ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ইউক্রেনে নতুন বিমান হামলা, বহু হতাহতের আশঙ্কা


ইউক্রেনে নতুন বিমান হামলা, বহু হতাহতের আশঙ্কা

রাশিয়া নতুনভাবে ইউক্রেনের বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়েছে। এই হামলার জন্য ড্রোন ব্যবহার করা হচ্ছে। কিয়েভের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, হামলায় শিশুসহ অন্তত কয়েকজন বেসামরিক নাগরিক নিহত ও বহু ইউক্রেনীয় আহত হয়েছেন।

শনিবার (২০ জুন) টিআরটি ওয়ার্ল্ডের প্রতিবেদন থেকে পাওয়া তথ্যগুলো জানাচ্ছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউক্রেনের পূর্ব ও দক্ষিণাঞ্চলীয় একাধিক অঞ্চলে একসঙ্গে এসব হামলা চালানো হয়েছে। দনিপ্রোপেত্রোভস্ক অঞ্চলে হামলায় আবাসিক বাড়িঘর, একটি পোস্ট অফিস এবং একাধিক যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাভলোহরাদ শহরে ৮ বছর বয়সী এক শিশু নিহত হয়েছে এবং আরও একজন আহত হয়েছে।

আরও পড়ুন: যাত্রাবাড়ীতে ছিনতাই সন্দেহে গণপিটুনিতে আহত যুবক নিশাত মিয়ার মৃত্যু

দক্ষিণাঞ্চলীয় ওডেসা অঞ্চলে রশিয়ান হামলায় জ্বালানি ট্যাংকার ও একটি গ্যাস ট্যাংকারে আগুন ধরে যায়। এই ঘটনায় একজন নিহত এবং চারজন আহত হয়েছেন। টানা বিমান হামলার কারণে উদ্ধার অভিযান ব্যাহত হচ্ছে। এদিকে, পূর্বাঞ্চলীয় দোনেৎস্ক শহরে পৃথক হামলায় তিনজন নিহত হয়েছে এবং অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে।

দেশের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ইউক্রেনের পক্ষ থেকে রাশিয়ার হামলাকে ‘বিমান সন্ত্রাস’ হিসেবে উল্লেখ করেছে এবং মস্কো হামলা বন্ধ করার ইচ্ছা নেই বলে দাবি করেছে। সেইসঙ্গে ইউক্রেনের পশ্চিমা অংশীদারদের কাছে আরও কঠোর নিষেধাজ্ঞা এবং আকাশ প্রতিরক্ষা শক্তি বাড়ানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।

অন্য দিকে, রাশিয়ায় দাবি করেছে, তারা রাতভর ড্রোন হামলার ফলে ইউক্রেনের ১৩৩টি ড্রোন ভূপাতিত করতে সক্ষম হয়েছে। অন্যদিকে, ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনীর দাবি, তারা ৭৯টি রুশ ড্রোন ধ্বংস করতে সফল হয়েছে। তবে উভয় পক্ষের এই পাল্টাপাল্টি দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করার সুযোগ নেই সংবাদমাধ্যমটির।

আরও পড়ুন: কাতারের শান্তি প্রস্তাব নাকচ, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন হামলার শঙ্কা

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ছাগল উদ্ধার করতে গিয়ে একই পরিবারের ৪ জনের মৃত্যু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ২০ই জুন, ২০২৬ ইং

১১:৫২ এম


ছাগল উদ্ধার করতে গিয়ে একই পরিবারের ৪ জনের মৃত্যু

টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার টেলকি এলাকায় একটি ছাগল পরিত্যক্ত টয়লেটের গর্তে পড়ে যাওয়ার কারণে ছাগলটি উদ্ধার করতে গিয়ে চারজনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।

এটি ঘটে শনিবার (২০ জুন) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার টেলকি এলাকায়। মধুপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ.কে এম ফজলুর হক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানিয়েছেন যে, একটি ছাগল গর্তে পড়ে গেলে সেটিকে উদ্ধার করতে প্রথমে একজন গর্তে নামেন। তবে, পরে তাকে উদ্ধার করতে গিয়ে পর্যায়ক্রমে অন্যান্য কয়েকজনও গর্তে প্রবেশ করেন। তখন বিষাক্ত গ্যাসের কারণে তারা গর্তের ভেতরেই আক্রান্ত হয়ে চারজনের মৃত্যু ঘটে।

মৃতরা সবাই গারো সম্প্রদায়ের সদস্য এবং একই পরিবারের সদস্য হিসেবে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।

