সোমবার, ১৯ই জানুয়ারী, ২০২৬ ইং
০৩:৪৬ পি.এম
ফিলিস্তিনের গাজায় চলমান গুরুতর সহিংসতা এবং পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের বিরোধী নীতির অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও নিউইয়র্ক নগরের পেনশন তহবিল থেকে পুনরায় ইসরায়েলের সরকারি বন্ডে বিনিয়োগের পরিকল্পনা চলছে। যদি এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়, তবে নিউইয়র্কের নাগরিকদের করের অর্থ সরাসরি ইসরায়েল সরকারের জন্য পাঠানো হবে, যা সমালোচকদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
যুক্তরাজ্যের প্রসিসি দৈনিক ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসে উল্লেখ করা হয়, নিউইয়র্ক নগর কর্তৃপক্ষ ইসরায়েলি সরকারি বন্ডে আরেকবার বিনিয়োগ করার বিষয়টি পর্যালোচনা করছে। বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক উত্থাপিত হয়েছে, কারণ নগরের বর্তমান মেয়র জোহরান মামদানি গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের বিরুদ্ধে বিনিয়োগ প্রত্যাহার করার পক্ষে অবস্থান গ্রহণ করেছেন।
নগরের প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা মার্ক লেভিন ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসকে জানিয়েছেন, ইসরায়েলি সরকারি বন্ডের অতীত অপারেশন অত্যন্ত সফল এবং বিনিয়োগের মানও বেশ ভালো। তিনি উল্লেখ করেন, প্রশাসনিক কারণে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা উচিত নয়; বরং আর্থিক ফলাফলই মুখ্য বিষয়। তিনি ব্যাখ্যা করেছেন যে, ইসরায়েলি সরকারি বন্ড মূলত দেশের রাষ্ট্রীয় কোষাগারে দেওয়া এক ধরনের ঋণ, যার বিনিময়ে বিনিয়োগকারীরা নিয়মিত মুনাফা পান।
কিন্তু মানবাধিকার কর্মী এবং সমালোচকদের মত, এই বিনিয়োগ আসলে ইসরায়েলের বর্ণবাদী নীতি, অবৈধ বসতি স্থাপন এবং গাজার মানুষের মৃত্যুর পেছনে অর্থনৈতিক সহায়তা হিসেবে কাজ করবে। তাঁদের মতে, এটি আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের সাথে যুক্ত একটি রাষ্ট্রকে শক্তিশালী করে।
এই আলোচনা নিউইয়র্ক সিটি হলের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে। মেয়র মামদানির প্রথম নির্দেশনার একটি ছিল সাবেক মেয়র এরিক অ্যাডামসের এক নির্বাহী আদেশ বাতিল করা, যা নিউইয়র্ক শহরের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের জন্য ইসরায়েল বর্জনের নির্দেশনা ছিল।
মামদানি, যিনি দীর্ঘদিন ধরে ইসরায়েলের হামলার সমালোচক, বলেছিলেন, নিউইয়র্কের তহবিল অবশ্যই আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনে যুক্ত কার্যক্রমে জড়িত হওয়া উচিত নয়। অন্যদিকে, মার্ক লেভিন নিজেকে ইহুদি হিসাবে পরিচিত করে দাবি জানিয়েছেন যে তিনি এবং তাঁর পরিবার ইসরায়েলের সাথে সম্পর্কিত রয়েছে। কিন্তু তিনি জোর দিয়েছেন যে, পেনশন তহবিলের বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত শুধুমাত্র অর্থনৈতিক মাধ্যমেই নেওয়া উচিত।
এদিকে, আন্তর্জাতিক রেটিং সংস্থা মুডিস এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠান সুরক্ষা সংকটের কারণে ইসরায়েলি বন্ডকে ‘ঝুঁকির মুখোমুখি বিনিয়োগ' হিসাবে চিহ্নিত করেছেন। যদিও, লেভিন আবারও নতুন বন্ড কেনার পরিকল্পনা করছেন।
এই পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে প্রশ্ন উঠেছে—আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে অভিযুক্ত একটি দেশে নিউইয়র্কের পেনশন তহবিলের অর্থ বিনিয়োগ করা কতটা নৈতিক? এই বিষয়ে নতুন বিতর্কের আবহ তৈরি হচ্ছে। উল্লেখ্য, গত প্রায় পঞ্চাশ বছর ধরে নিউইয়র্ক নিয়মিত ইসরায়েলি সরকারি বন্ডে বিনিয়োগ করতে দেখা গেছে; তবে ২০২৩ সালে তৎকালীন আর্থিক কর্মকর্তা ব্র্যাড ল্যান্ডার এই প্রথা বন্ধ করেন এবং বর্তমান বন্ডগুলোর মেয়াদ শেষ হতে দেন।
কেবল ইসরায়েলই নয়, অন্যান্য দেশের একাধিক বিনিয়োগ মানদন্ডের সাথে তুলনা করে বজায় রাখা উচিত, এটাই মূল প্রশ্ন হিসেবে এখন উঠেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জুলাই বিপ্লবে শহীদ আহনাফ শাকিব সারমদ-এর মা এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মধ্যে একটি আবেগঘন এবং সাহসী কথোপকথনের ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে শহীদ আহনাফের মা দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে তার গভীর উদ্বেগ ও প্রত্যাশা তুলে ধরেছেন।
ভিডিওর সূচনায় শহীদ আহনাফের মা তারেক রহমানকে উদ্দেশ্য করে পাঠান, "আমরা শুনেছি যে বিএনপি ক্ষমতায় এলে আওয়ামী লীগ পুনর্বাসিত হবে।" তিনি সরাসরি জানতে চান, যারা এই বিপ্লবের বিরোধী ছিল এবং যাদের হাতে ছাত্র-জনতার রক্ত, বিএনপি কি তাদের সঙ্গে কোনো আপস করতে প্রস্তুত?
বিগত সরকারের সময়ে বিএনপির ওপর চলে আসা নির্যাতনের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, "হাসিনার শাসনে আপনারা অনেক অত্যাচার সহ্য করেছেন। আপনার মা বছরের পর বছর জেলে ছিলেন, আপনি দেশে ফিরে আসতে পারেননি।" আবেগে ভরা কণ্ঠে তিনি আরো যোগ করেন, "আমাদের সন্তান আহনাফ রক্ত দিয়েছে, তাই আপনি আজকে কথা বলছেন। আমি বিশ্বাস করি আপনি এ কথা মানেন এবং আপনার দলের অন্য সদস্যরাও মানেন।"
বিশ্লেষকদের মতে, জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী জুলাই মাসের অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ প্রায় ১,৪০০ জনকে হত্যা করেছে, তবে বেসরকারি সূত্রে এই সংখ্যা ৩,০০০ ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এখনও অনেক নিহতের পরিচয় অজানা রয়ে গেছে। হাজার হাজার মানুষ পঙ্গুত্ব বরণ করেছে এবং এখনও অনেকেই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। শহীদ আহনাফের মায়ের এই সতর্কবার্তা মূলত সেই মানুষের কণ্ঠস্বর, যারা মনে করেন যে শহীদ ও আহতদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত এই 'নতুন বাংলাদেশে' ফ্যাসিস্ট শক্তির পুনর্বাসন মেনে নেওয়া সম্ভব নয়।
শহীদ আহনাফের মা বিএনপির উদ্দেশ্যে একটি পরিষ্কার বার্তা দেন যে, সাধারণ মানুষ এমন একটি দল চায় যারা শহীদদের ত্যাগের মর্যাদা রক্ষা করবে। তিনি তারেক রহমানকে বলেন যে, আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসিত না করার এবং প্রতিটি হত্যার ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে স্পষ্ট আশ্বাস দিতে হবে যাতে আগামী নির্বাচনে তারা জনগণের সামনে দাঁড়াতে পারে।
তার আবেগঘন বক্তব্যের পর নেটিজেনদের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। সাধারণ মানুষ বলছে, এটি কেবল একজন মায়ের আর্তি নয়, বরং এই সময়ের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক দাবিও। এখন দেখার বিষয়, বিএনপির নেতারা কিংবা আগামী নির্বাচনে আসা যারা তারা জনগণের এই আস্থা এবং শহীদদের রক্তের মর্যাদা রক্ষায় কতটা সহনশীল ভূমিকা পালন করে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
গাইবান্ধা সদর উপজেলার সাহাপাড়া ইউনিয়নে ডাকাতির উদ্দেশ্যে পরিকল্পনা করতে গিয়ে তিনজন ডাকাতকে হাতেনাতে আটক করেছে স্থানীয় জনগণ। আটক হওয়া ব্যক্তিদের পরবর্তীতে গণপিটুনির মাধ্যমে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
এই ঘটনাটি ঘটে রবিবার (১৮ জানুয়ারি) রাত সাড়ে দেড়টার সময়, তুলসীঘাট পল্লীবিদ্যুৎ অফিসের পাশের কাশদহ এলাকার একটি ইটভাটার পাশের পাকা রাস্তায়।
আটককৃত ডাকাতদের নিকট একটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়েছে। আটক হওয়া ডাকাতদের মধ্যে রয়েছেন—
১) মোঃ নাজমুল হক, পিতার নাম— মৃত ভুট্টু মিয়া, যিনি গাইবান্ধা সদর থেকে।
২) মোঃ বাপ্পি ব্যাপারী, পিতার নাম— মোঃ আসাদুল ব্যাপারী, যিনি সাদুল্লাপুরের বাসিন্দা।
৩) মোঃ এরশাদ মিয়া, পিতার নাম— মোঃ গাবুর আলী, বর্তমানে পলাশবাড়ী এলাকার বাসিন্দা।
ঘটনার পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে আহত অবস্থায় আটক তিনজনকে উদ্ধার করে তাদের হেফাজতে নিয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভোলা-৪ চরফ্যাশন এবং মনপুরায় ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী প্রফেসর এম এম কামাল উদ্দিনের উদ্যোগে সভার আয়োজন করা হয়েছে।
