মঙ্গলবার, ২৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৬:০৮ পি.এম
যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যে ২০০ বছরেরও বেশি সময় পর এক নারীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হতে যাচ্ছে। ক্রিস্টা পাইকের বিরুদ্ধে ১৮ বছর বয়সে সংঘটিত একটি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে বুধবার এই শাস্তি কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে। দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
একাধিক আদালত ইতোমধ্যে ক্রিস্টা পাইকের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছে। তবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের তারিখ ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে নারী অধিকারকর্মী এবং ফৌজদারি বিচারব্যবস্থা সংস্কারের পক্ষের বিভিন্ন সংগঠন তার জীবন রক্ষার দাবি তুলেছে। তারা টেনেসির রিপাবলিকান গভর্নর বিল লির কাছে পাইকের মৃত্যুদণ্ড মওকুফ করার আবেদন করেছেন। তাদের যুক্তি, অপরাধ সংঘটনের সময় পাইকের বয়স ছিল মাত্র ১৮ বছর।
এছাড়া, শৈশব ও কৈশোরে তিনি দীর্ঘদিন শারীরিক ও যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন। এসব বিষয় তার শাস্তি নির্ধারণের সময় বিবেচনা করা উচিত বলে তারা মনে করেন। তবে সোমবার গভর্নর বিল লি পাইকের আইনজীবীদের করা ২২৬ পৃষ্ঠার ক্ষমার আবেদন প্রত্যাখ্যান করেছেন। এর ফলে মৃত্যুদণ্ড ঠেকানোর শেষ আবেদনটিও খারিজ হয়ে যায়। মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হলে, ২০০ বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে টেনেসিতে এটি হবে প্রথম কোনো নারীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর।
গভর্নর বিল লি ক্রিস্টা পাইকের ক্ষমার আবেদন নাকচ করে তার মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছেন। গণমাধ্যমকে দেওয়া এক বিবৃতিতে লি বলেন, “ক্রিস্টা গেইল পাইকের ক্ষমার আবেদনটি ভালোভাবে বিবেচনা করেছি এবং মামলাটি বিস্তারিত পর্যালোচনা করেছি। এরপর আমি টেনেসি রাজ্যের দেওয়া দণ্ড বহাল রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এতে হস্তক্ষেপ করার কোনো পরিকল্পনা আমার নেই।”
১৯৯৫ সালের জানুয়ারিতে পাইক তার ১৭ বছর বয়সী প্রেমিক ট্যাডারিল শিপ এবং আরেক কিশোরী শ্যাডোলা পিটারসন মিলে কলিন স্লেমারকে নক্সভিলের একটি জঙ্গলে নিয়ে যান। সেখানে স্লেমারকে নির্যাতনের পর হত্যা করা হয়। তিন কিশোর-কিশোরী নক্সভিল জব কর্পসের মাধ্যমে একে অপরের পরিচিত ছিলেন।
প্রসিকিউটরদের দাবি, পাইক মনে করতেন স্লেমার তার প্রেমিকের প্রতি আগ্রহী ছিলেন। হত্যার সময় তিনজনের মধ্যে শুধু পাইকের বিরুদ্ধেই মৃত্যুদণ্ডের আবেদন করা হয়। শিপের বয়স তখন ১৭ বছর হওয়ায় তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া সম্ভব হয়নি। তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয় এবং বর্তমানে তিনি প্যারোলের জন্য যোগ্য। অন্যদিকে, শ্যাডোলা পিটারসন পাইক ও শিপের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেন। পরে তাকে প্রবেশনের সুযোগ দেওয়া হয়।
ডেথ পেনাল্টি ইনফরমেশন সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, ন্যাশভিলের রিভারবেন্ড ম্যাক্সিমাম সিকিউরিটি ইনস্টিটিউশনে নির্ধারিত সময় অনুযায়ী পাইকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হলে তিনি আধুনিক যুগে ১৮ বছর বয়সে সংঘটিত অপরাধের জন্য মৃত্যুদণ্ড পাওয়া প্রথম ব্যক্তি হবেন। এ ছাড়া ১৯৭৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রে মৃত্যুদণ্ড পুনরায় চালুর পর পাইক হবেন দেশটিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া ১৯তম নারী।
পাইকের আইনি লড়াই প্রায় শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে। গত সপ্তাহে টেনেসি সুপ্রিম কোর্ট তার মৃত্যুদণ্ড স্থগিত করার আবেদন নাকচ করে দিয়েছে। তবে মার্কিন সুপ্রিম কোর্টে করা একটি আলাদা আপিল এখনো বিচারাধীন রয়েছে। এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য পাইকের আইনজীবীদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তারা কোনো জবাব দেননি।
এদিকে, নিহত কলিন স্লেমারের মা মে মার্টিনেজের সঙ্গেও দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট যোগাযোগ করতে পারেনি। তবে স্থানীয় গণমাধ্যমকে তিনি জানিয়েছেন, পাইকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর প্রত্যক্ষ করতে তিনি ও তার স্বামী ফ্লোরিডা থেকে টেনেসি যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন।
নক্সভিলের এনবিসি ১০ নিউজকে মার্টিনেজ তার প্রয়াত মেয়ের কথা উল্লেখ করে বলেন, “সে আর আমার সঙ্গে নেই। প্রতিদিন, প্রতি ঘণ্টা, প্রতি মিনিটে আমি তাকে হারানোর কষ্ট অনুভব করি।” তিনি টিভি চ্যানেলটিকে বলেন, পাইকের উদ্দেশে তার কিছু বলার নেই।
পাইকের মৃত্যুদণ্ডের বিরুদ্ধে তার আইনজীবীরা যুক্তি দিয়েছেন, শৈশব থেকেই তিনি যৌন নির্যাতনের শিকার ছিলেন এবং গুরুতর মানসিক সমস্যার মধ্য দিয়ে বড় হয়েছেন। তার আইনজীবীদের বক্তব্য অনুযায়ী, তিনি ছোটবেলা থেকেই যৌন নির্যাতনের শিকার হন এবং ১১ ও ১৭ বছর বয়সে ধর্ষণের শিকার হন। পরে পাইকের বাইপোলার ডিসঅর্ডার ও পোস্ট-ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিসঅর্ডার (পিটিএসডি) শনাক্ত হয়।
আইনজীবীদের দাবি, ১৯৯৬ সালের বিচারের সাজা নির্ধারণের পর্যায়ে জুরির সামনে পাইকের অতীতের এসব তথ্য যথাযথভাবে উপস্থাপন করা হয়নি। একই সঙ্গে ওই অপরাধ সংঘটনের সময় তার বয়স মাত্র ১৮ বছর ছিল—এ বিষয়টিও যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হয়নি বলে তারা দাবি করেন।
পাইকের আইনজীবীরা এক বিবৃতিতে বলেন, শৈশবজুড়ে যেসব মানুষ ও প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে তার যত্ন ও কার্যকর হস্তক্ষেপ পাওয়ার কথা ছিল, তারা তাকে ব্যর্থ করেছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী সেই তরুণী এখন আর আগের অবস্থায় নেই। বর্তমানে ৫০ বছর বয়সী পাইক নিজের কর্মকাণ্ডের জন্য অনুতপ্ত, নিজের মানসিক সমস্যার চিকিৎসা নিচ্ছেন এবং কারাগারে থাকা অন্য নারীদের সহায়তা ও দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন।
আইনজীবীরা আরো দাবি করেছেন, পাইকের মা গর্ভাবস্থায় অতিরিক্ত মদ পান করতেন। তাদের মতে, এর কারণে পাইকের মস্তিষ্কের ক্ষতি হয়ে থাকতে পারে। পরে তার বাইপোলার ডিসঅর্ডার ধরা পড়ে।
আইনজীবীদের যুক্তি, শৈশবের নির্যাতন ও মানসিক সমস্যার কারণে ১৯৯৫ সালের ১২ জানুয়ারি টেনেসি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি ক্যাম্পাসের একটি স্টিম প্ল্যান্টের পেছনে স্লেমারের সঙ্গে সংঘর্ষের সময় পাইক নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেননি।
