ঢাকা শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৭ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১২ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৭ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ডিসেম্বরে কোনো অপশক্তি অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী


ডিসেম্বরে কোনো অপশক্তি অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ মন্তব্য করেছেন, "ডিসেম্বরে কোনো অপশক্তি এখানে কোনো অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারবে বলে আমি বিশ্বাস করি না।"

তিনি বৃহস্পতিবার (০১ অক্টোবর) রাজধানীর তেজগাঁও বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর নতুন সদর দপ্তরের "শুভারম্ভ ফলক" উন্মোচন অনুষ্ঠানে এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন।

ডিসেম্বর মাসকে কেন্দ্র করে কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা আ.লীগের অস্থিরতা সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, "আপনারা ডিসেম্বর ডিসেম্বর করছেন কেন? ডিসেম্বর তো আমাদের বিজয়ের মাস। ডিসেম্বরে কোনো অপশক্তি এখানে কোনো অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারবে বলে আমি বিশ্বাস করি না।"

আরও পড়ুন: বিরোধীদলের আগ্রাসী আচরণ স্নাইপার মন্তব্যে দুঃসাহস জুগিয়েছে: রাশেদ খাঁন

তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশ আনসার-ভিডিপির দীর্ঘদিনের আকাঙ্ক্ষা ছিল একটি সদর দপ্তর স্থাপন করা হবে সুষ্ঠু, পরিকল্পিত জায়গায়, একটি প্রপার লোকেশনে। সেই স্বপ্ন আজকে আমাদের পূরণ হয়েছে। গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ৩ দশমিক ৪৫ একর অর্থাৎ প্রায় ১১ বিঘার মতো জায়গা বরাদ্দ পেয়েছি আনসারের সদর দপ্তর নির্মাণের জন্য। আমরা এখানে আনসারের সদর দপ্তর নিয়ে আসার জন্য একটি বড় পরিকল্পনা গ্রহণ করব। এত বড় আনসার-ভিডিপির মতো একটি ফোর্সের জন্য খিলগাঁওয়ে জায়গা সংকুলান হয় না।

মন্ত্রী জানান, বাংলাদেশের ব্যাটালিয়ন আনসারের সংখ্যা ২০ হাজারের মতো। অঙ্গীভূত আনসারের সংখ্যা হচ্ছে ৬০ হাজার। মোট ৮০ হাজারের এই ফোর্সের বাইরে রয়েছে ভিডিপি। ৩৫ হাজার দলনেতা ভিডিপির অধীনে আবার ৬০ লাখ প্রশিক্ষিত জনশক্তি রয়েছে ভিডিপির। সংখ্যার দিক থেকে রেগুলার এবং ইরেগুলার সব মিলিয়ে এটি সবচেয়ে বড় ফোর্স। আনসার ব্যাটালিয়নের অঙ্গীভূত সদস্যরা বাদে রেগুলার ব্যাটালিয়নের সদস্যরা সরকারি বিভিন্ন স্থাপনার এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের অধিদপ্তরের চাহিদা অনুযায়ী কাজ করে। তবে তাদের আবাসন সংকট এখনও রয়ে গেছে। যারা সেন্ট্রালি এখানে ডিউটি করেন, তারা রাতের জন্য আবাসনের জায়গা ঠিকমতো খুঁজে পান না। এজন্য আমরা এখানে সেন্ট্রালি একটি ডরমেটরির ব্যবস্থা করব। তাদের আবাসনের জন্য ব্যারাক নির্মাণসহ সুযোগ-সুবিধা সৃষ্টি করব।

আজকের দিনটি আনসার ব্যাটালিয়নের জন্য একটি ঐতিহাসিক দিন উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর এই বিষয়গুলোতে মনোযোগ দেওয়া হয়েছে। যাতে সারাদেশে আইনশৃঙ্খলা সুষ্ঠুভাবে রক্ষা করা যায়, উন্নতি করা যায় এবং আনসার ব্যাটালিয়নের ভূমিকা আরও সম্প্রসারিত করা যায়। আনসার ব্যাটালিয়নের ঐতিহাসিক কিছু অর্জন রয়েছে এবং আনসার ব্যাটালিয়নের সম্পর্কে গর্ব করার মতো অনেক জায়গা আছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, এই ব্যাটালিয়ন আরও সামনের দিকে এগিয়ে যাবে। রাষ্ট্রের শান্তি, শৃঙ্খলা রক্ষা করার জন্য ভিডিপিসহ অন্যান্য অঙ্গীভূত আনসার কাজ করে, তারা তাদের দায়িত্ব ঠিকমতো পালন করতে পারবে। তাদের আর্থিক সহযোগিতার জন্য সরকার সবসময় চেষ্টা করছে। তাদের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া রয়েছে, এগুলো পর্যায়ক্রমে পূরণ করা হবে।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, যেটা ল এনফোর্সার্স, বিভিন্ন এজেন্সি আছে, তারা সবাই সমন্বিতভাবে একটি অপারেশন পরিচালনা করার পরিকল্পনা রয়েছে। এই জায়গায় আনসার ব্যাটালিয়নও থাকবে, পুলিশ, বিজিবি, এসআরবি সহ অন্যান্য ফোর্স থাকবে। সকলেই সমন্বিতভাবে কাজ করবে। আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণের জন্য এবং সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, মাদকের মতো হীন অপরাধ দমনের জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি সমন্বিত উদ্যোগ সবসময় রয়েছে, যা এখনও চলছে এবং সামনে আরও জোরদার করা হবে।

আরও পড়ুন: জুলাই স্মৃতিস্তম্ভের অনুষ্ঠানে বিরোধী দল ধোঁকাবাজির অভিযোগ প্রতিমন্ত্রীর

অন্য এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মধ্যে কারো কারো দায়িত্ব অবহেলা লক্ষ্য করা গেছে। এজন্য আমরা যেগুলো আমাদের সামনে আসছে, নজরে আসছে, তদন্তে আসছে, সেগুলোর জন্য যথাযথ ব্যবস্থা নিচ্ছি। আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, ডিপার্টমেন্টাল প্রসিডিং চলছে। ক্ষেত্রবিশেষে আমরা শুধু তাদের প্রত্যাহার করেই ক্ষান্ত হচ্ছি না, তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং ক্রিমিনাল অফেন্স হলে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনায়ন করা হচ্ছে। এই বার্তা আমরা সব জায়গায় পৌঁছে দিয়েছি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মধুপুর প্রেসক্লাবের দ্বিতল ভবনের ছাদ ঢালাইয়ের উদ্বোধন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আঃ হামিদ মধুপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি

বৃহস্পতিবার, ১ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১২:৩০ পি.এম


মধুপুর প্রেসক্লাবের দ্বিতল ভবনের ছাদ ঢালাইয়ের উদ্বোধন

টাঙ্গাইলের মধুপুর প্রেসক্লাবের দ্বিতল ভবনের ছাদ ঢালাইয়ের কাজের শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সকালে এ কাজের উদ্বোধন করেন মধুপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. জাকির হোসেন সরকার।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি এম. রতন হায়দার, পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুল লতিফ পান্না, মধুপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি জয়নাল আবেদীন, সাধারণ সম্পাদক নাজমুছ সাদাৎ নোমান, সহ-সভাপতি মেজবাহ উদ্দিন আহমেদ, সহ-সভাপতি আব্দুল হামিদ, প্রগতির আলোর সম্পাদক আনোয়ার সাদাৎ ইমরানসহ প্রেসক্লাবের সকল সাংবাদিক ও সুধীজন।
ছাদ ঢালাইয়ের উদ্বোধন উপলক্ষে প্রেসক্লাবের সাংবাদিকরা ভবনের উন্নয়নকাজের অগ্রগতি নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন। এ সময় অতিথিরা মধুপুর প্রেসক্লাবের অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও সাংবাদিকদের পেশাগত কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে বলে আশা প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানে প্রেসক্লাবের সাংবাদিক, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার সুধীজন উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

৩৪ বছরের সেবা শেষে ঘোড়ার গাড়িতে স্কুলের আয়ার রাজকীয় বিদায়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১২:৫০ পি.এম


৩৪ বছরের সেবা শেষে ঘোড়ার গাড়িতে স্কুলের আয়ার রাজকীয় বিদায়

নওগাঁ সদর উপজেলার ফতেপুর (১ম) উচ্চ বিদ্যালয়ের আয়া শেফালি বেগম ৩৪ বছরের দীর্ঘ একনিষ্ঠ ও নিঃস্বার্থ সেবা শেষে ৩০ সেপ্টেম্বর অবসরে গেছেন। তাঁর বিদায় অনুষ্ঠানে বিদ্যালয় চত্বরে এক অভূতপূর্ব ও আবেগঘন পরিবেশ তৈরি হয়েছিল, যা সাধারণত কোনো উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার বিদায়বেলায়ও দেখা যায় না। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের অশ্রুসিক্ত ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে তিনি রাজকীয় এক ঘোড়ার গাড়িতে চড়ে নিজের বাড়িতে ফিরে গেছেন।

শেফালি বেগম ব্যক্তিগত জীবনে অবিবাহিত ছিলেন এবং তাঁর কোনো সংসার বা সন্তান ছিল না। বিদ্যালয়ের পুরো প্রাঙ্গণ ও শিক্ষার্থীরাই ছিলেন তাঁর আপন পরিবার। দীর্ঘ ৩৪ বছর ধরে তিনি অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে দাপ্তরিক ও সেবামূলক দায়িত্ব পালন করেছেন। শিক্ষার্থীদের টিফিনের খোঁজ নেওয়া, মায়ায় জড়িয়ে তাদের ভুলত্রুটি শুধরে দেওয়া এবং অসুস্থ হলে মায়ের মতো পরম যত্নে সেবা করার কারণে তিনি সবার কাছে ‘শেফালি খালা’ নামে পরিচিত ছিলেন। শিক্ষকরা কাজের তাড়া কিংবা নিজের ক্লান্তি— কিছুই তাঁর এই সেবামূলক মানসিকতায় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি।

শেফালি বেগমের অবসরের দিনে বিদ্যালয়ে এক শোকাতুর ও শ্রদ্ধাবনত পরিবেশ সৃষ্টি হয়। তাঁর এই ত্যাগের যথাযথ মূল্যায়ন করতে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এক বর্ণাঢ্য বিদায়ী সংবর্ধনার আয়োজন করে। বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও নওগাঁ জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক নূর-ই আলম মিঠুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন প্রধান শিক্ষক সাজ্জাদুল ইসলাম, পরিচালনা কমিটির সদস্য লিটন হোসেনসহ অন্যান্য শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।

অনুষ্ঠানে শ্রদ্ধার স্মারক হিসেবে শেফালি বেগমের হাতে সংবর্ধনা উত্তরীয়, নগদ অর্থ ও বিভিন্ন উপহারসামগ্রী তুলে দেওয়া হয়।

বিদায়ি বক্তৃতায় পরিচালনা কমিটির সভাপতি নূর-ই-আলম মিঠু বলেন, "শেফালি বেগম আমাদের বিদ্যালয়ের শুধু একজন কর্মচারী ছিলেন না, তিনি ছিলেন এই প্রতিষ্ঠানের অন্যতম এক স্তম্ভ। পদের দিক থেকে কেউ বড় বা ছোট হতে পারে, কিন্তু তার কর্তব্যপরায়ণতা এবং মমত্ববোধ আমাদের সবার চেয়ে অনেক উঁচুতে। তার এই নিঃস্বার্থ সেবার ঋণ বিদ্যালয় কোনোদিন শোধ করতে পারবে না।"

অনুষ্ঠানের সবচেয়ে মানবিক ও চোখ জুড়ানো দৃশ্যটি তৈরি হয় বিদায়ের ঠিক পরপর। প্রথা ভেঙে শেফালিকে অত্যন্ত মর্যাদা ও ভালোবাসার সঙ্গে একটি সুসজ্জিত ঘোড়ার গাড়িতে চড়ে বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়। এ সময় শত শত শিক্ষার্থী তার পথজুড়ে ফুলের পাপড়ি ছিটিয়ে সম্মান জানান। বিদায়ের এই ক্ষণে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের কান্না এবং ভালোবাসায় এক অবিস্মরণীয় ও আবেগাপ্লুত দৃশ্যের অবতারণা হয়।

ফতেপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের এই অনন্য উদ্যোগটি সমাজে এক বড় বার্তা দিয়ে গেল—কাজের ছোট-বড় দিয়ে মানুষের প্রকৃত মূল্যায়ন হয় না। সততা, নিষ্ঠা ও নিঃস্বার্থ ভালোবাসা দিয়ে মানুষের হৃদয় জয় করতে পারলে প্রাতিষ্ঠানিক পদের গণ্ডি পেরিয়েও এমন রাজকীয় সম্মান পাওয়া সম্ভব। ফতেপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ইতিহাসে শেফালি বেগম চিরকাল মায়াবী এক মায়ের প্রতিচ্ছবি এবং এক সুমহান অনুপ্রেরণার প্রতীক হয়ে থাকবেন।

‌

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সুইজারল্যান্ডে তীব্র তাপপ্রবাহে দ্রুত গলছে হিমবাহের বরফ, প্রাকৃতিক দুর্যোগের শঙ্কা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১২:৫০ পি.এম


সুইজারল্যান্ডে তীব্র তাপপ্রবাহে দ্রুত গলছে হিমবাহের বরফ, প্রাকৃতিক দুর্যোগের শঙ্কা

ইউরোপজুড়ে তাপপ্রবাহের কারণে চলতি বছরে সুইজারল্যান্ডের হিমবাহগুলোর বরফ দ্রুত গলতে শুরু করেছে। এর ফলে হিমবাহগুলো দ্রুত সংকুচিত হয়ে যাচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) প্রকাশিত সুইস গ্লেসিয়ার মনিটরিং নেটওয়ার্ক (গ্ল্যামোস) এবং সুইস একাডেমি অব সায়েন্সেসের সুইস কমিশন ফর ক্রায়োস্ফিয়ার অবজারভেশনের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরে সুইজারল্যান্ডের হিমবাহগুলোর ৫ শতাংশের বেশি বরফ গলে গেছে।

এছাড়া, প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, হিমবাহ সংকুচিত হওয়ার হার দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। অতিরিক্ত বরফ গলার ঘটনা প্রায় নিয়মিত হয়ে উঠছে। গত পাঁচ বছরে সুইজারল্যান্ডের হিমবাহগুলো প্রায় এক-পঞ্চমাংশ বরফ হারিয়েছে। এর ফলে ভবিষ্যতে পানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ইউরোপের বরফে ঢাকা এলাকাগুলোর দীর্ঘমেয়াদি অস্তিত্ব নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।

গ্লামোসের পরিচালক ম্যাথিয়াস হাস বলেন, ‘আমরা এখন এমন এক নতুন বাস্তবতায় প্রবেশ করেছি, যেখানে বরফ গলে হিমবাহগুলো চোখের সামনে মিলিয়ে যাচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, শীতে অপেক্ষাকৃত কম তুষারপাত এবং গ্রীষ্মে রেকর্ড তাপমাত্রার কারণে চলতি বছর ভয়াবহ মাত্রায় হিমবাহের বরফ গলেছে।

গ্লামোসের পরিচালক জানান, এখন প্রায় প্রতিবছরই চরম পরিস্থিতি দেখা যাচ্ছে। এটি সত্যিই উদ্বেগজনক। তবে ২০২২ সালের মতো রেকর্ড হারে বরফ গলছে না বলে তিনি জানান। ওই বছর উত্তর আফ্রিকা থেকে আসা ধুলোর মেঘ তুষারের ওপর জমে যাওয়ায় বরফ গলার হার ছিল নজিরবিহীন।

সুইজারল্যান্ডের সবচেয়ে বড় হিমবাহ আলেৎশ চলতি বছর সবচেয়ে বেশি বরফ হারিয়েছে। গ্লেসিয়ার দ্য সঁফ্লেরঁ হিমবাহের গড় পুরুত্ব ৪ মিটারের বেশি কমেছে। কয়েক বছর আগে এমন ঘটনা কল্পনা করা কঠিন ছিল বলে হাস জানান।

গবেষকদের হিসাব অনুযায়ী, জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিন মাসে সুইজারল্যান্ডের হিমবাহগুলো প্রায় ২ দশমিক ২ ট্রিলিয়ন লিটার পানি হারিয়েছে। এটি দেশটির পরিবারগুলো এক বছরে যে পরিমাণ খাবার পানি ব্যবহার করে, তার তুলনায় চারগুণের বেশি।

হিমবাহের বরফ গলার একটি ইতিবাচক দিকও রয়েছে। গ্রীষ্মকালে পানির সংকট কিছুটা কমাতে এটি ভূমিকা রাখে। তবে হিমবাহের আয়তন ও বরফে ঢাকা এলাকা কমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এই সুবিধাও কমে আসছে বলে হাস জানান।

ম্যাথিয়াস আরও বলেন, ‘হিমবাহ কত দ্রুত গলছে, তা আমরা জানি। তাই এতে আমরা অবাক হই না। কিন্তু পাহাড়ের যেসব জায়গায় আগে তুষার ছিল, সেখানে এখন শুধু পাথর দেখা যাচ্ছে। এটা আমাকে কষ্ট দেয়।’

সূত্র: রয়টার্স

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কক্সবাজার সদর হাসপাতাল থেকে হ্যান্ডকাফ পরা রোহিঙ্গা আসামি ইব্রাহিম পলায়ন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১২:৫১ পি.এম


কক্সবাজার সদর হাসপাতাল থেকে হ্যান্ডকাফ পরা রোহিঙ্গা আসামি ইব্রাহিম পলায়ন

কক্সবাজার সদর হাসপাতাল থেকে তিন পুলিশ কনস্টেবলের পাহারায় থাকা হ্যান্ডকাফ পরা এক রোহিঙ্গা আসামি পালিয়ে যাওয়ার ঘটনা ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। পালিয়ে যাওয়া আসামির নাম ইব্রাহিম। সম্প্রতি উখিয়ার থাইংখালী এলাকা থেকে অস্ত্রসহ আরও দুই রোহিঙ্গার সঙ্গে তাকে আটক করা হয়েছিল। পরে তাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে জানা যায়, উখিয়ার থাইংখালী এলাকায় সন্দেহজনক গতিবিধির সময় স্থানীয় লোকজন ইব্রাহিমসহ তিন রোহিঙ্গাকে আটক করেন। এ সময় তাদের কাছ থেকে অস্ত্র উদ্ধারের খবর পাওয়া যায়। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে তাদের হস্তান্তর করা হলে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

ইব্রাহিম অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে চিকিৎসার জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার হাতে হ্যান্ডকাফ পরানো ছিল এবং নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন তিন পুলিশ কনস্টেবল। কিন্তু এমন কড়া নিরাপত্তার মধ্যেও তিনি বুধবার রাতে হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হন।

ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর কক্সবাজার সদর হাসপাতালসহ আশপাশের এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। একজন হ্যান্ডকাফ পরা আসামি তিন পুলিশ সদস্যের পাহারায় থেকেও কীভাবে হাসপাতাল থেকে বের হয়ে গেলেন-এ নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে ইব্রাহিমের বিরুদ্ধে অস্ত্রসহ আটকের অভিযোগ থাকায় তার পলায়নকে সাধারণ কোনো আসামির পলায়নের ঘটনা হিসেবে দেখছেন না স্থানীয়রা।

ইব্রাহিমের পলায়নের ঘটনায় দায়িত্বে থাকা তিন কনস্টেবলের দায়িত্ব পালনের বিষয়ে প্রশ্ন উঠেছে। হাসপাতালের মতো জনসমাগমপূর্ণ স্থান থেকে হ্যান্ডকাফ পরা একজন আসামি পাহারা ভেঙে পালিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে পাহারায় কোনো ধরনের গাফিলতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

পুলিশের দায়িত্বশীল সূত্রের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পলাতক ইব্রাহিমকে পুনরায় গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক দল কাজ করছে। পাশাপাশি ঘটনার প্রকৃত কারণ ও দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যদের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

উখিয়ার থাইংখালীসহ সীমান্তবর্তী রোহিঙ্গা ক্যাম্প ও আশপাশের এলাকায় বিভিন্ন অপরাধী চক্রের তৎপরতা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে উদ্বেগ রয়েছে। অস্ত্র, মাদক, অপহরণ, চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে।

এ অবস্থায় অস্ত্রসহ আটক একজন রোহিঙ্গা আসামির পুলিশ পাহারায় থাকা অবস্থায় হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে নতুন করে নিরাপত্তা উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। দ্রুত তাকে গ্রেপ্তার করে পলায়নের নেপথ্যের কারণ উদঘাটন এবং দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১২ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৪৯
মাগরিব ০৫:২৬
ইশা ০৬:৩৭
সূর্যোদয় : ০৫:৫৯ সূর্যাস্ত : ০৫:২৬
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%