ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া যৌথ ইশতেহার ঘোষণা


বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া যৌথ ইশতেহার ঘোষণা

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর তার প্রথম বিদেশ সফরে তিনি মালয়েশিয়া গিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গত সোমবার (২২ জুন) মালয়েশিয়ার পুত্রজায়ায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে তার জন্য একটি আনুষ্ঠানিক উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়। পরবর্তীতে দুই দেশের শীর্ষ নেতা এক উচ্চপর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মিলিত হন। ১৯৭২ সালে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের পর থেকে দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, অভিন্ন মূল্যবোধ এবং আঞ্চলিক শান্তি-সমৃদ্ধির দীর্ঘদিনের অংশীদারিত্বের প্রেক্ষাপটে এই সফরটিকে একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। বৈঠকের শেষে, বাণিজ্য, শ্রমবাজার, প্রযুক্তি এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে একটি যৌথ ইশতেহার ঘোষণা করা হয়েছে। ২০২৭ সালের মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য এবং বিনিয়োগের পরিধি বাড়াতে দুই দেশের মধ্যে একটি ব্যাপক ও যুগোপযোগী মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) স্বাক্ষরের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। উভয় নেতা ২০২৭ সালের মধ্যে এই চুক্তি চূড়ান্ত করার বিষয়ে একমত পোষণ করেছেন। এছাড়া, দুই দেশের বেসরকারি খাতের মধ্যে সরাসরি সংযোগ বাড়াতে দ্রুত 'মালয়েশিয়া-বাংলাদেশ যৌথ বিজনেস কাউন্সিল' কার্যকর করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া টেলিযোগাযোগ, জ্বালানি, সেমিকন্ডাক্টর, স্মার্ট ম্যানুফ্যাকচারিং, বন্দর এবং ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর ব্যাপারে সম্মত হয়েছে। শ্রমবাজার ও অভিবাসন মালয়েশিয়ার অর্থনীতিতে বাংলাদেশি কর্মীদের অবদানের কথা দেশে কৃতজ্ঞতার সাথে স্বীকার করেছে। নতুন কর্মী নিয়োগের অনুমোদন এখন থেকে সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা এবং নিয়োগকর্তার চাহিদার ভিত্তিতে 'কেস-বাই-কেস' পদ্ধতিতে কঠোরভাবে মূল্যায়িত হবে। কর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়াকে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ, বৈষম্যহীন এবং প্রতিযোগিতামূলক করতেই দুই দেশ একত্রে প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে, যেখানে কেবল অনুমোদিত ও যোগ্য রিক্রুটিং এজেন্সি কাজ করতে পারবে। নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে দুই দেশের 'যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ' দ্রুত বৈঠকে বসবে এবং বিদ্যমান সমঝোতা স্মারকটি পর্যালোচনা করে একটি আধুনিক ও নতুন চুক্তি স্বাক্ষরের রূপরেখা তৈরি করবে। প্রযুক্তি, সেমিকন্ডাক্টর ও মেধা উন্নয়ন ডিজিটাল রূপান্তরকে প্রবৃদ্ধির মূল চালিকাশক্তি হিসেবে ধরে নিয়ে দুই দেশ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ফিনটেক, সাইবার নিরাপত্তা ও ডিজিটাল গভর্ন্যান্স খাতে যৌথভাবে কাজ করবে। সেমিকন্ডাক্টর প্যাকেজিং ও টেস্টিং খাতে মালয়েশিয়ার বৈশ্বিক দক্ষতাকে বাংলাদেশের আইটি ও ইঞ্জিনিয়ারিং খাতের সাথে যুক্ত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশের প্রকৌশল গ্র্যাজুয়েটদের উচ্চতর প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়নের জন্য একটি 'দ্বিপাক্ষিক প্রতিভা সহযোগিতা কাঠামো' প্রস্তাব করা হয়েছে। হালাল শিল্প, শিক্ষা ও জ্বালানি খাতে সহযোগিতা হালাল ইকোসিস্টেমের ক্ষেত্রে মালয়েশিয়ার ইসলামিক উন্নয়ন বিভাগ (জাকিম) বাংলাদেশের হালাল খাতের উন্নয়নে তাদের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি ও সহযোগিতা করবে। উচ্চশিক্ষায়, মালয়েশিয়ায় অধ্যয়নরত প্রায় ১১ হাজার বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর ইতিবাচক ভূমিকার প্রশংসা করে, দুই দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে যৌথ গবেষণা এবং কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা প্রসারে জোর দেওয়া হয়েছে। জ্বালানি ও প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে, পেট্রোনাস ও পেট্রোবাংলার মধ্যে এলএনজি সরবরাহ ও অবকাঠামো উন্নয়নের ম্যাটার নিয়ে আলোচনা ত্বরান্বিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এছাড়া, বঙ্গোপসাগরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধান ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি ক্ষেত্রে মালয়েশীয় কোম্পানিগুলোকে বিনিয়োগের আহ্বান জানানো হয়েছে। প্রতিরক্ষা সম্পর্ক জোরদারের জন্য, দুই দেশের সামরিক বাহিনীর মধ্যে যৌথ কৌশলগত মহড়া এবং জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে সহযোগিতা সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারক পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যকর করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। রোহিঙ্গা সংকট, আসিয়ান ও আন্তর্জাতিক রাজনীতি মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ায় বাংলাদেশের মানবিক প্রচেষ্টার ভূয়সী প্রশংসা করেছে মালয়েশিয়া। রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও টেকসই প্রত্যাবাসনে মালয়েশিয়া তার নীতিগত সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে। একই সাথে, আসিয়ানের 'সেক্টোরাল ডায়ালগ পার্টনার' হওয়া এবং আঞ্চলিক অর্থনৈতিক জোটে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে মালয়েশিয়া পূর্ণ সমর্থন প্রদান করেছে। আন্তর্জাতিক ইস্যুতে, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতিতে ফিলিস্তিনি জনগণের ন্যায়সংগত অধিকার ও দীর্ঘস্থায়ী শান্তির জন্য দুই দেশ দৃঢ় অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে। সফর শেষে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম এবং দেশটির সরকারের উষ্ণ আতিথেয়তার জন্য গভীর আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সাংবাদিকদের ওপর হামলায় জামায়াতের দুঃখ প্রকাশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২৩শে জুন, ২০২৬ ইং

