মোঃ সোহেল রানা, রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি
সোমবার, ১৪ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৮:০৮ পি.এম
স্বজনহীন এক মানসিক প্রতিবন্ধী রোগীর চিকিৎসায় মানবিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে রাঙ্গামাটি জেনারেল হাসপাতাল। গুরুতর হাড় ভাঙার সমস্যায় হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ৩৯ বছর বয়সী আব্দুর রহিমের প্রয়োজনীয় অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি সমাজসেবা অধিদপ্তরের সহায়তায় তাঁর চিকিৎসা নিশ্চিত করা হয়।
গত ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ দুপুর ২টা ৫৫ মিনিটে গুরুতর ফ্র্যাকচার নিয়ে আব্দুর রহিম রাঙ্গামাটি জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হন। চিকিৎসকেরা পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাঁর দ্রুত সুস্থতার জন্য জরুরি ভিত্তিতে ওপেন রিডাকশন অ্যান্ড ইন্টারনাল ফিক্সেশন (ORIF) অস্ত্রোপচারের প্রয়োজনীয়তা নির্ধারণ করেন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, রোগীর পাশে দেখাশোনার জন্য কোনো স্বজন বা পরিবারের সদস্য ছিলেন না। এমন পরিস্থিতিতেও তাঁর চিকিৎসায় কোনো ধরনের অবহেলা করা হয়নি। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ, চিকিৎসক, নার্স ও সংশ্লিষ্ট কর্মীদের সমন্বিত প্রচেষ্টায় প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও অস্ত্রোপচারের ব্যবস্থা করা হয়।
রাঙ্গামাটি জেনারেল হাসপাতালের সিনিয়র অর্থোপেডিক কনসালটেন্ট ডা. আশীষ ও জুনিয়র অর্থোপেডিক কনসালটেন্ট ডা. সুবীরের নেতৃত্বে অস্ত্রোপচারটি সফলভাবে সম্পন্ন হয়। পরবর্তী সময়ে চিকিৎসকদের নিবিড় তত্ত্বাবধান ও হাসপাতালের কর্মীদের পরিচর্যায় রোগী বর্তমানে সুস্থতার পথে রয়েছেন।
রোগীর চিকিৎসা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে নিশ্চিত করতে হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। পাশাপাশি সমাজসেবা অধিদপ্তর তাঁর চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তা প্রদান করে।
রাঙ্গামাটি জেনারেল হাসপাতালের সিভিল সার্জন কাম তত্ত্বাবধায়ক ডা. নূয়েন খীসা বলেন, “মানবিকতা, আন্তরিকতা ও সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে অসহায় মানুষের জন্য মানসম্মত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা সম্ভব। এই উদ্যোগ তারই প্রমাণ।”
হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডা. শওকত আকবর খান বলেন, “রাঙ্গামাটি জেনারেল হাসপাতাল অসহায়, দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়াতে সর্বদা অঙ্গীকারবদ্ধ।”
স্বজনহীন রোগীর চিকিৎসায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও সমাজসেবা অধিদপ্তরের এ উদ্যোগ সরকারি স্বাস্থ্যসেবায় মানবিকতার একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (মমেক) নতুন ভবনের তৃতীয় তলায় শিশু ওয়ার্ডে আগুনের ঘটনা ঘটেছে, যা এখন নিয়ন্ত্রণে এসেছে।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৬টার দিকে হঠাৎ করে আগুনের সূত্রপাত ঘটে নতুন ভবনের তৃতীয় তলায়। এই ঘটনার খবর পেয়ে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
ময়মনসিংহ সদর ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার জুলহাজ উদ্দিন জানিয়েছেন, "আগুন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।" তবে তিনি উল্লেখ করেছেন যে, ঘটনাস্থলে প্রচুর ধোঁয়া থাকায় নিয়ন্ত্রণের কাজ এখনও চলছে। সদর ফায়ার স্টেশন থেকেও একটি ইউনিট ঘটনাস্থলের দিকে রওনা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, "ধোঁয়া পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসার পর আগুন লাগার কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানা যাবে।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের নিয়োগ পরীক্ষায় ভুয়া বা প্রক্সি পরীক্ষার্থীর অংশগ্রহণ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ব্যবহার প্রতিরোধ করার লক্ষ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য ১২ দফা নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।
এই তথ্যটি সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) একটি চিঠির মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। চিঠির সঙ্গে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ১২ দফা নির্দেশনা সংযুক্ত ছিল।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, নিয়োগ পরীক্ষায় কিছু পরীক্ষার্থী প্রক্সি বা ভুয়া পরীক্ষার্থীর মাধ্যমে লিখিত, ব্যবহারিক, মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করছে এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ডিভাইসের মাধ্যমে পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বন করছে। এই কারণে নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা ব্যাহত হচ্ছে। ফলে প্রক্সি পরীক্ষার্থী প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ১২ নির্দেশনা
১. আবেদনপত্রে আবশ্যিকভাবে প্রার্থীর সদ্য তোলা (আবেদন দাখিলের একমাস পূর্বে) রঙিন ছবি ব্যবহার করতে হবে।
২. লিখিত পরীক্ষার পূর্বে চাকরি প্রার্থীর আবেদন ভালোভাবে যাচাই করা।
৩. লিখিত পরীক্ষার কেন্দ্রে প্রবেশের সময় কোনোভাবেই ইলেকট্রনিক ডিভাইস (যেমন- স্মার্ট ঘড়ি যুক্ত ডিভাইস, মোবাইল ফোন, ক্যালকুলেটর, ডিজিটাল হাতঘড়ি), ব্যাগ, বই-পুস্তকসহ সঙ্গে নিয়ে পরীক্ষার হলে প্রবেশ করতে না পারে, সেজন্য যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করা। এক্ষেত্রে পরীক্ষাকেন্দ্রের গেটে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সহায়তায় পরীক্ষার্থীদের তল্লাশি নিশ্চিত করা।
৪. পরীক্ষা শুরুর পর কোনোভাবেই পরীক্ষার্থীকে কেন্দ্র প্রবেশ করতে না দেওয়া।
৫. পরীক্ষাকেন্দ্রে দায়িত্বপ্রাপ্তদের মোবাইল ফোন বা অন্য কোনো ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহার না করা।
৬. প্রবেশপত্র ও হাজিরা শিটে সংযুক্ত ছবির সঙ্গে পরীক্ষার্থীর চেহারা এবং রোল নম্বর মিলিয়ে নিশ্চিত হওয়ার পর কেন্দ্র পরিদর্শনকারী কর্তৃপক্ষ কর্তৃক উত্তরপত্রে স্বাক্ষর করা এবং কোনো অনুপস্থিতি পরিলক্ষিত হলে তাৎক্ষণিকভাবে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে অবহিত করা।
৭. মৌখিক পরীক্ষার সময়ে প্রবেশপত্র এবং লিখিত পরীক্ষার উত্তরপত্রের সঙ্গে হাতের লেখার সাদৃশ্য পরীক্ষা করা। প্রয়োজনে উত্তরপত্রের লেখার সঙ্গে মৌখিক পরীক্ষার বোর্ডে পুনরায় সংশ্লিষ্ট আকৃতির লেখা পরীক্ষা করা।
৮. সম্ভব হলে লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী সব পরীক্ষার্থীর ছবি তুলে রাখা এবং পরে ব্যবহারিক, মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী প্রার্থীর সঙ্গে এই ছবি মিলিয়ে দেখা।
৯. আবশ্যিকভাবে মৌখিক, ব্যবহারিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী সব পরীক্ষার্থীর ছবি তুলে রাখতে হবে এবং পরে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত প্রার্থীর যোগদানের সময় ছবি পরীক্ষা করে তাদের যোগদানপত্র গ্রহণ করা।
১০. পরীক্ষা শুরুর আগে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থার সহায়তা গ্রহণ করা।
