সোমবার, ১৪ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৮:২৫ পি.এম
রাউজানে প্রকাশ্যে বহুল আলোচিত মোহাম্মদ করিম হত্যার রহস্য উন্মোচন করেছে চট্টগ্রাম জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। মাত্র ১১ দিনের মধ্যে খুনের রহস্য উদঘাটনে পুলিশের প্রশংসা করা হচ্ছে। সাধারণ মানুষের মধ্যে পুলিশের প্রতি আস্থা বৃদ্ধি পেয়েছে। রাউজানে একের পর এক খুনের ঘটনার কারণে রাউজান থানা পুলিশের উপর আস্থা হারিয়েছিল। নতুন জেলা পুলিশ সুপার যোগদানের পর থেকে রাউজানের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হতে শুরু করে।
মোহাম্মদ করিম হত্যার রহস্য উদঘাটন সম্পর্কে জেলা পুলিশ সুপার মোঃ মাসুদ আলম দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) নিবিড় তদন্ত ও ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত ৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত দেশীয় এলজি, এয়ার গান, রক্তমাখা চাপাতিসহ গুরুত্বপূর্ণ আলামত উদ্ধার করা হয়েছে।
সূত্র অনুযায়ী, গত ৩ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ৮টার দিকে রাউজান থানাধীন উরকিরচর ইউনিয়নের কেরানিহাট এলাকায় মোহাম্মদ করিমকে প্রকাশ্যে হত্যা করা হয়। জানা যায়, সিএনজি অটোরিক্সা যোগে আসা একদল সন্ত্রাসী করিমকে ঘিরে ধরে গুলি করে এবং পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার মাথা ও ঘাড়ে আঘাত করে মৃত্যু নিশ্চিত করে। এরপর তারা পুনরায় সিএনজিযোগে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
হত্যাকাণ্ডের পর চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি এবং পুলিশ সুপার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করেন।
নিহত মোহাম্মদ করিম রাউজান উপজেলার উরকিরচর ইউনিয়নের হারপাড়া গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। তবে তিনি হাটহাজারী উপজেলার আমান বাজার এলাকায় বসবাস করতেন। তার বিরুদ্ধে চুরি, মাদক, ডাকাতি, ছিনতাইসহ ১০টি মামলা রয়েছে।
তদন্তে জানা যায়, হত্যাকাণ্ডের প্রায় ১০ দিন আগে জনৈক পারভেজের মামা আজগরের একটি মোটরসাইকেল চুরি হয়। পারভেজ ওই চুরির ঘটনায় করিমকে সন্দেহ করে মোটরসাইকেলটি ফেরত দেওয়ার জন্য চাপ দেয়। করিম মোটরসাইকেলটি চুরি করেনি জানালে পারভেজ তার উপর ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে।
ঘটনার দিন সন্ধ্যার দিকে পারভেজ তার নিজস্ব সোর্সের মাধ্যমে কৌশলে করিমকে রাউজানের কেরানিহাট বাজার এলাকায় ডেকে নিয়ে আসে। সেখানে পারভেজসহ অন্যান্য আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে করিমকে প্রথমে গুলি করে এবং পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে।
গোয়েন্দা পুলিশ স্থানীয় বাসিন্দা, প্রত্যক্ষদর্শী, ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করে তথ্য সংগ্রহ করে এবং হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শনাক্ত করে। প্রথমে সিএমপির চাঁদগাঁও থানাধীন কাপ্তাই রাস্তার মাথা এলাকা থেকে সৈয়দ মোহাম্মদ শুক্কুর (২৭) ও মোঃ জাবেদ (২৮)-কে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র ও কার্তুজ রাউজান থানাধীন পশ্চিম গুজরা ইউনিয়নের মগদাই এলাকায় পলাতক আসামি পারভেজের পরিত্যক্ত গরুর ফার্মে রাখা হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃত শুক্কুর ও জাবেদকে সঙ্গে নিয়ে স্থানীয় সাক্ষীদের উপস্থিতিতে ১৪ সেপ্টেম্বর ভোর সকাল ৫ টায় পারভেজের পরিত্যক্ত গরুর ফার্মে অভিযান পরিচালনা করা হয়। আসামিদের দেখানো ও তাদের নিজ হাতে বের করে দেওয়ার ভিত্তিতে ফার্মের ভিতরে সিমেন্টের তৈরি গামলার মধ্যে বিশেষভাবে লুকিয়ে রাখা অবস্থায় আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। হাটহাজারী থানাধীন দক্ষিণ মাদার্শা এলাকা থেকে মোঃ সেলিম (৫০) ও মোঃ আলামিন (২৯)-কে গ্রেপ্তার করা হয়।
উদ্ধারকৃত অস্ত্রের মধ্যে একটি লোহার তৈরি দেশীয় এলজি, একটি দেশীয় তৈরি এয়ার গান, ২ রাউন্ড ১২ বোরের সীসা কার্তুজ, একটি চাপাতি এবং একটি লোহার গ্রিল কাটার রয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের পরিচয়:
১। মোঃ সেলিম (৫০) উরকিরচর ইউনিয়ন, থানা- রাউজান। তার নামে ১টি চুরির মামলা রয়েছে।
২। সৈয়দ মোহাম্মদ শুক্কুর (২৭) উরকিরচর ইউনিয়ন, থানা- রাউজান।
৩। মোঃ জাবেদ (২৮) উরকিরচর ইউনিয়ন, থানা- রাউজান, তার নামে ১টি অপহরণ মামলা রয়েছে।
৪। মোঃ আলামিন (২৯) উরকিরচর ইউনিয়ন, থানা- রাউজান। তার নামে অস্ত্র ও মাদকের ২টি মামলা রয়েছে।
থানা রেকর্ডপত্র যাচাই করে পলাতক আসামি মোঃ পারভেজ (৪৫)-এর বিরুদ্ধে রাউজান থানা সহ বিভিন্ন থানায় হত্যা, ডাকাতি, অস্ত্র, নারী ও শিশু নির্যাতন, বিস্ফোরক এবং অন্যান্য অপরাধে একাধিক মামলা থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। তার বিরুদ্ধে পূর্বের মামলাগুলোর মধ্যে হত্যা, ডাকাতি ও অস্ত্র আইনের মামলাও রয়েছে।
মামলার অন্যতম পলাতক আসামি পারভেজ সহ অন্যান্য পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের এবং পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে পৃথক মামলা করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সেভ দ্য চিলড্রেন ইন্টারন্যাশনাল ইন বাংলাদেশ-এর উদ্যোগে এবং ইন্টারন্যাশনাল সোসাইটি অব সাব্সটেন্স ইউজ প্রোফেশনালস (আইস্যাপ) বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের সহযোগিতায় বাংলাদেশে এইচআইভি প্রতিরোধ কর্মসূচিকে আরও শক্তিশালী করার উদ্দেশ্যে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যদের জন্য দুই দিনব্যাপী মানবাধিকারভিত্তিক প্রশিক্ষণ আয়োজন করা হয়েছে।
১৩ ও ১৪ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত এ প্রশিক্ষণে মানবাধিকার, এইচআইভি প্রতিরোধ, জনস্বাস্থ্য, লিঙ্গ-সংবেদনশীল আইন প্রয়োগ, মানসিক স্বাস্থ্য এবং অধিকারভিত্তিক সেবা প্রদানসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা ও অংশগ্রহণমূলক সেশন অনুষ্ঠিত হয়।
প্রথম দিনের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক মোহাম্মদ গোলাম আজম। স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন সেভ দ্য চিলড্রেন-এর কান্ট্রি ডিরেক্টর সুমন সেনগুপ্ত।
প্রশিক্ষণের সেশনগুলো পরিচালনা করেন সেভ দ্য চিলড্রেন-এর এজাজুল ইসলাম চৌধুরী, আইসিডিডিআর,বি-এর ড. মোহাম্মদ শরিফুল ইসলাম খান, সাবেক ইউএনএইডস বাংলাদেশ কান্ট্রি ডিরেক্টর ডা. সাইমা খান, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জাতীয় এইডস/এসটিডি নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির পরিচালক ড. খাইরুজ্জামানসহ সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।
আইএসএসইউপি ও আইএসএসইউপি বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের কার্যক্রম, লক্ষ্য ও ভূমিকা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সেশন পরিচালনা করেন ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন হেলথ অ্যান্ড নিউট্রিশন সেক্টরের সিনিয়র সাইকোলজিস্ট ও অ্যাডিকশন প্রফেশনাল এবং আইএসএসইউপি বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের কমিউনিকেশন অ্যান্ড নেটওয়ার্কিং স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ার রাখী গাঙ্গুলী।
দ্বিতীয় দিনে কে. এস. এম. তারিক, এজাজুল ইসলাম চৌধুরী, পিএসটিСি-এর তাজুল ইসলাম, ইউএনওডিসি বাংলাদেশ অফিসের এইচআইভি কো-অর্ডিনেটর মোঃ আবুতাহের এবং রাখী গাঙ্গুলী বিভিন্ন বিষয়ে সেশন পরিচালনা করেন। রাখী গাঙ্গুলী মানসিক স্বাস্থ্য ও মানবাধিকারের সম্পর্ক এবং কাউন্সেলিং কেস স্টাডি নিয়ে অংশগ্রহণমূলক সেশন পরিচালনা করেন।
প্রশিক্ষণে বক্তারা উল্লেখ করেন, "মানবাধিকার সুরক্ষিত হলে জনস্বাস্থ্য আরও শক্তিশালী হয়।" এইচআইভি প্রতিরোধ ও সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে বৈষম্যহীন, মানবিক, নিরাপদ ও অধিকারভিত্তিক পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি।
মানবাধিকার ও জনস্বাস্থ্যের সমন্বিত দৃষ্টিভঙ্গির মাধ্যমে আরও মানবিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও কার্যকর এইচআইভি প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রত্যয় নিয়ে দুই দিনব্যাপী এ প্রশিক্ষণ সফলভাবে সম্পন্ন হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কিশোরগঞ্জের মিঠামইনে উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীর হত্যার ঘটনায় পুলিশ আরও একজনকে গ্রেফতার করেছে। হত্যাকাণ্ডের প্রায় দুই মাস পর মামলার সন্দেহভাজন আসামি তরিক মোমেনকে গ্রেফতার করা হয়।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার ঘাগড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। এ পর্যন্ত মামলাটির সঙ্গে জড়িত ১৩ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
গত ১৫ জুলাই রাতে মিঠামইন সদরের বেড়িবাঁধ এলাকায় নিজ বাসভবনের সামনে জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীরকে কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের পর নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে মিঠামইন থানায় মামলা দায়ের করা হয়। এরপর থেকেই হত্যার কারণ ও জড়িতদের শনাক্তে পুলিশ তদন্ত শুরু করে। সন্দেহভাজনদের গ্রেফতার করা হলেও হত্যাকাণ্ডের পুরো রহস্য এখনো উন্মোচিত হয়নি।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মামলার তদন্তে বিভিন্ন তথ্যের ভিত্তিতে সন্দেহভাজনদের শনাক্ত করে অভিযান চালানো হচ্ছে। স্থানীয় জনতার সহায়তায় ইতোমধ্যে ১২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সর্বশেষ ঘাগড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তরিক মোমেনকে গ্রেফতার করা হলো। তার কাছ থেকে পাওয়া তথ্য হত্যাকাণ্ডের তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র দিতে পারে বলে ধারণা করছে পুলিশ।
এদিকে, জাহাঙ্গীর হত্যাকাণ্ডে সম্পৃক্ততার অভিযোগ ওঠায় মিঠামইন উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মোকাররম হোসেন খোকাকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তবে ঘটনার পর থেকে তিনি পলাতক রয়েছেন। তাকে গ্রেফতার করা সম্ভব না হওয়ায় মামলার তদন্ত ও হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের বিষয়গুলো নিয়ে নানা প্রশ্নও রয়েছে।
মিঠামইন থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মনোয়ার মোহাম্মদ বলেন, তরিক মোমেনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং তাকে আদালতে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। মামলার বাকি সন্দেহভাজন ও পলাতক আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
পুলিশ বলছে, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নওগাঁর মহাদেবপুরে ভুল চিকিৎসার কারণে নাছিমা খাতুন (৪২) নামে এক নারীর মৃত্যু ঘটেছে, যার পর হাসপাতালটি সিলগালা করা হয়েছে। মৃত নাছিমা খাতুন উপজেলার উত্তরগ্রাম ইউপির চকগৌড়া গ্রামের রেজাউল ইসলামের স্ত্রী। সোমবার দুপুরে সিভিল সার্জন ডা. মো. আমিনুল ইসলাম অভিযান চালিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পাশের সরকার টাওয়ারে অবস্থিত আল মদিনা ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড জেনারেল হাসপাতালটি সিলগালা করেন এবং বিষয়টি তদন্তের জন্য ৩ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন।
রোগীর স্বজনদের তথ্য অনুযায়ী, পাইলসের সমস্যায় আক্রান্ত নাছিমা খাতুনকে গত শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে আল মদিনা ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পাইলসের অপারেশনের জন্য ওই হাসপাতালের পরিচালক মো. আমিনুর রহমান মন্ডলের সঙ্গে ১২ হাজার টাকায় চুক্তি হয়। ওই দিন রাতেই মহাদেবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. দেওয়ান আব্দুস সবুর রোগীর অপারেশন করেন। অপারেশনের পর থেকেই রোগীর অবস্থা খারাপ হতে থাকে এবং পরদিন রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকালে নাছিমা খাতুনের মৃত্যু ঘটে। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ইউপি সদস্য মকবুল হোসেনের উপস্থিতিতে রোগীর স্বজনদের সঙ্গে সমঝোতা করেন, যদিও সেখানে কোনো টাকার উল্লেখ নেই। তবে ৩০ হাজার টাকায় দফারফা শেষে নাছিমার মরদেহ স্বজনরা নিয়ে যান বলে একাধিক সূত্র জানায়।
রোগীর স্বজন জাকারিয়া জানান, ভর্তির পর নাছিমার রক্তসহ বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়। এ সময় নাছিমার হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ ছিল ৭ দশমিক ৪ গ্রাম/ডেসিলিটার। একই দিনে করা অন্য একটি রিপোর্টে হিমোগ্লোবিন পাওয়া যায় ৭ দশমিক ৫ গ্রাম/ডেসিলিটার। এরপর রোগীর অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত, রক্তস্বল্পতা বিবেচনা, অস্ত্রোপচার পরবর্তী পর্যবেক্ষণ এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসকের উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন রোগীর স্বজনরা। শুধু হিমোগ্লোবিন নয়, দুই রিপোর্টে রক্তের অন্যান্য উপাদানেও উল্লেখযোগ্য পার্থক্য দেখা গেছে।
একটি রিপোর্টে প্লাটিলেট ৩ লাখ ৮৪ হাজার, অন্যটিতে ৬ লাখ ৫ হাজার উল্লেখ করা হয়েছে। এমন রিপোর্টের পর রোগীর অস্ত্রোপচারের ঝুঁকি কিভাবে নেওয়া হয়েছিল, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবারের দাবি, শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে নাছিমাকে অপারেশন কক্ষে নেওয়া হয়। সেখানে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. মো. ইমরান আলী অ্যানেস্থেশিয়া দেন এবং ডা. দেওয়ান মো. আব্দুস সবুর অস্ত্রোপচার করেন।
সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, অস্ত্রোপচারের সময় বা পরে রক্তস্বল্পতার কারণে নাসিমাকে ‘বি’ পজিটিভ গ্রুপের এক ব্যাগ রক্ত দেওয়া হয়।
মৃত নাসিমার স্বামী রেজাউল ইসলাম বলেন, অস্ত্রোপচারের পর রাতে তার স্ত্রীর অবস্থা মোটামুটি ভালোই ছিল; কিন্তু পরদিন সকাল ৮টার দিকে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে মৃত্যুবরণ করেন তার স্ত্রী। তিনি অভিযোগ করেন, এ সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসককে ডাকতে গিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি। পরে সকাল ৯টার দিকে অস্ত্রোপচারকারী চিকিৎসক ডা. দেওয়ান মো. আব্দুস সবুর হাসপাতালে আসেন। তিনি রোগীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্যত্র নেওয়ার পরামর্শ দেন। তবে হাসপাতাল থেকে অন্যত্র নেওয়ার আগেই নাসিমার মৃত্যু ঘটে। মৃত্যুর পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তাদের লিখিতভাবে মীমাংসা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
ডা. দেওয়ান মো. আব্দুস সবুর বলেন, তিনি প্রায় পাঁচ বছর ধরে অস্ত্রোপচার করছেন। রোগীর কাগজপত্র ও পরীক্ষার রিপোর্ট দেখেই অস্ত্রোপাচার করা হয়েছে। অস্ত্রোপচারের আগে হিমোগ্লোবিন ৭ দশমিক ৪ থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, অস্ত্রোপচারের সময় রোগীকে এক ব্যাগ রক্ত দেওয়া হয়েছিল।
আল মদিনা ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড জেনারেল হাসপাতালের পরিচালক আমিনুর রহমান মন্ডল জানান, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একজন মেডিকেল অফিসার দিয়ে অ্যানেস্থেশিয়া ও অস্ত্রোপচার করানো হয়েছে। রোগীর কাগজপত্র দেখেই চিকিৎসক অস্ত্রোপচার করেছেন। বিষয়টি চিকিৎসকই ভালো বলতে পারবেন। রোগীর মৃত্যুর পর তার স্বজনদের সঙ্গে লিখিতভাবে মীমাংসা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
সিভিল সার্জন ডা. মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, বিভিন্ন অভিযোগের কারণে এর আগেও ওই ক্লিনিক বন্ধ করা হয়েছিল। রোগীর মৃত্যুর বিষয়টি জানতে পেরে তিনি হাসপাতালটি সিলগালা করেন এবং বিষয়টি তদন্তের জন্য ৩ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন। তদন্ত প্রতিবেদন পেলে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানান তিনি। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. খুরশিদুল ইসলাম, আবাসিক মেডিকেল অফিসার মো. ইমরুল কায়েশ প্রমুখ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইয়েমেনের হুথি যোদ্ধাদের ক্রমাগত আক্রমণের কারণে সৌদি আরব বর্তমানে একটি বড় সংকটে রয়েছে। সৌদি সমর্থিত বাহিনীগুলো যুদ্ধক্ষেত্রে একের পর এক এলাকা হারাতে বাধ্য হচ্ছে। এই পরিস্থিতি মোকাবেলা করার জন্য সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান বিভিন্ন আঞ্চলিক দেশের পাশাপাশি ইসরাইলেরও পরোক্ষ সাহায্য চেয়েছেন, যা ইসরাইলি গণমাধ্যম ‘ইসরাইল হায়োম’ দ্বারা জানানো হয়েছে।
সৌদি আরব সরাসরি উপসাগরীয় দেশগুলোর কাছে সাহায্য চাইলেও, মার্কিন সেন্টকমের মাধ্যমে ইসরাইলের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। রিয়াদ, হুথিদের হাতে বাবেল মান্দেব প্রণালির নিয়ন্ত্রণ চলে না যায়, সেজন্য গোয়েন্দা তথ্য ও অন্যান্য সামরিক সহায়তা চেয়েছে।
যুবরাজ সালমান সতর্ক করে বলেছেন, এই প্রণালি বন্ধ হয়ে গেলে সৌদি তেল রপ্তানি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং এর ফলে বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দিতে পারে।
ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠিত না হওয়া পর্যন্ত সৌদি আরব ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক না রাখার নীতিতে অটল ছিল। তাই ইসরাইলের সাহায্য চাওয়ার বিষয়টি একটি ব্যতিক্রমী ঘটনা। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই সংকটময় পরিস্থিতি সৌদিকে ইসরাইলের কাছাকাছি নিয়ে আসতে পারে।
এদিকে, সৌদি যুবরাজ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে সরাসরি হুথিদের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন। তবে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি যুদ্ধে জড়াতে রাজি হয়নি, বরং শুধুমাত্র গোয়েন্দা তথ্য দিয়ে সহায়তার কথা বলেছে। এর অংশ হিসেবে সেন্টকম প্রধান ব্র্যাড কুপার বর্তমানে সৌদি আরব সফর করছেন।
পাকিস্তান ও তুরস্ক মধ্যস্থতা করার চেষ্টা করছে, কিন্তু যুদ্ধের মধ্যে জড়াতে চাচ্ছে না। অন্যদিকে, সুয়েজ খালের বাণিজ্যের কারণে মিসর সৌদির পাশে রয়েছে।
যুদ্ধক্ষেত্রে হুথিরা ইতোমধ্যে মোগা বন্দর ও বেশ কিছু দ্বীপের দখল নিয়েছে এবং সৌদি বাহিনীকে পিছু হটতে বাধ্য করেছে। তারা দক্ষিণ সৌদি আরবের তেল স্থাপনা ও বিমান ঘাঁটিতেও নিয়মিত ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে।
সূত্র: আল-মায়াদিন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