০৪:২৬ পি.এম


সাংবাদিকদের ওপর হামলায় জামায়াতের দুঃখ প্রকাশ

‘আওয়ামী দোসর’ আখ্যা দিয়ে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে হামলার ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছে জামায়াত ইসলামী। এ ঘটনায় তদন্তের জন্য তিন সদস্যের কমিটি গঠন করেছে মহানগরী দক্ষিণ জামায়াত।

মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে দুঃখ প্রকাশ করেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের।

তিনি বলেন, মঙ্গলবার রাজধানীর ধানমন্ডি ৩২ নম্বর এলাকায় একটি শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মসূচি চলাকালে গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর হামলার যে অনাকাক্ষিত, অনভিপ্রেত ও দুঃখজনক ঘটনা ঘটেছে, তার জন্য আমরা আন্তরিকভাবে গভীর দুঃখ প্রকাশ করছি।

বহিরাগতদের উস্কানিতে উন্মুক্ত ঘটনা ঘটেছে উল্লেখ করে বিবৃতিটি বলেন, ধানমন্ডি জোনের বিক্ষোভ শেষ হওয়ার পরে সেখানে উপস্থিত কিছু অতি-উৎসাহী ব্যক্তি ও বহিরাগতদের উস্কানিতে এই অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে আমরা প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি। জামায়াতে ইসলামী দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গকারী বা কোনো উগ্র আচরণকে কখনোই প্রশ্রয় দেয় না।

সাংবাদিকদের ওপর চড়াও হওয়া সমর্থনযোগ্য নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সর্বদা গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের পেশাগত অধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের ওপর যেকোনো ধরনের চড়াও হওয়া বা সহিংসতা সৃষ্টি করা কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়।

সংগঠনের কেউ যদি জড়িত হয় তবে ব্যবস্থাগ্রহণ করা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, এই ঘটনার পেছনে প্রকৃতপক্ষে কারা জড়িত তা খতিয়ে দেখতে দলের পক্ষ থেকে একটি অভ্যন্তরীণ পর্যালোচনা করা হবে। যদি আমাদের কোনো স্তরের কর্মীর সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত হয়, তবে তার বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এ ছাড়া অনাকাক্ষিত ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে জামায়াত সচেতন থাকবে এবং এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে যাতে ফাটল সৃষ্টি করতে না পারে এজন্য সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।

এই সাংবাদিক হামলার ঘটনায় মহানগরী দক্ষিণ জামায়াতের ধানমন্ডি জোন পরিচালক ও মহানগরী কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যাপক নুরুন্নবি মানিককে আহ্বায়ক করে তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামীকালকের মধ্যে গঠিত কমিটিকে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মধুপুরে জমি নিয়ে বিরোধ আতঙ্কে দিন কাটচ্ছে মালেকের পরিবার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মধুপুর টাঙ্গাইল প্রতিনিধি

মঙ্গলবার, ২৩শে জুন, ২০২৬ ইং

০৪:২৭ পি.এম


মধুপুরে জমি নিয়ে বিরোধ আতঙ্কে দিন কাটচ্ছে মালেকের পরিবার

টাঙ্গাইল মধুপুরে জমি সংক্রান্ত বিরোধে দীর্ঘদিন যাবত আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে উত্তর মাস্টার পাড়া এলাকার আব্দুল মালেকের পরিবার।
জানা যায়, মধুপুর উত্তর মাস্টার পাড়া এলাকার আঃ মালেক তার পৈত্রিক জমিতে ঘর করে প্রায় ৫০/৬০ বছর ধরে বসবাস করে আসছে। ভুক্ত ভোগী আব্দুল মালেক জানায়, তার মা শরভানুর নামে থাকা মধুপুর মৌজার ১৮৬৭ খতিয়ানে ১০. ৩৭ শতাংশ জমি রয়েছে। সে জমিতেই তার বাবা, মা থাকাকালীন সময় হতেই উক্ত জমিতে বাড়ী ঘর করে বসবাস করে আসছে। তার মা তার উক্ত জমি হতে ৪ শতাংশ জমি অন্যের নিকট বিক্রি করে। পরে বাকী জমি হতে আমার ছেলে আব্দুল্লাহ আল অপুর নামে ৪ শতাংশ জমি ২০১১ সালে লিখে দেয়। পরবর্তীতে আমার ছেলে মধুপুর কলেজপাড়া এলাকার তোতা মিয়ার ছেলে হারুন অর রশিদ এবং তার স্ত্রীর নিকট ৪ শতাংশ জমি বিক্রি করে দেয়। বাকী ২.৩৭ শতাংশ জমিতে আমার ঘর রয়েছে। হারুন অর রশিদ এর নিকট আমার ছেলে যে অংশে জমি বিক্রি করেছে হারুন অর রশিদ সে অংশে না গিয়ে জোর করে আমার বসত ঘরের অংশ হতে নেয়ার চেষ্টা করছে বলে জানান ভুক্তভোগী আঃ মালেক। প্রায় সময়ই হারুন অর রশিদ এর লোকজন গিয়ে তার ঘর সরিয়ে নিতে বলছে। ঘর সরিয়ে না নেওয়ায় বিভিন্ন ধরনের হুমকি দিচ্ছে বলে জানান ভুক্তভোগী পরিবার। এমতাবস্থায় আমার পরিবার নিয়ে আমি আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছি। আমি অতি দরিদ্র মানুষ আমি অটো সিএনজি চালিয়ে এবং আমার স্ত্রী অন্যের বাড়ীতে কাজ করে আমাদের সংসার চলে। বর্তমানে আমি অটোরিকশাও চালাতে পরছি না। তারা বর্তমানে মানবেতর জীবনযাপন করছে বলে জানান ভুক্তভোগী আঃ মালেক ও তার স্ত্রী। তারা আরও জানান তাদের একটি ছেলে মাদরাসাতে পড়ে কয়েক মাসের মধ্যেই সে পুর্নাঙ্গ হাফেজ হবে। মালেক বলে আমরা তার লেখা পড়ার খরচ পর্যন্ত দিতে পারছি না। সে আরও বলেন আমি দরিদ্র মানুষ তাদের বিরুদ্ধে আমরা মামলা করব কেমনে। আমাদের সংসার চলে না, মামলা করতে খরচ পাতি হবে সে টাকাও আমাদের কাছে নাই।
এ ব্যাপারে তারা প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দুর্নীতির মামলায় সাবেক আইজিপি বেনজীরের বিরুদ্ধে আরও চারজনের সাক্ষ্যগ্রহণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২৩শে জুন, ২০২৬ ইং