১১. পরীক্ষাকেন্দ্রে মোবাইল কোর্ট ও মামলা পরিচালনার জন্য পর্যাপ্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা এবং ভুয়া (প্রক্সি) পরীক্ষার্থী শনাক্ত হলে তাদের বিরুদ্ধে বাধ্যতামূলকভাবে মোবাইল কোর্ট, মামলা দায়ের, নিয়মিত মামলা দায়ের করা।
১২. ভুয়া (প্রক্সি) পরীক্ষার্থী প্রতিরোধে অন্যান্য প্রযুক্তি যেমন- বায়োমেট্রিক শনাক্তকরণ ব্যবস্থাসহ প্রয়োজনীয় অন্যান্য প্রযুক্তি ব্যবহার করা।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোকে বিষয়টি তাদের অধীন দপ্তর, সংস্থা, অন্যান্য প্রতিষ্ঠানকে অবহিত করার জন্য এবং পরীক্ষা চলাকালীন প্রয়োজনীয় ডিজিটাল টিমের মাধ্যমে বিষয়টি অবলোকনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য চিঠিতে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সাতক্ষীরা, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : জেলা প্রশাসন আজ নিবন্ধনকৃত স্বেচ্ছাসেবী মহিলা সমিতিগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ মহিলা কল্যাণ পরিষদ কর্তৃক অনুমোদিত ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য ১৫ লাখ ১১ হাজার ছয়শ’ টাকার অনুদানের চেক বিতরণ করেছে।
আজ সোমবার বিকেলে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের সাতক্ষীরা জেলা কার্যালয় কর্তৃক আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে এই চেকগুলো বিতরণ করা হয়।
জেলা প্রশাসক কাউসার আজিজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের জেলা কার্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত উপ-পরিচালক নাজমুন নাহার।
এ সময় যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক সঞ্জিত কুমার, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের প্রোগ্রাম অফিসার ফাতেমা জোহরা, এবং জেলার বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী মহিলা সমিতির প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
এই অনুষ্ঠানে জেলার ৫০টি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের মধ্যে অনুদানের চেক বিতরণ করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাউজানে প্রকাশ্যে বহুল আলোচিত মোহাম্মদ করিম হত্যার রহস্য উন্মোচন করেছে চট্টগ্রাম জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। মাত্র ১১ দিনের মধ্যে খুনের রহস্য উদঘাটনে পুলিশের প্রশংসা করা হচ্ছে। সাধারণ মানুষের মধ্যে পুলিশের প্রতি আস্থা বৃদ্ধি পেয়েছে। রাউজানে একের পর এক খুনের ঘটনার কারণে রাউজান থানা পুলিশের উপর আস্থা হারিয়েছিল। নতুন জেলা পুলিশ সুপার যোগদানের পর থেকে রাউজানের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হতে শুরু করে।
মোহাম্মদ করিম হত্যার রহস্য উদঘাটন সম্পর্কে জেলা পুলিশ সুপার মোঃ মাসুদ আলম দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) নিবিড় তদন্ত ও ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত ৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত দেশীয় এলজি, এয়ার গান, রক্তমাখা চাপাতিসহ গুরুত্বপূর্ণ আলামত উদ্ধার করা হয়েছে।
সূত্র অনুযায়ী, গত ৩ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ৮টার দিকে রাউজান থানাধীন উরকিরচর ইউনিয়নের কেরানিহাট এলাকায় মোহাম্মদ করিমকে প্রকাশ্যে হত্যা করা হয়। জানা যায়, সিএনজি অটোরিক্সা যোগে আসা একদল সন্ত্রাসী করিমকে ঘিরে ধরে গুলি করে এবং পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার মাথা ও ঘাড়ে আঘাত করে মৃত্যু নিশ্চিত করে। এরপর তারা পুনরায় সিএনজিযোগে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
হত্যাকাণ্ডের পর চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি এবং পুলিশ সুপার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করেন।
নিহত মোহাম্মদ করিম রাউজান উপজেলার উরকিরচর ইউনিয়নের হারপাড়া গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। তবে তিনি হাটহাজারী উপজেলার আমান বাজার এলাকায় বসবাস করতেন। তার বিরুদ্ধে চুরি, মাদক, ডাকাতি, ছিনতাইসহ ১০টি মামলা রয়েছে।
তদন্তে জানা যায়, হত্যাকাণ্ডের প্রায় ১০ দিন আগে জনৈক পারভেজের মামা আজগরের একটি মোটরসাইকেল চুরি হয়। পারভেজ ওই চুরির ঘটনায় করিমকে সন্দেহ করে মোটরসাইকেলটি ফেরত দেওয়ার জন্য চাপ দেয়। করিম মোটরসাইকেলটি চুরি করেনি জানালে পারভেজ তার উপর ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে।
ঘটনার দিন সন্ধ্যার দিকে পারভেজ তার নিজস্ব সোর্সের মাধ্যমে কৌশলে করিমকে রাউজানের কেরানিহাট বাজার এলাকায় ডেকে নিয়ে আসে। সেখানে পারভেজসহ অন্যান্য আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে করিমকে প্রথমে গুলি করে এবং পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে।
গোয়েন্দা পুলিশ স্থানীয় বাসিন্দা, প্রত্যক্ষদর্শী, ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করে তথ্য সংগ্রহ করে এবং হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শনাক্ত করে। প্রথমে সিএমপির চাঁদগাঁও থানাধীন কাপ্তাই রাস্তার মাথা এলাকা থেকে সৈয়দ মোহাম্মদ শুক্কুর (২৭) ও মোঃ জাবেদ (২৮)-কে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র ও কার্তুজ রাউজান থানাধীন পশ্চিম গুজরা ইউনিয়নের মগদাই এলাকায় পলাতক আসামি পারভেজের পরিত্যক্ত গরুর ফার্মে রাখা হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃত শুক্কুর ও জাবেদকে সঙ্গে নিয়ে স্থানীয় সাক্ষীদের উপস্থিতিতে ১৪ সেপ্টেম্বর ভোর সকাল ৫ টায় পারভেজের পরিত্যক্ত গরুর ফার্মে অভিযান পরিচালনা করা হয়। আসামিদের দেখানো ও তাদের নিজ হাতে বের করে দেওয়ার ভিত্তিতে ফার্মের ভিতরে সিমেন্টের তৈরি গামলার মধ্যে বিশেষভাবে লুকিয়ে রাখা অবস্থায় আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। হাটহাজারী থানাধীন দক্ষিণ মাদার্শা এলাকা থেকে মোঃ সেলিম (৫০) ও মোঃ আলামিন (২৯)-কে গ্রেপ্তার করা হয়।
উদ্ধারকৃত অস্ত্রের মধ্যে একটি লোহার তৈরি দেশীয় এলজি, একটি দেশীয় তৈরি এয়ার গান, ২ রাউন্ড ১২ বোরের সীসা কার্তুজ, একটি চাপাতি এবং একটি লোহার গ্রিল কাটার রয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের পরিচয়:
১। মোঃ সেলিম (৫০) উরকিরচর ইউনিয়ন, থানা- রাউজান। তার নামে ১টি চুরির মামলা রয়েছে।
২। সৈয়দ মোহাম্মদ শুক্কুর (২৭) উরকিরচর ইউনিয়ন, থানা- রাউজান।
৩। মোঃ জাবেদ (২৮) উরকিরচর ইউনিয়ন, থানা- রাউজান, তার নামে ১টি অপহরণ মামলা রয়েছে।
৪। মোঃ আলামিন (২৯) উরকিরচর ইউনিয়ন, থানা- রাউজান। তার নামে অস্ত্র ও মাদকের ২টি মামলা রয়েছে।
থানা রেকর্ডপত্র যাচাই করে পলাতক আসামি মোঃ পারভেজ (৪৫)-এর বিরুদ্ধে রাউজান থানা সহ বিভিন্ন থানায় হত্যা, ডাকাতি, অস্ত্র, নারী ও শিশু নির্যাতন, বিস্ফোরক এবং অন্যান্য অপরাধে একাধিক মামলা থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। তার বিরুদ্ধে পূর্বের মামলাগুলোর মধ্যে হত্যা, ডাকাতি ও অস্ত্র আইনের মামলাও রয়েছে।
মামলার অন্যতম পলাতক আসামি পারভেজ সহ অন্যান্য পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের এবং পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে পৃথক মামলা করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