত্রাসবাদী পরিকল্পনার' অভিযোগে আরও একজনকে গ্রেপ্তার করেছে, যেখানে মার্কিন বোমারু বিমান ব্যবহৃত হয়েছে। এ ঘটনায় মোট সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, গত ওয়েস্টমিনস্টার এলাকা থেকে ২২ বছর বয়সী এক ব্রিটিশ নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে "সন্ত্রাসবাদী কর্মকাণ্ডের প্রস্তুতি নেওয়া"র অভিযোগে আটক করা হয়েছে। এর আগে 'আরএএফ ফেয়ারফোর্ড' নামের বিমানঘাঁটির কাছাকাছি এলাকা থেকে সন্দেহভাজন আরও ছয়জনকে একই অপরাধে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তবে, তাদের মধ্যে আগের ছয়জন বর্তমানে জামিনে মুক্তি পেয়েছে।

যুক্তরাজ্যের 'আরএএফ ফেয়ারফোর্ড' বিমানঘাঁটিটি মার্কিন সামরিক বাহিনী কর্তৃক ইরানে সাম্প্রতিক বিমান হামলার জন্য ব্যবহৃত হচ্ছিল। সম্ভাব্য এই হুমকির প্রেক্ষিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এক ঘোষণায় জানান, বিমানঘাঁটিটিতে "নিরাপত্তা সংক্রান্ত হুমকির" কারণে রবিবারে সেখান থেকে মার্কিন বি-১ বোমারু বিমানগুলো সাময়িকভাবে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিমানঘাঁটির নিরাপত্তা জোরদার করেছে এবং পুরো বিষয়টি গভীরভাবে তদন্ত করে দেখছে। সূত্র: বিবিসি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পদ্মার তীব্র স্রোতে দুইদিন ধরে বন্ধ ধাওয়াপাড়া-নাজিরগঞ্জ ফেরি চলাচল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৬ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৭:৩৯ পি.এম


পদ্মার তীব্র স্রোতে দুইদিন ধরে বন্ধ ধাওয়াপাড়া-নাজিরগঞ্জ ফেরি চলাচল

পদ্মা নদীর তীব্র স্রোতের কারণে রাজবাড়ী জেলার ধাওয়াপাড়া এবং পাবনা জেলার নাজিরগঞ্জ নৌরুটে ফেরি চলাচল আবারও দুইদিনের জন্য বন্ধ রয়েছে।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বিকেলে ধাওয়াপাড়া ফেরিঘাটের সহ-ব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) রবিউল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি উল্লেখ করেন, নদীতে স্রোতের তীব্রতা বৃদ্ধি পাওয়ায় ফেরি চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থে সোমবার দুপুর পৌনে ২ টা থেকে ফেরি পারাপার সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।

এর আগে, গত ৬ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা থেকে তীব্র স্রোতের কারণে ধাওয়াপাড়া-নাজিরগঞ্জ রুটে ফেরি চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। টানা ১৬ দিন পর গত ২২ সেপ্টেম্বর বেলা ১১টা থেকে ফেরি চলাচল পুনরায় শুরু হয়। দীর্ঘ সময় ধরে ফেরি বন্ধ থাকার কারণে রাজবাড়ী ও পাবনার মধ্যে যাতায়াতকারী যাত্রী ও যানবাহনকে বিকল্প দীর্ঘ পথ ব্যবহার করতে বাধ্য হতে হয়। এতে সময় এবং খরচ উভয়ই বৃদ্ধি পায়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এই নৌরুটে দীর্ঘদিন ধরে পর্যাপ্ত ফেরি নেই। বর্তমানে একটি মাত্র নিম্নমানের ফেরি দিয়ে কোনোমতে যানবাহন পারাপার করা হচ্ছে। এই অবস্থায় নৌকা ও স্পিডবোড অতিরিক্ত ভাড়া হাতিয়ে নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে। ফেরি আবারও বন্ধ হয়ে যাওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ প্রকাশ পেয়েছে।

ধাওয়াপাড়া ফেরিঘাটের সহ-ব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) রবিউল ইসলাম আরও বলেন, নাজিরগঞ্জ-ধাওয়াপাড়া নৌরুটে হঠাৎ উজান থেকে প্রবল বেগে পানি নেমে আসায় অত্যধিক স্রোতের কারণে সোমবার (০৫ অক্টোবর) দুপুর ১:৪০ থেকে ফেরি চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে। চলাচল উপযোগী হলে ফেরি আবার চালু করা হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নোয়াখালীতে নতুন গ্যাসকূপে ৭ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের সন্ধান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৬ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৭:৪০ পি.এম


নোয়াখালীতে নতুন গ্যাসকূপে ৭ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের সন্ধান

নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার নবীপুর ইউনিয়নের বড় চারিগাঁও গ্রামে 'শাহজাদপুর-সুন্দলপুর-৪ মূল্যায়ন কাম উন্নয়ন কূপ' খনন সম্পন্ন হওয়ার পর গ্যাসের সন্ধান পাওয়া গেছে। বর্তমানে ডিএসটি টেস্টের কাজ চলছে। ডিএসটি পরীক্ষা শেষ হলে কূপটিতে মোট মজুদকৃত গ্যাসের পরিমাণ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এই কূপ থেকে জাতীয় গ্রীডে প্রতিদিন ৭ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস যুক্ত হবে।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বিকেলে পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেড (বাপেক্স) কূপটিতে গ্যাসের অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত করেছে। এর আগে, গত ২৮ জুলাই কূপটির খনন কাজ শুরু হয়েছিল।

বাপেক্সের সূত্রে জানা যায়, কূপটিতে ডিরেকশনাল ওয়েল পদ্ধতিতে এমডব্লিওডি ম্যাথড ব্যবহার করে ১৫৭৮ মিটার পর্যন্ত খনন করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৪২০ মিটার থেকে ১৪৬০ মিটার পর্যন্ত জোনে গ্যাসের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে।

শাহজাদপুর-সুন্দলপুর-৪ মূল্যায়ন কাম উন্নয়ন কূপ খনন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক মোঃ মোজাম্মেল হক গ্যাস পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, ডিএসটি পরীক্ষার পর আরও ২-৩ দিনের মধ্যে মোট মজুদকৃত গ্যাসের পরিমাণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

অপকর্মের অভিযুক্ত দিল্লি পুলিশ সাংবাদিকদের শেখাচ্ছে বিপজ্জনক 'নীতিশাস্ত্র'

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৬ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৭:৪১ পি.এম


অপকর্মের অভিযুক্ত দিল্লি পুলিশ সাংবাদিকদের শেখাচ্ছে বিপজ্জনক

একটি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে গণমাধ্যমের মাধ্যমে জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে হয়; বিষয়টিকে ঘুরিয়ে দেখার কোনো সুযোগ নেই। দিল্লি পুলিশ, যা দেশের রাজধানী হলেও, একটি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা হিসেবেই পরিচিত। সাংবাদিকদের জন্য কোনো আচরণবিধি, পরিচালন নীতি বা প্রেস নির্দেশিকা জারি করার মতো তাদের কোনো আইনি বা সংবিধিবদ্ধ অধিকার নেই।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম 'এক্স'-এ (সাবেক টুইটার) দিল্লি পুলিশের একটি পোস্টে, যেখানে একজন রিপোটারকে পুলিশ কর্মকর্তার মুখের সামনে মাইক ধরে রাখার একটি ছবি এঁকে (সাংবাদিকতার নীতিশাস্ত্র) নিয়ে উপদেশ দেওয়া হয়েছে, তা বিভিন্ন দিক থেকেই সমস্যা তৈরি করেছে। এটি সাধারণ কোনো 'নিরাপত্তা বিষয়ক সতর্কতা' নয়। যন্তর মন্তরে একটি বিক্ষোভের সংবাদ সংগ্রহের সময় দিল্লি পুলিশের সদস্যরা নারী সাংবাদিকদের শ্লীলতাহানি ও শারীরিক নির্যাতন করেছেন বলে অভিযোগ তোলার পর এই পোস্টটি প্রকাশিত হয়।

অভিযোগ অনুসন্ধানের পরিবর্তে, এটি মূলত অভিযোগকারী সাংবাদিক ও তাঁদের পেশার ওপর উল্টো নিয়ম চাপিয়ে পুলিশের নিজেদের অপরাধ ঢাকা দেওয়ার চেষ্টা। পুলিশ পোস্টটিকে "নির্দেশিকা" এবং "পরামর্শ" হিসেবে উপস্থাপন করলেও, এর মূল উদ্দেশ্য হলো মূল ঘটনা ধামাচাপা দিয়ে পরিস্থিতির ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাধারণ মানুষের প্রতিক্রিয়া, ব্যঙ্গাত্মক পাল্টা 'পুলিশের নির্দেশিকা' এবং পুলিশের অপকর্মকে সুরক্ষা দেওয়ার নানা অভিযোগে এটি স্পষ্ট যে, তাদের এই কৌশল ইতিমধ্যেই ব্যর্থ হয়েছে। দিল্লি পুলিশের সেই 'এক্স' পোস্টে যেসব মারাত্মক গলদ রয়েছে, তা নিচে তুলে ধরা হলো:

