০৮:২৭ পি.এম
বেলজিয়ামের পূর্ব ফ্ল্যান্ডার্সের সিন্ট-খিলিস-ডেন্ডারমন্ডে একটি পুরোনো বাড়ি সংস্কারের সময় দেয়ালের ভেতর থেকে বিপুল পরিমাণ সোনা উদ্ধার করেছেন নির্মাণশ্রমিকরা। সোনা ও স্বর্ণমুদ্রার মোট আনুমানিক মূল্য প্রায় ৯০ লাখ ইউরো, বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৩০ কোটি টাকা।
চলতি সপ্তাহের শুরুতে বাড়িটিতে নতুন পয়োনিষ্কাশন পাইপ বসানোর জন্য খননকাজ চালানোর সময় শ্রমিকরা সেলারের দেয়ালের ভেতরে লুকানো সোনার সন্ধান পান। সেখানে সোনার বার ও অসংখ্য স্বর্ণমুদ্রা পাওয়া যায়। পরে পুলিশ সেগুলো জব্দ করে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়।
ঘটনার সময় নির্মাণশ্রমিকদের দলে ছিলেন ১৮ বছর বয়সী শিক্ষার্থী কোবে। গ্রীষ্মকালীন ছুটিতে খণ্ডকালীন কাজ করতে গিয়ে তিনি এই গুপ্তধনের সন্ধান পান। প্রথমে সোনার মুদ্রাগুলোকে সাধারণ ১ ইউরোর মুদ্রা মনে করেছিলেন তিনি। পরে একটি সোনার বার দেখতে পেয়ে বিষয়টির গুরুত্ব বুঝতে পারেন।
আরও পড়ুন: জাতিসংঘে মানবাধিকারভিত্তিক অর্থনৈতিক নীতিনির্ধারণের আহ্বান বাংলাদেশ
শ্রমিকরা কোনো সোনা নিজেদের কাছে না রেখে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশকে খবর দেন। সাইট ম্যানেজার মারিও বলেন, এত বিপুল পরিমাণ সোনা লুকিয়ে রাখা সম্ভব ছিল না এবং তা নিজেদের কাছে রাখলে চুরির শামিল হতো।
বাড়িটির বর্তমান মালিক একটি সামাজিক কল্যাণমূলক সংস্থা। সংস্থাটি সেখানে নতুন কার্যালয় ও আবাসন তৈরির জন্য ভবনটি সংস্কার করছে। ভবনটি আগে একটি মদ তৈরির কারখানার মালিক পরিবারের বাড়ি ছিল। সেখানে ১৮৯৯ সাল থেকে ১৯৭০ সাল পর্যন্ত মদ তৈরির কার্যক্রম চলেছিল।
সংস্থাটির পরিচালক গিয়ার্ট হিলার্ট আশা করছেন, শেষ পর্যন্ত যদি সোনার মালিকানা তাদের প্রতিষ্ঠানের হাতে আসে, তাহলে তা মানুষের কল্যাণে ব্যবহার করা সম্ভব হবে। তবে এখনই এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ নেই।
কারণ সোনার প্রকৃত মালিক কে, সেটি এখনো নিশ্চিত নয়। পূর্ব ফ্ল্যান্ডার্সের সরকারি কৌঁসুলির দফতর সোনার উৎস ও মালিকানা নিয়ে তদন্ত করছে। একই সঙ্গে এটি চুরি করা সম্পদ বা কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অর্থ কি না, সেটিও যাচাই করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: বিশ্ববাজারে আবারও বাড়ল তেলের দাম
স্থানীয়ভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বাড়িটির সাবেক মালিক ভ্যান অ্যাসে পরিবারের সঙ্গে এই সম্পদের কোনো সম্পর্ক থাকতে পারে। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
বেলজিয়ামের আইন অনুযায়ী, প্রকৃত মালিককে সামনে এসে নিজের দাবির পক্ষে প্রমাণ দেওয়ার জন্য পাঁচ বছর সময় দেওয়া হয়। এই সময়ের মধ্যে কোনো বৈধ মালিকের সন্ধান না মিললে এবং সোনার সঙ্গে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সম্পর্ক না থাকলে, প্রচলিত দেওয়ানি আইনের অধীনে সম্পদের মালিকানা নিয়ে সন্ধানদাতা ও সম্পত্তির মালিকের মধ্যে ভাগাভাগির সুযোগ তৈরি হতে পারে।
এদিকে বিপুল সোনা উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর ঘটনাস্থলে গুপ্তধন খুঁজতে উৎসাহী মানুষের ভিড় বাড়তে শুরু করেছে। পুলিশ সাধারণ মানুষকে নির্মাণাধীন এলাকায় প্রবেশ না করার জন্য সতর্ক করেছে। পুরো বাড়ি তল্লাশি শেষে উদ্ধার করা সব সোনা নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
এখন তদন্তকারীদের মূল লক্ষ্য সোনার উৎস ও প্রকৃত মালিক শনাক্ত করা। আর নির্মাণশ্রমিকদের জন্য এই ৯০ লাখ ইউরোর গুপ্তধন আপাতত ভাগ্যের দরজা খুললেও, সেই দরজা দিয়ে প্রবেশের অধিকার কার হবে, তার উত্তর মিলতে অপেক্ষা করতে হবে আরও কয়েক বছর।
আরও পড়ুন: জামায়াত নেতাদের ভারতীয় গোয়েন্দাদের সঙ্গে বৈঠকের দাবি, রাশেদকে চ্যালেঞ্জ
তথ্যসূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন