বুধবার, ১৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৬:৩৯ পি.এম
আদালত অধ্যাপক আবুল বারকাতের নামে থাকা দুটি ফ্ল্যাটসহ ৪৯ লাখ ৬১ হাজার ৩৮৪ টাকার স্থাবর সম্পদ জব্দের নির্দেশ দিয়েছেন। একইসঙ্গে ২৯ লাখ টাকার গাড়ি এবং ব্যাংক হিসাবও অবরুদ্ধ করা হয়েছে।
ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ শাহজাহান কবির বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুদকের আবেদনের ভিত্তিতে এই আদেশ প্রদান করেন।
জব্দকৃত সম্পদের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক আবাসন প্রকল্পে বিনিয়োগকৃত আড়াই লাখ টাকা এবং মোহাম্মদপুর ও ধানমণ্ডিতে অবস্থিত দুটি পৃথক ফ্ল্যাট অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এছাড়া, তার নামে থাকা ২৯ লাখ টাকার গাড়ি এবং ব্যাংক হিসাবের অর্থও অবরুদ্ধ করা হয়েছে।
দুদকের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ শাহজাহান মিরাজ এদিন আবেদনটি দাখিল করেন। তিনি তার আবেদনে উল্লেখ করেন যে, ড. আবুল বারকাতের বিরুদ্ধে বিভিন্ন কোম্পানিকে অবৈধভাবে ঋণ প্রদান করে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগের অনুসন্ধান চলছে। অনুসন্ধানকালে, অভিযোগ সংশ্লিষ্ট আবুল বারকাতের নিজ নামে ৪৯ লাখ ৬১ হাজার ৩৮৪ টাকার স্থাবর সম্পদ এবং তিন কোটি ৫০ লাখ ৩১ হাজার টাকা ও ১০ হাজার ২৫০ মার্কিন ডলারের অস্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়া যায়। বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা যায়, তিনি স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদগুলো বিক্রি বা স্থানান্তরের চেষ্টা করছেন। অভিযোগ নিষ্পত্তির আগে অবৈধ সম্পত্তিগুলো হস্তান্তর, স্থানান্তর বা রূপান্তর/বিক্রি হলে রাষ্ট্রের জন্য ক্ষতির কারণ হবে। তাই সম্পত্তিগুলো জব্দ ও অবরুদ্ধ করা প্রয়োজন।
এটি উল্লেখযোগ্য যে, ২০২৫ সালের ১০ জুলাই ঢাকার ধানমণ্ডির বাসা থেকে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) একটি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। পরবর্তীতে দুদকের মামলায় জামিন পাওয়ার পর তাকে ব্যবসায়ী ওয়াদুদ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। পরে এই মামলায় জামিনে তিনি মুক্তি পান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কুড়িগ্রামের চর রাজিবপুরে ডিলারের গুদাম থেকে কৃষকদের জোর করে সারের বস্তা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজিবপুর বাজারের মেসার্স শফিউর রহমানের ডিলার পয়েন্টে এ ঘটনা ঘটে।
কৃষকদের অভিযোগ, ভোর থেকে গুদামের সামনে সার নিতে অপেক্ষা করলেও নির্ধারিত সময়ে বিতরণ শুরু হয়নি।
এদিকে, ডিলার বাড়িতে বসে কিছু কৃষককে সারের স্লিপ দেওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে তারা গুদামে ঢুকে কয়েক বস্তা সার নিয়ে যান বলে জানান প্রত্যক্ষদর্শীরা।
ডিলার শফিউল রহমান দাবি করেন, গুদামে ৫০০ বস্তা ইউরিয়া ছিল। স্লিপধারী কৃষকদের সার নিতে বাধা দেওয়ার পর কিছু ব্যক্তি গুদামে হামলা করে সার নিয়ে যান। তবে কত বস্তা নিয়েছেন তার হিসাব নাই।
তবে উপজেলা প্রশাসন সার লুটের ঘটনা অস্বীকার করেছে। রাজিবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ইউএনও সায়েকুল হাসান খান বলেন, কিছু কৃষক বিশৃঙ্খলার চেষ্টা করলে পুলিশ ও প্রশাসন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে সুষ্ঠুভাবে সার বিতরণ করা হয়েছে। অনিয়মের অভিযোগ তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রাজিবপুর থানার ওসি শাহীনুর আলম বলেন, সার লুটের চেষ্টা হয়েছিল, তবে তা প্রতিহত করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে একটি হতদরিদ্র নারীর চুরি হওয়া গরু উদ্ধার করা হয়েছে বিএনপি নেতার গোয়ালঘর থেকে। এই ঘটনায় বিএনপি নেতা সমালোচনার মুখে পড়েছেন। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাতে তাকে দল থেকে শোকজ করা হয়েছে। তিন দিনের মধ্যে শোকজের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
শোকজপ্রাপ্ত বিএনপি নেতার নাম দেলোয়ার হোসেন দেলু। তিনি উপজেলার ভোলাকোট ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক।
আরো পড়ুন
সরকারি চাকরিজীবীদের বিশেষ প্রণোদনা বাতিল হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভাটরা ইউনিয়নের নলছারা জোয়ার বাড়ির হতদরিদ্র হতি বেগমের দুটি গরু ১০ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাতে চুরি হয়। এরপর থেকে গরু দুটির সন্ধানে স্বজন ও স্থানীয়রা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করতে থাকে। মঙ্গলবার সকালে বিএনপি নেতা দেলোয়ারের গোয়ালঘরে চুরি যাওয়া একটি গরুর সন্ধান পাওয়া যায়।
এই খবর ছড়িয়ে পড়ার পর তার বাড়ির সামনে ও আশপাশে লোকজন জড়ো হতে থাকে। পরে রামগঞ্জ থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে গরুটি উদ্ধার করে তাদের হেফাজতে নেয়।
নলছারা গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল মন্নান জানান, সকালে দেলোয়ার তাকে ফোন করে গরুটি নিয়ে যেতে বলেন। দেলোয়ার তার কাছে জানান, নলছারা গ্রামের তাজুল ইসলাম (তাজু) ও আলাউদ্দিন কালা নামে দুই ব্যক্তি গরুটি তার গোয়ালঘরে রেখে গেছেন।
তবে চুরি হওয়া গরু কিভাবে ওই নেতার গোয়ালঘরে গেল—এ প্রশ্নকে ঘিরে এলাকায় চলছে নানা আলোচনা-সমালোচনা।
এ বিষয়ে বিএনপি নেতা দেলোয়ার হোসেন দেলু বলেন, "গরু চোররা গভীর রাতে আমার গোয়ালঘরে এনে গরু রেখে যায়। কালু মিয়া ও তাজু পরদিন ফোন দিয়ে গরুটি বিক্রির কথা বলেন। পরবর্তীতে আমি গরু ক্রয় বাবদ ৩০ হাজার টাকা বিকাশের মাধ্যমে পরিশোধ করি।"
ভোলাকোট ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুর রহিম মজুমদার বলেন, "ঘটনাটি দুঃখজনক। দলের সাংগঠনিক নিয়ম অনুযায়ী তাকে শোকজ করা হয়েছে। আগামী তিনদিনের মধ্যে শোকজের জবাব দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।"
রামগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফিরোজ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, "ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। গরুটি কিভাবে ওই গোয়ালঘরে গেল এবং ঘটনার সঙ্গে যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মিষ্টি খাওয়ার জন্য টাকা জোগাড়ের উদ্দেশ্যে বাবার অটোভ্যান নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়েছিল পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র মো. আব্দুর রহমান (১১)। কিন্তু তার আর বাড়ি ফেরা হয়নি। পরবর্তী দিন বগুড়ার সোনাতলা উপজেলার জোড়গাছা ইউনিয়নের ভেলুরপাড়া-লোহাগাড়া (খাজারমোড়) সড়কের পাশ থেকে পুলিশ তার মরদেহ উদ্ধার করে।
নিহত আব্দুর রহমান বগুড়ার গাবতলী উপজেলার গোয়ালপাড়া গ্রামের মো. আমিরুল ইসলাম আম্বুর সন্তান। সে স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টার দিকে মিষ্টি খাওয়ার জন্য কিছু টাকা উপার্জনের উদ্দেশ্যে আব্দুর রহমান বাবার অটোভ্যান নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়। এরপর থেকে তার কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।