এক পোস্টে সংবাদ সেন্সরশিপ প্রতিষ্ঠা করতে পারে না দিল্লি পুলিশ। একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রকাঠামোয় পুলিশ বাহিনী গণমাধ্যমের মাধ্যমে সাধারণ জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য। ভারতের সংবিধানের ১৯(১)(ক) অনুচ্ছেদ বাক ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করে, যার মধ্যে সংবাদপত্রের স্বাধীনতাও অন্তর্ভুক্ত। কোনো জনবিক্ষোভের ঘটনা কভার করা, ছবি বা ভিডিও রেকর্ড করা, কিংবা তা প্রচার করার জন্য সাংবাদিককে অবশ্যই পিআইবি অ্যাক্রেডিটেশন বা কোনো স্বীকৃত গণমাধ্যমের প্রাতিষ্ঠানিক কার্ডধারী হতে হবে—এমন কোনো বাধ্যতামূলক আইনি নিয়ম নেই। দিল্লি পুলিশ যেহেতু সরাসরি কেন্দ্রীয় সরকারের অধীন পরিচালিত হয়, তাই তাদের এই ধরনের বার্তা মোদী প্রশাসনের একটি অন্যায্য ও অনিয়ন্ত্রিত ক্ষমতার প্রদর্শন। এটি মূল সংবিধান-স্বীকৃত একটি স্বাধীন পেশাকে পুলিশের নির্দেশ জারি করে নিয়ন্ত্রণের শামিল। গণবিক্ষোভ, গ্রেপ্তার বা রাষ্ট্রের বল প্রয়োগের ঘটনাগুলোতে যখন সবচেয়ে বেশি নজরদারি প্রয়োজন, ঠিক তখনই সংবাদপত্রের এই স্বাধীনতাকে খর্ব করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে। সাংবাদিকদের ঘটনাস্থল থেকে দূরে সরিয়ে দেওয়ার অর্থ হলো—শান্তিপূর্ণ নাগরিকদের ওপর পুলিশের অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ বা বেআইনি আটকের ঘটনা নথিভুক্ত করার পথ রুদ্ধ করা।

এটি মূলত ভুক্তভোগীকে দোষারোপ ও তথ্য গোপনের অপচেষ্টা। মূল বিষয়টি ছিল দিল্লি পুলিশের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে নারী সাংবাদিকদের শ্লীলতাহানি ও আক্রমণের অভিযোগ। পুলিশ যদিও দাবি করেছে যে অভিযোগটি ক্রাইম ব্রাঞ্চে পাঠানো হয়েছে, তবুও ভুক্তভোগীদের সুরক্ষা, প্রমাণের সংরক্ষণ ও নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত না করে, তারা উল্টো সাংবাদিকদের নীতিশাস্ত্রের পাঠ দেওয়া শুরু করেছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দিয়ে তৈরি বিভ্রান্তিকর ছবি ব্যবহার করে পুলিশকে 'শান্ত ও নিপীড়িত' এবং সাংবাদিকদের 'আক্রমণাত্মক' হিসেবে তুলে ধরে নিজেদের অপরাধ আড়াল করার একটি পক্ষপাতদুষ্ট গল্প তৈরি করা হচ্ছে।

সাংবাদিকদের উগ্র হিসেবে চিহ্নিত করা এবং নীতি শেখানোর মাধ্যমে জনদৃষ্টি মূল ঘটনা থেকে সরানোর একটি চেষ্টা করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে ইঙ্গিত দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে যে সাংবাদিকদের অবস্থান বা কাজের কারণেই যেন পুলিশ এমন আচরণ করতে বাধ্য হয়েছে। অথচ সাংবাদিকদের কাজের ধরণ বা দূরত্বের দোহাই দিয়ে কখনোই যৌন হয়রানি, আক্রমণ বা বেআইনি বাধা প্রদানকে যুক্তিসঙ্গত প্রমাণ করা যায় না।

