০৮:৫৩ পি.এম
প্রতিটি বিশ্বকাপের আগে এবং পরে বিভিন্ন কুসংস্কার, পরিসংখ্যান ও অদ্ভুত কাকতালীয় ঘটনা ভক্তদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা জাগিয়ে তোলে। বিশেষত ফাইনালের আগে এই ধরনের 'ইঙ্গিত' আরও বেশি ভাইরাল হয়ে যায়। এসবের মধ্যে কিছু ঘটনার ঐতিহাসিক ভিত্তি বিদ্যমান, আবার কিছু ঘটনা নিছক কাকতাল। রোববার (১৯ জুলাই) বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের বিরুদ্ধে আর্জেন্টিনার মাঠে নামার আগে এমন কিছু ঘটনা সমর্থকদের মধ্যে আশাবাদ বাড়িয়ে তুলেছে। চলুন তাহলে দেখে নেওয়া যাক সবচেয়ে আলোচিত পাঁচটি 'লক্ষণ'।
১৯৮৬ সালের মেক্সিকো বিশ্বকাপে কার্লোস বিলার্দোর আর্জেন্টিনা কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে পরাজিত করেছিল। সেই ম্যাচে দিয়েগো ম্যারাডোনার দুটি কিংবদন্তি গোল - 'হ্যান্ড অব গড' এবং 'গোল অব দ্য সেঞ্চুরি' ফুটবল ইতিহাসে অমর হয়ে আছে। সেই ঐতিহাসিক জয়ই আর্জেন্টিনাকে শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপ শিরোপার পথে এগিয়ে নিয়ে যায়।
৪০ বছর পরে, ২০২৬ বিশ্বকাপেও আর্জেন্টিনা আবার ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে পরাজিত করেছে। তবে এবার তা সেমিফাইনালে, এবং সেই জয় তাদের শিরোপার চূড়ান্ত ধাপের খুব কাছে পৌঁছে দিয়েছে।
আরও পড়ুন: সৌদিতে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড, বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলল হিউম্যান রাইটস ওয়াচ
২. কোয়ার্টার ফাইনালে ৩-১ গোলে জয়ী দল প্রতিবারই চ্যাম্পিয়ন হয়েছে।
বিশ্বকাপের ইতিহাসে মাত্র তিনটি কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচ ৩-১ ব্যবধানে সম্পন্ন হয়েছে। ১৯৩৮ সালে ইতালি ফ্রান্সকে এই ব্যবধানে পরাজিত করেছিল। পরবর্তীতে ১৯৬২ সালে ব্রাজিল ইংল্যান্ডকে এবং ২০২৬ সালে আর্জেন্টিনা সুইজারল্যান্ডকে এই একই ব্যবধানে হারিয়েছে।
দুর্ভাগ্যবশত কাকতালীয় বিষয় হলো, তিন ক্ষেত্রেই বিজয়ী দল আগের বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়ন ছিল। প্রথমে তারা ১-০ গোলে এগিয়ে যায়, তারপর সমতা ফেরায়, তবে শেষ পর্যন্ত ৩-১ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে। ১৯৩৮ সালে ইতালি এবং ১৯৬২ সালে ব্রাজিল পরবর্তী সময়ে শিরোপা জিতেছিল। এবার সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখার চ্যালেঞ্জ আর্জেন্টিনার সামনে আছে।
৩. সেমিফাইনালে দেখা গেল সংখ্যার অদ্ভুত মিল।
আরও পড়ুন: চট্টগ্রামে জমকালো আয়োজনে সিএফএলের প্লেয়ার্স ড্রাফট অনুষ্ঠিত
ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে দ্বিতীয়ার্ধে লিওনেল স্ক্যালোনি প্রায় একই সময়ে তিনটি পরিবর্তন করেন। মাঠে নামেন ১৯ নম্বর জার্সির নিকোলাস ওতামেন্দি, ৭ নম্বর জার্সির রদ্রিগো ডি পল এবং ৪ নম্বর জার্সির গনসালো মন্তিয়েল। এই তিনজনের একসঙ্গে থাকার ছবি দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়। অনেক সমর্থক এটিকে ভাগ্যের ইঙ্গিত হিসেবে বিবেচনা করেন।
তাদের জার্সি নম্বরের মধ্যে ১৯ হলো ফাইনালের তারিখ, ৭ হলো জুলাই মাস এবং ৪ প্রতীকীভাবে আর্জেন্টিনার সম্ভাব্য চতুর্থ বিশ্বকাপ শিরোপাকে নির্দেশ করে। তাছাড়া, ৪ নম্বরটি ফাইনাল শুরু হওয়ার স্থানীয় সময় বিকেল ৪টাকেও ইঙ্গিত দেয়।
৪. আর্জেন্টিনার গোলসংখ্যাতেও লুকিয়ে আছে ফাইনালের তারিখ।
সংখ্যার এই কাকতালীয় মিল এখানে শেষ নয়। পুরো বিশ্বকাপব্যাপী আর্জেন্টিনা করেছে ১৯টি গোল এবং হজম করেছে ৭টি গোল। অর্থাৎ, ১৯/৭, যা ঠিক সেই তারিখ, যেদিন আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপ জয়ের লক্ষ্যে স্পেনের মুখোমুখি হবে।
আরও পড়ুন: জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না হলে আরেকটি বিপ্লবের ডাক দেওয়া ছাড়া বিকল্প থাকবে
৫. স্কালোনির ১০৪তম ম্যাচ, আর বিশ্বকাপেরও ১০৪তম ম্যাচ।
সবশেষে আরেকটি বিশেষ তথ্য নজর কেড়েছে। স্পেনের বিপক্ষে ফাইনালটি হবে লিওনেল স্কালোনির অধীনে আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের ১০৪তম ম্যাচ। এবং আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই ম্যাচটি হবে ২০২৬ বিশ্বকাপেরও ১০৪তম ম্যাচ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন