১২:২৩ পি.এম
দক্ষিণ কোরিয়ার স্থানীয় নির্বাচনে ব্যালট পেপার সংকটের কারণে রাজনৈতিক অঙ্গনের পাশাপাশি উত্তেজনা বিরাজ করছে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস এবং রাজপথেও। সিউলে ভোটগণনা কেন্দ্রের সামনে আন্দোলনকারীরা টানা সপ্তম দিনের মতো বিক্ষোভ চালিয়ে যাচ্ছে।
ব্যালট পেপার সংকটের ইস্যুতে পুলিশ তদন্ত কার্যক্রম জোরদার করেছে। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় নির্বাচন কমিশন (এনইসি) এবং এর কয়েকটি আঞ্চলিক কার্যালয়ে একযোগে তল্লাশি অভিযান পরিচালিত হয়েছে।
গত ৩ জুন অনুষ্ঠিত দক্ষিণ কোরিয়ার স্থানীয় নির্বাচনে বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে নজিরবিহীন ব্যালট পেপার সংকট এবং নির্বাচন পরিচালনার ব্যর্থতা নিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে।
আরও পড়ুন: তারেক রহমান: জামায়াত-এনসিপি আমার রাষ্ট্রীয় সম্মান সহ্য করতে পারছে না
নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ব্যালট সংকটের কারণে অন্তত ২৬টি ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণ সাময়িকভাবে বিঘ্নিত হয়েছে। অনেক ভোটার দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করে ভোট দিতে পারেননি। কোথাও কোথাও ভোট গণনা শুরু হওয়ার পরেও অন্য কেন্দ্র থেকে ব্যালট পেপার আনার জন্য অপেক্ষা করতে হয়েছে।
এ ঘটনার পর রাজধানী সিউলের জামসিল ভোট গণনার কেন্দ্রের সামনে টানা কয়েকদিন ধরে বিক্ষোভ চলছে। আন্দোলনকারীরা পুনর্নির্বাচন, জবাবদিহিতা এবং ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন।
দেগু সুসেওং-গু কাউন্সিলর কিম কিয়ং-মিন বলেছেন, ‘ভোটাধিকার নিশ্চিত না করেই অনুষ্ঠিত নির্বাচনের ফলকে গণতন্ত্রের আদর্শ রূপ বলা যায় না। প্রয়োজনে আমি নির্বাচিত পদ হারানোর ঝুঁকি নিয়েও ভোটারদের অধিকার রক্ষার পক্ষে থাকব।’
এদিকে, আন্দোলনে যোগ দিয়েছেন দেশের শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষার্থীরা। সিউল ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, ইয়নসে ইউনিভার্সিটি, হানকুক ইউনিভার্সিটি, কিয়ংহি ইউনিভার্সিটি এবং সোগাং ইউনিভার্সিটিসহ ১৮টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র প্রতিনিধিরা যৌথ কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছেন।
আরও পড়ুন: আদাবরে যুবদল নেতাকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে জখম
তাদের মতে, ব্যালট সংকট শুধুমাত্র প্রশাসনিক ব্যর্থতা নয়, এটি নাগরিকদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণের সাংবিধানিক অধিকারের ওপর সরাসরি আঘাত। শিক্ষার্থীরা সংসদীয় তদন্ত, স্বাধীন বিশেষ কৌসুলি নিয়োগ এবং জাতীয় নির্বাচন কমিশনের কাঠামোগত সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন।
বিতর্কটি আরও প্রসারিত হয়েছে, যখন পুলিশ ব্যালট সংকটের তদন্তের অংশ হিসেবে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের সদর দফতর এবং সিউলের কিছু আঞ্চলিক কার্যালয়ে অভিযান চালায়। ১শ’র বেশি তদন্তকারী কর্মকর্তা বিভিন্ন নথি ও তথ্য জব্দ করতে সক্ষম হয়। তদন্তকারীরা পরীক্ষা করছেন, ব্যালট পেপারের ঘাটতি প্রশাসনিক অবহেলার ফল নাকি এটি আরও বড় কোনো ব্যবস্থাগত ব্যর্থতার ফল।
এদিকে, ব্যালট সংকটের দায় স্বীকার করে ইতোমধ্যে পদত্যাগ করেছেন জাতীয় নির্বাচন কমিশনের চেয়ারম্যান রো তে-আক। জনমনে ক্ষোভের ব্যাপক প্রতিবিধান না ঘটায় বিষয়টি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী কিম মিন-সকও কথা বলেছেন। তিনি বলেছেন, এমন ঘটনা আগে কখনও ঘটে নাই এবং এটি শুধু প্রশাসনিক ভুল নয়, বরং গণতন্ত্রের জন্য একটি গুরুতর চ্যালেঞ্জ।
অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট লি জে-মিয়ং এই ঘটনাকে দক্ষিণ কোরিয়ার গণতান্ত্রিক সুনামের জন্য ক্ষতিকর বলে উল্লেখ করেছেন এবং পূর্ণাঙ্গ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। নির্বাচন ব্যবস্থাপনায় কোনো কাঠামোগত সমস্যা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: শেরপুরে বাসের চাপায় সিএনজি যাত্রী নিহত, আহত ৪
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন