সোমবার, ১৪ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৮:২১ পি.এম
সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের নিয়োগ পরীক্ষায় ভুয়া বা প্রক্সি পরীক্ষার্থীর অংশগ্রহণ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ব্যবহার প্রতিরোধ করার লক্ষ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য ১২ দফা নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।
এই তথ্যটি সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) একটি চিঠির মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। চিঠির সঙ্গে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ১২ দফা নির্দেশনা সংযুক্ত ছিল।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, নিয়োগ পরীক্ষায় কিছু পরীক্ষার্থী প্রক্সি বা ভুয়া পরীক্ষার্থীর মাধ্যমে লিখিত, ব্যবহারিক, মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করছে এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ডিভাইসের মাধ্যমে পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বন করছে। এই কারণে নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা ব্যাহত হচ্ছে। ফলে প্রক্সি পরীক্ষার্থী প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ১২ নির্দেশনা
১. আবেদনপত্রে আবশ্যিকভাবে প্রার্থীর সদ্য তোলা (আবেদন দাখিলের একমাস পূর্বে) রঙিন ছবি ব্যবহার করতে হবে।
২. লিখিত পরীক্ষার পূর্বে চাকরি প্রার্থীর আবেদন ভালোভাবে যাচাই করা।
৩. লিখিত পরীক্ষার কেন্দ্রে প্রবেশের সময় কোনোভাবেই ইলেকট্রনিক ডিভাইস (যেমন- স্মার্ট ঘড়ি যুক্ত ডিভাইস, মোবাইল ফোন, ক্যালকুলেটর, ডিজিটাল হাতঘড়ি), ব্যাগ, বই-পুস্তকসহ সঙ্গে নিয়ে পরীক্ষার হলে প্রবেশ করতে না পারে, সেজন্য যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করা। এক্ষেত্রে পরীক্ষাকেন্দ্রের গেটে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সহায়তায় পরীক্ষার্থীদের তল্লাশি নিশ্চিত করা।
৪. পরীক্ষা শুরুর পর কোনোভাবেই পরীক্ষার্থীকে কেন্দ্র প্রবেশ করতে না দেওয়া।
৫. পরীক্ষাকেন্দ্রে দায়িত্বপ্রাপ্তদের মোবাইল ফোন বা অন্য কোনো ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহার না করা।
৬. প্রবেশপত্র ও হাজিরা শিটে সংযুক্ত ছবির সঙ্গে পরীক্ষার্থীর চেহারা এবং রোল নম্বর মিলিয়ে নিশ্চিত হওয়ার পর কেন্দ্র পরিদর্শনকারী কর্তৃপক্ষ কর্তৃক উত্তরপত্রে স্বাক্ষর করা এবং কোনো অনুপস্থিতি পরিলক্ষিত হলে তাৎক্ষণিকভাবে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে অবহিত করা।
৭. মৌখিক পরীক্ষার সময়ে প্রবেশপত্র এবং লিখিত পরীক্ষার উত্তরপত্রের সঙ্গে হাতের লেখার সাদৃশ্য পরীক্ষা করা। প্রয়োজনে উত্তরপত্রের লেখার সঙ্গে মৌখিক পরীক্ষার বোর্ডে পুনরায় সংশ্লিষ্ট আকৃতির লেখা পরীক্ষা করা।
৮. সম্ভব হলে লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী সব পরীক্ষার্থীর ছবি তুলে রাখা এবং পরে ব্যবহারিক, মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী প্রার্থীর সঙ্গে এই ছবি মিলিয়ে দেখা।
৯. আবশ্যিকভাবে মৌখিক, ব্যবহারিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী সব পরীক্ষার্থীর ছবি তুলে রাখতে হবে এবং পরে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত প্রার্থীর যোগদানের সময় ছবি পরীক্ষা করে তাদের যোগদানপত্র গ্রহণ করা।
১০. পরীক্ষা শুরুর আগে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থার সহায়তা গ্রহণ করা।
১১. পরীক্ষাকেন্দ্রে মোবাইল কোর্ট ও মামলা পরিচালনার জন্য পর্যাপ্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা এবং ভুয়া (প্রক্সি) পরীক্ষার্থী শনাক্ত হলে তাদের বিরুদ্ধে বাধ্যতামূলকভাবে মোবাইল কোর্ট, মামলা দায়ের, নিয়মিত মামলা দায়ের করা।
১২. ভুয়া (প্রক্সি) পরীক্ষার্থী প্রতিরোধে অন্যান্য প্রযুক্তি যেমন- বায়োমেট্রিক শনাক্তকরণ ব্যবস্থাসহ প্রয়োজনীয় অন্যান্য প্রযুক্তি ব্যবহার করা।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোকে বিষয়টি তাদের অধীন দপ্তর, সংস্থা, অন্যান্য প্রতিষ্ঠানকে অবহিত করার জন্য এবং পরীক্ষা চলাকালীন প্রয়োজনীয় ডিজিটাল টিমের মাধ্যমে বিষয়টি অবলোকনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য চিঠিতে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সাতক্ষীরা, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : জেলা প্রশাসন আজ নিবন্ধনকৃত স্বেচ্ছাসেবী মহিলা সমিতিগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ মহিলা কল্যাণ পরিষদ কর্তৃক অনুমোদিত ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য ১৫ লাখ ১১ হাজার ছয়শ’ টাকার অনুদানের চেক বিতরণ করেছে।
আজ সোমবার বিকেলে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের সাতক্ষীরা জেলা কার্যালয় কর্তৃক আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে এই চেকগুলো বিতরণ করা হয়।
জেলা প্রশাসক কাউসার আজিজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের জেলা কার্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত উপ-পরিচালক নাজমুন নাহার।
এ সময় যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক সঞ্জিত কুমার, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের প্রোগ্রাম অফিসার ফাতেমা জোহরা, এবং জেলার বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী মহিলা সমিতির প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
এই অনুষ্ঠানে জেলার ৫০টি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের মধ্যে অনুদানের চেক বিতরণ করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাউজানে প্রকাশ্যে বহুল আলোচিত মোহাম্মদ করিম হত্যার রহস্য উন্মোচন করেছে চট্টগ্রাম জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। মাত্র ১১ দিনের মধ্যে খুনের রহস্য উদঘাটনে পুলিশের প্রশংসা করা হচ্ছে। সাধারণ মানুষের মধ্যে পুলিশের প্রতি আস্থা বৃদ্ধি পেয়েছে। রাউজানে একের পর এক খুনের ঘটনার কারণে রাউজান থানা পুলিশের উপর আস্থা হারিয়েছিল। নতুন জেলা পুলিশ সুপার যোগদানের পর থেকে রাউজানের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হতে শুরু করে।
মোহাম্মদ করিম হত্যার রহস্য উদঘাটন সম্পর্কে জেলা পুলিশ সুপার মোঃ মাসুদ আলম দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) নিবিড় তদন্ত ও ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত ৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত দেশীয় এলজি, এয়ার গান, রক্তমাখা চাপাতিসহ গুরুত্বপূর্ণ আলামত উদ্ধার করা হয়েছে।
সূত্র অনুযায়ী, গত ৩ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ৮টার দিকে রাউজান থানাধীন উরকিরচর ইউনিয়নের কেরানিহাট এলাকায় মোহাম্মদ করিমকে প্রকাশ্যে হত্যা করা হয়। জানা যায়, সিএনজি অটোরিক্সা যোগে আসা একদল সন্ত্রাসী করিমকে ঘিরে ধরে গুলি করে এবং পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার মাথা ও ঘাড়ে আঘাত করে মৃত্যু নিশ্চিত করে। এরপর তারা পুনরায় সিএনজিযোগে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
হত্যাকাণ্ডের পর চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি এবং পুলিশ সুপার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করেন।
নিহত মোহাম্মদ করিম রাউজান উপজেলার উরকিরচর ইউনিয়নের হারপাড়া গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। তবে তিনি হাটহাজারী উপজেলার আমান বাজার এলাকায় বসবাস করতেন। তার বিরুদ্ধে চুরি, মাদক, ডাকাতি, ছিনতাইসহ ১০টি মামলা রয়েছে।
তদন্তে জানা যায়, হত্যাকাণ্ডের প্রায় ১০ দিন আগে জনৈক পারভেজের মামা আজগরের একটি মোটরসাইকেল চুরি হয়। পারভেজ ওই চুরির ঘটনায় করিমকে সন্দেহ করে মোটরসাইকেলটি ফেরত দেওয়ার জন্য চাপ দেয়। করিম মোটরসাইকেলটি চুরি করেনি জানালে পারভেজ তার উপর ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে।
ঘটনার দিন সন্ধ্যার দিকে পারভেজ তার নিজস্ব সোর্সের মাধ্যমে কৌশলে করিমকে রাউজানের কেরানিহাট বাজার এলাকায় ডেকে নিয়ে আসে। সেখানে পারভেজসহ অন্যান্য আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে করিমকে প্রথমে গুলি করে এবং পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে।
গোয়েন্দা পুলিশ স্থানীয় বাসিন্দা, প্রত্যক্ষদর্শী, ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করে তথ্য সংগ্রহ করে এবং হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শনাক্ত করে। প্রথমে সিএমপির চাঁদগাঁও থানাধীন কাপ্তাই রাস্তার মাথা এলাকা থেকে সৈয়দ মোহাম্মদ শুক্কুর (২৭) ও মোঃ জাবেদ (২৮)-কে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র ও কার্তুজ রাউজান থানাধীন পশ্চিম গুজরা ইউনিয়নের মগদাই এলাকায় পলাতক আসামি পারভেজের পরিত্যক্ত গরুর ফার্মে রাখা হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃত শুক্কুর ও জাবেদকে সঙ্গে নিয়ে স্থানীয় সাক্ষীদের উপস্থিতিতে ১৪ সেপ্টেম্বর ভোর সকাল ৫ টায় পারভেজের পরিত্যক্ত গরুর ফার্মে অভিযান পরিচালনা করা হয়। আসামিদের দেখানো ও তাদের নিজ হাতে বের করে দেওয়ার ভিত্তিতে ফার্মের ভিতরে সিমেন্টের তৈরি গামলার মধ্যে বিশেষভাবে লুকিয়ে রাখা অবস্থায় আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। হাটহাজারী থানাধীন দক্ষিণ মাদার্শা এলাকা থেকে মোঃ সেলিম (৫০) ও মোঃ আলামিন (২৯)-কে গ্রেপ্তার করা হয়।
উদ্ধারকৃত অস্ত্রের মধ্যে একটি লোহার তৈরি দেশীয় এলজি, একটি দেশীয় তৈরি এয়ার গান, ২ রাউন্ড ১২ বোরের সীসা কার্তুজ, একটি চাপাতি এবং একটি লোহার গ্রিল কাটার রয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের পরিচয়:
১। মোঃ সেলিম (৫০) উরকিরচর ইউনিয়ন, থানা- রাউজান। তার নামে ১টি চুরির মামলা রয়েছে।
২। সৈয়দ মোহাম্মদ শুক্কুর (২৭) উরকিরচর ইউনিয়ন, থানা- রাউজান।
৩। মোঃ জাবেদ (২৮) উরকিরচর ইউনিয়ন, থানা- রাউজান, তার নামে ১টি অপহরণ মামলা রয়েছে।
৪। মোঃ আলামিন (২৯) উরকিরচর ইউনিয়ন, থানা- রাউজান। তার নামে অস্ত্র ও মাদকের ২টি মামলা রয়েছে।
থানা রেকর্ডপত্র যাচাই করে পলাতক আসামি মোঃ পারভেজ (৪৫)-এর বিরুদ্ধে রাউজান থানা সহ বিভিন্ন থানায় হত্যা, ডাকাতি, অস্ত্র, নারী ও শিশু নির্যাতন, বিস্ফোরক এবং অন্যান্য অপরাধে একাধিক মামলা থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। তার বিরুদ্ধে পূর্বের মামলাগুলোর মধ্যে হত্যা, ডাকাতি ও অস্ত্র আইনের মামলাও রয়েছে।
মামলার অন্যতম পলাতক আসামি পারভেজ সহ অন্যান্য পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের এবং পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে পৃথক মামলা করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সেভ দ্য চিলড্রেন ইন্টারন্যাশনাল ইন বাংলাদেশ-এর উদ্যোগে এবং ইন্টারন্যাশনাল সোসাইটি অব সাব্সটেন্স ইউজ প্রোফেশনালস (আইস্যাপ) বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের সহযোগিতায় বাংলাদেশে এইচআইভি প্রতিরোধ কর্মসূচিকে আরও শক্তিশালী করার উদ্দেশ্যে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যদের জন্য দুই দিনব্যাপী মানবাধিকারভিত্তিক প্রশিক্ষণ আয়োজন করা হয়েছে।
১৩ ও ১৪ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত এ প্রশিক্ষণে মানবাধিকার, এইচআইভি প্রতিরোধ, জনস্বাস্থ্য, লিঙ্গ-সংবেদনশীল আইন প্রয়োগ, মানসিক স্বাস্থ্য এবং অধিকারভিত্তিক সেবা প্রদানসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা ও অংশগ্রহণমূলক সেশন অনুষ্ঠিত হয়।
প্রথম দিনের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক মোহাম্মদ গোলাম আজম। স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন সেভ দ্য চিলড্রেন-এর কান্ট্রি ডিরেক্টর সুমন সেনগুপ্ত।
প্রশিক্ষণের সেশনগুলো পরিচালনা করেন সেভ দ্য চিলড্রেন-এর এজাজুল ইসলাম চৌধুরী, আইসিডিডিআর,বি-এর ড. মোহাম্মদ শরিফুল ইসলাম খান, সাবেক ইউএনএইডস বাংলাদেশ কান্ট্রি ডিরেক্টর ডা. সাইমা খান, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জাতীয় এইডস/এসটিডি নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির পরিচালক ড. খাইরুজ্জামানসহ সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।