আদালতের নথি ও সাক্ষ্য অনুযায়ী, স্লেমারকে পোশাক খুলতে বাধ্য করা হয়। এরপর তাকে মারধর, নির্যাতন এবং ছুরি দিয়ে বারবার আঘাত করা হয়। আদালতের নথিতে বলা হয়েছে, পাইক পরে স্লেমারের মাথায় আঘাত করা, গলা কেটে দেওয়া এবং স্মারক হিসেবে তার মাথার খুলির একটি অংশ নিয়ে যাওয়ার কথা স্বীকার করেন।
পরে পাইকের প্রেমিক ট্যাডারিল শিপ আদালতে সাক্ষ্য দেন, তিনি স্লেমারের বুকে একটি পেন্টাগ্রাম এঁকে দিয়েছিলেন। বিচারে রাষ্ট্রপক্ষ হত্যাকাণ্ডটি পরিকল্পিত ও অত্যন্ত নিষ্ঠুর ছিল বলে যুক্তি দেয়। রাষ্ট্রপক্ষ দুটি বিষয় প্রমাণ করতে সক্ষম হয়।
প্রথমত, পাইক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা গোপন করার চেষ্টায় অংশ নিয়েছিলেন। দ্বিতীয়ত, হত্যার সময় স্লেমারের ওপর প্রয়োজনের চেয়েও বেশি নির্যাতন ও শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়েছিল। এসব বিষয় বিবেচনা করে জুরি পাইককে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
গত প্রায় ৩০ বছর ধরে পাইকের আইনজীবীরা বলে আসছেন, তার প্রথম দিকের আইনজীবীরা মামলায় তার দীর্ঘদিনের নির্যাতনের বিষয়টি ঠিকভাবে তুলে ধরতে পারেননি। তাদের মতে, শৈশব ও কৈশোরে বারবার নির্যাতনের শিকার হওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তার কর্মকাণ্ড ব্যাখ্যা করা উচিত ছিল।
যৌন নির্যাতন থেকে বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিদের অধিকার নিয়ে কাজ করা কয়েকজন আইনজীবীও পাইকের পক্ষে আদালতে লিখিত বক্তব্য দিয়েছেন। কর্নেল স্কুল অব ল-এর মাধ্যমে টেনেসি ও মার্কিন সুপ্রিম কোর্টে জমা দেওয়া এসব বক্তব্যে বলা হয়েছে, মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার সময় পাইক তার অতীতের ধর্ষণের ঘটনা আবারও মানসিকভাবে অনুভব করতে পারেন।
আইনজীবীরা লিখেছেন, “তিনি সম্ভবত মনে করবেন, তাকে ধর্ষণ করে হত্যা করা হচ্ছে।” জর্জিয়া কোয়ালিশন এগেইনস্ট ডোমেস্টিক ভায়োলেন্সের উদ্যোগে ১০০টির বেশি সংগঠন ও বিশেষজ্ঞ গভর্নর বিল লির কাছে পাইকের মৃত্যুদণ্ড বদলে প্যারোল ছাড়া যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়ার আবেদন করেছেন।
তাদের চিঠিতে বলা হয়, পাইকের অপরাধের গুরুত্ব তারা অস্বীকার করছেন না। তবে শৈশবে তার ওপর হওয়া যৌন নির্যাতন তার আচরণ বোঝার জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রেক্ষাপট তৈরি করে। ক্ষমার আবেদনে আরো বলা হয়েছে, টেনেসিতে আধুনিক সময়ে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া ২০০ জনের বেশি মানুষের মধ্যে মাত্র আটজন অপরাধের সময় ১৮ বছর বয়সী ছিলেন। ওই সাতজনই পুরুষ এবং পরে তাদের মৃত্যুদণ্ড বাতিল করা হয়েছে।
ক্ষমার আবেদনে বলা হয়েছে, টেনেসিতে কিশোর অপরাধীদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয় না। কারণ, কৈশোরে মানুষের মস্তিষ্ক ও আচরণ পুরোপুরি বিকশিত হয় না। এই বিকাশ সাধারণত ২০-এর দশকের মাঝামাঝি পর্যন্ত চলতে পারে। আবেদনের সঙ্গে প্রায় ১০০ পৃষ্ঠার চিঠিও জমা দেওয়া হয়েছে। এসব চিঠি লিখেছেন পাইকের মা, সহবন্দি, কারাগারের ধর্মযাজক, পারিবারিক বন্ধু, সাবেক সহকর্মী এবং তার সঙ্গে কাজ করা চিকিৎসক ও মনোবিজ্ঞানীরা।
চলতি বছরের শুরুতে টেনেসি সুপ্রিম কোর্ট পাইকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর নিয়ে কিছু প্রশ্ন খতিয়ে দেখতে একজন বিশেষ মাস্টার নিয়োগ করে। মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সময় তিনি অস্বাভাবিক বা বেআইনি যন্ত্রণার শিকার হবেন কি না, সেটিও বিবেচনা করতে বলা হয়।
এ ছাড়া যৌন নির্যাতনের অতীত ও পিটিএসডি থাকার কারণে মৃত্যুদণ্ডের দুই সপ্তাহ আগে তাকে সর্বোচ্চ নিরাপত্তার কারাগারে স্থানান্তর করলে তা অতিরিক্ত মানসিক কষ্ট তৈরি করবে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখতে বলা হয়। ওই কারাগারে তাকে পুরুষ কারাকর্মীদের তত্ত্বাবধানে থাকতে হতো।
আগস্টে তিন দিনের শুনানিতে পাইকের আইনজীবীরা টেনেসির প্রাণঘাতী ইনজেকশনে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পদ্ধতির বিরুদ্ধে আপত্তি জানান। তারা মে মাসে সাজাপ্রাপ্ত খুনি টনি ক্যারুথার্সের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ব্যর্থ চেষ্টার বিষয়টিও তুলে ধরেন।
আইনজীবীরা বলেন, পাইকের রক্তের একটি রোগ রয়েছে এবং তার ছোট শিরার কারণে প্রাণঘাতী ইনজেকশন দেওয়ার সময় জটিলতা, তীব্র ব্যথা ও রক্তপাতের ঝুঁকি বেশি। তাই তারা ইনজেকশনের বদলে ফাঁসিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আবেদন করেন। তবে সিনিয়র বিচারক ডব্লিউ. মার্ক ওয়ার্ড রাজ্যের পক্ষে রায় দেন।
তিনি বলেন, টেনেসির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পদ্ধতি পাইকের সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘন করবে না। ফলে নির্ধারিত মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পথ খোলা থাকে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের সকল বিতরণ ও সরবরাহকারী কোম্পানির গত তিন বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পুনরায় পরীক্ষা ও নিরীক্ষা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ উদ্দেশ্যে দ্রুত একটি চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট (সিএ) ফার্ম নিয়োগ দেওয়া হবে।
বিইআরসির চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ জানিয়েছেন, নিরীক্ষার মাধ্যমে কোম্পানিগুলোর আর্থিক সক্ষমতা, আয়-ব্যয় এবং বিভিন্ন প্রকল্পে বিনিয়োগের আর্থিক যৌক্তিকতা যাচাই করা হবে।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর বিইআরসি কার্যালয়ের সেমিনার কক্ষে ফোরাম ফর এনার্জি রিপোর্টার্স বাংলাদেশের (এফইআরবি) সদস্যদের জন্য আয়োজিত দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। বিইআরসি এই প্রশিক্ষণের আয়োজন করেছে।
অনুষ্ঠানে বিইআরসির সদস্য (গ্যাস) মো. মিজানুর রহমান, সদস্য (পেট্রোলিয়াম) ড. সৈয়দা সুলতানা রাজিয়া, সদস্য (বিদ্যুৎ) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ শাহিদ সারওয়ার (অব.) ও সচিব মো. নজরুল ইসলাম সরকার উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া এফইআরবির চেয়ারম্যান এম আজিজুর রহমান, নির্বাহী পরিচালক সেরাজুল ইসলাম সিরাজসহ সংগঠনের সদস্যরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
জালাল আহমেদ জানান, কমিশনের অনুরোধে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের সংশ্লিষ্ট সব কোম্পানি গত তিন বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। এসব প্রতিবেদন পর্যালোচনার জন্য একটি সিএ ফার্ম নিয়োগ দেওয়া হবে।