খবর পেয়ে পুলিশ ও স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করে। মৃতদেহগুলো উদ্ধার করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

এ ঘটনায় এলাকার মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহতদের পরিচয় এবং ঘটনার বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের কাজে পুলিশ নিয়োজিত।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ট্রাম্প উন্মোচন করলেন কাতার থেকে পাওয়া বিলাসবহুল বিমান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ২০ই জুন, ২০২৬ ইং

১১:৫৩ এম


ট্রাম্প উন্মোচন করলেন কাতার থেকে পাওয়া বিলাসবহুল বিমান

কাতার কর্তৃক উপহার দেওয়া একটি উড়োজাহাজ এয়ার ফোর্স ওয়ানের নতুন সংস্করণ উন্মোচন করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প।

স্থানীয় সময় শুক্রবার (১৯ জুন) মার্কিন বিমানবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিশেষ ক্ষমতা ও সুরক্ষাযুক্ত নতুন ‘ভিসি-২৫বি ব্রিজ’ উড়োজাহাজটি প্রেসিডেন্সিয়াল এয়ারলিফট গ্রুপের কাছে সফলভাবে হস্তান্তর করা হয়েছে। উড়োজাহাজটি এখন প্রাথমিক পরীক্ষামূলক উড্ডয়ন শুরু করবে।

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, প্রায় ৪০ কোটি ডলার মূল্যের এই বিলাসবহুল জেটটির প্রয়োজনীয় পরিবর্তন এবং আধুনিকায়নের কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

শুক্রবার জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজে দেওয়া এক বক্তব্যে ট্রাম্প উল্লেখ করেন, ‘এই বিমানটিকে এমন এক উড়ন্ত হোয়াইট হাউসে রূপান্তর করা হয়েছে, যার বিলাসিতা আগে কেউ দেখেনি।’

কাতারকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘এটি সত্যিই একটি সম্মানের বিষয়। এ জন্য আমি কাতারের আমিরকে ধন্যবাদ জানাই।’

মার্কিন বিমানবাহিনী জানায়, বিমানটি প্রেসিডেন্টের যাতায়াতে ব্যবহারের আগে পরীক্ষামূলক উড্ডয়ন অথবা কমিশনিং ফ্লাইট সম্পন্ন করবে। এসব পরীক্ষার মাধ্যমে বিমানটির নতুন সংযোজন এবং পরিবর্তনগুলো যাচাই করা হবে।

বিমানটিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা, বিশেষ যোগাযোগ প্রযুক্তি, লজিস্টিক সহায়তা এবং আধুনিক প্রযুক্তিগত সক্ষমতায় বড় ধরনের উন্নয়ন আনা হয়েছে। বিমানবাহিনীর দাবি, পূর্বে ব্যবহৃত এই বিমানে সম্ভাব্য সব ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি দূর করা হয়েছে।

বিমানের অভ্যন্তরীণ নকশায় খুব বেশি পরিবর্তন আনা হয়নি। তবে এর বাইরের অংশে নতুনভাবে লাল, সাদা, নীল এবং সোনালি রঙের আকর্ষণীয় নকশা করা হয়েছে।

২০২৫ সালের মে মাসে কাতারের রাজপরিবার এই বিলাসবহুল বোয়িং ৭৪৭-৮ বিমানটি মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতরকে উপহার দেয়, যাতে এটি প্রেসিডেন্টের সরকারি বিমান বহরে ব্যবহার করা যায়।

তবে বিমানটি উপহার হিসেবে গ্রহণের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। ট্রাম্পের কিছু সমর্থকসহ বিভিন্ন মহল থেকে অভিযোগ ওঠে যে, এত মূল্যবান উপহার গ্রহণ স্বার্থের সংঘাত তৈরি করতে পারে এবং এটি সাংবিধানিক প্রশ্নও উত্থাপন করতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল আইন অনুযায়ী, সরকারি কর্মকর্তারা ৪৮০ ডলারের বেশি মূল্যের উপহার গ্রহণ করতে পারেন না, তবে হোয়াইট হাউস দাবি করেছে, বিমানটি গ্রহণ সম্পূর্ণ বৈধ। পাশাপাশি ট্রাম্পের মেয়াদ শেষে এটি তার প্রেসিডেন্সিয়াল লাইব্রেরিতে হস্তান্তর করা হবে বলেও জানানো হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

এনসিপিতে প্রতিষ্ঠিত জুলাই যোদ্ধার সংখ্যা কম হয়েছে: রাশেদ খান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ২০ই জুন, ২০২৬ ইং