আইএসএসইউপি ও আইএসএসইউপি বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের কার্যক্রম, লক্ষ্য ও ভূমিকা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সেশন পরিচালনা করেন ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন হেলথ অ্যান্ড নিউট্রিশন সেক্টরের সিনিয়র সাইকোলজিস্ট ও অ্যাডিকশন প্রফেশনাল এবং আইএসএসইউপি বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের কমিউনিকেশন অ্যান্ড নেটওয়ার্কিং স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ার রাখী গাঙ্গুলী।
দ্বিতীয় দিনে কে. এস. এম. তারিক, এজাজুল ইসলাম চৌধুরী, পিএসটিСি-এর তাজুল ইসলাম, ইউএনওডিসি বাংলাদেশ অফিসের এইচআইভি কো-অর্ডিনেটর মোঃ আবুতাহের এবং রাখী গাঙ্গুলী বিভিন্ন বিষয়ে সেশন পরিচালনা করেন। রাখী গাঙ্গুলী মানসিক স্বাস্থ্য ও মানবাধিকারের সম্পর্ক এবং কাউন্সেলিং কেস স্টাডি নিয়ে অংশগ্রহণমূলক সেশন পরিচালনা করেন।
প্রশিক্ষণে বক্তারা উল্লেখ করেন, "মানবাধিকার সুরক্ষিত হলে জনস্বাস্থ্য আরও শক্তিশালী হয়।" এইচআইভি প্রতিরোধ ও সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে বৈষম্যহীন, মানবিক, নিরাপদ ও অধিকারভিত্তিক পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি।
মানবাধিকার ও জনস্বাস্থ্যের সমন্বিত দৃষ্টিভঙ্গির মাধ্যমে আরও মানবিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও কার্যকর এইচআইভি প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রত্যয় নিয়ে দুই দিনব্যাপী এ প্রশিক্ষণ সফলভাবে সম্পন্ন হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কিশোরগঞ্জের মিঠামইনে উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীর হত্যার ঘটনায় পুলিশ আরও একজনকে গ্রেফতার করেছে। হত্যাকাণ্ডের প্রায় দুই মাস পর মামলার সন্দেহভাজন আসামি তরিক মোমেনকে গ্রেফতার করা হয়।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার ঘাগড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। এ পর্যন্ত মামলাটির সঙ্গে জড়িত ১৩ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
গত ১৫ জুলাই রাতে মিঠামইন সদরের বেড়িবাঁধ এলাকায় নিজ বাসভবনের সামনে জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীরকে কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের পর নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে মিঠামইন থানায় মামলা দায়ের করা হয়। এরপর থেকেই হত্যার কারণ ও জড়িতদের শনাক্তে পুলিশ তদন্ত শুরু করে। সন্দেহভাজনদের গ্রেফতার করা হলেও হত্যাকাণ্ডের পুরো রহস্য এখনো উন্মোচিত হয়নি।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মামলার তদন্তে বিভিন্ন তথ্যের ভিত্তিতে সন্দেহভাজনদের শনাক্ত করে অভিযান চালানো হচ্ছে। স্থানীয় জনতার সহায়তায় ইতোমধ্যে ১২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সর্বশেষ ঘাগড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তরিক মোমেনকে গ্রেফতার করা হলো। তার কাছ থেকে পাওয়া তথ্য হত্যাকাণ্ডের তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র দিতে পারে বলে ধারণা করছে পুলিশ।
এদিকে, জাহাঙ্গীর হত্যাকাণ্ডে সম্পৃক্ততার অভিযোগ ওঠায় মিঠামইন উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মোকাররম হোসেন খোকাকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তবে ঘটনার পর থেকে তিনি পলাতক রয়েছেন। তাকে গ্রেফতার করা সম্ভব না হওয়ায় মামলার তদন্ত ও হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের বিষয়গুলো নিয়ে নানা প্রশ্নও রয়েছে।
মিঠামইন থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মনোয়ার মোহাম্মদ বলেন, তরিক মোমেনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং তাকে আদালতে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। মামলার বাকি সন্দেহভাজন ও পলাতক আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
পুলিশ বলছে, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