মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৫:৫৩ পি.এম
চট্টগ্রাম, ২০ অক্টোবর, ২০২৬ : কিশোর গ্যাং, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড এবং মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধ প্রতিরোধের উদ্দেশ্যে চট্টগ্রাম রেঞ্জ পুলিশের বিশেষ অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় ৪৫৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
আজ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে চট্টগ্রাম রেঞ্জ পুলিশ এ তথ্য প্রকাশ করে।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয় যে, গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে নিয়মিত মামলায় ৯৭ জন, পূর্ববর্তী মামলায় ৬৬ জন, পুলিশ অ্যাক্টের ৩৪ ধারায় ১৬ জন, ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় ৪ জন, ১৫১ ধারাসহ অন্যান্য আইনে ২৮ জন, গ্রেপ্তারি পরোয়ানামূলে ৯০ জন এবং সাজা পরোয়ানামূলে ১৮ জন অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।
এছাড়া, মাদকবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে মাদক মামলায় ৩৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ১ জন মাদক বহনকারী এবং ৩৭ জন মাদকসেবী হিসেবে চিহ্নিত হয়েছেন। নিয়মিত ও অন্যান্য মামলায় ৪০ জন মাদক ব্যবসায়ীসহ অভিযানে মোট ৭৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
অভিযানের সময় ৪ হাজার ৫৭৬ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ৫৩ লিটার ৭৫০ মিলিলিটার চোলাই মদ, ৫৯ কেজি ৩২০ গ্রাম গাঁজা, ৮০টি ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট এবং ১ বোতল হুইস্কি উদ্ধার করা হয়েছে।
এ সময় ৩৩টি মাদক মামলা দায়ের করা হয়। পাশাপাশি, মাদকবিরোধী অভিযানে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ১৯ জনকে কারাদণ্ড এবং মোট ১ হাজার ৪০০ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, নিষিদ্ধ ঘোষিত একটি সংগঠনের ১৪ জন সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে চট্টগ্রামে ৩ জন, চাঁদপুরে ৩ জন, কুমিল্লায় ২ জন, নোয়াখালীতে ২ জন, লক্ষ্মীপুরে ১ জন এবং খাগড়াছড়িতে ৩ জন রয়েছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, জনস্বার্থে অপরাধ দমন এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এ ধরনের বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকার ধামরাইয়ে তিন পিস ইয়াবাসহ এক ব্যক্তিকে আটক করার পর তাকে ছেড়ে দেওয়ার বিনিময়ে পরিবারের কাছে ঘুষ দাবি করার অভিযোগে এক এএসআইকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। এ বিষয়ে মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) নিশ্চিত করেছেন ধামরাই থানার ওসি মো. নাজমুল হুদা খান। অভিযুক্ত এএসআই আল মামুনকে রাজারবাগ পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি ধামরাইয়ের সানোড়া ইউনিয়নের দ্বিতীয় মহিষাসী এলাকায় মো. হান্নান মৃধা নামের এক ব্যক্তিকে তিন পিস ইয়াবাসহ আটক করেন এএসআই আল মামুন।
হান্নান মৃধার পরিবারের অভিযোগ, আটক করার পর তাকে ২০০ পিস ইয়াবাসহ আটক দেখিয়ে মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দেন এএসআই আল মামুন। তাকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য তার স্ত্রীর কাছে ৭০ হাজার টাকা দাবি করা হয়। একপর্যায়ে ১৫ হাজার টাকা দেওয়ার পরও আরো ১৫ হাজার টাকা দাবি করা হয়।
এদিকে, এ ঘটনায় সম্প্রতি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। এরপরই জানা গেছে, এএসআই আল মামুনকে রাজারবাগ পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়েছে।
তিনি জানান, এ ঘটনায় তিনি এখনো কোনো লিখিত আদেশ পাননি। মৌখিক নির্দেশনার ভিত্তিতে ওই পুলিশ সদস্যকে রাজারবাগ পুলিশ লাইনসে পাঠানো হয়েছে। তাকে ক্লোজড করা হয়েছে, নাকি সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে, তা লিখিত আদেশ পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে। অভিযোগের বিষয়ে তাকে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রায়পুরে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি ম্যাচে জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘনের কারণে আইসিসির তিরস্কার পেয়েছেন ভারতীয় ব্যাটসম্যান শেফালি ভার্মা। এর পাশাপাশি, ভার্মার শৃঙ্খলা রেকর্ডে একটি ডিমেরিট পয়েন্ট যুক্ত করা হয়েছে। জিম্বাবুয়ের ইনিংসের ১২তম ওভারে একটি ক্যাচ মিস করার পর শেফালি রাগ ও হতাশায় বলটি জোরে মাটিতে ছুড়ে ফেলেন।
তিনি আইসিসি আচরণবিধির লেভেল ১-এর ২.২ ধারা লঙ্ঘন করেছেন, যা মূলত খেলার সামগ্রী, মাঠের সরঞ্জাম বা ফিটিংসের অবমাননা বা অপব্যবহারের সাথে সম্পর্কিত। খবর আইসিসি।
আনুষ্ঠানিক তিরস্কারের পাশাপাশি শেফালির ডিসিপ্লিনারি রেকর্ডে ১টি ডিমেরিট পয়েন্ট যুক্ত করা হয়েছে। গত ২৪ মাসের মধ্যে এটি তার প্রথম অপরাধ।
ম্যাচ রেফারি জিএস লক্ষ্মীর দেওয়া এই শাস্তি শেফালি মেনে নেওয়ায় কোনো আনুষ্ঠানিক শুনানির প্রয়োজন হয়নি।