১১:৫৬ এম


এনসিপিতে প্রতিষ্ঠিত জুলাই যোদ্ধার সংখ্যা কম হয়েছে: রাশেদ খান

বিএনপি নেতা রাশেদ খান মন্তব্য করেছেন যে এনসিপিতে প্রতিষ্ঠিত জুলাই যোদ্ধার সংখ্যা কম। তিনি এ বিষয়ে বলেছেন, "কোনোদিন রাজপথে না থাকা সুজাউদ্দিনদের মত ব্যক্তিদের ফেক বিপ্লবী বানিয়েছে নাহিদ ইসলামরা।" রাশেদ খান বলেন, "এনসিপিতে যুক্ত হলেই আপনি বিশাল বিপ্লবী। আসলে এনসিপিতে প্রকৃত বিপ্লবী বা জুলাই যোদ্ধার সংখ্যা কম।"

তিনি শনিবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এক পোস্টে এসব কথা বলেছেন। এনসিপি সুবিধাবাদী লোক দিয়ে গঠিত হয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি। রাশেদ খান তার বক্তব্যে বলেন, "এনসিপি যদি সুবিধাবাদীদের দ্বারা গঠিত না হত তাহলে জামায়াতসহ অন্যান্য দল বা ব্যক্তি তাদের সঙ্গে যুক্ত হত।" তিনি প্রশ্ন তোলেন, "কেন বিপ্লবীরা এনসিপি করে না, এই প্রশ্নের উত্তর দলটির নেতাদের খোঁজা উচিত।" তথায় তিনি উল্লেখ করেন যে, "তাহলে আবারও জুলাই যোদ্ধারা দলটিতে যুক্ত হয়ে রাজনৈতিক শূন্যতা পূরণে ভূমিকা রাখতে পারে।"

রাশেদ খান আরও বলেন, "আমাদের তরুণ বন্ধুদের দ্বারা গঠিত এনসিপির কিছু সাংগঠনিক কার্যক্রম 'মদের বারে' হচ্ছে শুনে ভাল লাগলো।" তিনি বলেন, "সংগ organization's আন্তর্জাতিক মান রক্ষায় এছাড়া উপায় আছে? এনসিপিতে বিদেশ থেকে পড়াশোনা করে আসা বা আন্তর্জাতিক এনজিও কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত বেশকিছু নেতা আছে।" তিনি সেখানে উল্লেখ করেছেন যে, "ওইসব দেশে 'মদের বারে' আড্ডার ছলে কাজ করা খুব স্বাভাবিক ব্যাপার।"

তিনি আরও মন্তব্য করেন যে, "এনসিপির ধর্মভীরু, হিজাবি নারীর পক্ষে মদের বারে সাংগঠনিক কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়া হয়ত কঠিন। আন্তর্জাতিক এনজিও কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত সুজাউদ্দিনের বিপক্ষে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়ত আরো কঠিন।" এ কারণে তিনি বলেন, "নিজ সংগঠনের নারীনেত্রী হওয়া পরেও এখনো কোনো প্রতিকার পাননি ভুক্তভোগী নারী। উল্টো বলা হচ্ছে, সুজাউদ্দিনের রাজনৈতিক অবস্থান নষ্ট করার জন্য ওই নারী ষড়যন্ত্র করেছে।"

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প: কৃষি ও কর্মসংস্থানের নতুন সম্ভাবনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ২০ই জুন, ২০২৬ ইং

১১:৫৮ এম


পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প: কৃষি ও কর্মসংস্থানের নতুন সম্ভাবনা

দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের দীর্ঘদিনের উন্নয়নের স্বপ্নযাত্রায় এবার যোগ হয়েছে পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প।

এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে কৃষি উৎপাদন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং আঞ্চলিক অর্থনীতিতে দৃশ্যপট ২৪টি জেলার বদলে যাবে। নদী ব্যবস্থাপনা, পরিবেশ এবং মানুষের জীবনযাত্রায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ বিষয়ে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, পদ্মা ব্যারাজ শুধুমাত্র একটি নদীকেন্দ্রিক প্রকল্প নয়, এটি দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কোটি মানুষের জীবন-জীবিকার সঙ্গে জড়িত। দীর্ঘদিনের নাব্য সংকট এবং সীমিত ব্যবস্থাপনার কারণে এর পূর্ণ সম্ভাবনা কাজে লাগানো যায়নি।

তিনি বলেন, এই প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে নদী ব্যবস্থাপনা, পানি সংরক্ষণ, সেচ সুবিধা সম্প্রসারণ, নদীভাঙন রোধ এবং বন্যা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পরিবর্তন আসবে।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ২৪টি জেলার ১৬১টি উপজেলার পাঁচ কোটি মানুষের কৃষি উৎপাদন বাড়বে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং আঞ্চলিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। এর সুফল সরাসরি এবং পরোক্ষভাবে সারাদেশের মানুষের কাছে পৌঁছাবে। পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প নদীভাঙন, শুষ্ক মৌসুমে সেচ সংকট এবং আঞ্চলিক বৈষম্যের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় নতুন আশার নাম হয়ে উঠছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রকল্পটির পূর্ণাঙ্গ উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ বাস্তবায়িত হলে সরাসরি এবং পরোক্ষভাবে দেশের অর্থনীতি, কৃষি উৎপাদন, কর্মসংস্থান, পরিবেশ ও মানুষের জীবনযাত্রায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে।

কৃষিবিদদের হিসাব অনুযায়ী, প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলে প্রায় ২ লাখ হেক্টরের বেশি এক ফসলি জমি দুই ফসলি জমিতে এবং ১ লাখ হেক্টরের বেশি জমি তিন ফসলি জমিতে রূপান্তরিত হতে পারে। সাগরের লবণাক্ত পানি বদলে কৃষকের কাছে পৌঁছাবে মিঠা পানি, যা কৃষি জমির উর্বরতা বৃদ্ধির পাশাপাশি খাদ্য উৎপাদনে বিরাট বিপ্লব এনে দেবে। এতে বছরে অতিরিক্ত কয়েক মিলিয়ন টন খাদ্যশস্য উৎপাদনের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

বর্তমানে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে বোরো ধানের গড় উৎপাদন প্রতি হেক্টরে ৪.৫ থেকে ৫ টন। নিরবচ্ছিন্ন সেচ এবং আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে এটি ৬ থেকে ৭ টন পর্যন্ত উন্নীত করা সম্ভব বলে মনে করছেন কৃষি গবেষকরা।

একইভাবে গমের উৎপাদন প্রতি হেক্টরে ৩.৫ টন থেকে ৪.৫ টন, ভুট্টার উৎপাদন ৮ টন থেকে ১০-১২ টন এবং আলুর উৎপাদন ২৫ টন থেকে ৩০-৩৫ টন পর্যন্ত বাড়তে পারে।

পদ্মা পাড়ের জেলা রাজবাড়ীর গোয়ালন্দের সংসদ সদস্য ও সরকারের সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম বলেন, পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প বাস্তবায়নে বুক বেঁধে আছে পদ্মা পাড়ের জনগণ। তারা এই প্রকল্পের সুফল পেতে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছে রাজবাড়ীসহ দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২৪ জেলার জনগণ বিশেষভাবে কৃতজ্ঞ। কারণ প্রধানমন্ত্রীর আন্তরিকতা ছাড়া এ প্রকল্প কখনোই হয়তো পাস হত না। এরই মধ্যে এ প্রকল্প একনেকে পাস হয়েছে। এজন্য তিনিও প্রধানমন্ত্রীর কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের নদী ব্যবস্থাপনা ও কৃষি উৎপাদনে পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প এখন আর কোনো স্বপ্ন নয়, এটি একটি দৃশ্যমান বাস্তবতা।

পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নদীভাঙন এবং বন্যা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি হতে পারে বলে মনে করছেন পানিসম্পদ বিশেষজ্ঞরা।

দীর্ঘদিন ধরে পদ্মা পাড়ের জেলাগুলোতে নদীভাঙন, আকস্মিক বন্যা এবং নদীর গতিপথ পরিবর্তনের কারণে হাজার হাজার পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। প্রকল্পটির আওতায় নদী ব্যবস্থাপনার আধুনিক পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে এ ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।

বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের পানিসংকট দূর করতে এবং মৃতপ্রায় নদীগুলোকে পুনরুজ্জীবিত করতে সরকার প্রায় ৩৪ হাজার ৪৯৭ কোটি টাকা ব্যয়ে পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছে। সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন এই মেগা প্রকল্পের কাজ ২০৩৩ সালের জুনের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে প্রকল্প এলাকার প্রায় ৩০ থেকে ৪০ লাখ মানুষের জীবিকা প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে উপকৃত হবে। কৃষকের আয় গড়ে ২৫% থেকে ৪০% পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে। পাশাপাশি কৃষিপণ্য পরিবহন, সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং বিপণন খাতে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, পদ্মা নদীর বাংলাদেশ অংশের দৈর্ঘ্য প্রায় ৩৪১ কিলোমিটার। এর মধ্যে প্রতিবছর বিভিন্ন স্থানে নদীভাঙনের কারণে কয়েকশ’ হেক্টর কৃষিজমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। গত দুই দশকে পদ্মা নদী বিধৌত বিভিন্ন এলাকায় আনুমানিক ৮ থেকে ১০ হাজার হেক্টরের বেশি কৃষিজমি নদীভাঙনের কবলে পড়েছে।