সংবাদ সংগ্রহের সাংবিধানিক গুরুত্ব খর্বের অপচেষ্টা। সংবাদ প্রকাশ করার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হলো তা সংগ্রহের স্বাধীনতা। পুলিশ যদি বলপ্রয়োগের সময় ক্যামেরা ও সাংবাদিকদের দূরে সরিয়ে দেয়, তবে সংবাদ প্রকাশের স্বাধীনতা অর্থহীন হয়ে পড়ে। প্রেস ফ্রিডমের মূল বিষয় হলো তথ্য ও এর উৎসের সুরক্ষা নিশ্চিত করা। সাংবাদিকদের বিক্ষোভকারীদের থেকে আলাদা পোশাকে চিহ্নিত হওয়ার শর্ত দিয়ে সংবাদ সংগ্রহের সুযোগ দেওয়ার বিষয়টি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। রাষ্ট্র যদি ঠিক করে দেয় তাকে কীভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে, তবে নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার ভিত্তিই নষ্ট হয়ে যায়।

পরিচয়পত্র বনাম অনুমতিপত্র: একটি বিপজ্জনক গুলিয়ে ফেলা। বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে কার্যকারিতার জন্য পরিচয়পত্র বহন সাহায্য করতে পারে। কিন্তু কেবল একটি নির্দিষ্ট 'বৈধ' সরকারি বা প্রাতিষ্ঠানিক পরিচয়পত্রকেই সাংবাদিকতার একমাত্র মাপকাঠি বানিয়ে ফেললে ফ্রিল্যান্সার, ফ্রিল্যান্স ডকুমেন্টারি নির্মাতা, শিক্ষানবিস বা নাগরিক সাংবাদিকরা বাদ পড়ে যাবেন। সংবিধান প্রদত্ত প্রেস ফ্রিডম সাধারণ নাগরিকের অধিকার, শুধু কোনো সরকার-স্বীকৃত সংবাদমাধ্যমের নয়।

অস্পষ্ট ও বিপজ্জনক সীমানা

"বাধা দেবেন না", "নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখুন" কিংবা "স্পষ্টভাবে নিজেকে আলাদা করুন"—এই কথাগুলোর কোনো নির্দিষ্ট আইনি বা সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা নেই। আন্দোলন বা বিক্ষোভের সময় পুলিশ নিজেদের সুবিধামতো এই অস্পষ্ট শব্দের অজুহাত দেখিয়ে সাংবাদিকদের দূরে সরিয়ে দিতে পারে। কোনো নির্দিষ্ট আইনগত অনুমোদন ছাড়া সাংবাদিকরা কোথায় দাঁড়াবেন তা পুলিশ এককভাবে নির্ধারণ করলে রাষ্ট্রের স্বচ্ছতা ও জনসমক্ষে জবাবদিহিতা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে।

পুলিশের জন্য নেই কোনো নিজস্ব আচরণবিধি (এসওপি)। পুলিশের এই 'এক্স' আপডেটে এমন কোনো প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়নি যে—তারা সাংবাদিকদের ডিভাইস বা ফোন কেড়ে নেবে না, ফুটেজ ডিলিট করবে না কিংবা সাংবাদিকদের তথ্য সরবরাহের উৎস প্রকাশে বাধ্য করবে না। পুলিশ কীভাবে সাংবাদিকদের সুরক্ষা দেবে—তার কোনো স্পষ্ট রূপরেখা এখানে নেই। নেই কোনো প্রেস লিয়াজোঁ অফিসার নিয়োগ বা দ্রুত অভিযোগ নিষ্পত্তির কোনো ব্যবস্থা।

মোদী ও অমিত শাহ কি এ বিষয়ে নীরব? দিল্লি পুলিশ সরাসরি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিচালিত হয় এবং পুলিশ কমিশনার সরাসরি কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে জবাবদিহি করেন। ফলে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এই বিভাগের প্রধান হিসেবে সরাসরি দায়িত্বশীল এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীরও নীতিগত দিক থেকে হস্তক্ষেপ করা উচিত। অমিত শাহের প্রথম কাজ হওয়া উচিত ছিল হয়রানির অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ ও দ্রুত তদন্ত নিশ্চিত করা এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া। তা না করে পুলিশ যদি সাংবাদিকতার ওপর সেন্সরশিপ চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যায়, তবে ধরে নিতে হবে সাধারণ মানুষের রাজপথের আন্দোলন ঠেকানোর ব্যর্থতা ঢাকতেই এই ধরনের নজিরবিহীন দমনপীড়নের পথ বেছে নেওয়া হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৪ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৪
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৪৮
মাগরিব ০৫:২৪
ইশা ০৬:৩৬
সূর্যোদয় : ০৬:০০ সূর্যাস্ত : ০৫:২৪
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%