ভারত দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে জিম্বাবুয়েকে পরাজিত করে ২-০ সিরিজে জিতে নিয়েছে। প্রথম ম্যাচে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হলেও, রায়পুরের এই ম্যাচে ভারতীয় দল দুর্দান্ত পারফরম্যান্স প্রদর্শন করে। প্রথমে ব্যাট করতে নেমে সফরকারী জিম্বাবুয়ে দল নির্ধারিত ওভারে ১০২ রানে ৮ উইকেট হারায়। ভারতের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের সামনে তারা বড় স্কোর গড়তে ব্যর্থ হয়।
জবাব দিতে নেমে ভারত মাত্র নবম ওভারে জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে যায়। ওপেনার শেফালি ভার্মা মাত্র ২৫ বলে ৫৫ রানের একটি বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন। তার এই ঝোড়ো ব্যাটিংয়ের ওপর ভর করে ভারত সহজ জয় নিশ্চিত করে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নোয়াখালীর হাতিয়ায় চার বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে সোহরাব উদ্দিন (১৯) নামে এক তরুণকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এদিকে, ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে তিন হাজার টাকা দিয়ে মীমাংসার চেষ্টা এবং ভুক্তভোগী পরিবারকে চাপ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে হাতিয়া পৌরসভা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব খোন্দকার সোহেলের বিরুদ্ধে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তিনি। এ নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বিকেলে গ্রেপ্তার সোহরাবকে বিচারিক আদালতে সোপর্দ করা হলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এর আগে সোমবার ভুক্তভোগী শিশুটির মা বাদী হয়ে হাতিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। গত শনিবার (১৭ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার হাতিয়া পৌরসভা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
গ্রেপ্তার সোহরাব উদ্দিন হাতিয়া পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের চরকৈলাশ এলাকার ফাহাদ উদ্দিনের ছেলে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, শনিবার দুপুরের দিকে সোহরাব বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে শিশুটিকে নিজের বসতঘরে নিয়ে যান। সেখানে শিশুটির শরীরের বিভিন্ন স্থানে স্পর্শ করেন এবং একপর্যায়ে ধর্ষণের চেষ্টা করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এ সময় শিশুটির চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে তাকে উদ্ধার করা হয়।
ভুক্তভোগী শিশুটির বাবা অভিযোগ করে বলেন, ঘটনার পর বিষয়টি সামাজিকভাবে মীমাংসার চেষ্টা করা হয়। এ সময় হাতিয়া পৌরসভা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব খোন্দকার সোহেল তার বাবার পকেটে তিন হাজার টাকা ঢুকিয়ে দেন। একই সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে নিষেধ করেন। পরে তার বাবা বিষয়টি তাকে জানালে তারা ওই টাকা ফিরিয়ে দেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে খোন্দকার সোহেল বলেন, এ বিষয়ে সামাজিক বৈঠক হওয়ার সময় তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) সঙ্গে বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে ছিলেন। এটি প্রতিপক্ষের অপপ্রচার।
হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কবির হোসেন বলেন, ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে সোহরাবকে তার বাড়ির সামনে থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে তাকে বিচারিক আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার কোনো ঘটনা তার জানা নেই।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে হামের উপসর্গে আরও তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে ১ হাজার ২১৭ শিশু হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়েছে। এছাড়া ৪২ শিশুর শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। সব মিলিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামের উপসর্গে নতুন রোগী পাওয়া গেছে ১ হাজার ২৫৯ জন।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাম বিষয়ক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে ২০ অক্টোবর সকাল ৮টা পর্যন্ত দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ১ হাজার ২০৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে মারা গেছে ১০৪ শিশু। বাকি ১ হাজার ১০০ শিশুর মৃত্যু হয়েছে হামের উপসর্গ নিয়ে।
এ সময়ে দেশে সন্দেহজনক হামের উপসর্গের রোগী পাওয়া গেছে ২ লাখ ১৫ হাজার ৭৬৮ জন। নিশ্চিত হামে আক্রান্তের সংখ্যা ২৩ হাজার ১৯৯ শিশু। সব মিলিয়ে হামের উপসর্গ ও নিশ্চিত হাম শনাক্ত হওয়া শিশুর সংখ্যা ২ লাখ ৩৮ হাজার ৯৬৭।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, এই সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১ লাখ ৯১ হাজার ৭৬১ শিশু। তাদের মধ্যে ১ লাখ ৮৪ হাজার ১৬৮ শিশু সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে মারা যাওয়া তিন শিশুর মধ্যে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও ময়মনসিংহ বিভাগের একজন করে রয়েছে।
এ সময়ে ঢাকা বিভাগে হামের উপসর্গের রোগী সবচেয়ে বেশি পাওয়া গেছে। এই বিভাগে নতুন করে ৪৯৯ জনের মধ্যে হামের উপসর্গ দেখা গেছে। এছাড়া ৩৪ জনের শরীরে নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