ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

খুমেক হাসপাতালে আগুন: অপারেশন থিয়েটার এখনও বন্ধ, শতাধিক রোগী চরম ঝুঁকিতে


খুমেক হাসপাতালে আগুন: অপারেশন থিয়েটার এখনও বন্ধ, শতাধিক রোগী চরম ঝুঁকিতে

খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পোস্ট অপারেটিভ স্টোরে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটে যাওয়ার দুই সপ্তাহ পরেও এখনও অপারেশন থিয়েটার ও সংশ্লিষ্ট ইউনিটগুলো চালু করা সম্ভব হয়নি। অক্সিজেন লাইনের ক্ষতি এবং অবকাঠামোগত ঝুঁকির কারণে বর্তমানে জরুরি ও নির্বাচিত সব ধরনের অস্ত্রোপচার বন্ধ রয়েছে। এর ফলস্বরূপ, অপারেশনের অপেক্ষায় থাকা শতাধিক রোগী চরম অনিশ্চয়তা এবং স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েছেন।

এই ঘটনার সম্পর্কে জানা যায়, গত ২০ মে ভোরে হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারসংলগ্ন স্টোর রুমে আগুন লেগে যায়। এই অগ্নিকাণ্ডের ফলে গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রপাতি ও অবকাঠামো ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং এর পরপরই পুরো অপারেশন থিয়েটার কার্যত অচল হয়ে পড়ে। ঘটনার দিনই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে দ্রুত সংস্কার এবং পুনরায় চালুর ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তবে, দুই সপ্তাহ অতিবাহিত হলেও সেই নির্দেশনার যথাযথ বাস্তবায়নে কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না।

সাতক্ষীরার রেশমা আক্তার ব্রেন টিউমারের অস্ত্রোপচারের জন্য দেড় মাস ধরে অপেক্ষায় আছেন। গত সপ্তাহে তার অপারেশনের কথা থাকলেও অপারেশন থিয়েটার বন্ধ থাকায় তা সম্ভব হয়নি। অন্তঃসত্ত্বা এই নারীর অবস্থা দিনে দিনে আরও সংকটাপূর্ণ হয়ে উঠছে। জরুরি ভিত্তিতে অস্ত্রোপচার না হলে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে পারে। আর্থিকভাবে অসচ্ছল পরিবারের কারণে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বাইরের ভর্তি নিয়ে যেতে পারছেন না।

আরও পড়ুন: চাঁদা না পেয়ে শ্রমিকদের ওপর হামলা, গুরুতর আহত অবস্থায় ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি, থানায় অভিযোগ

রেশমার স্বামী সিরাজুল ইসলাম বলেন, 'ডাক্তাররা দ্রুত অপারেশনের কথা বলেছিলেন। এখন তারা বলছেন, আপাতত অপারেশন হচ্ছে না। এখন আমরা কি করবো? বুঝে উঠতে পারছি না।'

এদিকে, রেশমা আক্তারই একমাত্র নন, সার্জারি, নিউরো সার্জারি, ইউরোলজি, বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগের শত শত রোগীর অস্ত্রোপচার আটকে রয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অস্ত্রোপচারের কথা থাকলেও আগুনের কারণে সব কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। নতুন রোগীদেরও ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। ফলে রোগী ও তাদের স্বজনরা চরম ভোগান্তি এবং অনিশ্চিত পরিস্থিতিতে সময় কাটাচ্ছেন।

নড়াইলের রোগীর স্বজন কামাল হোসেন বলেন, 'অপারেশনের তারিখ ঠিক ছিল, সব কিছু প্রস্তুত ছিল। হঠাৎ আগুনে সব বন্ধ হয়ে গেল। এখন কবে হবে, কেউ বলতে পারছে না।'

খুলনার আরেক স্বজন লতিফা বেগম বলেন, 'আমার ভাইয়ের মাথায় সমস্যা। অপারেশন জরুরি। কিন্তু তা করা যাচ্ছে না।'