গতকাল ১৮ জানুয়ারি রবিবার বিকালে চরফ্যাশন শরীফ পাড়ায় দলীয় কার্যালয়ে ভোলা জেলা দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক মাওঃ মোঃ আব্বাস উদ্দিনের সঞ্চালনায় সংবাদ সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপনকালে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ভোলা-৪ আসনের প্রার্থী প্রফেসর এম এম কামাল উদ্দিন বলেন, "আপনারা নিশ্চয়ই অবগত আছেন ২৪ পরবর্তী বাংলাদেশ একটি পরিবর্তন চায়। পুরনো রাজনৈতিক বন্দোবস্ত ফেলে দিয়ে নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত চায়।" তিনি আরও বলেন, এ লক্ষ্য সামনে রেখে ইসলাম, দেশ ও মানবতার কল্যাণে ইসলামপন্থীদের শক্তি একীভূত করার জন্য এক দলের নীতি বাস্তবায়নের জন্য রাজনৈতিক শক্তি নিয়ে মাঠে নামছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ।
তিনি উল্লেখ করেন, "আমরা মনে করি বর্তমান রাজনৈতিক সংকটে ইসলামী শক্তির ঐক্যই ছিল জাতির একমাত্র আশার জায়গা।" এই উপলব্ধি থেকেই ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমীর হযরত পীর সাহেব চরমোনাই আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে সবাইকে নিয়ে পথচলা শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভারতের উত্তরপ্রদেশের প্রয়াগরাজে অনুষ্ঠিত মাঘমেলা ২০২৬ এর পবিত্র প্রাঙ্গণে ঘটেছে এক অত্যন্ত নিন্দনীয় ও ভীতিকর ঘটনা। মাঘ মেলায় অংশগ্রহণকারী এক হিন্দু সাধুর মুখে দাড়ি থাকার ভিত্তিতে তাঁকে ‘মুসলিম’ সন্দেহে আটক করা হয় এবং একদল উগ্র হিন্দুত্ববাদী সন্ত্রাসী তাঁকে প্রকাশ্যে উলঙ্গ করে তাঁর ধর্মীয় পরিচয় নির্ধারণের চেষ্টা চালায়।
প্রধান স্নানের দিনে লক্ষ লক্ষ পূণ্যার্থীর ভিড়ের মধ্যে ঘটে এই ভয়াবহ ঘটনা। স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ওই সাধুর দীর্ঘ দাড়ি ও বাহ্যিক চেহারার কারণে কয়েকজন উত্তেজিত ব্যক্তি তাঁকে সন্দেহভাজন হিসেবে বিবেচনা করে। পরিচয়পত্র দেখানোর পরও জনতা শান্ত হয়নি; বরং তারা ক্রমশ ক্রুদ্ধ হয়ে ওঠে।
মেলা প্রাঙ্গণে পরিস্থিতি চরম আকার ধারণ করে এবং জনতার চাপের কারণে ঐ সাধুকে নিজের হিন্দু ধর্মীয় পরিচয় প্রমাণ করার জন্য জনসম্মুখে ধুতি খুলতে বাধ্য করা হয়। এ সময় তিনি ভীত ও অপমানিত হয়ে পড়েন, এবং আধ্যাত্মিকতার নামে ঘটনাটি এক নগ্ন ধর্মীয় সন্ত্রাসে রূপ নেয়।
ঘটনার পর মেলা প্রাঙ্গণে ব্যাপক ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। সাধুসমাজ এবং মানবাধিকার সংগঠনগুলি অভিযোগ তুলেছে যে, এটি কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং উগ্র হিন্দুত্ববাদী মনোভাবের প্রকাশ।
এমন পরিস্থিতিতে যেখানে সন্দেহের ভিত্তিতে কাউকে প্রকাশ্যে উলঙ্গ করা হচ্ছে তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তাঁদের মতে, দাড়ি, পোশাক বা চেহারা এখন ধর্ম নির্ধারণের হাতিয়ার হয়ে দাঁড়িয়েছে।
জেলা প্রশাসন এবং মেলা কর্তৃপক্ষ ঘটনার গুরুত্ব কমিয়ে দেখানোর চেষ্টা করেছে। পুলিশের দাবি, নিরাপত্তার জন্য পরিচয় যাচাই করা একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া। তবে প্রশ্ন হচ্ছে, পরিচয় যাচাইয়ের নামে একজন সাধুকে প্রকাশ্যে উলঙ্গ করার অনুমতি কে দিল?
এই ঘটনা আবার একবার প্রমাণ করে যে, ঘৃণার রাজনীতি এখন শুধু ক্ষমতার করিডোরে নয়, বরং এটি জনগণের হাতে প্রবাহিত হয়ে এসেছে। আজ একজন সাধু, আগামীকাল কে?
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