তিনি বলেন, “নিরীক্ষার মাধ্যমে প্রতিটি কোম্পানির আর্থিক অবস্থা সম্পর্কে কমিশনের একটি স্পষ্ট ধারণা তৈরি হবে। আমাদের নিজেদের সক্ষমতা এই মুহূর্তে নেই। তাই একটি সিএ ফার্ম নিয়োগ করে কোম্পানিগুলোর নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনগুলো পুনরায় পরীক্ষা ও নিরীক্ষা করা হবে।”
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বিইআরসি আইনের ২২ ধারা অনুযায়ী কমিশনের পূর্বানুমোদন নেওয়ার বিধান রয়েছে। তবে এখনো সব প্রকল্পে এ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে না বলে জানান বিইআরসির চেয়ারম্যান।
বিষয়টি নিশ্চিত করতে পেট্রোবাংলা, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি), বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি), জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ এবং বিদ্যুৎ বিভাগকে চিঠি দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।
জালাল আহমেদ বলেন, “এনার্জি সেক্টরের যেকোনো প্রকল্প অনুমোদনের দায়িত্ব বিইআরসির। সরকারি অনুমোদন প্রক্রিয়ার পাশাপাশি বিইআরসির এই অনুমোদনও প্রয়োজন। কারণ একটি প্রকল্পের বিনিয়োগ শেষ পর্যন্ত ট্যারিফের সঙ্গে যুক্ত হবে।”
সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং (এসপিএম) প্রকল্পের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, এই প্রকল্পে প্রায় আট হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হয়েছে। এই বিনিয়োগের ব্যয় শেষ পর্যন্ত ট্যারিফের সঙ্গে যুক্ত হবে। তাই প্রকল্প বাস্তবায়নের আগে বিনিয়োগের আর্থিক সক্ষমতা, বিনিয়োগ থেকে অর্থ ফেরত আসার প্রক্রিয়া এবং পে-ব্যাক পিরিয়ড যাচাই করা প্রয়োজন।
তিনি আরো বলেন, কোনো প্রকল্পের ব্যয় ট্যারিফে যুক্ত করার সময় কমিশন প্রশ্ন তুলতে পারে—ওই বিনিয়োগ সম্পর্কে তারা আগে অবগত ছিল কি না। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের বিভিন্ন চুক্তি ও প্রকল্পের ক্ষেত্রেও একই বিষয় প্রযোজ্য। তাই প্রকল্প বাস্তবায়নের আগে বিইআরসির অনুমোদন নেওয়া প্রয়োজন।
দেশে এলপিজি সংকট এবং আসন্ন শীত মৌসুম নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন বিইআরসির চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন জায়গায় এলপিজির সংকটের খবর পাওয়া যাচ্ছে। সামনে শীত মৌসুমে ইউরোপে গ্যাসের চাহিদা অস্বাভাবিকভাবে বাড়তে পারে। এতে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি সরবরাহ ও দামের ওপর চাপ তৈরি হতে পারে।
জালাল আহমেদ বলেন, “এ পরিস্থিতিতে দেশে গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ।”
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে তরল জ্বালানি নিয়ে সমস্যা তৈরি হয়েছে বলেও জানান তিনি। তার ভাষ্য, গত বছরের নভেম্বর থেকে এলপিজি নিয়ে সংকট শুরু হয়েছিল। পরে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া যুদ্ধের পর আবারও সমস্যা দেখা দিয়েছে।
গ্যাসের মিটারযুক্ত ও মিটারবিহীন গ্রাহকদের ব্যবহারের পার্থক্য নিরূপণে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) মাধ্যমে গবেষণা পরিচালনার কথাও জানান বিইআরসির চেয়ারম্যান।