আরও পড়ুন: বেগম খালেদা জিয়ার নামে সিলেটের পুরানো কারাগারে জায়গায় পার্ক নির্মাণ হচ্ছে

বিপত্তি সবদিক থেকে চিকিৎসকরাও পড়েছেন। তাদের মতে, সময়মতো অস্ত্রোপচার না হওয়ার কারণে অনেক রোগীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হচ্ছে, কিছু ক্ষেত্রে মৃত্যুঝুঁকিও তৈরি হচ্ছে। তারা কর্তৃপক্ষকে বারবার দ্রুত অপারেশন থিয়েটার চালুর জন্য অনুরোধ করছেন।

নিউরো সার্জারি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. রিয়াজ আহমেদ বলেন, 'যাদের জরুরি অপারেশন দরকার, তাদের অনেকের অবস্থাই খারাপের দিকে যাচ্ছে। থিয়েটার বন্ধ থাকায় চিকিৎসা দিতে পারছি না।'

অ্যানেসথেসিয়া ও আইসিইউ বিভাগের প্রধান ডা. দিলীপ কুমার কুণ্ডু বলেন, 'অপারেশন বন্ধ থাকার কারণে রোগীদের জটিলতা বেড়ে যাচ্ছে। কিছু ক্ষেত্রে পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে যাচ্ছে, যেখানে মৃত্যুঝকির সৃষ্টি হচ্ছে। দ্রুত থিয়েটার চালু না হলে সংকট আরও বাড়বে।'

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, স্বাস্থ্য মন্ত্রীর নির্দেশনা থাকার পরও গণপূর্ত বিভাগ এখনও ক্ষয়ক্ষতির নিরূপণ শেষ করতে পারেনি। তাই সংস্কার কাজ শুরু করা যাচ্ছে না।

আরও পড়ুন: কক্সবাজারে নকল ব্যান্ডরোলযুক্ত সিগারেট জব্দ, মূল্য ২৭ লাখ টাকা

খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. কাজী আইনুল ইসলাম বলেছেন, 'স্বাস্থ্যমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী দ্রুত সংস্কারের উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। কিন্তু গণপূর্ত বিভাগের অ্যাসেসমেন্ট এখনও শেষ হয়নি। তাই কাজ শুরু করা যাচ্ছে না। প্রশাসনিক এবং কারিগরি জটিলতার কারণে প্রক্রিয়াটি বিলম্বিত হচ্ছে।'

অন্যদিকে, গণপূর্ত বিভাগের খুলনার নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল হালিম জানিয়েছেন, 'ক্ষতিগ্রস্ত সরঞ্জাম ও অবকাঠামো পুরোপুরি অপসারণ না হওয়ায় কাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি। তবে আমরা দ্রুত মেরামতের কাজ শেষ করার চেষ্টা করছি। আশা করছি, আগামী ২০ দিনের মধ্যে কাজ শেষ হবে।'

সব মিলিয়ে একটি ছোট অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় পুরো হাসপাতালের অস্ত্রোপচার ব্যবস্থা অচল হয়ে পড়েছে। ফলে প্রতিদিন রোগীর চাপ, চিকিৎসা অনিশ্চয়তা এবং মানবিক সংকট বাড়ছে। দ্রুত সমাধান না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আরও পড়ুন: ময়মনসিংহে সেলুনে ঢুকে নরসুন্দরকে ছুরিকাঘাতে হত্যা, স্ত্রী অভিযুক্ত

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিজিবি বিএসএফের ১০টি পুশইন অপচেষ্টা সফলভাবে রুখে দিল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ৪ই জুন, ২০২৬ ইং

১০:৪৮ এম


বিজিবি বিএসএফের ১০টি পুশইন অপচেষ্টা সফলভাবে রুখে দিল

দেশের সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সর্বোচ্চ সতর্কতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী -বিএসএফ এর অবৈধভাবে পুশইনের ১০টি পৃথক অপচেষ্টা সফলভাবে রুখে দিয়েছে বিজিবি। একইসঙ্গে, সম্ভাব্য পুশইন প্রতিরোধে সীমান্ত এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারি এবং টহল কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।