০৪:২৯ পি.এম


দুর্নীতির মামলায় সাবেক আইজিপি বেনজীরের বিরুদ্ধে আরও চারজনের সাক্ষ্যগ্রহণ

জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন, সম্পদের তথ্য গোপন এবং মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলায় সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে আরও চারজন সাক্ষ্য দিয়েছেন।

সাক্ষীরা হলেন- নরসিংদীর কর কমিশনার কার্যালয়ের প্রধান সহকারী মো. সোহেল মিয়া, সোনারগাঁওয়ের সাব-রেজিস্ট্রার মো. রিয়াজুল ইসলাম, গণপূর্ত বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী আসেফ আয়নান বখস এবং দুদকের উপ-পরিচালক সিরাজুল হক।

মঙ্গলবার ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫-এর বিচারক আব্দুল্লাহ আল মামুনের আদালতে তারা সাক্ষ্য প্রদান করেন। সাক্ষ্য প্রদানের পরে আদালত মামলার পরবর্তী সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য আগামী ১ জুলাই দিন ধার্য করেন। এই মামলায় সাক্ষীদের সংখ্য totals ২৮, যার মধ্যে ৮ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে।

দুর্নীতি দমন কমিশন সম্পদ বিবরণী দাখিলের জন্য নির্দেশ দিলে বেনজীর আহমেদ ২০২৪ সালের ২৭ আগস্ট আইনজীবীর মাধ্যমে সম্পদের হিসাব দাখিল করেন, যেখানে তিনি ৬ কোটি ৪৫ লাখ ৩৭ হাজার ৩৬৫ টাকার স্থাবর সম্পদ এবং ৫ কোটি ৭৪ লাখ ৮৯ হাজার ৯৬৬ টাকার অস্থাবর সম্পদের তথ্য জানান।

তবে দুদকের তদন্তে বেনজীরের নামে ৭ কোটি ৫২ লাখ ৬৮ হাজার ৯৮৭ টাকার স্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়া যায়। অর্থাৎ তিনি ১ কোটি ৮৫ লাখ ৩১ হাজার ৬২২ টাকার স্থাবর সম্পদের তথ্য গোপন করেছেন। এর পাশাপাশি দুদক তার নামে ৮ কোটি ১৫ লাখ ৩১ হাজার ২৬৪ টাকার অস্থাবর সম্পদের প্রমাণ পেয়েছে, যা তার ঘোষণার তুলনায় ২ কোটি ৪০ লাখ ৪১ হাজার ২৯৮ টাকা বেশি।

দুদকের হিসাব অনুযায়ী, বেনজীর আহমেদ ১১ কোটি ৪ লাখ ৪৩ হাজার ৫৭৬ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করেছেন।

সম্পদ বিবরণীতে তথ্য গোপন, জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগ পাওয়ায় ২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয়, ঢাকা-১-এ বেনজীরের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন দুদকের উপ-পরিচালক হাফিজুল ইসলাম।