তিনি বলেন, গবেষণার মাধ্যমে মিটারযুক্ত ও মিটারবিহীন গ্রাহকেরা কী পরিমাণ গ্যাস ব্যবহার করেন, সে বিষয়ে একটি বাস্তব চিত্র পাওয়া যাবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পাকিস্তানের লাহোরে ২০ বছর বয়সী এক আজারবাইজানি নারীকে গণধর্ষণের অভিযোগে তিন সন্দেহভাজনকে শনাক্ত করেছে পাঞ্জাব পুলিশ। এই ঘটনার সঙ্গে সহায়তার অভিযোগে প্রধান সন্দেহভাজনের কয়েকজন আত্মীয়কেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এনডিটিভির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
আদালতের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ওই নারী সোমবার স্থানীয় ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে তার জবানবন্দি প্রদান করেন। পুলিশ জানিয়েছে, ভুক্তভোগী আজারবাইজানের রাজধানী বাকুর অধিবাসী। তিনি ব্যবসার কাজে পাকিস্তানে আসেন দুই সপ্তাহেরও বেশি আগে এবং লাহোরের রাইউইন্ড এলাকায় অবস্থান করছিলেন।
তার অভিযোগ, ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে দুই নারী তাকে ডিফেন্স হাউজিং অথরিটি (ডিএইচএ) এলাকার একটি ক্যাফেতে নিয়ে যান। সেখানে তিনজন পুরুষ তাদের সঙ্গে যোগ দেন। পরে ওই পুরুষেরা তাকে ও আরো দুই নারীকে গাড়িতে করে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তাব দেন।
কিন্তু অভিযোগ অনুযায়ী, তারা তাকে একটি ফ্ল্যাটে নিয়ে যান। সেখানে মদ্যপানের পর তাকে একটি নেশাজাতীয় দ্রব্য দেওয়া হয়। ওই নারী অভিযোগ করেছেন, তিনজন পুরুষ তাকে গণধর্ষণ করে এবং পরে গাজী ইন্টারচেঞ্জ এলাকার কাছে ফেলে রেখে যায়।
ভুক্তভোগী আরো অভিযোগ করেন, পালিয়ে যাওয়ার সময় সন্দেহভাজনরা তার মোবাইল ফোন নিয়ে যায়। ডিআইজি অপারেশনস ফয়সাল কামরান জানিয়েছেন, তিন সন্দেহভাজনকে শনাক্ত করা হয়েছে এবং তাদের গ্রেপ্তারে পুলিশ দল কাজ করছে। তারা হলেন আহমেদ তানভীর, আলী ও মহসিন। পুলিশের মতে, তানভীর প্রধান সন্দেহভাজন। তাকে সহায়তার অভিযোগে তার দুই আত্মীয়কে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
পুলিশের একটি সূত্র জানায়, ঘটনার পরপরই সন্দেহভাজনরা লাহোর থেকে পালিয়ে যায়। তাদের একজনের সর্বশেষ অবস্থান লাহোর থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার দূরের শিয়ালকোট এলাকায় শনাক্ত করা হয়েছে।
পাঞ্জাব পুলিশের আরেকটি সূত্র জানায়, ঘটনার পরপরই সন্দেহভাজনরা লাহোর থেকে পালিয়ে যায়। তাদের একজনের সর্বশেষ অবস্থান শিয়ালকোটে শনাক্ত করা হয়েছে, যা লাহোর থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার দূরে। তাদের নামও দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞার তালিকায় রাখা হয়েছে।
এদিকে, ওই নারী এর আগে পাকিস্তানে কেন এবং কতবার এসেছিলেন, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। পুলিশের এক সূত্রের মতে, চলতি বছর তিনি এর আগে দুইবার পাকিস্তানে এসেছিলেন। ঘটনার সময় এটি ছিল তার তৃতীয় সফর।
সূত্রটি আরো জানায়, ওই নারী টেক্সটাইল ব্যবসার কাজে লাহোর ও ফয়সালাবাদের মধ্যে যাতায়াত করতেন এবং উর্দু বুঝতে ও বলতে পারতেন। সন্দেহভাজনদের ধরতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। একই সঙ্গে কথিত যৌন নির্যাতনের ঘটনাটিও তদন্ত করা হচ্ছে। গত চার মাসে লাহোরে কোনো বিদেশি নারীকে গণধর্ষণের অভিযোগে এটি দ্বিতীয় ঘটনা।