বিজিবি সদর দফতর সূত্রে জানা গেছে, ঝিনাইদহে বিজিবির মহেশপুর ব্যাটালিয়ন (৫৮ বিজিবি) এর দায়িত্বপূর্ণ যাদবপুর সীমান্ত এলাকায় ৪-৫ জন ব্যক্তি বাংলাদেশে অবৈধভাবে প্রবেশের চেষ্টা করলে, বিজিবির টহলদল তাৎক্ষণিকভাবে বাধা দেয়। বিজিবির দৃঢ় অবস্থানের মুখে তারা পুনরায় ভারতের অভ্যন্তরে ফিরে যায়। এদিকে, মহেশপুরের সামন্তা বিওপির দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় বিএসএফের একটি প্রিজন ভ্যানে করে প্রায় ৩০-৩৫ জন ব্যক্তিকে সীমান্ত গেট খুলে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করা হয়। বিজিবি টহলদল ও স্থানীয় জনসাধারণের তাৎক্ষণিক প্রতিরোধের মুখে, বিএসএফ উক্ত ব্যক্তিদের পুনরায় ভ্যানে তুলে অন্যত্র সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়।

বিজিবির খুলনা ব্যাটালিয়ন (২১ বিজিবি) এর দায়িত্বপূর্ণ যশোরের গোগা ও রুদ্রপুর সীমান্ত এলাকায়, কয়েকজন নারী-পুরুষকে পুশইনের উদ্দেশ্যে সীমান্তের কাছে অবস্থান করতে দেখা যায়। বিজিবির প্রতিরোধমূলক তৎপরতার ফলে বিএসএফ তাদেরকে সেখান থেকে সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়।

জয়পুরহাট ব্যাটালিয়ন (২০ বিজিবি) এর দায়িত্বপূর্ণ কয়া ও বাসুদেবপুর সীমান্তের বিপরীতে ভারতের অভ্যন্তরে প্রায় ১০ জন ব্যক্তিকে একত্রিত করে পুশইনের প্রস্তুতির তথ্য পাওয়া যায়। পুশইন প্রতিরোধে বিজিবির তাৎক্ষণিক সতর্কতামূলক প্রস্তুতি গ্রহণ এবং গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করার ফলে বিএসএফের পুশইন অপচেষ্টা ব্যর্থ হয়।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (৫৩ বিজিবি) এর দায়িত্বপূর্ণ সীমান্তের বিপরীতে ১৪৯ ও ৭১ ব্যাটালিয়ন বিএসএফ ক্যাম্পের নিকটবর্তী ৩টি হোল্ডিং সেন্টারে SIR তালিকা থেকে বাদ পড়া ৪ জন মুসলিম নাগরিককে বাংলাদেশে পুশইনের উদ্দেশ্যে রাখা হয়েছে বলে গোয়েন্দা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম সূত্রে জানা যায়। বিজিবি সেখানে কঠোর অবস্থান ও গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করেছে।

ঠাকুরগাঁও ব্যাটালিয়ন (৫০ বিজিবি) এর দায়িত্বপূর্ণ হরিপুর সীমান্তের বিপরীতে ৮৭ ব্যাটালিয়ন বিএসএফের কাকরমনি ক্যাম্পের টহলদল ২ জন বাংলাদেশি নাগরিককে আটক করে নিজেদের হেফাজতে রেখেছে বলে তথ্য পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে বিএসএফের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত বিজিবির সঙ্গে কোনো ধরনের আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ হয়নি।