পদ্মা নদীর তীরবর্তী জেলাগুলোতে প্রতিবছর গড়ে ১০ থেকে ১৫ হাজার পরিবার প্রত্যক্ষভাবে নদীভাঙনের ঝুঁকির মুখে পড়ে। অনেক ক্ষেত্রে বসতভিটা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, গ্রামীণ সড়ক এবং ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। এতে স্থানীয় অর্থনীতিতে ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রকল্পের আওতায় নদীর নাব্যতা রক্ষায় নিয়মিত ড্রেজিং কার্যক্রম, তীর সংরক্ষণ বাঁধ নির্মাণ এবং নদীর প্রবাহ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গেলে নদীভাঙনের হার ৩০% থেকে ৫০% পর্যন্ত কমিয়ে আনা সম্ভব হতে পারে। বিশেষ করে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে জিওব্যাগ, কংক্রিট ব্লক এবং স্থায়ী প্রতিরক্ষা অবকাঠামো নির্মাণের মাধ্যমে হাজার হাজার হেক্টর কৃষিজমি সুরক্ষার সুযোগ সৃষ্টি হবে।

পানিসম্পদ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নতুন পরিকল্পনায় অতিরিক্ত পানি সংরক্ষণ, নিয়ন্ত্রিত পানি প্রবাহ এবং দ্রুত নিষ্কাশনের ব্যবস্থা রাখা হলে বন্যার তীব্রতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব হবে। বিশেষ করে নদীর পানিধারণ ক্ষমতা বৃদ্ধি পেলে আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি ২০% থেকে ৩০% পর্যন্ত হ্রাস পেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এছাড়া নদী ব্যবস্থাপনার উন্নয়নের মাধ্যমে প্রায় ২০% থেকে ২৫% লাখ মানুষকে বন্যা এবং নদীভাঙনের ঝুঁকি থেকে সুরক্ষা দেওয়া সম্ভব হতে পারে। একই সঙ্গে হাজার হাজার কোটি টাকার কৃষি উৎপাদন, সড়ক, সেতু, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং বসতভিটা রক্ষা পাওয়া যাবে।

পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি কর্মসংস্থান এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতেও ব্যাপক ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদ ও উন্নয়ন বিশ্লেষকরা।

তাদের মতে, এ মেগা প্রকল্পের মাধ্যমে কৃষি, শিল্প, পরিবহন, বিপণন এবং সেবা খাত মিলিয়ে লাখ লাখ নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সেচব্যবস্থা সম্প্রসারণের ফলে কৃষিযন্ত্র, বীজ, সার, কীটনাশক, কৃষিপণ্য পরিবহন এবং বিপণন খাতেও নতুন বিনিয়োগ বাড়বে। কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির কারণে গুদামজাতকরণ, হিমাগার এবং খাদ্য প্রক্রিয়াজাত শিল্পের চাহিদাও বাড়বে। ফলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে ১ হাজারের বেশি ক্ষুদ্র ও মাঝারি কৃষিভিত্তিক শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) এবং অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের তথ্য অনুযায়ী, কৃষিভিত্তিক শিল্পে প্রতি ১ কোটি টাকা বিনিয়োগে গড়ে ২০% থেকে ৩০% জনের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়। সেই হিসেবে প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট এলাকায় বিনিয়োগের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদে এক থেকে দুই লাখ অতিরিক্ত কর্মসংস্থান তৈরি হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে স্থানীয় বাজারে অর্থের প্রবাহও বাড়বে। প্রকল্প এলাকার প্রায় ৩০% থেকে ৪০% লাখ মানুষ সরাসরি ও পরোক্ষভাবে অর্থনৈতিক সুবিধা পেতে পারে। পাশাপাশি কৃষকের আয় গড়ে ২৫% থেকে ৪০% পর্যন্ত বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এতে গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন গতি সঞ্চার হবে এবং দারিদ্র্য হ্রাসে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৫
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%