মামলাটি তদন্ত শেষে ২০২৫ সালের ৩০ নভেম্বর বেনজীরের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন দুদকের উপ-পরিচালক হাফিজুল ইসলাম। চার্জশিটে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৬(২) ও ২৭(১) ধারা, মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারা অনুযায়ী অভিযোগ আনা হয়েছে।

গত ৩ মে বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের জন্য ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫-এর বিচারক আব্দুল্লাহ আল মামুনের আদালত কার্যক্রম শুরু করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সামরিক শক্তি আরও দ্রুত বাড়ানোর অঙ্গীকার কিমের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২৩শে জুন, ২০২৬ ইং

০৪:৩১ পি.এম


সামরিক শক্তি আরও দ্রুত বাড়ানোর অঙ্গীকার কিমের

উত্তর কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট কিম জং উন দেশটির প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আরও দ্রুত জোরদার করার অঙ্গীকার করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক আধুনিকায়ন প্রচেষ্টা কোরীয় উপদ্বীপকে ‘পারমাণবিক যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে’ ঠেলে দিচ্ছে। মঙ্গলবার দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম কোরিয়ান সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সি (কেসিএনএ) এ তথ্য জানায়।

উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক কর্মসূচির কারণে দেশটির ওপর একাধিক আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এছাড়া ১৯৫০-৫৩ সালের কোরিয়া যুদ্ধ শান্তিচুক্তির বদলে অস্ত্রবিরতি চুক্তির মাধ্যমে শেষ হওয়ায় দুই কোরিয়া এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধাবস্থায় রয়েছে।

খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

কেসিএনএর প্রতিবেদনে বলা হয়, ক্ষমতাসীন ওয়ার্কার্স পার্টির তিন দিনব্যাপী বৈঠকের সমাপনী বক্তব্যে কিম বলেন, ‘দল ও রাষ্ট্রের দৃঢ় নীতি হলো জাতীয় প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আরও দ্রুত শক্তিশালী করা।’

সোমবার শেষ হওয়া ওই বৈঠকে জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা বিভিন্ন নীতিগত কর্মসূচি পর্যালোচনা করেন।

কিম অভিযোগ করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়া এই অঞ্চলে সামরিক শক্তি বৃদ্ধি ও আধুনিকায়নের পদক্ষেপ আরও জোরদার করছে এবং দক্ষিণ কোরিয়ার পারমাণবিক সাবমেরিন অর্জনের প্রচেষ্টাও এগিয়ে নিচ্ছে।

তিনি বলেন, এসব পদক্ষেপ কোরীয় উপদ্বীপের পরিস্থিতিকে পারমাণবিক যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যাচ্ছে।

এ পরিস্থিতিতে আত্মরক্ষার জন্য ‘শক্তিশালী ও সম্পূর্ণ নির্ভরযোগ্য প্রতিরোধক্ষমতা’ আরও সম্প্রসারণ ও শক্তিশালী করা উত্তর কোরিয়ার অটল অবস্থান বলে তিনি উল্লেখ করেন।

কেসিএনএ জানায়, বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত হয়েছে যে পারমাণবিক শক্তি ধারাবাহিকভাবে সম্প্রসারণ ও শক্তিশালী করাই বর্তমান আন্তর্জাতিক সামরিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি মোকাবিলার সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

সংবাদমাধ্যমটি আরও জানায়, পারমাণবিক প্রযুক্তিভিত্তিক যুদ্ধ প্রতিরোধক্ষমতা গড়ে তোলার কার্যক্রম আরও দ্রুতগতিতে এগিয়ে নেওয়া হবে।

এ মাসের শুরুতে কিমের প্রভাবশালী বোন কিম ইয়ো জংও বলেছেন, উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক নীতি হলো পিছু হটার কোনো সুযোগ বা পথ নেই এবং দেশটির পারমাণবিক অস্ত্র ত্যাগ করার কোনো ইচ্ছা নেই।

গত সপ্তাহে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাকে বলেছেন যে ‘উত্তর কোরিয়ার বিষয়ে এখন নতুন করে মনোযোগ দেওয়ার সময় এসেছে।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%