পঞ্চগড়ের ব্যাটালিয়ন (১৮ বিজিবি) এর দায়িত্বপূর্ণ রওশনপুর সীমান্তে বিএসএফ কর্তৃক ১ জন ব্যক্তিকে পুশইন করা হলে, স্থানীয় জনগণ তাকে আটক করে বিজিবিকে অবহিত করে। পরবর্তীতে, বিজিবি ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে তাকে ভারতের অভ্যন্তরে ফেরত পাঠায়।

মহানন্দা ব্যাটালিয়ন (৫৯ বিজিবি) এর দায়িত্বপূর্ণ চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ সীমান্তের বিপরীতে ভারতের মালদা জেলার ইংলিশ বাজার থানাধীন চন্দনপার্ক নামক স্থানে ভারতীয় পুলিশ কর্তৃক স্থাপিত একটি হোল্ডিং সেন্টারে আটক ২২ জনকে পুশইনের লক্ষ্যে বিএসএফের কাছে হস্তান্তরের তথ্য পাওয়া যায়। বিজিবি সেখানে কড়া নজরদারি অব্যাহত রেখেছে।

সিলেট ব্যাটালিয়ন (৪৮ বিজিবি) এর দায়িত্বপূর্ণ উৎমাছড়া সীমান্ত এলাকায় সন্দেহভাজন দুই ব্যক্তিকে স্থানীয় জনগণ আটক করে বিজিবির কাছে হস্তান্তর করে। যাচাই-বাছাই শেষে, তাদের ভারতীয় নাগরিক হিসেবে শনাক্ত করার পর প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া অনুসরণ করে ভারতে পুশব্যাক করা হয়।

এছাড়া, নেত্রকোনা ব্যাটালিয়ন (৩১ বিজিবি) এর দায়িত্বপূর্ণ কচুগড়া সীমান্তের বিপরীতে ভারতের আসাম রাজ্যের মহাদেব থানাধীন বলিশী গীতারাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১৫-২০ জন ব্যক্তিকে বাংলাদেশে পুশইনের উদ্দেশ্যে একত্রিত করে রাখা হয়েছে বলে তথ্য পাওয়া গেছে। সীমান্তের একটি অংশে প্রাকৃতিক কারণে কাঁটাতারের বেড়া না থাকায়, ওই এলাকা দিয়ে পুশইনের সম্ভাবনা বিবেচনায় বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

বিজিবি দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানাচ্ছে যে, সীমান্ত দিয়ে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে দেয়া হবে না। আন্তর্জাতিক সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, বিদ্যমান আইন এবং দ্বিপাক্ষিক সমঝোতার পরিপন্থী যেকোনো পুশইন প্রচেষ্টা কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে। সীমান্তে বিজিবির গোয়েন্দা নজরদারি, টহল ও অপারেশনাল কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। দেশের সার্বভৌমত্ব ও সীমান্ত নিরাপত্তা রক্ষায় বিজিবি সর্বদা দৃঢ় প্রতিজ্ঞ এবং যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ব্যবসায়ীর হাত-পা বাঁধা মরদেহ ৩০ ঘণ্টা পর উদ্ধার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ৪ই জুন, ২০২৬ ইং

১০:৪৯ এম


ব্যবসায়ীর হাত-পা বাঁধা মরদেহ ৩০ ঘণ্টা পর উদ্ধার

গাজীপুরের শ্রীপুরে নিখোঁজের ৩০ ঘণ্টা পর কাঁচামাল ব্যবসায়ী নাঈমের (২৭) হাত-পা বাঁধা মরদেহ পুলিশ উদ্ধার করেছে।

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সকালে উপজেলার বরমী ইউনিয়নের বরকুল গ্রামের মহিলা মাদরাসার পেছন (শেখেরঘাট) থেকে নাঈমের মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহীনুর আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

নিহত নাঈম বরমী ইউনিয়নের বড়নল গ্রামের জামাল উদ্দিনের ছেলে ছিলেন। তিনি প্রতি বুধবার বরমী বাজারে কাঁচা মালের ব্যবসা করতেন এবং বাড়ির পাশের একটি পুকুর ভাড়া নিয়ে সেখানে মাছ চাষ করতেন।

নাঈমের বাবা জামাল উদ্দিন বলেন, মঙ্গলবার (২ জুন) রাত পৌনে ১২টার দিকে নাঈম টর্চলাইট নিয়ে মাছের প্রজেক্ট দেখার জন্য বাড়ি থেকে বের হয়ে যায়। পরে, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে না ফেরায় আমি তার মোবাইলে কল করি। কিন্তু সে ফোন কেটে দেয়। আবার ফোন দিলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

সকাল হয়ে গেলে বাড়িতে না আসায় সম্ভাব্য সব স্থানে আমরা খোঁজাখুজি করে তার সন্ধান পাইনি। নাঈমের পরনে ছিল একটি টি-শার্ট এবং শর্ট প্যান্ট। বৃহস্পতিবার সকালে বরকুল গ্রামের মহিলা মাদরাসার পেছন (শেখেরঘাট) স্থানীয়রা তার হাত-পা বাঁধা মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে। পরে পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে নাঈমের মরদেহ উদ্ধার করে।

শ্রীপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) হুমায়ুন কবির বলেন, স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হচ্ছে এবং সুরতহাল করা হচ্ছে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজ উদ্দিন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসাপাতালে পাঠানো হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বিদ্যুতের খুঁটিতে নসিমনের ধাক্কা, যুবক নিহত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ৪ই জুন, ২০২৬ ইং

১০:৫৫ এম


নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বিদ্যুতের খুঁটিতে নসিমনের ধাক্কা, যুবক নিহত

বাগেরহাটের শরণখোলায়, নসিমন উল্টে সুজন মোল্লা (৩৮) নামে একজন প্রবাসী যুবক নিহত হয়েছেন। এই ঘটনায় একজন আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৪ মে) সকালে, শরণখোলা উপজেলার ধানসাগর ইউনিয়নের ছুটোখার বাজারে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত যুবক সুজন মোল্লা শরণখোলা উপজেলার উত্তর রাজাপুর গ্রামের হানিফ মোল্লার ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সুজন মোল্লা কাঠভর্তি নসিমন নিয়ে উপজেলার দিকে যাচ্ছিলেন, তখন তিনি ছুটোখার বাজারের মোড় ঘুরতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারান এবং বিদ্যুতের খুঁটির সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে পড়েন। মাথায় আঘাত প্রাপ্ত হয়ে, তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান।

নিহত সুজনের বাবা হানিফ মোল্লা জানান, ‘সুজন মোল্লা তিন মাস আগে বিদেশ থেকে বাড়িতে ফিরে আসে। সে আর বিদেশে যাবেন না। এ কারণে একটি নসিমন ক্রয় করেন এবং কাঠের ব্যবসা শুরু করেন। সুজন নিজেই নসিমন চালিয়ে দুর্ঘটনায় পড়ে।’

এ বিষয়ে শরণখোলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সামিনুল হক বলেন, ‘দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে, এবং আইনি প্রক্রিয়া শেষে, মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর
সাক্ষাৎকার

এভরিথিং ইজ ভেরি গুড: সড়কমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ৪ই জুন, ২০২৬ ইং

১০:৫৫ এম


এভরিথিং ইজ ভেরি গুড: সড়কমন্ত্রী

শেখ রবিউল আলম বর্তমানে সড়ক, রেলপথ ও নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি দেশের যোগাযোগব্যবস্থার তিনটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব একা পালন করছেন। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তিনি তাঁর বক্তব্যদানে উল্লেখযোগ্যভাবে সামনে এসেছেন। পাশাপাশি, তিনটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন এবং অন্যান্য নানা কারণে আলোচনায় রয়েছেন। যদিও কিছু মানুষ তাঁর সমালোচনা করার চেষ্টা করেছেন, তিনি এসব কথায় কান না দিয়ে কাজ করতেই ব্যস্ত রয়েছেন।

সম্প্রতি ঈদযাত্রা সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার পেছনে তিনি বিভিন্ন সংস্থার সমন্বয় ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে নিরলস শ্রম দিয়েছেন। তারপরও তাঁর বিষয়ে আলোচনা চলছেই।

সরকারের ১৮০ দিনের কর্মসূচির সফল বাস্তবায়নে যে দায়িত্ব তাঁকে দেওয়া হয়েছে, সেটি পালন করা তাঁর লক্ষ্য। তিনি তাঁর মন্ত্রণালয়গুলোর কর্মসূচি ও প্রকল্পগুলোর বাস্তবতায় কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রকেট গতির সঙ্গে তাঁর কর্মক্ষমতা সমানতালে বৃদ্ধি পেয়েছে।

তিনি কাজ করার সময় বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ দেখছেন। কিন্তু তিনি এসব চ্যালেঞ্জকে 'ব্যবস্থাপনা' হিসেবে গ্রহণ করে চলছেন। ফলে, তিনি কোনো চ্যালেঞ্জকে বাস্তব চ্যালেঞ্জ হিসেবে মানতে নারাজ। তাঁর মতে—‘এভরিথিং ইজ ভেরি গুড’।

গতকাল বুধবার, তিনি সচিবালয়ে এক সাক্ষাৎকারে এভাবেই নিজের ভাবনা তুলে ধরেন।

বর্তমানে সরকারের ১৮০ দিনের কর্মসূচি চলছে এবং এর মধ্যে ইতোমধ্যে ১০০ দিন অতিবাহিত হয়েছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম জানান, ‘১৮০ দিনের কর্মসূচি নিয়ে আপাতত আমি কোনো মন্তব্য করছি না। সরকার এটি কেন্দ্রীয়ভাবে পরিচালনা করবে। আমাদের মন্ত্রণালয়ের কাজের অগ্রগতি আমরা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে জমা দিয়েছি। বিচ্ছিন্নভাবে আমি কিছু বলতে চাইছি না। আমাদের টার্গেটগুলো পূরণের চেষ্টা করেছি। প্রকৃতপক্ষে তিন মাস কোনো টার্গেট নয়। আমাদের কর্মসূচির সময়সীমা ১৮০ দিন। এর মাত্র অর্ধেক সময় পার হয়েছে, কাজ এখনও চলছে।’

অপর এক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যেখান থেকে যতটুকু বলা প্রয়োজন, সেটি প্রধানমন্ত্রী নিজস্ব মুখপাত্রের মাধ্যমে জানাবেন। তিনি যখন জানতে চাইলেন যে, কোন ধরনের প্রতিবন্ধকতা মোকাবেলা করতে হয়েছে এবং চ্যালেঞ্জগুলো কী ছিল, তখন তিনি বললেন, ‘কোনো চ্যালেঞ্জ নেই। এভরিথিং ইজ ভেরি গুড। যেকোনো কাজে চ্যালেঞ্জ থাকে। এবং চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করাটাই হচ্ছে ব্যবস্থাপনা।’

মন্ত্রিপরিষদে রদবদল অথবা কিছু মন্ত্রীকে সরিয়ে দেওয়ার ব্যাপারে আলোচনা রয়েছে, এ প্রসঙ্গে আলোচিত মন্ত্রী বলেন, ‘সাংবাদিকের কাজ ও সাধারণ মানুষের কাজ কি এক হয়? সাংবাদিকরা সঠিকটা জানবেন চোখ এবং কান দিয়ে। কিছুটা জানার পর ক্ল্যারিফিকেশন জরুরি। কিন্তু আমি একটি কথা বাজারে শুনেছি, পরে জানতে চাইলাম, তাহলে এর কী উত্তর দেব? এর উত্তর দেওয়ার রুচিও থাকবে না, এর ভিত্তি বা কারণ থাকতে হবে, তাই না?’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%