পরদিন বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকালে সোনাতলা উপজেলার জোড়গাছা ইউনিয়নের ভেলুরপাড়া-লোহাগাড়া (খাজারমোড়) সড়কের পাশে স্থানীয়রা আব্দুর রহমানের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। পরে তারা পুলিশকে খবর দেন।
খবর পেয়ে সোনাতলা থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। পরিবারের সদস্যরা মরদেহটি আব্দুর রহমানের বলে শনাক্ত করেন।
স্থানীয়দের ধারণা, অটোভ্যানটি ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে দুর্বৃত্তরা আব্দুর রহমানকে হত্যা করে থাকতে পারে। তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করছে।
সোনাতলা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কবীর হোসেন বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে মর্গে পাঠিয়েছে। পরিবারের সদস্যরা মরদেহের পরিচয় নিশ্চিত করেছেন।
তিনি আরও বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, অটোভ্যানটি ছিনতাইয়ের জন্যই আব্দুর রহমানকে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে পুলিশ কাজ করছে। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মঞ্চের মাধ্যমে শোবিজে যাত্রা শুরু করলেও এক পর্যায়ে উপস্থাপনায় স্থায়ী হন মাহমুদা মাহা। টেলিভিশনের পাশাপাশি করপোরেট শোতেও তার ব্যস্ততা বৃদ্ধি পেতে থাকে। তবে সম্প্রতি অভিনয়ের প্রতি তার আগ্রহ বেড়েছে।
কিছুদিন আগে অন্তর্জালে মুক্তি পেয়েছে মাহা অভিনীত দুটি নাটক ‘শয়তানের নিঃশ্বাস’ ও ‘সে আমার প্রথম প্রেম’। এই দুটি নাটকেই তার অভিনয় প্রশংসা অর্জন করেছে বলে জানিয়েছেন মাহা। বিশেষ করে ‘সে আমার প্রথম প্রেম’ নাটকটি নিয়ে দর্শকদের ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া তাকে উচ্ছ্বসিত করেছে।
নাটকটি দেখে এক দর্শক মন্তব্য করেছেন, ‘নাটকটির প্রেমে পরলাম। গল্প আর অভিনয়ের অনন্য প্যাকেজ। নাওভী ও মাহমুদা মাহার অভিনয়ের প্রেমে পড়তে হয়েছে নাটকটা দেখে। মাহার লুক, সাবলীল গেটআপ ছিল কনটেন্টটির অন্যতম আকর্ষণ।’
আরেক দর্শক বলেছেন, ‘‘বলছিলাম ‘সে আমার প্রথম প্রেম’ নাটকের কথা। নাওভি ও মাহমুদা মাহা অভিনয় করেছে নাটকে। তবে অপলক মাহাকেই দেখতে হয়েছে। নৌকায়, সরিষা ক্ষেতে, বিমর্ষ অবস্থায়—সবক্ষেত্রেই স্নিগ্ধ, সুন্দর। অভিনয়ে ছিল পরিপক্বতা।’'
দর্শকদের এমন প্রতিক্রিয়া মাহমুদা মাহাকে স্বাভাবিকভাবেই আনন্দিত করেছে। তিনি বলেন, ‘‘দুটি কাজ দুই ধরনের। দুটোকেই দর্শকরা পছন্দ করছেন। তবে ‘সে আমার প্রথম প্রেম’ নাটকটি নিয়ে অনেক বেশি ইতিবাচক সাড়া পাচ্ছি। সবাই আমার অনেক প্রশংসা করছেন। কেউ লুকের, কেউ আবার অভিনয়ের। দর্শকরা নাওভির সঙ্গে আমাকে আরো বেশি দেখতে চাইছেন। ভালো লাগছে তাদের এরকম প্রতিক্রিয়া দেখে।’'
উপস্থাপনায় নিয়মিত থাকলেও এখন অভিনয়ে আরো বেশি সময় দিতে চান মাহা। তার কথায়, ‘উপস্থাপনা তো করছি। তবে এখন অভিনয়ে বেশি সময় দিতে চাই। আরো অনেক বেশি কাজ করতে চাই।’
এদিকে চলতি মাসেই ঢাকায় আসছে পাকিস্তানি ব্যান্ড কাভিশ। এই ব্যান্ডের কনসার্ট উপস্থাপনা করা মাহার দীর্ঘদিনের স্বপ্ন। এবার সেই স্বপ্ন পূরণ হতে যাচ্ছে। ‘ওয়েভ ফেস্ট : এঞ্জয় দ্য ফুল মুন’ শীর্ষক কনসার্টটি উপস্থাপনা করবেন তিনি।
উপস্থাপনার পাশাপাশি এর আগে একাধিক নাটকে অভিনয় করেছেন মাহমুদা মাহা। বড় পর্দাতেও দেখা গেছে তাকে। ‘মেঘ রোদ্দুর খেলা’ ও ‘দুঃসাহসী খোকা’ সিনেমায় অভিনয় করেছেন তিনি।
উপস্থাপনা থেকে অভিনয়—দুই মাধ্যমেই ধীরে ধীরে নিজের পরিসর তৈরি করছেন মাহমুদা মাহা। সামনে অভিনয়ে আরো নিয়মিত হওয়ার ইচ্ছার কথাই জানালেন এই তরুণী।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