এর আগে জুন মাসে এক ডাচ ও এক ভেনেজুয়েলীয় নারীকে চার ব্যক্তি ধর্ষণ করেছে বলে অভিযোগ ওঠে। অভিযুক্তদের মধ্যে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দারের এক ঘনিষ্ঠ আত্মীয়ও ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জাতীয় ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় সংসদের পূর্ণাঙ্গ কমিটি আগামী দুই বছরের জন্য অনুমোদন করা হয়েছে। সভাপতি পদে আবু বাকের মজুমদার দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে তাহমীদ আল মুদ্দাসসির চৌধুরী নিযুক্ত হয়েছেন।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নতুন কমিটির অনুমোদনের বিষয়টি প্রকাশ করা হয়।
কমিটিতে সিনিয়র সহসভাপতি হিসেবে আহসান লাবিব ও রাফিয়া রেহনুমা হৃদিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
সহসভাপতি পদে লিমন মাহমুদ হাসান, নিরব হাসান সুজন, এস এম আমিনুল ইসলাম, জাহেদ হাসান ফরহাদ, আহনাফ জামান, সাব্বির আহমেদ, আশরাফুল ইসলাম আরিফ, ফারহান হাসান বর্ন, আল শাহরিয়ার মেহেরাজ মিথুন, মঞ্জুরুল ইসলাম পাভেল, তানভীর আহমদ চৌধুরী, রাইয়ান রহমান ইরাত ও মো. সামির সাদিক রয়েছেন।
এছাড়া, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে খান তালাত মাহমুদ রাফি ও মো. সাইফুল্লাহ দায়িত্ব পেয়েছেন।
নতুন কমিটিতে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে আরও বেশ কয়েকজনকে দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনের কেন্দ্রীয় সংসদের পূর্ণাঙ্গ কাঠামো এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) কেন্দ্রীয় কার্যালয়কে ঘিরে ২৬ সেপ্টেম্বর যুবদলের নেতাকর্মীদের অবস্থান এবং এর পরবর্তী ঘটনাবলী নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের (জিএম কাদের)।
মঙ্গলবার তিনি এক বিবৃতিতে উল্লেখ করেন, কোনো রাজনৈতিক দলের কার্যালয় ঘেরাও করা, রাজনৈতিক কর্মসূচিতে বাধা সৃষ্টি করা অথবা আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার মতো অভিযোগ গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক সংস্কৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। যদি কোনো ব্যক্তি বা সংগঠনের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকে, তাহলে রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রচলিত আইন অনুসরণ করে তার প্রতিকার করা উচিত।
জিএম কাদের বলেন, ২৬ সেপ্টেম্বর জাসদ কার্যালয়ে একটি সভা চলাকালীন যুবদলের নেতাকর্মীরা ওই কার্যালয়টি ঘিরে অবস্থান নেন, এমন খবর বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। পরে পুলিশ সেখানে অভিযান চালিয়ে সংবাদপত্রের তথ্য অনুযায়ী ২৭৮ জনকে পুলিশি হেফাজতে নেয়। এর পর ২৭ জনকে কোনো সুনির্দিষ্ট মামলা ছাড়া বিশেষ ক্ষমতা আইনের আওতায় আটক করে কারাগারে পাঠানো হয়।
জাসদ নেতাদের বক্তব্য অনুযায়ী, সভাটি একটি দলীয় গতানুগতিক কর্মসূচির অংশ ছিল এবং এটি যথাযথ কর্তৃপক্ষের পূর্ব অনুমোদন নিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
জিএম কাদের আরও বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে যদি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকে, তবে শুধুমাত্র তারাই এ ধরনের বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের অধিকার রাখেন। তিনি একইসঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অনুরোধ জানান যে তারা ঘটনার প্রকৃত তথ্য উদঘাটন করে নিশ্চিত করুন যে কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি হয়রানির শিকার না হন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